নজিরবিহীনভাবে বার বার রিমান্ডে নেয়া হচ্ছে দুই গোয়েন্দা প্রধানকে
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
Tweet
নজিরবিহীনভাবে বার বার রিমান্ডে নেয়া হচ্ছে দুই গোয়েন্দা প্রধানকে
বহুল আলোচিত ১০ ট্রাক অস্ত্র ও ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলায় শীর্ষ দুই গোয়েন্দা কর্মকর্তাকে জিজ্ঞাসাবাদের নামে দফায় দফায় রিমান্ডে নেয়া হচ্ছে। ১০ ট্রাক অস্ত্র মামলায় ডিজিএফআই’র সাবেক মহাপরিচালক মেজর জেনারেল (অব.)
রেজ্জাকুল হায়দার চৌধুরীকে ১৮ দিন ও এনএসআই’র সাবেক মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবদুর রহিমকে ১০ দিন রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করেও তদন্ত সংস্থা সিআইডি এখনও তাদের কাছ থেকে উল্লেখযোগ্য কোনো তথ্য পায়নি। তারা কেউ ওই ঘটনার সঙ্গে নিজেদের জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেননি। এর পরও সাবেক সেনা কর্মকর্তা এবং দেশের প্রধান দুটি গোয়েন্দা সংস্থার প্রধানকে জিজ্ঞাসাবাদের নামে রিমান্ড অব্যাহত আছে।
সাবেক গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য এর আগে টিএফআই সেলেও নেয়া হয়। তদন্ত সংস্থা সিআইডি এবং টিএফআই সেলের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা এ দু’জনকে চাপ প্রয়োগ করে তথ্য আদায়ের চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। ১০ ট্রাক অস্ত্র এবং ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলা দুটির তদন্তে বারবার সময় বাড়ানো হচ্ছে। ১০ ট্রাক অস্ত্র মামলায় রিমান্ড শেষে এখন এ দু’জনকে আবারও ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার মামলায় রিমান্ডে নেয়া হয়েছে। রিমান্ডে আবার তাদের ওপর মানসিক ও শারীরিক নির্যাতনের আশঙ্কায় উদ্বিগ্ন স্বজনরা।
পারিবারিক সূত্র জানায়, রেজ্জাকুল হায়দার এবং আবদুর রহিম বয়সের ভারে এখন ন্যুব্জ। দীর্ঘদিন কারাগারে আটক ও রিমান্ডে থাকায় তারা ক্রমে অসুস্থ হয়ে পড়ছেন। এই বয়সে তাদের কাছ থেকে তথ্য আদায়ের নামে রিমান্ডে নিয়ে নির্যাতন করা হয় বলে স্বজনরা উদ্বিগ্ন। তারা বলছেন, দীর্ঘদিনেও তাদের কাছ থেকে ওই মামলা সম্পর্কে কোনো তথ্য না পেলেও তদন্তের গণরিমান্ডে নিয়ে নির্যাতন চালানো হচ্ছে। এ দু’জনকে হাসপাতালে ভর্তি করে উন্নত চিকিত্সা দেয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন আত্মীয়-স্বজনরা। তাদের ঘনিষ্ঠজনরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, সরকারি প্রতিষ্ঠানে সর্বোচ্চ পদে দায়িত্ব পালন করাই কি অপরাধ ছিল? সরকারি চাকরি শেষে অবসরে গিয়ে বিনা অপরাধে যদি এমনিভাবে নির্মম নির্যাতনের শিকার হতে হয়, তাহলে ভবিষ্যতে হয়তো অনেকেই গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করতে উত্সাহ হারাবেন। এ ধরনের রিমান্ড-সংস্কৃতি অব্যাহত থাকলে পরিবর্তিত সময়ে অন্যদের ক্ষেত্রেও এর রেষ থেকে যেতে পারে।
সূত্র জানায়, অধিকতর তদন্তের নামে আলোচিত ১০ ট্রাক অস্ত্র এবং ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার ফরমায়েশি তদন্ত চলছে। বিগত সরকারের আমলে চার্জশিট দেয়া হলেও আবার এ মামলা তদন্তের নামে সাবেক মন্ত্রী, এমপি, সচিব, গোয়েন্দা কর্মকর্তা, পুলিশ কর্মকর্তা, রাজনীতিকসহ অনেকের নাম নতুন করে যুক্ত করা হচ্ছে। তবে এ ঘটনার সঙ্গে ওইসব ব্যক্তির আদৌ সম্পৃক্ততা রয়েছে কিনা তা এখনও স্পষ্ট নয়। গ্রেফতারকৃতদের একের পর এক রিমান্ডে আনা হলেও তারা প্রকৃতপক্ষে কী বলছে তাও জানা যাচ্ছে না। এমন গুরুত্বপূর্ণ মামলার তদন্তে যে পদ্ধতি এবং কৌশল থাকার কথা, বর্তমান সিআইডির তদন্তে তা অনুপস্থিত। তদন্ত কর্মকর্তারা ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নির্দেশে রিমান্ডে নেয়ার কাজ করছেন। বারবার রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের নামে মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন চলছে অভিযুক্তদের ওপর। তারপুরও রিমান্ডের খড়গ থেমে নেই। সিআইডি তাদের মনোমত স্বীকারোক্তি না পাওয়া পর্যন্ত রিমান্ড নামের নির্যাতন চালাচ্ছেই। ১০ ট্রাক অস্ত্র মামলায় রেজ্জাকুল হায়দার ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেননি। আবদুর রহিমের দ্বারা স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি আদায় করা হলেও তিনি নিজে জড়িত ছিলেন না বলে জানিয়েছেন।
১০ ট্রাক অস্ত্র মামলা সম্পর্কে রেজ্জাকুল হায়দারের আইনজীবী অ্যাডভোকেট তারিক আহমেদ বলছেন, রাষ্ট্রপক্ষ যে ৭ জনের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দির কথা জানিয়েছে তাদের কেউই জবানবন্দিতে রেজ্জাকুল হায়দারের নাম বলেননি। এ মামলার প্রধান আসামি শাহাব উদ্দিনের জবানবন্দিতে তার নাম এসেছে বলে বলা হলেও প্রকৃতপক্ষে তা সত্য নয়। জবানবন্দির কোথাও রেজ্জাকুলের নাম নেই। পরেশ বড়ুয়ার সঙ্গে সম্পৃক্ততার কথা বলা হলেও বড়ুয়াকে তিনি চেনেন না বলে উল্লেখ করেছেন। অ্যাডভোকেট তারিক আরও বলেন, এর আগে মামলাটির দুই দফা তদন্তে চার্জশিট দেয়া হয়েছিল। তাতেও রেজ্জাকুলের নাম আসেনি। এমনকি প্রধান আসামি হাফিজ আদালতে সর্বশেষ যে জবানবন্দি দিয়েছেন তাতেও রেজ্জাকুলের নাম নেই। তিনি বলেন, অস্ত্র আটকের সময় রেজ্জাকুল ডিজিএফআই’র পরিচালক ছিলেন। ৮ পরিচালকের একজন ছিলেন তিনি। এই গোয়েন্দাদের কার্যক্রম মনিটরিংয়ের জন্য আরও একটি গোয়েন্দা সংস্থা আছে। তাদের চোখ এড়িয়ে রেজ্জাকুলের পক্ষে পরেশ বড়ুয়ার সঙ্গে যোগাযোগ রাখা সম্ভব ছিল না।
জানা যায়, ২০০৯ সালের ১৫ মে ঢাকা থেকে এ দুই গোয়েন্দা কর্মকর্তাকে গ্রেফতার করে সিআইডি।
প্রসঙ্গত, ২০০৪ সালের ১ এপ্রিল চট্টগ্রামের সিইউএফএলের জেটিঘাট থেকে ১০ ট্রাক অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার করা হয়। এই মামলার প্রথম তদন্তকারী কর্মকর্তা ছিলেন কর্ণফুলী থানার তত্কালীন ওসি আহাদুর রহমান। ২০০৪ সালের ১১ জুন তদন্ত শেষে ৪২ জনকে আসামি করে প্রথম চার্জশিট দেয়া হয়। এই তদন্তে ত্রুটি ছিল বলে আদালতের আদেশে সিআইডির তত্কালীন এএসপি একেএম কবিরউদ্দিন অধিকতর তদন্ত করেন। তার তদন্তেও আদালত সন্তুষ্ট না হলে তৃতীয় দফায় সিআইডির এএসপি মীর নওশের আলী খানকে তদন্তের দায়িত্ব দেয়া হয়। তিনি ২০০৪ সালের ২৫ আগস্ট সম্পূরক অভিযোগপত্র দাখিল করেন। ২০০৫ সালের ২৩ এপ্রিল আসামিদের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জ গঠন করা হয়। ২০০৬ সালের ১৭ জানুয়ারি মামলার বিচার কাজ শুরু হয়। মামলায় ১১৪ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়। এমন একপর্যায়ে বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলির আবেদনের প্রেক্ষিতে চট্টগ্রাম মহানগর দায়রা জজ মামলার অধিকতর তদন্তের আদেশ দেন। ওই আদেশ পাওয়ার পর সিআইডি বর্ধিত তদন্ত শুরু করে। বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর এই মামলার তদন্ত নতুন করে শুরু করে। নতুন তদন্তে ডিজিএফআই ও এনএসআই’র সাবেক দুই মহাপরিচালকসহ কয়েকজন কর্মকর্তাকে গ্রেফতার করে দফায় দফায় রিমান্ডে নেয় সিআইডি। অন্যদিকে ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার ২০০৮ সালের ১১ জুন চার্জশিট দাখিল করে সিআইডি। সাবেক শিক্ষা উপমন্ত্রী আবদুস সালাম পিন্টু ও হরকাতুল জিহাদ নেতা মুফতি হান্নানসহ ২২ জনের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট জমা দেয় তদন্ত সংস্থা সিআইডি। বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর এ মামলাটিরও অধিকতর তদন্ত শুরু হয়।
সুত্র: আমার দেশ
Click This Link
৭টি মন্তব্য ০টি উত্তর
আলোচিত ব্লগ
দ্য ড্রাগ কিং

সতর্কবার্তা: এটি একটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক ক্রাইম ফিকশন। বাস্তব একটি অপরাধের কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে পাঠকদের জন্য এর চরিত্র, নাম এবং স্থান পরিবর্তন করে গল্পটি সাজানো হয়েছে।
খুলনা... ...বাকিটুকু পড়ুন
সামুতে আবারও লিলিপুটিয়ানদের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে
আমার গত পোস্টে আলামিন১০৪ নামের এক ব্লগার মন্তব্য করেছেন যে - "এ আই দিয়ে হুমায়ূন আহমেদের মতো লেখা যায়।"
তিনি এ আই-কে প্রম্পট দিয়েছিলেন ' হুমায়ুন আহমেদের মতো গল্প লিখে... ...বাকিটুকু পড়ুন
ইজিবাইক চলাচলের প্রকৃত কর্তৃপক্ষ কে?

দেশের বিভিন্ন শহর ও গ্রামে ইজিবাইক নামে একটি যানবাহন চলাচল করে। কিন্তু এর পরিচালনা, লাইসেন্সিং এবং চলাচলের ক্ষেত্র সম্পর্কে সুস্পষ্ট ও সর্বজনবিদিত কোনো নীতিমালা সাধারণ মানুষের কাছে দৃশ্যমান নয়।
শহরের ভেতরে,... ...বাকিটুকু পড়ুন
মন কথনিকা-৪৮৭৩-৭৪
মন কথনিকা-৪৮৭৩
তোমার আমার মতামতে আকাশ পাতাল সীমা
আমার বুলি বরফ জলের তোমার যেন বোমা,
তুমি বলো রোদের তেজে আমি বর্ষার মতন
বুকের ভিতর বন্ধু বুঝি পাথর পুষো যতন।
মন কথনিকা-৪৮৭৪
পিঠে ব্যথা ভাল্লাগে না, মন... ...বাকিটুকু পড়ুন
“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬
আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।