:: নিষ্ঠুর কথাটা আমাকেই প্রথম শুনতে হয় ::

৩০ শে মে, ২০০৭ দুপুর ২:২৭

শেয়ার করুন:                   Facebook


শাহ্ আলম এখন আর নেই। আমাদের এই প্রিয় মানুষটি চলে গেছেন না ফেরার দেশে। ২০০৬ সালের ৩০ মে প্রথম প্রহরে মৃত্যুর মুহুর্তে যেসব মানুষ শাহ আলম এর পাশে ছিলেন আমিও তাদের একজন ছিলাম। প্রায় দশ বছরের সম্পর্ক এভাবে অনুষ্ঠানিক আবহে হঠাৎ করে শেষ হয়ে যাবে সেকথা এখনও ভাবতে পারিনা।

আমার সাথে শাহ আলম এর সম্পর্কের কোন বর্ননা আমি দিতে পারবনা। তাঁর সাথে যখন পরিচয় হয় তখন আমরা কেউই আলাদা মানুষ হয়ে উঠিনি। কৈশোর উত্তির্ণ। শাহ আলম সবে তুলির আঁচড় দেওয়া শিখছেন। আমি এবং আমার বন্ধুরা সংস্কৃতির নানা শাখায় হাত পাকানোর চেস্টা করছি।

২৯ মে দুপুরে ফোন করেন। বলেন, মহা ফাঁকিবাজি করলাম, ধরতে পারলা না মিয়া। আমি বলি, একদিন আসনি এইতো। তিনি যোগ করেন, আমি সিলেটেই ছিলাম না। আম্মারে দেখে আসলাম। হ্যাঁ, হঠাৎ করেই চলে গিয়েছিলেন বাড়িতে। কি এক টান টেনেছিল তারে? রাত ৮টার পর অফিস থেকে একটু বাইরে যেতে হচ্ছিল। বল্লাম, তোমার কম্পিউটার আর ক্যামেরা এসেছে। আমি আসি ওগুলো সমঝে তারপর যেও। অফিসে এসে আর পাইনি। তাড়াহুড়ো দেখিয়ে চলে গিয়েছিলেন। ১১টার দিকে মোবাইলে কথা হয়। নূর ভাই একটা আইডিয়া দিলেন। সাথে নির্দেশ এই ব্যাপারে বাপ্পা আর আমার সাথে কথা বলা যাবে না। একা একা করতে হবে। ফোনটা আমার হাতে এলে বলেন, দেখ মিয়া নূর ভাই কি বলেন, তোমাদের সাথে কথা না বলে কাজ করবো কিভাবে? তার সেই প্রশ্নের উত্তর আর দেওয়া হলো না। এক ঘন্টা না পেরুতেই নূর ভাই ফোন করেন। শাহ আলম অসুস্থ, খোঁজ নেওয়ার জন্য তিনি বেরুচ্ছেন। আমিও যেন বেরুই। তাকে পরে বেরুতে বলে আমি বেরুই। আম্বরখানায় লাইফ কেয়ার কিনিকের সামনে গিয়ে মাসুমকে উদ্ভ্রান্তের মতো হাঁটতে দেখি। ক্লিনিকের এক কর্মী জানান, অবস্থা ভালো না। ওসমানীতে নিতে হবে। সিদ্ধান্ত নেওয়ার মতো কেউ সেখানে ছিলেন না। বাপ্পা কাঁদছে। সেই কর্মীই সাহায্য করেন। এম্বুলেন্স ছুটে যায় ওসমানীর দিকে। নূর ভাইকে ফোনে জানাই সেখানে যাওয়ার জন্য।
ইমার্জেন্সির ডাক্তার রোগীর কাছের কাউকে খুঁজছিলেন। বল্লাম, আমরা একসাথে কাজ করি। আর কেউ নেই?Ñবলে প্রশ্ন করলেন। আমি বলি, আমাকেই বলেন। সবাই তখন আবেগ আঁকড়ে কান্নায় মশগুল। আমি পাষাণের মতো তখনো চোখের পানি আটকে রেখেছি। তাই নিষ্ঠুর সেই কথাটা আমাকেই প্রথম শুনতে হলো...।

আমার খাতায় শুধু বিষন্নতার কথামালা লেখা থাকে। প্রাপ্তির খাতাটা ভয়েই মেলে দেখিনা কখনও। সেই খাতায় আরেকটি বিষন্ন রাত আর ৩০ মে লিখা হয়ে যায়।

আমি অন্যসকল মানুষের মত অতি আবেগ দেখাইনা। কিংবা দেখাতে পারিনা। কখনই লেখালেখিতে একেবারে পুতুপুতু ভাব নিয়ে আসিনা অথবা আনতে পারিনা। আমি নিরাবেগ বর্ননায় বয়ান করি দিনলিপি। সেই আমিও শাহ আলম এর জন্য আবেগে আক্রান্ত হই। কবরে শুইয়ে দিতে গিয়ে চোখটা ঝাপসা হয়ে আসে আমার... আমিও তবে কাঁদতে পারি!

 

প্রকাশ করা হয়েছে: এই দিন, রাত ও রৌদ্র  বিভাগে ।

 

  • ১৬ টি মন্তব্য
  • ৩৫৭ বার পঠিত,
Send to your friend Print
রেটিং দিতে লগ ইন করুন
পোস্টটি ১ জনের ভাল লেগেছে, ০ জনের ভাল লাগেনি
১. ৩০ শে মে, ২০০৭ দুপুর ২:৩২
comment by: অমনিবাস বলেছেন: দুঃখজাগানিয়া
২. ৩০ শে মে, ২০০৭ দুপুর ২:৩৬
comment by: ম. রহমান বলেছেন: শাহ আলম, আপনী ভালো থাকুন...একটু অপেক্ষা করুন, আমরা ও আপনার নিকট আসবো...
৩. ৩০ শে মে, ২০০৭ দুপুর ২:৪৭
comment by: ফরিদ বলেছেন: অফিসে কি উনার ছবিই ছিল?
৪. ৩০ শে মে, ২০০৭ দুপুর ২:৪৭
comment by: মাশীদ বলেছেন: আশ্চর্য!
একটা বছর পার হয়ে গেল?

হয়তো ওই পারের ছবি আঁকাই বেশি জরুরী হয়েছিল। তা-ই শান্তিতে আঁকুন, শাহ আলম।

ভাল থাকুন, বিষন্ন মানুষ। সমবেদনা, আপনার জন্য।
৫. ৩০ শে মে, ২০০৭ দুপুর ২:৪৮
comment by: আরিফ জেবতিক বলেছেন: একটা বছর হয়ে গেল রে অপু!
৬. ৩০ শে মে, ২০০৭ দুপুর ২:৫৪
comment by: নজমুল আলবাব বলেছেন: হ্য ফরিদ, ছবিটা শাহ আলম এর।

মনে হয় মাশীদই ঠিক। ওপারের ছবি আকা জরুরি হয়ে পড়েছিল। খুব জরুরি...

আরিফ ভাই সময় যেন উড়ে উড়ে চলে।
৭. ৩০ শে মে, ২০০৭ বিকাল ৩:৩৬
comment by: বিপ্লব রহমান বলেছেন: এমনি করেই আমাদের প্রিয় মানুষেরা বোধহয় চাঁদ হয়ে যান!...
৮. ৩০ শে মে, ২০০৭ বিকাল ৩:৩৮
comment by: নজমুল আলবাব বলেছেন: তারা দুরে সরে যায় অথবা খুব কাছে চলে আসে।
৯. ৩০ শে মে, ২০০৭ বিকাল ৩:৪৭
comment by: উদাসীপথিক বলেছেন: ছবিটা না হলেই ভাল হত।
১০. ৩০ শে মে, ২০০৭ বিকাল ৪:২৬
comment by: নজমুল আলবাব বলেছেন: ছবি কি সমস্যা করল বুঝলামনা @ উদাসী
১১. ৩০ শে মে, ২০০৭ রাত ১০:১১
comment by: আ স ম মাসুম বলেছেন: শাহ আলম ভাইয়ের বিয়ের দুই বছর হলো ২৬ মে...
মৃত্যুর এক বছর ৩০ মে...
কান্না ছাড়া আর কি ই বা দিতে পারি আমি...
১২. ০৭ ই জুন, ২০০৭ বিকাল ৪:২৫
comment by: রাগ ইমন বলেছেন: কবি আর ছবির মানুষেরা কি অল্পে অভিমানী ? কি যেন কথা থাকে মহাশূন্যের সাথে , আর সময় পেরুবার আগেই রঙ নেবে বলে চলে যায় সবচেয়ে শুদ্ধ আলোর কাছে ।
শ্রদ্ধা শাহ আলম ভাইয়ের প্রতি আর তার পরিবারের জন্য শক্তি কামনা ।

" প্রতি মুহূর্তের বেঁচে থাকাটাই আমাকে মনে করিয়ে দেয়, আমি কতটা মরে গেছি ।
এমন কি পচনের আক্ষেপটুকুও রাখলো না
গতানুগতিকতার ফরমালিন ।"
১৩. ১৪ ই জুন, ২০০৭ বিকাল ৪:৪৫
comment by: অর্জুন মান্না বলেছেন: কিরে অপু, তুই কেমন আছিস?
১৪. ১৪ ই জুন, ২০০৭ বিকাল ৫:১১
comment by: নজমুল আলবাব বলেছেন: ভালোনাই মান্নাদা
১৫. ২২ শে ডিসেম্বর, ২০০৭ রাত ৮:৩৬
comment by: বিহংগ বলেছেন: এমনি করেই আমাদের প্রিয় মানুষেরা বোধহয় চাঁদ হয়ে যান!...
১৬. ২২ শে ডিসেম্বর, ২০০৭ রাত ৮:৪৩
comment by: নজমুল আলবাব বলেছেন: হ্যা, বিহংগ, ঠিক তাই।

 



 





খুব সাধারন মানুষ
ভুল সময়ের, ভুল মানুষ
আর এস এস ফিড

পোস্ট আর্কাইভ

আমার লিঙ্কস

আমার বিভাগ

সর্বমোট হিট

 ২০২৩৫