somewherein... blog badh bhangar awaaj recent posts http://www.somewhereinblog.net http://www.somewhereinblog.net/config_bangla.htm copyright 2006 somewhere in... সামহোয়্যার বোরখা এন্ড কোং এই কোম্পানির ম্যানেজার হিসাবে ধুসর গোধূলিকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। বোরখার প্রতি আগ্রহি শালিগন তাই সাবধানে বোরখা সংগ্রহ করবেন।]]> http://www.somewhereinblog.net/blog/NajmulAlbabblog/28717078 http://www.somewhereinblog.net/blog/NajmulAlbabblog/28717078 2007-06-22 21:55:05 হাবিব আলীর পতাকা পুরাণ মানুষের সকল ইচ্ছা পূর্ন হয়না। তবু মানুষ নতুন নতুন ইচ্ছা নিয়ে মেতে উঠে। অনেকেই পুরনো শখ ভুলে যায়। কিন্তু হাবিব আলী ভুলেনা। যতদিন যায় শখ বাড়তে থাকে, তাতে চেকনাই লাগে। শখের জেল্লা বাড়ে। শখ পুরনের ফন্দি ফিকির আবিস্কারে ব্যয় হয় হাবিব আলীর রোজকার কিছুটা সময়। কিন্তু সফল লভেদী বুদ্ধি আবিস্কার করা হয়ে উঠেনা।
অবশেষে এল বুদ্ধি। শানদার এক বুদ্ধি। যখনই এই বুদ্ধিটা মাথায় আসল তখনই শুরু হল সমস্যা। নিজের মাথার চুল নিজেই ছেড়া শুরু করল হাবিব আলী। এই ব্যপারটা এতদিন ধরে ঘটছে বাংলাদেশের ঘরে ঘরে আর তার মাথায় কিনা এতদিন পরে আসল! নিজেকে সে কুৎসিত ভাষায় গালি দিতে লাগল।

একসময় হাবিব আলীর মাথা ঠান্ডা হল। সে তার শখ, তার স্বপ্ন বাস্তবায়নের পরিকল্পনা করতে বসল। কিন্তু সেটা মোটেই সহজ নয়। দিব্যওচাখে নিজেন স্বপ্নের রুপায়ন দেখে তার মনের ডুগডুগি অবিরাম বাজতে থাকায় মন ও মগজকে পুরুপুরি শিতল করা যায়না। অবশেষে অনেক চেষ্টায় হাবিব আলী তার কর্মপর্যায় নির্দিষ্ট করতে সম হল।

১৯৯৯ সালের পহেলা মে। সকাল দশটা। হাবিব আলী তার বাড়ির সামনে সাত হাত লম্বা, আড়াই হাত পেট মোটা লাল একটা ব্যানার টাঙ্গালো যাতে সাদা হরফে লেখা “বিশ্বকাপে বঙ্গশার্দুল”। মানুষজন এই ব্যানার দেখে পুলক অনুভব করল। বস্তুত: বিশ্বকাপ ক্রিকেটে বাংলাদেশ খেলছে, দেশের প্রতিটি মানুষ এই কথা জানে। এবং এজন্য সবসময় মনে আনন্দ অনুভব করে। তার উপর হাবিব আলীর এই ব্যানার সবার কাছে আরামদায়ক নিঃশ্বাসের মত মনে হল। সেদিন বিকেলেই হাবিব আলী বাড়ির ছাদে বাংলাদেশের একটি পতাকাও উড়িয়ে দিল। মানুষের প্রিত অনুভব এতে আরও বেড়ে গেল। কিন্তু সেটা বিশ্বকাপ শুরুর দ্বিতিয় দিন পর্যন্ত! কারন তৃতীয় দিনেই অর্থাৎ ষোল মে সকালে হাবিব আলী তার দীর্ঘ দিন লালিত শখ পুরন করে ফেল্ল!

সেদিন ছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ এবং পাকিস্তানের খেলা। এই সুজুগে হাবিব আলী তার পেয়ারা পাকিস্তানের পতাকা বাংলাদেশের পতাকার ঠিক পাশেই উড়িয়ে দিল। বিদেশী পতাকা উড়ানোতে উস্তাদ মানুষের জন্য এই ঘটনা তেমন বিকারের নয়। কিন্তু এখানে এটি দৃষ্টি আকর্ষন করল। কারণ পাকিস্তানের পতাকার পাশে বাংলাদেশের পতাকা! তাও আবার প্রায় একহাত ওপরে থাকা পাকিস্তানী পতাকাটা দৃষ্টিকটুই ঠেকছিল।

হাবিব আলী পাকিস্তানী পতাকা ওড়ানোর পরেই প্রস্তুতি নিয়েছিল যেকোন রকম পরিস্তিতি মোতাবেলার। কিন্তু অবাক হয়ে গেল সে! পতাকার ব্যাপারে কথা বলার জন্য কেউ এলনা! দু’দিন পার হল, কেউ আসেনা। হাবিব আলী আবারও নিজেকে গালমন্দ করে। কেন সে এতদিন ভয় পেল! কেন ওড়ালোনা পেয়ারা পাকিস্তানের পতাকা!

বিশ্বকাপ শেষ হয়ে গেছে বেশ ক’দিন হয়ে গেল। বর্ষার বৃষ্টিতে ধুয়ে গেছে বাজে রঙে লেখা বিশ্বকাপে বঙ্গশার্দুল ব্যানার। বাংলাদেশের পতাকাও উড়ছে শোচনীয় অবস্থায়। আর কী আশ্চর্য পাকিস্তানী পতাকাটা এখনও টিকে আছে সকল সজিবতা নিয়ে! হাবিব আলী এখন এখন প্রায়ই উদাস হয়ে যায়। তার চেহারায় লেপ্টে থাকে বিষাদ। কিন্তু সেটা খুব বেশি সময়ের জন্য নয়। বিষাদমাখা মুখটায় হাসি ফুটে উঠে। হাবিব আলী অপার্থিব এক ভালোলাগায় নতজানু হয় চাঁদতারা খচিত পতাকার সামনে।

___________________________________________________
এই গল্পটা লিখেছিলাম ১৯৯৯ সালে। ছাপা হয়েছিল প্র.আ. বন্ধুসভায়। আরও অনেক লেখার মত এটিও হারিয়ে গিয়েছিল। পরশু রাতে পুরনো কাগজের স্তুপ থেকে এর মূল কপি বেরিয়ে আসে। পড়ে মনে হল এখনও এই গল্পের দিন শেষ হয়ে যায়নি। কিছুটা বদলে দিয়ে দিলাম।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/NajmulAlbabblog/28716943 http://www.somewhereinblog.net/blog/NajmulAlbabblog/28716943 2007-06-21 21:44:13
:: নিষ্ঠুর কথাটা আমাকেই প্রথম শুনতে হয় :: শাহ্ আলম এখন আর নেই। আমাদের এই প্রিয় মানুষটি চলে গেছেন না ফেরার দেশে। ২০০৬ সালের ৩০ মে প্রথম প্রহরে মৃত্যুর মুহুর্তে যেসব মানুষ শাহ আলম এর পাশে ছিলেন আমিও তাদের একজন ছিলাম। প্রায় দশ বছরের সম্পর্ক এভাবে অনুষ্ঠানিক আবহে হঠাৎ করে শেষ হয়ে যাবে সেকথা এখনও ভাবতে পারিনা।

আমার সাথে শাহ আলম এর সম্পর্কের কোন বর্ননা আমি দিতে পারবনা। তাঁর সাথে যখন পরিচয় হয় তখন আমরা কেউই আলাদা মানুষ হয়ে উঠিনি। কৈশোর উত্তির্ণ। শাহ আলম সবে তুলির আঁচড় দেওয়া শিখছেন। আমি এবং আমার বন্ধুরা সংস্কৃতির নানা শাখায় হাত পাকানোর চেস্টা করছি।

২৯ মে দুপুরে ফোন করেন। বলেন, মহা ফাঁকিবাজি করলাম, ধরতে পারলা না মিয়া। আমি বলি, একদিন আসনি এইতো। তিনি যোগ করেন, আমি সিলেটেই ছিলাম না। আম্মারে দেখে আসলাম। হ্যাঁ, হঠাৎ করেই চলে গিয়েছিলেন বাড়িতে। কি এক টান টেনেছিল তারে? রাত ৮টার পর অফিস থেকে একটু বাইরে যেতে হচ্ছিল। বল্লাম, তোমার কম্পিউটার আর ক্যামেরা এসেছে। আমি আসি ওগুলো সমঝে তারপর যেও। অফিসে এসে আর পাইনি। তাড়াহুড়ো দেখিয়ে চলে গিয়েছিলেন। ১১টার দিকে মোবাইলে কথা হয়। নূর ভাই একটা আইডিয়া দিলেন। সাথে নির্দেশ এই ব্যাপারে বাপ্পা আর আমার সাথে কথা বলা যাবে না। একা একা করতে হবে। ফোনটা আমার হাতে এলে বলেন, দেখ মিয়া নূর ভাই কি বলেন, তোমাদের সাথে কথা না বলে কাজ করবো কিভাবে? তার সেই প্রশ্নের উত্তর আর দেওয়া হলো না। এক ঘন্টা না পেরুতেই নূর ভাই ফোন করেন। শাহ আলম অসুস্থ, খোঁজ নেওয়ার জন্য তিনি বেরুচ্ছেন। আমিও যেন বেরুই। তাকে পরে বেরুতে বলে আমি বেরুই। আম্বরখানায় লাইফ কেয়ার কিনিকের সামনে গিয়ে মাসুমকে উদ্ভ্রান্তের মতো হাঁটতে দেখি। ক্লিনিকের এক কর্মী জানান, অবস্থা ভালো না। ওসমানীতে নিতে হবে। সিদ্ধান্ত নেওয়ার মতো কেউ সেখানে ছিলেন না। বাপ্পা কাঁদছে। সেই কর্মীই সাহায্য করেন। এম্বুলেন্স ছুটে যায় ওসমানীর দিকে। নূর ভাইকে ফোনে জানাই সেখানে যাওয়ার জন্য।
ইমার্জেন্সির ডাক্তার রোগীর কাছের কাউকে খুঁজছিলেন। বল্লাম, আমরা একসাথে কাজ করি। আর কেউ নেই?Ñবলে প্রশ্ন করলেন। আমি বলি, আমাকেই বলেন। সবাই তখন আবেগ আঁকড়ে কান্নায় মশগুল। আমি পাষাণের মতো তখনো চোখের পানি আটকে রেখেছি। তাই নিষ্ঠুর সেই কথাটা আমাকেই প্রথম শুনতে হলো...।

আমার খাতায় শুধু বিষন্নতার কথামালা লেখা থাকে। প্রাপ্তির খাতাটা ভয়েই মেলে দেখিনা কখনও। সেই খাতায় আরেকটি বিষন্ন রাত আর ৩০ মে লিখা হয়ে যায়।

আমি অন্যসকল মানুষের মত অতি আবেগ দেখাইনা। কিংবা দেখাতে পারিনা। কখনই লেখালেখিতে একেবারে পুতুপুতু ভাব নিয়ে আসিনা অথবা আনতে পারিনা। আমি নিরাবেগ বর্ননায় বয়ান করি দিনলিপি। সেই আমিও শাহ আলম এর জন্য আবেগে আক্রান্ত হই। কবরে শুইয়ে দিতে গিয়ে চোখটা ঝাপসা হয়ে আসে আমার... আমিও তবে কাঁদতে পারি!

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/NajmulAlbabblog/28713418 http://www.somewhereinblog.net/blog/NajmulAlbabblog/28713418 2007-05-30 14:27:08
::লিরিক-২ :: আমি অন্তরের লাগি
তোমারে খুঁজি
আমার বিষন্নতার অন্ধকারে
স্নিগ্ধ আলো তুমি।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/NajmulAlbabblog/28713263 http://www.somewhereinblog.net/blog/NajmulAlbabblog/28713263 2007-05-29 15:09:28
:: আজকরে এই দিনে বুরুঙ্গায় পাক বাহিনীর হাতে শহীদ হন ৭৮ জন :: পূর্ণাঙ্গ
১৯৭১ সালের ২৫ মে বিকেলে সিলেটের বালাগঞ্জের বুরুঙ্গায় এসে খানসেনারা ঘোষণা করে, পরদিন সকালে বুরুঙ্গা উচ্চ বিদ্যালয়ে একটি সভা করে নির্বিঘেœ চলাফেরার সুবিধার্থে সবাইকে পরিচয়পত্র দেওয়া হবে। আশপাশের প্রতিটি গ্রামের পুরুষরা যেন অবশ্যই সে সময় উপস্থিত থাকেন। এ নির্দেশ শুনে অনেকে আশ্বস্ত হলেও কারো কারো মনে সন্দেহ দানা বেঁধে ওঠে।
পরের দিন সকাল ৮ টার পর হতে এখালাবাসীরা যথারীতি নির্দিষ্ট স্থানে এে জমা হতে থাকেন। আবদুল আহাদ চৌধুরী ও অন্য ক’জন দালালসহ পাক হানাদার বাহিনীর ক্যাপ্টেন নূরউদ্দিন খানের নেতৃত্বে একদল পাকিস্তানী হায়েনাও ঘণ্টা খানেকের মধ্যে পৌঁছে যায়। এসেই কয়েকজন বুরুঙ্গা উচ্চ বিদ্যালয়ের চার পাশে ভারী অস্ত্রশস্ত্রসহ অবস্থান গ্রহণ করে। অন্যরা পার্শ্ববর্তী কিছু বাড়িতে গিয়ে পুরুষদেরকে সভায় আসার তাগিদ দেয়, লুটপাট করে এবং নারী নির্যাতন চালায়।
সকাল ১০টার দিকে জল্লাদরা উপস্থিত লোকজনকে দু’ভাগ করে বুরুঙ্গা উচ্চ বিদ্যালয়ের উত্তর দিকের ভবনে মুসলমানদেরকে এবং পূর্ব দিকের ঘরে হিন্দুদেরকে নিয়ে রাখে। অল্পণ পর আবার প্রথম ভাগের মধ্য থেকে নেতৃস্থানীয়দেরকে পাশের একটি কে নিয়ে গিয়ে অন্যদেরকে ছেড়ে দেয়। এতে অনেকের মনেই আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। তখন দালাল আবদুল আহাদ চৌধুরী আশ্বাস দেয়, ‘ইসলাম ধর্মে বিশ্বাসীরা কাউকে নিমন্ত্রণ করে এনে হত্যা করে না’। একই সাথে কার টাকা-পয়সা ও সোনাদানা কোথায় আছে সে খবর প্রকাশের জন্য চাপ দিতে থাকে।
এভাবে আরও প্রায় এক ঘণ্টা চলে যায়। পশ্চিমা হানাদার দল এক পর্যায়ে এলাইছ মিয়া নামে এক ব্যক্তিকে দিয়ে অস্ত্রের মুখে লাগোয়া বাজার হতে দড়ি আনায়। পরে আটক নেতৃস্থানীয় মুসলমানদেরকে পূর্ব দিকের ভবনে জড়ো করে হিন্দু স¤প্রদায়ের শ’খানকে লোককে বাঁধতে বাধ্য করে। এ কাজ করতে কেউ কেউ অসম্মতি জ্ঞাপন করায় নানা ধরনের হুমকির শিকার হন।
যখন এই বাঁধার কাজ চলছিল, ঠিক তখন নিবাস চক্রবর্তী নামে একজন প্রাথমিক শিক কৌশলে বন্ধ একটি জানালা খুলে ফেলেন। একজন খানসেনা সে সময় বাইরে থেকে ঘরের দিকে অস্ত্র তাক করে দাঁড়িয়ে ছিল; কিন্তু সেদিকে ভ্র“পে না করে বুরুঙ্গা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক প্রীতিরঞ্জন চৌধুরী ও রানু মালাকার নামে এক যুবক লাফিয়ে পড়ে দৌড়াতে শুরু করলে বৃষ্টির মতো গুলি বর্ষণ শুরু হয়। তবে দু’জনই নির্বিঘেœ নিরাপদ দূরত্বে সরে যেতে সম হন।
প্রায় দুপুর ২ টায় বন্দি হিন্দুদেরকে বুরুঙ্গা উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনের সবুজ চত্বরে একটি গাছের নিচে এসে বসানো হয়। ইতিপূর্বে পশ্চিমা জল্লাদরা স্থানটিকে ঘিরে ফেলে এবং ৩টি এলএমজি প্রস্তত করে নেয়। এক সময় ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন নূর উদ্দিন খানের নিকট থেকে নির্দেশ পাওয়া যায়। অমনি প্রতিটি অস্ত্র ‘খই’ ফোটাতে শুরু করে। মুহূর্তের মধ্যে একটি পবিত্র অঙ্গন রক্তে লাল হয়ে যায়। তবে বিশিষ্ট আইনজীবী রামরঞ্জন ভট্টাচার্যকে আলাদাভাবে বারান্দায় চেয়ারে বসিয়ে কিছুণ পর হত্যা করা হয়।
পশ্চিমারা রক্তগঙ্গা বইয়ে দেবার পরও একজন বাঙালির মৃত্যু সম্পর্কে নিশ্চিত হতে পারছিল না। তাই জমির উদ্দিন নামে এক ব্যক্তিকে দিয়ে বুরুঙ্গা বাজার থেকে দু’টিন কেরোসিন আনিয়ে লুটিয়ে পড়ে থাকা সকলের ওপর ছিটিয়ে আগুন ধরিয়ে দেয়। আহতদের আর্ত চিৎকার আর মানুষপোড়া গন্ধে তখন বাতাস ভারী হয়ে উঠে; কিন্তু হায়নার দল বিন্দুমাত্র বিচলিত না হয়ে পৈশাচিক উল্লাস করতে করতে বেলা ১টা নাগাদ ফিরে যেতে শুরু করে। এসময় বেঁচে গেছি মনে করে গুলিবিদ্ধ একজন উচ্চঃস্বরে স্রষ্টার নাম উচ্চারণ করামাত্র আবার ছুটে এসে হতাহতদের ওপর আরেক দফা গুলি চালায়। অবশ্য এতকিছু সত্ত্বেও নিবাস চক্রবর্তী, গোপেন্দ্র কুমার দেব, জিতেন্দ্র কুমার বৈদ্য, কামিনী কুমার বৈদ্য, ঠাকুর মণি দেব, শশাঙ্ক দেব ও রঞ্জিত দেবসহ বেশ ক’জন বেঁচে যান, তবে সবাই কমবেশি আহত হন। পরদিন সকালে লাশগুলো পাশেই একটি গর্ত করে পুঁতে রাখা হয়।
পাক হানাদারদের নৃশংসতার স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে সেদিন পিতা ও এক ভাই হারা বর্তমানে বুরুঙ্গা উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক নিবাস চক্রবর্তী বললেন, ‘মৃত্যু নিশ্চিত জেনে প্রতিরোধের চিন্তা কারো কারো মাথায় এলেও পরিবার পরিজনের কথা ভেবে কিছু করা যায়নি। মুসলমান নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিরা এ ধরনের হত্যাকাণ্ড যাতে না ঘটে সে চেষ্টা করেছিলেন, আর দালালরা বলেছিল, কাউকে মারা হবে না, শুধু সাজা দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হবে। ুদে ব্যবসায়ী জিতেন্দ্র কুমার বৈদ্য জানান, পায়ে গুলি লেগেছিল, তিনি মরার ভান করে লাশের ¯তূপের নিচে পড়ে থেকে প্রাণ বাঁচান। নিজ বুরুঙ্গা গ্রামের বৃদ্ধা রামসণি মালাকার একমাত্র যুবক ছেলে চিত্তরঞ্জন মালাকারকে হারানোর ব্যথার ভারে ভালোভাবে কথা বলতে পারেন না।
এই হত্যাকাণ্ডে পাকিস্তানি জল্লাদদের প্রধান সহযোগী আবদুল আহাদ চৌধুরী স্বাধীনতা উত্তরকালে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দণ্ডিত হয়; কিন্তু ১৯৭৫ সালের পট পরিবর্তনের পর কারাগার থেকে ছাড়া পেয়ে যায়। এছাড়া ওই দিন পিয়ারাপুর গ্রামের অমূল্য দেবকে একদল দালাল পার্শ্ববর্তী নন্দীর বাজার থেকে ধরে সেই যে নিয়ে গিয়েছিল আর ঘরে ফিরতে দেয়নি।


(দুপুরে এ সংক্রান্ত পোস্ট দিয়ে বলেছিলাম সাময়িক পোস্ট। কিন্তু এখন এসে দেখি সেখানে দু'একজন কমেন্ট করেছেন। তাই আর মুছলামনা। নতুন আরেকটি পোস্ট দিয়ে দিলাম। অবশ্য ছবি যন্ত্রনায় নতুন পোস্ট দেয়াটাই যুক্তিযুক্ত মনে হল। কেউ কেউ হয়ত এতে লজ্জা পেলেও পেতে পারে। এই পোস্টের জন্য আমার বড়ভাই এবং সিনিয়র সাংবাদিক আল আজাদ এর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি)

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/NajmulAlbabblog/28712771 http://www.somewhereinblog.net/blog/NajmulAlbabblog/28712771 2007-05-26 23:33:55
:: আজকের এই দিনে বুরুঙ্গায় পাক পাহিনীর হাতে শহীদ হন ৭৮ জন :: আজ ২৬ মে। ১৯৭১ সালের এই দিনে সিলেটের বালাগঞ্জে পাক বাহিনী ও তাদের দালালরা মেতে উঠেছিল হত্যাযজ্ঞে।
১৯৭১ সালের ২৫ মে একটি জীপে করে পাকবাহিনী ও রাজকাররা বালাগঞ্জের বুরুঙ্গা বাজারে প্রবেশ করে। লোকজন ভয়ে পালাতে থাকলে বলা হয় ভয়ের কোনো কারন নেই ২৬ মে স্কুল মাঠে কার্ড দেওয়া হবে। আপনারা উপস্থিত থাকবেন। এ আহবানে অনেকেই স্বস্থিবোধ করেন। ১৯৭১ সালের ২৬ মে লোকজন বুরুঙ্গা হাইস্কুল মাঠে জড়ো হতে থাকেন। পাক ক্যাপ্টেন নূর উদ্দিন রাজাকার ছাদ উদ্দিন ও আবদুল খালিকের নেতৃত্বে সকাল ১০ টায় পাকসেনারা স্কুল মাঠে অবস্থান নেয়। তারপর উপস্থিত লোকজনকে ২ ভাগে ভাগ করে গাছের নিচে বসানো হয়।
চারদিক থেকে পাকসেনার সশস্ত্র ভাবে ঘিরে রাখে স্থানটিকে। তারপর ক্যাপ্টেন নূর উদ্দিনের নির্দেশে শুরু হয় বৃষ্টিরমত গুলি বর্ষন। মুহূর্তের মধ্যে শহীদ হন ৭৮ জন। শহীদদের রক্তে লাল হয় স্কুলের সবুজ মাঠ। কয়েক জন চিৎকার দিলে তাদের উপর চলে অমানুষিক নির্যাতন। তারপর কেরোসিন ঢেলে আগুন লাগিয়ে দিতে একটু ও দ্বিধাবোধ করেনি পাকিরা।
মানুষ পুড়াগন্ধ বালাগঞ্জের আশপাশেও ছড়িয়ে পড়ে। পাকিরা তাদের রাজাকারদের নিয়ে আনন্দে স্থান ত্যাগ করে। পরদিন স্থানীয় লোকজন লাশগুলো বর্তমান স্কুল ভবনের পূর্বদিকে পুঁতে রাখেন। এই স্থানটিকে বালাগঞ্জবাসী ’৭১ এর গণকবর বলে জানেন।


(এটি সাময়িক পোস্ট। পুরুটা দেয়া হবে পরে। আজই দেব, তবে টাইপিংএ স্লো বলে দেরি করছি।)
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/NajmulAlbabblog/28712644 http://www.somewhereinblog.net/blog/NajmulAlbabblog/28712644 2007-05-26 16:19:12
:: কাল ঘুম নেমে আসে তার দু'চোখ জুড়ে ::
১.
কাল রাতেও ঘটনাটা ঘটল। আমি খেতে বসতেই অনন্যা এসে হাজির। হিস হিস করে বলে, ‘ ভাবী তোমার লজ্জা করেনা? নিজের বুঝ ঠিকই বুঝ, আর অন্যের কিছু পেলে হুলস্তুল বাঁধিয়ে দাও!’ আমি আর খেতে পারলামনা। গলায় কষ্ট দলা পাকিয়ে ব্যাথা শুরু হল। চব্বিশ ঘন্টা আগের ঘটনাটা বলতে গিয়েও রুপার গলাটা ধরে আসে। কেঁদে ফেলে। জহির বউকে শান্তনা দেয়। আহা কেঁদনাতো। ঠিক হয়ে যাবে সব। কালই আমি বকে দেব অনন্যাকে। রুপার মন অন্যদিকে ফেরাতে চেস্টা করেন। তবু সে ফুঁপাতে থাকে। বলে যায়, মা-ও কিছু বল্লেন না। যেন আমি মহা অন্যায় করেছি। তারইতো মেয়ে। কিছু যদি হয়, আমার থেকেতো তারই বেশি কষ্ট হবে। কিন্তু তার ভাব দেখে মনে হল অনন্যা যা করছে ঠিক করছে। আমি এ নিয়ে কথা বলে অন্যায় করেছি! আর এমন কি আছে যেটা আমি আগলে রাখি। কি এমন অপরাধ আছে আমার...

রুপার হয়ত আরও কিছু বলার ছিল। পিয়ারি সেটা হতে দিলনা। রাত একটায় তার একবার খাবারের দরকার হয়। বুকের দুধ পায়না বলে সময় ভাগ করে ফিডার দিতে হয়। রুপা ব্যস্ত হয়ে পড়ে পিয়ারিকে নিয়ে। জহির হাপ ছেড়ে বাঁচে। মেয়েকে নিয়ে ব্যস্ত হয়ে গেলে রুপা অন্যভূবনে চলে যায়। জহির মুগ্ধ চোখে রুপার সন্তান সেবা দেখতে থাকে। তার চোখ বুজে আসতে চায় ঘুমে। তবু সে জেগে থাকেন। পিয়ারিকে দেখে। রুপাকে দেখে...।

সামলে নিয়েছে রুপা। জহিরের দিকে তাকিয়ে বলে, কি হল তুমি আজ দেখি বড় জেগে আছ। ঘটনা কি? নির্দোষ হাসি হেসে জহির বলে, কাল শুক্রবার না? সকালেতো আর দৌড় নাই। রাত জাগলে সমস্যা কি। সে রুপার দিকে তাঁকিয়েই থাকে। রুপার কেমন মায়া হয়। এই মানুষটা এমন কেন। মাটি মাটি ভাব নিয়ে এই জামানায় এসে সে কিযে ভূল করেছে এই ব্যাপারটাও সে বুঝেনা। শুধু নিজেই নয় সাথে তার মত অতি সাধারন মেয়েটাকেও বিপদে ফেলেছে। আর রুপাও কেমন মেয়ে। এমন ছেলেদের বউ হতে হলে একটু ডাকাবুকো হতে হয়! একজন মেনমেনা হলে আরেকজন হবে গরমাগরম। যাতে সব কিছু পুষিয়ে নেয়া যায়। তা না রুপা জহিরের চেয়ে আরও কয়েকগুন বেশি নরম সরম। কোন কিছুই সামলাতে পারেনা। রাতে শুধু বালিশ ভেজায় আর বেচারা জহিরকে কষ্ট দেয়।

দেড়টা বেজে যায় পিয়ারিকে সামলাতে সামলাতে। জহির তখনও জেগে আছে। মেয়ের নরম নরম গালে একটু পর পর গাল ঘসে দেয়ার চেস্টা করছে। রুপা তাকে বার বার বলছে, এমন করোনা প্লিজ। ঘুম ভেঙ্গে যাবে ওর। কে শুনে কার কথা! জহির এই যদি হাত বাড়ায় তো পরনেই মুখ বাড়ায়। ফেরাতে গেলে সে রুপার দিকে ঠোট বাড়িয়ে দেয়। কি এক যন্ত্রনা... পিয়ারিকে কোন মতে বিছানায় রেখে যুদ্ধ ঘোষনা করে রুপা। বলে আস দেখি, আমার সাথে আস। দেখি কত শক্তি তোমার। জহির ফিস ফিস করে বলে, এভাবে উসকানি দিতে নাই। জাননা আমার ভেতর বারোশ বাঘ ঘুমিয়ে থাকে! তাকে জাগাতে যেওনা... রুপা তার রাজহংসির মত কন্ঠ উচিয়ে বলে, আহারে কি আমার বাঘ পুষনেওয়ালা!

সকালে ঘুম ভাঙলে জহির দেখে সে একা বিছানায় পড়ে আছে। রুপা, পিয়ারি কেউ নেই। চোখ কচলে ঘড়িতে তাকায়, সাড়ে এগারটা। লাফ দিয়ে উঠে। আজ বাজারে যেতে হবে। জুমআর নামাজ পড়তে হবে। আর এখনও সে ঘুমে...

জুমআর পর বাসার সবাই এক সাথে বসে খাওয়ার নিয়ম। টেবিলে বসেই টের পায় জহির, আজ কেমন যেন এক গুমোট ভাব। কি যেন এক বাধা সবার মুখে থমথমে ছাপ একে দিয়েছে। মা’ই প্রথম কথাটা তুলেন। জহির কাল তোর বউ কি করেছে শুনেছিস। কি করেছে? কি করেনাই সেইটা বল আম্মা, বলে খাকারি দিয়ে উঠে অনন্যা। অনেক দিন পর জহিরের রাগ উঠে, ধমক দিয়ে উঠে, মাকে কথা বলতে দে অনন্যা। অনন্যা সেই কথায় কান দেয়না, আরও জোরে চেচিয়ে বলে, কেন, আমি বলবনা কেন? তোমার বউ আমাকে নিয়ে উল্টা পাল্টা বলবে আর আমি কিছু বলতে পারবনা। জহির ঠান্ডা গলায় বলে, কি বলেছে রুপা? অনন্যা সপ্তমে চড়ানো গলায় বলে, আমাকে নিয়ে তোমার বউ মায়ের কাছে বিশ্রি বিশ্রি কথা বলেছে কাল বিকেলে। সে বলেছে, আমি নাকি সুমনের সাথে যেখানে সেখানে ঘুরে বেড়াই। সুমন একটা বাজে ছেলে। তার সাথে থেকে আমিও বাজে হয়ে যাব... জহির ক্ষেপে গিয়ে চিত্কার করে উঠে, ঠিকই বলেছে রুপা।

এবার কথা বলেন মা। জহির তুই যদি তোর বউয়ের কথায় লাফ দিস তাহলে আমার কিছু বলার নেই। কিন্তু ঘরের বউ হয়ে সে যদি আমার মেয়ের বিরুদ্ধে এমন কথা বলে সেটা সহ্য করা আমার পক্ষে সম্ভব নয়। তাছাড়া সুমনতো খারাপ ছেলে নয়। এই বয়েসে অনেকেরই অনেক সমস্যা থাকে। সব ঠিক হয়ে যাবে। জহির অবাক চোখে মায়ের দিকে তাকিয়ে থাকে। তার মাথায় মায়ের কথাগুলো ঠিক ঢুকেনা। কয়েক মূহুর্তের জন্য বেশ বড় গলায় কথা বল্লেও আবার সে চুপসে যায়। গলায় খাবার আটকে যায়। হাত ধুয়ে ফেলে। আর খেতে মন চায় না। রুপা তার মতো উঠতে পারেনা। টেবিলে বসে তাকে অনন্যার অশ্রাব্য কথামালা হজম করতে হয়।

মন খারাপ করে জহির ঘর থেকে বেরিয়ে যায়। পিয়ারিকে নিয়ে অন্য বন্ধের দিনে এই সময়টায় সে খেলা করে। আজ আর তাতে মন উঠলনা। ঘরটাই তার কাছে অসহ্য হয়ে উঠল। সুমনের মত একটা বাজে ছেলের জন্য মা কথা বলবেন এটা ভাবতেই তার মাথায় টনটন করছে। রুপা আগেও বলেছে, অনন্যার চালচলন ভাল ঠেকছেনা। তাছাড়া সুমনের সাথে তার সম্পর্কের কথা দ্রুত সবার মুখে ছড়িয়ে পড়ছে। এটা থামানো দরকার। রুপা কাল বিকেলে অফিস থেকে ফেরার সময় অনন্যাকে সুমনের বাড়ি থেকে বের হতে দেখেছে। সুমনের বাবা-মা দুজনেই দেশের বাইরে থাকেন। ভাই, বোনও তাই। খালি একটি বাড়িতে এভাবে যাওয়া শোভন নয় সেই কথাটাই সন্ধায় শাশুড়িকে বলেছিল রুপা। তার জের ধরেই এতকিছু।


২.
অনন্যার মুখে খই ফুটছে যেন। রুপা তার ভাইটার মাথা চিবিয়ে খেয়েছে। সহজ সরল পেয়ে যা ইচ্ছা তাই করছে। চাকরির নামে সারদিন বেশ্যাগিরি করে বেড়ায় আর ঘরে এসে মহিয়সি ভাব ধরে। মা’ও বলেন তার ইচ্ছামত। নিজের ইচ্ছেমত ছেলেটার বিয়ে দিতে পারলেননা। কোত্থেকে এক আকামের মেয়েকে ছেলে জোগাড় করে আনল আর আজ সেই মেয়ে তার ঘরের ইজ্জত নিয়ে কথা তুলে! এইসব প্যাচঘোচের কথায় রুপার মাথা ঝিমঝিম করে। সে ভেবে পায়না তার অপরাধটা কোন যায়গায়। পালিয়ে আসুক আর যাই করুক সেতো এই ঘরের বউ। তারকি কোন অধিকার নেই ঘরের ভাল মন্দ কিছুতে মত দেবার। আর এটাইবা কেমনতরো আক্রমন। তার চরিত্র নিয়ে কুত্সা রটানোর মত রুচি এরা কোত্থেকে পেল। জহিরের উপর তার রাগ হতে থাকে। এই সময় কেমন সে পালিয়ে গেল। তার উপর দিয়ে এত অশ্লিল ঝড় বয়ে যাচ্ছে আর জহির কিনা বাইরে বাতাস খেয়ে বেড়াচ্ছে!

কথার তুবড়ি এখন জমেছে রুপার চরিত্র আর চাকরির উপর। বস্তিতে ঘুরে বেড়ানোর কাজ কোন ভদ্র বাড়ির মেয়ে করে বলে কোনদিন শুনেনি অনন্যা। তার মা’ও শুনেননি। আর সেইরকম একটা মেয়ে তাদের ঘরের বউ হয়ে এলো!


৩.
অনেকক্ষন ধরে রুপার কানে আর কোন কথা ঢুকছেনা। তার পুরোটা মাথা যেন ফাঁকা হয়ে গেছে। বারবার জহিরের কথা মনে পড়ছে। এভাবে তাকে এই ঘরে একা ফেলে সে চলে যেতে পারল? এভাবেইকি সে সব যুদ্ধে তাকে অসহায়ের মত ফেলে যাবে! তার চরিত্র আর পেশা নিয়ে এরা বারবার বকে যাচ্ছে আর সে কিছুই বলতে পারছেনা! তাকে যে আগলে রাখতে পারতো এসব থেকে সেই মানুষটাও কাপুরুষের মত পালিয়ে গেল...

বাবার জন্য কাঁদতে কাঁদতে ঘুমিয়ে পড়া পিয়ারির কাছে শুয়ে পড়ার পর থেকেই গভির ঘুমে তলিয়ে যেতে থাকে রুপা। তার চোখের সামনে জহিরের নিরিহ, গোবেচারা চেহারাটা ভেসে উঠে। পিয়ারিকে আদর করতে ইচ্ছে করে। ঠোটটা পিয়ারির গালের দিকে এগিয়ে নিতে গিয়েও এগুতে পারেনা রুপা। তার শুধু ঘুম পেতে থাকে। তার চোখে একরাশ কালো কালো পর্দা নেমে আসে। পিয়ারির মুখটা আড়াল করে ফেলে। রুপা ডুকরে কেঁদে উঠতে গিয়েও কাঁদতে পারেনা...


]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/NajmulAlbabblog/28712442 http://www.somewhereinblog.net/blog/NajmulAlbabblog/28712442 2007-05-25 04:13:49
:: নাতাশার নানীর গাড়ীতে :: আহা আলবাব তুমি আর কত বেচাইন হবে!
নাতাশার নানীর গাড়ীতে বসে বসে তুমি
এইসব উকিল মুহরির দৌড় দেখেই আগামী
দিন কাটানোর জন্য প্রস্তুতি নাও...

আহমেদ নূর বেটা চাঁদাবাজ বটে!
তার আছে আরও অনেক জারিজুরি
তুমি তার কত পাশ টানবে?
তোমার আর কতটুকুনই আছে ক্ষেমতা?

নাতাশার নানী এই গাড়ী কিনেছিল বলে,
তার গাড়ির রেজিস্ট্রেশন দরকার বলেই
আজ এই কাচারির উঠানে তুমি আরামে
বসে আছ আর গেজাতে গেজাতে গিলছ
আমের আচার, গোপালের পান।

বিকেলের নীল প্রিজনভ্যানে দাগী অপরাধীর ভিড়ে
ভাঙ্গা পা টানতে টানতে মৌলির বাবা যখন মিশে
যান, তার আগে পত্রিকায় মোড়ানো মিহিদানা মিস্টি
হাতে পেয়ে লোকটার চোখ কেমন জ্বলজ্বল করে উঠে...

আহা আলবাব তুমি আর কত বেচাইন হবে...
এইসব উকিল মুহরির দৌড় দেখেই আগামী
দিন কাটানোর জন্য প্রস্তুতি নাও...

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/NajmulAlbabblog/28712148 http://www.somewhereinblog.net/blog/NajmulAlbabblog/28712148 2007-05-23 14:20:49
:: বৃষ্টির গান ::
এপাশে বৃষ্টি ওপাশে বৃষ্টি
জারুল বৃক্ষের শিয়রে সংসার
তুমি যোগীনী...
ধ্যানে মগ্ন...


আদম কী ইভ'কে এভাবে কখনো
জড়িয়ে ধরেছিল বৃষ্টির শিয়রে...
আলবাব...
যোগীনীর নিঃশ্বাস...

ইভের ঠোঁট এতটা
কোমল ছিলনা নিশ্চিত।

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/NajmulAlbabblog/28711806 http://www.somewhereinblog.net/blog/NajmulAlbabblog/28711806 2007-05-21 14:32:29
:: সে রাতে পূর্ণিমার সাথে আমি তোমাকেও দেখেছি ::
১.
তখনও বুঝিনি আকাশে অতটা উজ্জলতা ছিল। হঠাত করেই ইলেকট্রিসিটি চলে গেল। মুমু বল্ল সে ছাদে যাবে। বন্ধ ঘরে তার ভাল লাগছেনা। দম বন্ধ হয়ে আসছে। বাধ্য হয়ে তাই বেরিয়ে আসি। মোমের আলোয় যতটা দেখা যায় ততটা দেখে সিড়ি বাইতে থাকি। একহাতে মোম অন্য হাতে ধরে রাখি মুমুকে।

সিড়িটা বেশ খাড়া। অন্যবাড়ির দেড় সিড়ি সমান এর একেকটা সিড়ি! মুমুকে বলি, কষ্ট হচ্ছে উঠতে। ম্লান হাসি হেসে বলে, তুমি জিজ্ঞেস করতেই উধাও হয়ে গেল! আমি দাঁড়িয়ে যাই। ওর চোখে চোখ রাখার চেস্টা করি। মোমের আলোয় কেমন এক মায়ার খেলা দেখতে পাই। বিষন্নতার মাঝে খেলা করে যেন অন্যরকম এক আলোর ছটা।

সিড়ি ঘরের দরজাটা খুলতেই আমি চমকে উঠি। বিস্ময়ে উল্লাস করে উঠে মুমু। কতদিন পর মুমু এমন বিস্মিত হয়! আশ্চর্য রুপালী আলোর কেমন এক ঘোর লাগা সময়ে আমরা প্রবেশ করি। মুমু মাদক জড়ানো কন্ঠে বলে, আজ কী পূর্ণিমা! আমি বলতে পারিনা। কতদিন হল পূর্ণিমার খোজ নিতে পারিনা।

ছাদে ছড়িয়ে আছে ছোটবড় বেশকটা ফুলের টব। বাগান বাগান একটা ভাব আনার চেস্টা করা হয়েছে। তিনতলার মিতা ভাবীর কাজ। সিমেন্ট দিয়ে দুটি বেঞ্চও বানানো হয়েছে। তারই একটাতে বসি। আসলে আমি বসি। মুমু দাড়িয়ে থাকে বেশ কিছুন। চাদের দিকে অপলক তাকিয়ে থাকে। কয়েক মিনিট পর, কোমরের পেছনে একটা হাত আর আরেক হাতে তলপেটটা হালকা তুলে ধরে এক অনুপম ভঙ্গিতে মুমু বসার চেস্টা করে। আমি হাত বাড়িয়ে ওকে একটু ধরতে চেস্টা করি। মুমু মানা করে, বলে দেখিনা বসতে পারি কিনা... বলতে বলতে বসেও পড়ে। তারপর হেসে বলে, দেখলে, বসে পড়লাম!

বেশিক্ষন আর বসা হয়না।প্রথমে মাথাটা আমার কাধে হেলিয়ে দেয়... তারপর পুরোটা শরির। একসময় বলে পা’টা একটু তুলে দাওতো...। আমার কোলে মাথা রেখে আধশোয়া হয়ে পড়ে থাকে। কস্ট হচ্ছে কিনা জিজ্ঞেস করলে বলে, নাহ... অনেকদিন ধরে এমন ভাল লাগেনা... কেমন চাদ উঠেছে দেখ আকাশে।

পূর্ণিমা নিয়ে আমার অত রোমান্টিকতা ছিলনা কোনকালেই। মুমু আমাকে কোন ফাঁকে চাঁদকে ভালবাসা শেখালো জানিনা। আমিও এখন মুগ্ধতা নিয়ে চাঁদ দেখতে পারি সারাটা রাত!

কেমন এক কস্টের শব্দ উঠে মুমুর গলা থেকে। আমার সকল ভূবন কেঁপে উঠে। কি হয়েছে জিজ্ঞেস করতেই আমার হাতটা ধরে নিয়ে তার পেটে হালকা ভাবে রেখে দেয়! সেখানে তখন উথাল পাথাল ঢেউ উঠেছে। বলি, কস্ট হচ্ছে তোমার? মুমু বলে, হ্যা, আবার না। আমি ধ্বন্দে পড়ে বলি, কি বল।

তখনও চলছে উথাল পাতাল ঢেউ। আমি বলি কি দিয়ে এমন ঢেউ তুলে? হাত? না বলে মুমু... এটা হল পা। আঁতকে উঠি! পা! তাহলেতো খুব শক্তি নিয়ে নাড়াচ্ছে। আমাকে আশ্বস্ত করে বলে, নাহ। বরং না নড়লেই কষ্ট। মনে ভয় হয়, কী হল সোনাটার? ওর কি কোন সমস্যা? নড়াচড়া করা মানে ও সুস্থ আছে! আমি কোন কথা বলিনা, অবাক হয়ে তাকিয়ে থাকি।

মুমু জিঙ্গেস করে, আজ কত তারিখ। জানুয়ারির বিশ। আঙ্গুলে গুনতে গুনতে বলে, তাহলেত আর দশ দিন। আমি কেঁপে উঠি। ওর হাতটা শক্ত করে ধরি। মুমু বলে, কি হল। তুমি এমন করছ কেন? কই আমাকে একটু সাহস দেবে! না উল্টো নিজেই ঘাবড়ে যাচ্ছ। আমি হাতটা আরও শক্ত করে ধরি। বলি, না ঠিক আছে।


২.
উনত্রিশ তারিখ বিকেলে হাসপাতালে যেতে হয়। মুমুর শরিরটা তেমন ভালনা। ডাক্তার আগেই বলেছেন অপারেশন লাগবে। তাছাড়া আরও সমস্যা হতে পারে। তাই আগে থেকেই হাসপাতালে থাকতে হবে। আগের রাত পর্যন্ত আমরা একসাথে ছিলাম। বিচ্ছিন্নতা। কেমন খালি খালি লাগে সব কিছু। লেবার ওয়ার্ডে পুরুষদের যেতে দেয়না। আমার তবু যেতে ইচ্ছে হয়। আমি করিডোরে পায়চারি করি। মা আমাকে বলেন, তুই বাড়িতে চলে যা। অন্যবেলাতে আসিস। আমি হ্যা না কিছুই বলিনা। মাথা নেড়ে আবার পায়চারি করতে থাকি।


৩.
সন্ধা তখনও নামেনি। অথবা রাত হয় হয়। সাদা সাদা চোখ নিয়ে আমার দিকে তাকায় মুমু। আমি কোন চোখে তাকাই তার কোন বর্ণনা নিজের কাছে নেই। একবার ছুতে মন চায় মুমুর কোমল গাল। ওর কাঁধে হাত রেখে বলতে ইচ্ছে করে, এইতো আমি আছি। বলা হয়না। চেনা অচেনা কতজন তাকে ঘিরে ধরেন। আমি আর এগুতে পারিনা। চোখে শুধু চোখ রাখা হয় মুহুর্তের জন্য। দরজা পেরিয়ে নিঃশব্দের ওপাশে চলে যায় মুমু। মিনিট পাঁচেক পর সেই দরজায় জ্বলে ওঠে লাল রঙের বাতি... আমি দাড়িয়ে থাকি... আমি হাটতে থাকি...


------------------------------------------------------

ছবি : মাশীদের ব্লগ থেক মেরে দেয়া। এত ভালোবাসায় আর কোন হাতের যুগলকে জড়াজড়ি করে থাকতে দেখিনি কখনও।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/NajmulAlbabblog/28709628 http://www.somewhereinblog.net/blog/NajmulAlbabblog/28709628 2007-05-08 13:55:45
:: রুহী ঠাকুর: গানের এই মানুষটা আজ মরে গেল :: গানের আসরে ডুবে তাঁর কত রাত হয়েছে ভোর। দেহঘড়ির সন্ধান খুঁজে খুঁজে রোজই হয়েছেন কান্ত। একরাশ কান্তি আর দেহঘড়িরর চলা এবার আচমকাই বন্ধ হয়েছে তাঁর। আজ সোমবার বিকেলে স্থানীয় একটি কিনিকে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেছেন তিনি।
গত ২১ এপ্রিল থেকে নগরীর এখানে চিকিৎসাধীন ছিলেন। তার মৃত্যুর খবরে সিলেটের সাংস্কৃতিক অঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে আসে। লাশ দেখতে তার বাড়িতে ভিড় করেন হাজারো মানুষ। রাতে রুহী ঠাকুরের লাশ দাহ করার জন্য সুনামগঞ্জ জেলার দিরাই থানার ধল গ্রামে নিয়ে যাওয়া হয়।
এই ক’দিন আগেও সংসারের অভাব-অনটন আর মনের দুঃখ ভুলে রুহী ঠাকুর মানুষকে ভাসিয়েছেন সুরের সুধায়। বিপ্তি মনে দিয়েছেন অমৃতের সন্ধান। বিনিময়ে মানুষের ভালোবাসা ছাড়া অর্থকড়ি তেমন জুটেনি। স্ত্রী-পুত্র-কন্যা নিয়ে সংসারটা চলেছে খুঁড়িয়েই। চলতোও আরো কিছুদিন। পাখির বাসার মতো দুরন্ত ক্যান্সারটা যদি তাঁর দেহে বাসা না বাঁধতো! বাউলের জীবন বোধ করি এমনই। ধুপের মতো সুগন্ধ ছড়িয়ে কেবলই জ্বলে পুড়ে য়ে যাওয়ার।
অর্থ-কড়ি বিহীন এ যুদ্ধে লড়াই করার সামর্থ্য ছিলনা রুহী ঠাকুরের। তার শুভানুধ্যায়ী, বাউল প্রেমিকজন তাঁর সহায়তায় এগিয়ে এসেছিলেন। এ টাকায় প্রথমে ভারতে পরে ঢাকায় চিকিৎসা করা হয় শিল্পীর। পর থেকে ছিলেন নগরীর শাহী ঈদগাহ এলাকার বাড়িতে।
সিলেট অঞ্চলের বাউল গানের মূল স্রোতের অসুস্থ শিল্পী রুহী ঠাকুরের চিকিৎসা সহায়তায় চ্যানেল এস ইউকে এগিয়ে এসেছিলো। তার চিকিৎসা সহায়তায় এগিয়ে আসার জন্য প্রবাসী বিত্তবানদের নিকট আবেদন জানিয়ে একটি ডকুমেন্টারি প্রচার করা হয়েছিল। এই আবেদনে প্রবাসীদের মধ্যে ব্যপক সাড়া পড়ে। তাদের পাঠানো ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা গত ২০ মার্চ তাঁর হাতে তোলে দেওয়া হয়। কিন্তু বাঁচানো যায়নি বাউল সম্রাট শাহ্ আব্দুল করিমের ভাব শিষ্য পঞ্চাশোর্ধ রুহী ঠাকুরকে।

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/NajmulAlbabblog/28708544 http://www.somewhereinblog.net/blog/NajmulAlbabblog/28708544 2007-04-30 23:40:09
: আমাদের ক, খ, গ, ঘ, এবং ঙ :
ক.

বাড়ির সামনেই কবরটা। সাদা মার্বেল দিয়ে বাঁধিয়ে রাখা। আগে ছিল লাল রংএর ইটের দেয়াল। তিন বছর আগে দাদা যখন সার্টিফিকেটধারী রাজমিস্ত্রি হল তখন মার্বেল দিয়ে বাঁধিয়ে দিল। এতে নাকি তার মেধার উন্নতি হবে। আগামিতে সে হবে ফাঁটাফাঁটি ইঞ্জিনিয়র। এমনই আমাদের বিশ্বাস। আমরা সবাই বিশ্বাস করি। যতকিছু আছে আমাদের ভালো সবই তার দোয়ায়। আমরা বিশ্বাস করি আমাদের বিপদ আপদ সবই হয় যখন তিনি রেগে যান।

খ.

আমাদের মূলত নির্ভেজাল জিবনযাপন। আমদের বাড়ির ছেলে মেয়েরা পড়ালেখায় ভাল। পাশ করার আগেই তারা কাজ পেয়ে যায়। ভালো ভালো সব চাকরি। ভালো সব ব্যবসা। সবই আছে আমাদের।

গ.

রোজ স্কুল, কলেজ অথবা অফিস যাওয়ার পথে আমরা শান বাঁধানো কবরটার সামনে দাড়াই। নতজানু হই। আমরা নিজেদের জন্য সুভসময় নিশ্চিত করে সেই কবরের সামনে থেকে যার যার গন্তব্যে রওয়ানা দেই। বাবা বলেছেন, মা-ও বলেছেন কবরের সামনে নতজানু হই বলেই আমরা নিরাপদে ঘরে ফিরতে পারি।

ঘ.

শাহানা একবার স্কুলে মাথা ফাটিয়ে ফেলেছিল। কিভাবে তা জানিনা। তবে মা বলেছিলেন, সেদিন নাকি ওর কবরের কাছে যাওয়া নিষেধ ছিল। তবুও গিয়েছে তাই এই শাস্তি। এভাবে প্রতি মাসে নিয়মিত শাহানার উপর কবরে যাওয়ার ব্যপারে নিষেধাজ্ঞা থাকে! সেই কবরের এমনই অলৌকিক মতা! তাকে মেনে চলতেই হয়। তার কথা না মানলে নিশ্চিত শাস্তি। যখন বেঁচে ছিলেন তখন তা আরও কঠিন ছিল। ছোট চাচা তার কথা না শুনায় কোথায় যে হারিয়ে গিয়েছেন কেউ জানেনা।

ঙ.

৭১ সালে দাদাজান বলেছিলেন, মহান ইকবাল আর কয়েদ এ আজমের স্বপ্নের দেশ কখন্ও ব্যর্থ হতে পারেনা। কাফেরদের ষড়যন্ত্র প্রতিহত করা হবে। ছোটচাচা সেটা মানেননি। তিনি যুদ্ধে গিয়েছিলেন। সে খবর শুনে ক্ষেপে গিয়েছিলেন দাদাজান। অভিশাপ দিয়েছিলেন। ছোট চাচা সেই অভিশাপ কাটাতে পারেননি। তিনি ফিরে আসেননি। বড়চাচা ভাইয়ের পক্ষে কথা বলেছিলেন। তাকে বাড়ি থেকে বের করে দেয়া হয়। তিনি আর এ বাড়িতে ঢুকতে পারেননি। আব্বা দাদাজানের কথা শুনেছিলেন। আমাদের সময় এখন সবসময় সূর্যরাঙা। আমরা ভাল আছি, ভাল থাকি...

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/NajmulAlbabblog/28708405 http://www.somewhereinblog.net/blog/NajmulAlbabblog/28708405 2007-04-30 00:36:46
আমার কোনদিন দুধ চা খাওয়া হবেনা বেশি সময় কারও লাগেনা। বুঝে ফেলে। আমার দৌড়টা তাদের জানা হয়ে যায়। এর জন্য আমি নিজেই আসলে দায়ী। ভাব ধরাটা শিখতে পারলামনা। তাই খুব সহজেই সবাই বুঝে ফেলে আমি মূলত অন্তজ শ্রেনীর মানুষ।

আমি নাকি ঠিক মানানসই নই এই সময়ের জন্য। পরিচিতরা সবাই বলে। এমনকি মাও বলেন, তুই বুঝিসনা দিনদুনিয়া কোন তালে চলে এখন! আমি কোন উত্তর দিতে পারিনা। মাথা চুলকাই।

কাদির মিয়া আমাকে কেন যেন খুব পছন্দ করে। জেলখাটা দাগী আসামী। নামের শেষের মিয়াটা উধাও হয়ে সেখানে ডাকাত শব্দটা ঠেসে ছিল অনেকদিন। কি করে যেন সে আমাদের অফিসে এসে জুটে গেল আর আজব কোন এক কারনে আমার সাথে তার খাতির হয়ে গেল। কাচের মগে লাল চা দিতে দিতে বলত, স্যার আপনার জীবনে কোনদিন দুধ চা খাওয়া হবেনা। আমি অবাক হয়ে বলতাম, মানে? সে বলত, এইত রোজ রোজ লাল চা খাবেন। দুধ কেনার টাকা হবেনা! আমি ঠাঠা মারা হাসি দিয়ে তাকে লাল চার গুনাগুন বুঝাতে চাইলে সে শুধু মিট মিট করে হাসত। সব কথা শেষ হলে মাথা নাড়তে নাড়তে সামনে থেকে বিদায় হত। মাথা নাড়াড় ভঙ্গিটায় স্পস্ট বুঝা যেত তার মনের কথা... আপনেরে দিয়া কিছুই হবেনা টাইপ মাথা নাড়ানো।

অফিসে ওই কাদির মিয়া ছাড়া আর কেউ আমারে পাত্তা দেয়না। এমনকি যারা আমারে পাত্তা না দিলেই নয় তারাও না। সেলসে যারা কাজ করে তাদের প্রতিদিনকার কাজের হিসাব নেয়ার দায়িত্বটা আমার। ওদের লগবুকে আমার সই না থাকলে বেতন হয়না তাদের! সেই অর্থে আমি তাদের কাছে বিশাল মতাবান কিছু একটা হওয়া উচিত। কিসের কি, আমার কাছ থেকে তারা প্রতিদিন এমনভাবে সই নেবে, ভাব দেখে মনে হয় কারো খাতায় যদি আমি সই না দিই তাহলে আমার এমাসের বেতন আটকে দেয়া হবে!

আমাদের অফিসের সবারই প্রায় আরামের জীবন। আমাদের বাড়ির প্রায় সবারই আরামের জীবন। আমি শুধু সেখানে বাগড়া। ফেলনা টাইপের কিছু একটা। কোন কিছুতেই আমার প্রবেশাধিকার নেই। অফিসের আর সবাই মিলে অনেকধরনের ধরনের মজা করে। আমি তাতে কোনদিনই সুজোগ পাইনা। কাদের মিয়া না থাকলে সেসবের খবরই আমি পেতামনা। তবে একবার আমিও গিয়েছিলাম সেরকম এক আয়োজনে। আসলে যেতে বাধ্য হয়েছিলাম। সেদিন পাচটা না বাজতেই অফিসটা প্রায় ফাঁকা হয়ে গেল। আমার আবার রোজ রোজ দেরি হয় অফিস থেকে বেরুতে। প্রায়ই সেলসের ওরা ফিরতে দেরি করে ফেলে। সাড়ে পাচটার দিকে ফোন আসল। মহিউদ্দিন সাহেব ফোন করেছেন।

- কি খবর মোকাম্মেল ভাই, এখনও আপনি অফিসে।

আমি বলি, কাজ শেষ করতে দেরি হয়ে গেল মুহিভাই।

-সেতো আপনার রোজই হয় বলে তিনি কাদির মিয়ার খোজ করেন। আমি বলি ওতো চলে গেছে। আমার রুটিন জানতে চান তিনি। আমি বলি বাসায় চলে যাব মুহি ভাই। মুহিভাই আজব এক কথা বলেন এর পর। তিনি আমাকে তার বাসায় যাওয়ার প্রস্তাব দেন। আমি অবাক হয়ে যাই। ধাতস্ত হয়ে বলি, না ভাই আজ না আরেকদিন। তিনি নাছোড়বান্দা। বলেন, আরে আজই আসেন। ১০ মিনিটের জন্য হলেও আসেন। কি আর করা। রাজি হতে হয়। মুহিভাই তার বাড়ির নাম্বার দিয়ে আমাকে বলেন, একটা কস্ট করতে হবে কিন্তু মুকাম্মেল ভাই, আমার টেবিলের তলায় ছোট একটা বাক্স আছে একটু কস্ট করে ওইটা নিয়া আসতে হবে। আমি বাড়ির পথের উল্টা পথের রিক্সায় চড়ে বসি। প্রায় পাঁচ কেজি ওজনের বাক্সটা হাটুর ওপর শক্ত করে ধরে রাখি।

বাসায়ও এমন অনেককিছু হয় যার পাত্তাই আমি পাইনা! সেসব আমি গায়েও মাখিনা। অভ্যাস হয়ে গেছে। শুধু একবার, রাতে বাসায় ফিরে যখন মা মিস্টির বাটিটা এগিয়ে দিয়ে হাসতে হাসতে বল্লেন নে মিস্টি খা, আমাদের মিনার বিয়ের মিস্টি। আমি ফ্যাল ফ্যাল করে তাকিয়ে থাকি। মা বলেন, আগামী শুক্রবার মিনার বিয়ে। জামাই লন্ডনে থাকে। ছয়মাসের মধ্যে মিনাকে লন্ডন নিয়ে যাবে। আমার মিস্টি খেতে ইচ্ছে হয়না। মন খারাপ করে। আমার বোনটার বিয়ে হবে সেই খবরটাও আমি জানতে পারিনা। চোখটা ভিজে আসতে চায়।

মোসাদ্দেক বেশ বুঝদার ছেলে। আমার দুবছর পরে দুনিয়ায় আসলেও আদতে সে আমার বড়ই হবে। সব কাজেই সে পাক্কা। কন্ট্রাক্টরি করে। সব কন্ট্রাক্টই সে নেয়। সে বাড়ি বানানোই হোক আর কাগজের বাক্স বানানো হোক। একেবারে শুন্য থেকে শুরু করেছে। প্রথম কাজটা পেল বড়ভাইয়ার শালার কাছ থেকে। ইউনানী ঔষধ কোম্পানির বোতল সাপ্লাইয়ের কাজ। বড়ভাইয়া শুনে হেভি ক্ষেপা। কোনদিন করেনি কাজ। কি বুঝে নিল। টাকা ওড়ানোর ফন্দি। মাও তাতে যোগ দিল। মোসাদ্দেক তাদের পাত্তাই দিলনা। সোজা চলে গেল ঢাকা। তিন চারদিন পর ফিরে এল। পনের দিনের মাথায় মিস্টি নিয়ে ঘরে হাজির। বিল পেয়ে মিস্টি কিনেছে!

আমি মোসাদ্দেককে জিজ্ঞেস করি কিভাবে। সে বলে সিস্টেম। এরচেয়ে বেশি কিছু বলেনা। তবে আমি বুঝে যাই তিনমাসের মাথায়। যখন আমাদের অফিসের প্রিন্টিং এর কাজটা ও বাগিয়ে নিল। বড় স্যার আমাকে ডেকে নিয়ে বলেন, আপনার ছোটভাইতো বেশ কাজের ছেলে। আপনার মত নয়। দিন দুনিয়া বুঝে। আমি কিছুই বুঝিনা। দাড়িয়ে থাকি। তিনিই খোলাসা করেন। আরে আজ সে এসেছিল। আপনার পরিচয় দিয়ে বল্ল, কাজ চায়। দিয়ে দিলাম প্রিন্টিং এর কাজটা। আমি বেশ অবাক আর খুশি হই। রাতেই মোসাদ্দেক আমায় বলে, তুমার বসরে আইজ ফিট দিলাম। টেন পার্সেন্ট সাথে তুমি। আমি টেন পার্সেন্ট বুঝি কিন্তু সাথে আমিটা আর বুঝিনা। একবছরের মধ্যে মোসাদ্দেক আমাদের অফিসপাড়ায় পরিচিত একজন হয়ে যায়। আমার ভাইকে দেখি সবাই চিনে।

আমার দিয়া আসলেই কিছু হবেনা... এটা মোসাদ্দেকও বুঝে ফেলে যখন অফসেটে ছাপানোর অর্ডারটা আধাআধি টিকেতে ছাপিয়ে দেয়। আর সেটা আমি আটকে দেই তখন। আমি বুঝিনা কিভাবে তবু তার বিলটা পাস হয়ে যায়। আর মা কেন আমাকে এনিয়ে আমাকে বকা দেয় তাও আমার বুঝে আসেনা। আমার বৌও বলে, তুমি কি? নিজের ভাইয়ের সাথে আইন দেখাও!

মোসাদ্দেক একটা অফিস করেছে। খুব সুন্দর অফিস। লাল নীল কাচ বসানো অফিস। সে অফিসে সারাদিন বাতি জ্বলে। মা কয়েকদিন ধরে আমাকে খুব করে বকছেন। আমার দোষটা যে খুব বড় তা নয়। মোসাদ্দেক বলছিল আমি যেন রোজ তার অফিসে এক ঘন্টা করে সময় দিই। সন্ধার দিকে দিলেই হবে। ওর সারাদিনের হিসাবটা আমি দেখে দিলেই হবে। এটা এমন কোন আব্দার নয়। ওই সময়টায় আমি স্বপনের দোকানে বসে আড্ডা দিই। সময়টা কাজে লাগল। টাকাও নাকী দেবে। আমি যে বেতন পাই তারচেয়ে ডাবল! তবু আমার ভাল লাগেনি। মোসাদ্দেকের ঘাপলা আছে এই কথাটা অন্তত আমি বুঝতে পারি। তার সেই ঘাপলায় যোগ দিতে আমার ভাল লাগেনা। তাই না করে দিয়েছি। তাতেই মা ক্ষেপেছেন। বড়ভাইয়া ক্ষেপেছেন। বাবা থাকলে তিনিও নিশ্চয় ক্ষেপতেন।

আমার বৌও ক্ষেপেছে। কাঁদতে কাঁদতে বলেছে, যে লোক বৌয়ের রিক্সাভাড়া দিতে পারেনা তার আবার এত লম্বা কথা কেন?

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/NajmulAlbabblog/28707670 http://www.somewhereinblog.net/blog/NajmulAlbabblog/28707670 2007-04-24 18:16:05
উত্সর্গ: অরিল, হাসিন এবং যাদের নাম জানিনা সেইসব আওয়াজগনকে আমার কয়েকটা বিষয় আছে যেগুলোতে পরিচিতরা বেশ মজা পান। কিন্তু সেসব কাজ বা কথা মজা দেওয়ার জন্য বলিনা। সত্য কথাটা অবলিলায় বলে ফেলি! যা সাধারণত ঘুরিয়ে বলার নিয়ম! তো সরাসরি বলায় সেটা মজা হয়ে যায়!

ঘরের ছোট সন্তান হিসাবে আমি অনেকবছর পারিবারিকভাবে বেশ সুবিধা ভোগ করেছি। এখনও করছি, বাচ্চার বাপ হয়ে যাওয়ার পরও। যেমন গত তিন মাস ধরে আমাদের বাড়ির রিকন্সট্রাকশন চলছে, সেই কাজ মাত্র একবার আমি দেখতে গিয়েছি। সে যাইহোক। আমি এই এখনের কথা খুব একটা বলবতে চাইনা। পেছনের কিছু কথা বলব আর এই সময়ের একটা কথা।

আমি প্রায়ই মুফতে জিনিসপত্র পেতাম। শার্ট কবে কিনেছি এটা মনে করতে সুপার কম্পিউটার দিয়ে মনের ভেতর সার্চ দিতে হবে! কাপড়চোপড় থেকে শুরু করে প্রয়োজনীয় সবকিছুই মোটামুটি গিফটের উপর দিয়ে মানে মাগনায় চলেছে এবং এখনও চলছে। ( যেমন সামহ্যোয়ার! ধন্যবাদ ভাইবেরাদরগন অফ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ... )

আগের দিনের কথা বলি। আমি তখন ভাঙ্গা একটা মোটর সাইকেল চালাই। ( আরিফ ভাই, মোরশেদ মামা আর অর্না... মনে পড়ে পঙ্খিরাজরে? ) সেই মহান সাইকেল দেখলেই লোকজনের জানতে ইচ্ছা করে এই মাল আমি কইত্থন জোগাড় করলাম। তো আমি বলি, ভাই/বইন, আমার মায়ের ছোটমামু মানে আমার নানা এই সাইকেলটা ১৯৭৭ ইংরেজিতে কিনছিল! ১৫ বছর চালাইছে! তারপরে হের পোলা মানে আমার মামু এইটা পাইছে... চালাইছে দুই বছর... এর পরে আমি আনছি! এমন সত্য বর্ণনায় মানুষজন মজা পাইত! ভাবত আমি বিলা কইরা এইভাবে বলি!

কাপড়চোপড়ও সেইরকম। সিলেটি হিসাবে প্রচুর বৈদেশি ব্রান্ড আমি নিখরচায় পরছি। এখনও মাঝেসাঝে পরা হয়। কেউ হয়ত কইল, অপু শার্ট কইথাইকা পাইলা। আমি বল্লাম লিল্লাহ! মাঝে মাঝে এমনও ঘটত যে পরনের অন্তর্বাসটাও লিল্লাহর মাল থাকত! সেইরকম দিনে আমি আবার গলা ফাডায়া বলতাম, আইজ আমি পুরা পরের উপররে... আল্লার দেওয়া গতর ছাড়া নিজের আর কিছুই নাই!

এইযে আমি স্বিকার করি আমারে কেই কিছু দিলে অকপটে এইটা নাকি আমার একটা ভাল গুন! অনেকেই বলে। এই েেত্র আমারে যারা বিনা পয়সায় জিনিসপাতি দেয় তারাও বেশ ভালো মানুষ টাইপের। এখন পর্যন্ত কেউ কোনদিন কারো সামনে বা জনস্বমে বলেনাই, অপুরে আমি এইসব খয়রাতি দিছি!

প্রথম ই-মেইল করার জন্য গেছিলাম আজাদ ভাইয়ের অফিসে। ( হাসান মোরশেদ এর বড়মামা ) মাগনায় মেইল করছিলাম। এখন পর্যন্ত তিনি কাউরে বলেন্ নাই যে আমারে মাগনায় মেইল করার সুযোগ দিছিলেন!

রিয়াদ আমারে একবার বল্ল সে ই-মেইল আইডি করছে, আমি করব কীনা? আমিতো শুইনা পাঙ্খা... তখন শুধু যায়যায়দিন এর লেখকরা এই জিনিস তাদের লেখার পেছনে দিত! আর দিত পিয়াল ভাই। ( অমি রহমান পিয়াল ) ইয়াহুতে আইড হইল। মাগনায়! এরপর কত মেইল আইড নিলাম। হটমেইল, ওয়াল্লা, রেডিফ, জিমেই হয়ে নিজের ডোমেইন নিয়া সেইখানেও ইমেইল আইড পাইলাম। সবই মাগনা। তবে নিজের ডোমেইন কিনতে টাকা লাগছে। সেই হিসাবে সেইখানে পাওয়া আইডটা টাকা দিয়া কেনা বলা যেতে পারে।

বিষয় হল এই মাগনা সংক্রান্ত। এইযে দশ বছর ধইরা ইয়াহু আমারে লিল্লা মেইল সার্ভিস দিচ্ছে, জিমেইল দিচ্ছে প্রায় এক বছর ধরে তাও মাগনা। কেউ কোনদিনই বলেনাই, ওই হালা তরে কইলাম মাগনা দিতাছি। আমি কিন্তু ওগ এই বিষয়টা মনে রাখি। ওরা মনে না করায়া দিলেও মনে রাখি। ভেজাল হইলে, কাউরে দিয়া ঝাড়িময় মেইল পাঠাই! (আমি আবার ভাল ইংরেজী জানিনা, একবার আরিফ ভাই বলছিল আমি যদি এইভাবে বারবার ইংরেজি পরিায় ডাব্বা মারতে থাকি তাইলে আমারে মিউজিয়ামে ভইরা দিব! তাতেও আমারে ঠিক করতে পারেনাই। আমি টাইন্না টুইন্না ৩৩) সেই মেইলের উত্তরও ওরা দেয়! আর কি আশ্চর্য একবারও বলেনা, ওই মিয়া তুমারে মাগনা সার্ভিস দেই, এত ফাল পাড় কেন!

গতমাসে মোরশেদ এর অনুরোধে হটমেইলের বন্ধ হয়ে যাওয়া একান্টা আবার চালু করলাম। চালু হইতেই দেখি ওরা গদগদ হইয়া একটা মেইল দিছে। ডিয়ার ফিয়ার কইয়া কয়, আপনে আবার ফিইরা আইছেন তাতে আমরা খুস!!! আমগো লগে থাইকেন!!! ইত্যাদি... একবারও বলেনাই, এইটা মাগনা সার্ভিস, আরেকবার যদি লগইন হইতে দেরি কর তাইলে সারাজীবনের জন্য কোপা...
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/NajmulAlbabblog/28707214 http://www.somewhereinblog.net/blog/NajmulAlbabblog/28707214 2007-04-21 14:11:58
আমার কথা, সহজ মানুষের সহজ প্রত্যাশা আমি সাধারণ মাপের কম্পিউটার ইউজার। পেশাগত কারনে আমাকে প্রতিদিন কম্পিউটার ব্যবহার করতে হয়। এবং তাও শুধু বাংলা লিখার জন্য। বিজয় ব্যবহার করি। এতেই অভ্যস্থ। অভ্যস্থ বলাটা মনে হয় ঠিক হলনা। আমার কি-বোর্ডে বাংলা ফন্টগুলো দেয়া আছে তা দেখে দেখে দুই আঙ্গুল ঠুকে ঠুকে কোনমতে চলছি।

সামহ্যোয়ার আমার জন্য এক মহা আনন্দ আর উল্লাসের স্থান হয়ে দাঁড়িছে গত ক’মাস ধরে। সারাদিনের একঘেয়েমি কাটিয়ে আমি এই সাইটটার কল্যানে দারুন সময় কাটাচ্ছি। ভুলে যাওয়া ক্রিয়েটিভ লেখনিগুলোও মাঝে মাঝে উঁকি ঝুঁকি দিচ্ছে। এমন একটি সময়ে ব্লগ তার ভার্সন চেঞ্জ করল।

যারা বিষয়টার টেকনিক্যাল সুবিধা জানেন বা বুঝেন তারা খুবই আনন্দিত। এর পক্ষে কথাও বলছেন তারা। আমরা যারা বুঝিনা তারাই যা একটু চেচামেচি করছি।

বিষয়টা দু’দিন পেরিয়েছে। মানিয়ে নেয়ার চেস্টা করছি। এ জন্যই মুর্শেদ ও অরুপের কনভার্টারে গেলাম। ( যার মাধ্যমে এই লেখাটা কনভার্ট করে দেয়ার আশা করছি।) ভালই লেগেছে তাদের প্রয়াস। সেখান থেকেই একটা চিন্তা আসল মাথায়। জানিনা কতটা টেকনিক্যাল এই চিন্তা। কনভার্ট করতে সেখানে খুব অল্প সময় লাগছে। মিনিটও নয়। ক্লিক করতে না করতেই কাজ হয়ে যাচ্ছে। সামহ্যোয়ারেকি এমন কোন কনভার্টার স্থায়িভাবে দেয়া যায়না? যাতে আমরা যারা বাধ্য বিজয় ব্যবহারে (বাংলাদেশের সব মানুষই বিজয় ব্যবহার করেন মনে হয়) তারা অন্তত বেচে যান তাতে। হাসিন ভাই, মুর্শেদ ভাই অরুপ ভাইরা মিলে যে এমন কিছু করতে পারবেন এমন বিশ্বাস করাটা নিশ্চয় খুব অন্যায় হবেনা!



সামপ্রতিক মন্তব্যের ফরমেশনে যে নতুনত্ব আনা হয়েছে তা আমাদের সাথে ঠিক যাচ্ছে বলে মনে হয়না। আগে রিফ্রেশ দিয়েই দেখা যেত কমেন্টারের নতুন নাম। নতুন নাম দেখলেই বেশ একটা ভাললাগায় মন ভরে যেত। আমাদের বাহাসগুলো তাতে জমে উঠত। এখন আর সেটা মনে হয় পাওয়া যাবেনা। বিষয়টা ভেবে দেখতে পারেন প্রিয় কতৃপক্ষ।


বাঁধ ভাঙার আওয়াজ এর অনেক সাফল্য কামনা করি।

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/NajmulAlbabblog/28706304 http://www.somewhereinblog.net/blog/NajmulAlbabblog/28706304 2007-04-15 18:22:25
এইটা কী??? আেগত আবাল িছলাম! এখন কী হইলাম ? এইটা িবতলামী ছাড়া আর কী? িবনা পয়সায় িদেছন বইলা মাথা এেকবাের িকইনা িনেলন নাকী? আেগেতা খারাপ িছলনা! তাইেল এখন এইসব বালছাল েদোেনর মােনকী? আের শালা যা িলিখ তাই েদিখ উল্টাইয়া যায়। যাহ শালার েচেটর ব্লেগ আর িলখুমইনা।


আমার েপােস্ট িছল 20 মন্তব্য (বাহ 20 এর িক বাহার!) এখন েদখায় 7(!)।


শতশত বচন বইলা, এই কেরঙ্গা েসই কেরঙ্গা বইলা বােলর েকান মািছই মারেত পােরনাই। ধুসশালা...]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/NajmulAlbabblog/28705974 http://www.somewhereinblog.net/blog/NajmulAlbabblog/28705974 2007-04-13 16:21:10
:: মৌলীর বাবার চোখ :: গাদাগাদি ভিড়ে আমি দাঁড়িয়ে থাকি। আমার ঠিক পাশেই দাঁড়ান জননী
এক। পিঞ্জরায় বন্দি পাখি তার চোখ ভরা জলে তাকায় শীর্ন জননীর মুখে।
বড়ই আকুলি তার যদি ছুঁয়া যেত জননীর হাত, যদি সেই হাত একবার
আদরে আদরে তারে মায়ায় ভরিয়ে দিত...

মানুষের মুখ গুলো বড় অসহায় আর আমিও যেহেতু মানুষ তাই শুনি
তেলের লিটার আশি টাকা... চাল কেনাও বড় কষ্ট... তুই কেমন আছিস
বাপ... আব্বা রোজ রাতে কারা যেন ঘরের চালে ঢিল ছুঁড়ে...

এক দাগী আসামীর সাথে দুর্বল শরিরে ধাক্কাধাক্কি করে আমার
সামনে এসে দাড়ান আরেক ভয়ঙ্কর চাঁদাবাজ! মৌলী
ফোনে বাবাকে খোজ করে কীনা জানতে চান...
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/NajmulAlbabblog/28705841 http://www.somewhereinblog.net/blog/NajmulAlbabblog/28705841 2007-04-12 07:24:45
:: দুধ ভাত খেয়ে রোজ রাতে চাঁদ দেখি :: হররোজ পূর্নিমা ভর করে আমাদের আকাশে আর আমরা নাকি প্রতিদিন
করি কুর্নিশ মহামান্যকে, বলি বড় ভাল কাটে আমাদের দিবারাত তোমারই রাহে হে মহান।
আমরা কেউ কেউ স্বপ্নবাজ হয়েছি, জেগে জেগেই দেখি দুধভাতে ভরে গেছে আমাদের থালা আর আমরা চিমটিও কাটিনা নিজের শরিরে সত্য যাচাই করতে হয়না।

বেহেস্তি পোষাকের রঙ নাকি সবুজ আর দোজখের কালো!
কবে কোন মোল্লা শিখিয়েছে এমন বচন!

মোল্লারাও আর এখন তমদ্দুনের গান গায়না।
সকল রঙের পোষাকেই নাকি শান্তি আছে, আছে বেহেস্তের ছটা
অচিরেই জারি হবে এমন ফতোয়া।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/NajmulAlbabblog/28705717 http://www.somewhereinblog.net/blog/NajmulAlbabblog/28705717 2007-04-11 06:10:22
:: সন্যাসে তোমাদের এতই ভয়, আতিপাতি করে বুকে আমার জন্য ভালবাসা :: সেইযে বালিকা ছিল এক, দুই বিনুনি ছিল চুলে তার। আমি কতকতবার তারে মন থেকে মুছে ফেলি আর সে বারংবার থেকে যায় আমার মনে। আমার শুধু চোখে ভাসে মনে ভাসে রমনীর সিঁথির মত মাঠের বুকে জেগে ওঠা হাটাপথে দুজনে আমারা দুজনকে আলতো পায়ে পেছনে রেখে হাটতে শুরু করলে হঠাৎ হঠাতই সে পেছন ফিরে প্রশ্ন করেছিল, কোথায় যাবে এখন...


মনে অমন তোফানতোলে এমন প্রশ্ন আমায় কেউ আর কোনদিন করেনি তবে কেন আমি সেই দুই বিনুনির কথা ভুলে যাব তবে কেন আমি সেই রমনীয় সিথির সবুজ মাঠকে ভুলে যাব তবে কেন আমি সেই মায়াময় চোখ থেকে পালিয়ে বেড়াব


নদীবর্তি সেই করুনা আমায় আর কতবার পোড়াবে যতটা না পোড়ালেই নয় ততটাতো আমি আগেই পুড়েছি তবে কেন আজ এইসকল পাথুরে আয়োজন! আজ কেন সকল প্রিয় মানুষ ভালবাসা নিবেদিতে আমারে এমন করে তুলে উচাটন। আজ কেন আমি আর আগের মত পুরনো সেই নদীবন্দরের খেয়াঘাটে বসা ছোট দাদার মত সাদা চোখ মেলে সন্যাসের কথা বলতে পারিনা

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/NajmulAlbabblog/28704392 http://www.somewhereinblog.net/blog/NajmulAlbabblog/28704392 2007-03-31 06:24:14
:: অর্ণা বন্ধু আমার :: সে বড় মায়াবতী ছিল।
সে ছিল ছায়াময় বৃক্ষের মত।

আমার যত অপরাধ কতদিন
আগলে রেখেছে বন্ধু আমার।

আমার কত নাঁকি কান্না মুছে
দিয়েছে মমতায়।

আমি আর কত কাঁদতাম
যতটা কাঁদিয়েছি তারে!

আমাদের শৈশবে কত বেলীফুল আর গোলাপের পাপড়ি ছড়ানো ছিল উঠোনে উঠোনে। আমরা হেটেছি ছায়ায় ঢাকা কত কত পথ। আমরা মায়ায় বেধেছি আমাদের কত কত শৈশব।

এখনও আমাদের পথগুলো আগেরই মত আছে, আমরা তবু হাটি অন্য পথে অন্য আগুনে পুড়ি আর দুর থেকে বলি ভাল থাকিস।

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/NajmulAlbabblog/28703828 http://www.somewhereinblog.net/blog/NajmulAlbabblog/28703828 2007-03-27 13:53:44
[রং=990033][গাঢ়]: তখনও ঝরেনি পাতারা, বেলাদি ছিল :[/গাঢ়][/রং] বেলাদির মাথায় একরাশ ঘনকালো চুল ছিল। রাজের বিস্ময় মাখানো একজোড়া চোখ ছিল তার। তখন অবশ্য অতটা বুঝতামনা। শুধু চোখ গুলো দেখতে আমার ভিষন ভালো লাগত।

আমাদের বাড়ির উত্তর সীমানায় ছিল একসারি কদম গাছ। তার পরই শুরু বেলাদিদের বাড়ি। সীমানা থেকে ঘর অবধি যেতে বেশ লম্বা একটা ফাঁকা যায়গা ছিল। মখমলের মত বিছানো সবুজ সবুজ সেই ঘাসের মাঝখানে ছিল বেশ বড় একটা পাথর। অনেকটা বেদীর মত। সাদা রঙের সেই পাথরে বসে রোজ বিকেলে বেলাদি রবীন্দ্রনাথের বই পড়ত। মাঝে মাঝে সুনীল।

রোজ বিকেলে আমরা সব বালকের দল সেই ফাঁকা যায়গায় খেলা করতাম। গোল্ল্লাছুট খেলা হত। পাথরের সেই বেদীটাকে কেন্দ্র ধরে আমরা ঘুরে ঘুরে ছড়া বলে একসময় দিতাম ভু দৌড়। আমরা আসলে বেলাদিকে ঘিরেই ছড়া কাটতাম।

এটা একেবারেই আমার বালক বেলার কথা। ওই বয়েসে আমরাতো আর দুরে কোথাও যেতে পারতামনা। তবে আস্তে আস্তে আমাদের দৌড় বড় হতে থাকে। বেলাদিকে ঘিরে ছড়া বলার সময় ফুরুতে থাকে। গ্রামের শেষে যে মাঠ, তারও পরে যে পরিত্যাক্ত জমিদার বাড়ি। সেইসব গলিঘুপচিতে ভাগ হতে থাকে আমাদের শৈসব।

কনক, নিলু, রাজু সবাই খুব সহজেই রোজ রোজ চলে যেত সেইসব অচেনাকে চিনতে। আমার যাওয়া হতনা। কি এক পিছুটানে আমি রোজ বেলাদির উঠোনে ঘুর ঘুর করতাম। আমার শুধু মনে হত আবার আমার বন্ধুরাসব ফিরে আসুক সবুজ এই মখমলে। আমরা লোকুচুরি খেলায় মাতি। হাতের বইটা পাশে রেখে বেলাদি আমাদের মাঝে যে চোর হল তার চোখটা চেপে ধরুক। (হাতের ছোঁয়া পাব বলে আমিই হতাম নিয়মিত চোর।) অথবা আমরা তাকে ঘিরে আবার ছড়া আউড়াতে থাকি। কেউ সে মনোডাকে সাড়া দেয়না! আমি থাকি সেই ছোট্ট মাঠে।

আমাকে ঘুরতে দেখে বেলাদি মাঝে মাঝে বলে, কিরে তোর খেলা নাই? আমি মাথা নাড়ি। বেলাদি হাসে। মাথা নিচু করে দাড়িয়ে থাকি। হাত ইশারায় কাছে ডাকে বেলাদি। আস্তে আস্তে এগিয়ে যাই। মাথার চুলগুলো বিন্যস্ত করতে করতে বেলাদি বলে, যা খেলতে যা। সন্ধায় ঘরে যাওয়ার সময় আমাকে দেখে যাবি!

আমি দৌড় দিই। বেলাদি আমার মাথায় হাত বুলিয়ে দিতেই আমি আতরের ঘ্রান পেয়েছি। সেই ঘ্রানটা সঙ্গি করে আমি দৌড়াই।

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/NajmulAlbabblog/28703722 http://www.somewhereinblog.net/blog/NajmulAlbabblog/28703722 2007-03-26 19:08:30
[রং=#980000][গাঢ়]: স্বাধীনতা ও বিজয় :[/গাঢ়][/রং] মহান কবিতা ছাড়া আর কিছুই মনে পড়েনা। পড়েছি অনেকবার, আবারও পড়লাম আজ। বার বার পড়া যায় বলেই আমার বিশ্বাস। সমমনাদের জন্য
[গাঢ়]শামসুর রাহমান[/গাঢ়] এর কবিতা

[গাঢ়]স্বাধীনতা তুমি[/গাঢ়]


স্বাধীনতা তুমি
রবিঠাকুরের অজর কবিতা, অবিনাশী গান।
স্বাধীনতা তুমি
কাজী নজরুল, ঝাঁকড়া চুলের বাবরি দোলানো
মহান পুরুষ, সৃষ্টিসুখের উল-াসে কাঁপা-
স্বাধীনতা তুমি
শহীদ মিনারে অমর একুশে ফেব্রুয়ারির উজ্জ্বল সভা
স্বাধীনতা তুমি
পতাকা-শোভিত শে-াগান-মুখর ঝাঁঝালো মিছিল।
স্বাধীনতা তুমি
ফসলের মাঠে কৃষকের হাসি।
স্বাধীনতা তুমি
রোদেলা দুপুরে মধ্যপুকুরে গ্রাম্য মেরে অবাধ সাঁতার।
স্বাধীনতা তুমি
মজুর যুবার রোদে ঝলসিত দ বাহুর গ্রন্থিল পেশী।
স্বাধীনতা তুমি
অন্ধকারে খাঁ খাঁ সীমান্তে মুক্তিসেনার চোখের ঝিলিক।
স্বাধীনতা তুমি
বটের ছায়ায় তরুণ মেধাবী শিাথর্ীর
শাণিত কথার ঝলসানি-লাগা সতেজ ভাষণ।
স্বাধীনতা তুমি
চা-খানায় আর মাঠে ময়দানে ঝোড়ো সংলাপ।
স্বাধীনতা তুমি
কাল বোশেখীর দিগন্তজোড়া মত্ত ঝাপটা।
স্বাধীনতা তুমি
শ্রাবণে অকূল মেঘনার বুক
স্বাধীনতা তুমি পিতার কোমল জায়নামাজের উদার জমিন।
স্বাধীনতা তুমি
উঠানে ছড়ানো মায়ের শুভ্র শাড়ির কাঁপন।
স্বাধীনতা তুমি
বোনের হাতে নম্র পাতায় মেহেদীর রঙ।
স্বাধীনতা তুমি
বন্ধুর হাতে তারার মতন জ্বলজ্বলে এক রাঙা পোস্টার।
স্বাধীনতা তুমি
গৃহিণীর ঘন খোলা কালো চুল,
হাওয়ায় হাওয়ায় বুনো উদ্দাম।
স্বাধীনতা তুমি
খোকার গায়ের রঙিন কোর্তা,
খুকীর অমন তুলতুলে গালে
রৌদ্রে খেলা।
স্বাধীনতা তুমি
বাগানের ঘর, কোকিলের গান,
বয়েসী বটের ঝিলিমিলি পাতা,
যেমন ইচ্ছে লখার আমার কবিতার খাতা।

-------------------------------------------------------------

বাংলাদেশ ক্রিকেটে জয় পেয়েছে। পৌছে গেছে বিশ্বকাপের সুপার এইটে। সেই বিজয়কে স্বাগত জানিয়ে দেশ জয়ের গান।
[link|http://www.nybangla.com/Bijoy/Independence.htm|GLv]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/NajmulAlbabblog/28703620 http://www.somewhereinblog.net/blog/NajmulAlbabblog/28703620 2007-03-25 20:13:30
[রং=#980000][গাঢ়]: সময়, ইদানিং :[/গাঢ়][/রং] সময় বড় সংক্ষিপ্ত এখন
বামুন-বনসাই জামানা।
উদ্যানে বিপনী বিতান
পেটের ভেতর মিনি চিড়িয়াখানা।

প্রকৃতির উৎসবে মুঠোফোন
বাণিজ্য। শর্ট ম্যাসেজ;
ঘন্টা বাজে: চিঠির মৃত্যু।

এখন আধুনিক রিমিক্স হাছন,
কান ঝালাপালা করে ডিজিটাল ফিউশন।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/NajmulAlbabblog/28703314 http://www.somewhereinblog.net/blog/NajmulAlbabblog/28703314 2007-03-24 03:27:20
[রং=#980000][গাঢ়]সেইসব সময় অথবা তুমি বিষয়ক অথবা কিচ্ছুনা[/গাঢ়][/রং] আমার তখন না ঢাকা না সিলেট অবস্থা! আরিফ ভাই, নিজের ভাই, রনি ভাই এমনতর ভাই এবং সঙ্গিয় গৌরী, চেরী, রাজুরা প্রায় প্রতিদিন টানছেন মহানগরের দিকে। সেখানে নাকী আছে আমার জন্য অবারিত প্রান্তর। আমার সকল প্রতিভা(!) বিকষণে সেই নগরীই হবে প্রকৃষ্ট স্থান!

এদিকে প্রাণের শহরে আছেন জননী আমার, আছেন শিশুমনের পিতা। আছে আমার প্রান্তিক। আছে সবুজ ঘনবন, জাফলং টাঙ্গুয়া...। আছে অর্ণা নামের এক মানবী!!! সাথে সাথে আমারই মত বিষয় বুদ্ধিহীন একদঙ্গল বালক বালিকা!!!

ঘরে আবার মাঝে মাঝে কানাঘুষা হয়। সাতসমুদ্র তের নদীর পারের নিকটজনেরা বলেন, চলে আস জাদুধন, পাবে সফেদ স্নেহ আর স্নো...।

এমন এক সময় শহর সিলেটে কতিপয় মানুষ দাড় করাতে চায় পত্রিকা। আমাদের টুকুদা তখন যে কোনভাবেই আমাকে ধরে রাখতে চান শহর সিলেটে! আমি বলি তাইলে একটা চাকরি দেন। বেকার হয়েত আর থাকতে পারিনা! তিনিই খবর জানান সেই পত্রিকার। বিজ্ঞাপনও জোগাড় করে নিয়ে আসেন তখনকার ঘরবাড়ি প্রান্তিকের টিনশেড বারান্দায়।

অর্ণাতো মহা খুশি। আমাকে বুঝায়, সবাই চলে যাক, আমরা দুই বন্ধুতে এই শহরকে আগলে রাখব!!! সেই বালিকা এখন নগর ছেড়ে বৈদেশের পথে পথে ঘুরে ইচ্ছেমত!!!

চাকরিটা হয়ে যায়। আমিও পড়ি সৃষ্টির মায়ায়! 2001 সালের মার্চ মাসের 20 তারিখে প্রবেশ করি চেনা জগতের অচেনা বন্দরে।

সব নতুন ছেলেপিলে। মেয়েও আছে। আমার তখন প্রেমহীন সময়। অর্ণা ছাড়া আর কোন মেয়ের সাথে পারতে কথা বলিনা! আমার যত বন্ধু আছে তাদের প্রায় সবাই তখন শহর ছাড়া। যারা আছে তাদের সাথে কোন এক আজিব কারনে আমার আর তখন খাতির নাই! আজীবন ঝগড়াটে আমি তখন আরিক অর্থেই খবিশ প্রকৃতির মানুষ। প্রায় প্রতিদিনই কোননা কোন ভাবে মানুষের সাথে দুর্ব্যবহার করে চলেছি! ঘরে মা আগলে রাখেন আর বাইরে অর্ণা।

নতুন অফিসে আমার পুরনো বন্ধু পলাশ দত্ত আছে। এছাড়া পুরনো পরিচিত কয়েকজন। তিন বালিকার কাউকেই চিনিনা। চেনার কোন গরজও নাই। আমি আছি আমার কেশরাশি সামলানোতে ব্যাস্ত! প্রায় খোপা করা যায় এমন চুলের মালিক আমি লাল চোখে ধুন্দুমার ঝগড়ায় মাতি সারাদিন। এমন বালকের সামনে কোন বালিকাই সহজে কথা বলতে আসবেনা। আসেনিও।

আমাদের মাঝে ছিল শিপলু। তোতলাতে তোতলাতে সেই আমার সাথে কথা বলিয়ে দেয়, মনিকা, সালমা আর তুলির। আমি কাষ্ট হাসি দিই। এর বেশি প্রেমভাব তখন আমার নাই! আমি শুধু মনে মনে ভাবি কি করবে এই বালিকাগুলো! এরা সাজবে কখন আর কাজ করবে কখন! ( যদিও পরে দেখেছি, এখনও দেখছি এই বালিকাদের ওতে আছে প্রবল আপত্তি )

শিপলু, চয়ন, তুলি, মনিকা মিলে যখন আড্ডায় মাতে আমি তখন আমার কাজে ব্যাস্ত। ভুলেও মুখ তুলে তাকাইনা। তাচ্ছিল্যই করি কিছুটা। সুজোগ পেলে দুই পান্ডারে গাইল দেই, মাইয়া পাইলে আর কিছুই বুঝি মনে থাকেনা। তারা আমাকে সহকর্মীদের সাথে ভালো ব্যবহারের গুনাগুন বর্ণনা করলে আমি এ বিষয়ে গ্রন্থ লেখার পরামর্শ দেই!

[গাঢ়]এরপর আছে অনেক কথা। খুটিনাটি সেসবের আর নাইবা হল বর্ণন...[/গাঢ়]
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/NajmulAlbabblog/28702868 http://www.somewhereinblog.net/blog/NajmulAlbabblog/28702868 2007-03-20 07:05:52
[রং=#980000][গাঢ়]স্যালুট!![/গাঢ়][/রং] আছে তাতে বানিজ্যভাবনা প্রবলতর। বানিজ্যেই যেহেতু লক্ষীর বসবাস সর্বদাই...

তবুও শরিরে কেমন শিরশিরে অনুভূতি হয়...
লোমগুলো সজারুর কাটার মত সোজা হয়ে যায়...

-------------------------------------
বলছিলাম বাংলালিংক'র লাস্ট বিজ্ঞাপনটার কথা। যুদ্ধের রাতে ভাই হারানোর কী মর্মস্পর্শি কথামালা... হায় স্বাধীনতা

[গাঢ়]স্যালুট ফারুকী, স্যালুট বাংলালিংক, দুই শিশু আর অতি অবশ্যই সাবিরি আলম।[/গাঢ়]]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/NajmulAlbabblog/28702854 http://www.somewhereinblog.net/blog/NajmulAlbabblog/28702854 2007-03-20 05:16:34
[গাঢ়]এজিপি কার্ড বিষয়ক সমস্যা[/গাঢ়] কম্পিউটারে কাজ করতে পারছিনা। পেন্টিয়াম 4 মেশিন। আইটি'র ভাইজান বল্লেন এজিপি কার্ড নামক বস্তুটি নাকি কাজ করছেনা। এটি নাকি ইনস্টলেশন সমস্যায় ভুগছে। মেশিনটা অনেক আগের। 2001 সালে নিয়েছিলাম। 98 দিয়ে চালাতাম। এক্রপি নেয়ার পরই সমস্যা হল। আবার 98এ ফিরে গিয়ে দেখি ঘটনা ঘইটা গেছে। এক্সপিতে যাও একটু জুইত আছে নিজেই কিছু সামলায়া নেয়। 98এ তাও নাই। আবার এক্সপিতে আসছি। কিন্তু ড্রাইভার না থাকায় এখনও হাত পাও লুলা। ছাপোষা কেরানী মানুষ, আছি বড় বিপদে। কেউকি ড্রাইভারটা একটু দিবেন? বড় উপকার হইত।

GeForce MX4000 AGP 8X 64MB DDR Video Card w/TV-Out
আইটি ভাইজান এই কপটত মার্কা নামটা ধরায়া বলছে জোগাড় করতে।

(পাড়ার এক ছোট ভাইয়ের কাছ থাইকা মেশিন নিছিলাম। সেই হালায় এখন লন্ডনে। মেশিনের লগে কেন ড্রাইভারগুলা দিলনা এইটাও জিগাইতে পারতাছিনা।)]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/NajmulAlbabblog/28702833 http://www.somewhereinblog.net/blog/NajmulAlbabblog/28702833 2007-03-20 02:01:12
[রং=#980000][গাঢ়]ওতটা পুতুপুতু নাই আমার যে পথের কান্নায় বুক ভাসাব[/গাঢ়][/রং]ঃ স্বপনের জন্য আমার অনুভূতি অতটা পুতুপুতু নয়। যতটা হলে পথের কান্নায় বুক ভাসানো যায়। বেশ শক্ত ঘোচের মানুষ আমি থেতলে যাওয়া মানুষের সামনে বসে তারই স্বজনকে প্রশ্ন করতে পারি, মাথায় যখন গুলি লাগে তখন উনার হাতে একটা পিস্তল ছিল, সেটার মালিক কে জানেন? ক্রসফায়ারে মরা মোশারফের মাকে বলি, আছে আপনার ছেলে হাসপাতালে... আচ্ছা ওর কোন ছবি আছে আপনার কাছে। ত্রস্ত হাতে মোশারফের বোন পাসপোর্ট সাইজের ছবিটা বের করে দিলে আমি খুব দ্রুত চলে আসতে পারি। যদিও আসার আগে বলে আসি, তাড়াতড়ি হাসপাতালে চলে যান। ওসমানীর ইমার্জেন্সিতে...

একসময়, কোন এক সময় নাটকের ঘরে আমিও ছিলাম। আমিও ছিলাম নতুন কবিদের ভিড়ে দাড়ানো এক পথিক। সেসব আর আমাকে এখন অতটা টানেনা। যতটা টানে বাদশাহ ফ