somewherein... blog badh bhangar awaaj recent posts http://www.somewhereinblog.net http://www.somewhereinblog.net/config_bangla.htm copyright 2006 somewhere in... বাংলাদেশে উপজাতি হত্যার কোন দলিল, তথ্য আছে?
অনেকেই দেশপ্রেমের মহান(!) চেতনায় উদ্বুধ হয়ে বাংলাদেশের আর্মীরা যে শত শত উপজাতি হত্যা করেছে, তাদের মেয়েদের ধর্ষণ করেছে সেটা স্বীকার করেননা। তারা শান্তিবাহিনীর বাংগালি হত্যাকে বড় করে দেখেন। শান্তিবাহিনীর বাংগালি হত্যা যে তাদের উপর অত্যাচারের প্রতিক্রিয়া সেটা মানেননা। ভারতের ষড়যন্ত্র খুঁজেন।

ব্যক্তিগতভাবে তাদেরকে উপজাতি বলতে আমার আপত্তি আছে। এখানে চিনার সুবিধার্তে লিখলাম। কেউ কি কোন ওয়েবসাইট, ডকুমেন্টস বা বইয়ের রেফারেন্স দিবেন যেখানে উপজাতি হত্যা, অত্যাচার, ধর্ষণের বর্ণনা বা তথ্য আছে? আমি দুজন উপজাতি লেখককে ব্লগে দেখেছি। তাদের কাছ থেকে কোন তথ্য পেলে ভাল হয়। তাদের ব্যক্তিগত দেখা বা শুনা কোন কাহিনী থাকলেও হবে। অনেক ধন্যবাদ। ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/Naradhamblog/28875814 http://www.somewhereinblog.net/blog/Naradhamblog/28875814 2008-11-29 16:29:43
পরমাণুকথা-১: দু'ধরণের ব্লগার তাদের আদর্শ প্রচার করেন ব্লগে। জামাতি(ছংখছিল, মাইনুল আরো অনেকে) আর নাস্তিক(ঘনাদা=আরিফুর=.......)।

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/Naradhamblog/28874997 http://www.somewhereinblog.net/blog/Naradhamblog/28874997 2008-11-27 17:51:25
পাপিষ্ঠ মটারেটড় কাগুকে ছেপাও। Click This Link




পাপিষ্ঠ মডুরামরা কাগুকে ছেপাইনা ক্যা? বাথিজারা এত আবিদন কইরতেছে তারফরও কাগুরে ছেপাইনা কেনু? কাগুর লিকা পইড়বার চাই পরথম পাতায়। ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/Naradhamblog/28874718 http://www.somewhereinblog.net/blog/Naradhamblog/28874718 2008-11-27 02:56:59
ফটুব্লগ: আমার বন্ধু সালাউদ্দিন সিদ্দিকী আমার বন্ধু সালাউদ্দিন, যার অসময়ে মৃত্যু হয়েছিল।









]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/Naradhamblog/28874149 http://www.somewhereinblog.net/blog/Naradhamblog/28874149 2008-11-25 22:27:59
জরীপ পোস্ট: কাকে ভোট দিবেন?

সামহয়ারে আমরা একটা জরীপ করতে পারি। ব্লগাররা কার কোন দলকে ভোট দেওয়ার ইচ্ছে আছে মন খুলে বলে ফেলুন। "না" ভোটের ব্যবস্থা থাকলেও সেখানে তেমন ভোট পড়বেনা সেটা নিশ্চিত। সবাই মতামত দেন। তবে কেন কোন একটা জোটকে দিবেন ভোট সেটার কারন বললেও ভাল হয়। আপনার মতামত এরকম হতে পারে:

ভোট: আ'লীগ/বিএনপি (যেকোন একটা)
কারন: আপনি কেন তাদেরকে ভোট দিচ্ছেন।
কে জিতবে: আপনি কোন দল জিতবে বলে মনে করেন তার নাম।


টাইপ করতে কষ্ট লাগলে শুধু আ'লীগ বা বিএনপি লিখে দিলেও চলবে। কয়েকদিন পর ভোট গণনা শুরু হবে। দেখা যাক সামহয়ারের ব্লগারদের মনোভাব দেশের সাধারণ মানুষের মনোভাবের সাথে মিলে কিনা। যদি সামহয়ারের ব্লগাররা যে অনুপাতে কোন দলকে পছন্দ করেন নির্বাচনেও যদি দেখা যায় সেই দল মোটামোটি একই বা কাছাকাছি অনুপাতে ভোট পায়, তাহলে বুঝা যাবে সামহয়ার অন দ্যা এভারেজ বাংলাদেশের সাধারণ মানুষেরই প্রতিনিধিত্ব করে। তা নাহলে বুঝা যাবে সামহয়ারে শুধু বাংলাদেশের শিক্ষিত মধ্যবিত্তদেরই মনোভাবের প্রতিনিধিত্ব করে।


উল্লেখ্য আপনার মনে একটা অথচ এখানে ভোট দিলেন আরেকটারে তাহলে খুব অন্যায় হবে। কেউ আপনার পলিটিকাল এফিলিয়েশান জেনে যাবে কিনা সেটা নিয়ে ভাববেননা। কেউই নিরপেক্ষ নয়। সবারই একটা পছন্দ আছে। তাই মনের কথা বলে ফেলুন।


তো হয়ে যাক?]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/Naradhamblog/28873310 http://www.somewhereinblog.net/blog/Naradhamblog/28873310 2008-11-24 00:31:33
আইবিএ-তে এমবিএ ভর্তিচ্ছুক কেউ আছেন? থাকলে আওয়াজ দেন। কিভাবে এডমিশান টেস্টেরজন্য প্রেপ নিবেন সেটা নিয়ে পোস্ট দিমু।

উল্লেখ্য আইবিএ-র প্রেপ নিয়ে আপনি উত্তর-দক্ষিন, পূর্ব-পশ্চিম, মিলিটারি-এমবিএ, ইভনিং-এমবিএ, ব্যাংক ম্যানেজমেন্ট এসবেও পরীক্ষা দিতে পারবেন।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/Naradhamblog/28869062 http://www.somewhereinblog.net/blog/Naradhamblog/28869062 2008-11-14 18:41:38
প্রাসংগিক রিপোস্ট: সহীহ মুসলিম মতে গোলাম আজম, নিজামি, মুজাহিদ, সাইদী এবং অন্যান্য জামাতিদের ইমানের স্তর। হ্যারি সেলডনরে ব্যান করছে অনেক আগেই। এই পোস্টটা শংখচিল ছাগুর জন্য রিপোস্ট করা হল।


"নবী কারীম (সাঃ) এরশাদ ফরমাইয়াছেন যে ব্যক্তি কোন অন্যায় কাজ হইতে দেখে, যদি হাত দ্বারা বন্ধ করিবার শক্তি রাখে তবে উহাকে হাত দ্বারা বন্ধ করিয়া দিবে। যদি এই পরিমাণ শক্তি না রাখে তবে জবান দ্বারা উহার প্রতিবাদ করিবে। যদি এই ক্ষমতাও না থাকে তবে অন্তরে উহাকে ঘৃণা করিবে। আর ইহা ইমানের সর্বনিম্ন স্তর।(মুসলিম, তিরমিজি, ইবনে মাজাহ)"


জামাত ১৯৭১ সালে মুক্তিযোদ্ধাদের, তাদের বাপ-ভাইদের পাকিস্তানিদের হাতে তুলে দিয়েছে। বাংগালী মা-বোনদেরকে পাকিস্তানিদের হাতে তুলে দিয়েছে। জামাতের যুদ্ধাপরাধ দিনের আলোর মত পরিষ্কার। কিন্তু জামাতি ব্লগাররা প্রায়ই বলে যে জামাত নাকি কোন যুদ্ধাপরাধ করেনি। তর্কের খাতিরে ধরে নিলাম যে জামাত শুধুমাত্র রাজনৈতিকভাবে ১৯৭১-এ মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতা করেছে। জামাতিরা বলে যে বংগবন্ধু নাকি তিন লক্ষ বাংগালী হত্যাকান্ড বলতে গিয়ে ভুলে ত্রিশ লক্ষ বলে ফেলেছে। এটা যে কত বড় মিথ্যা সেটার জন্য লাইটহাউজের ব্লগে যুক্তিন্ঞের লেখা "ত্রিশ লক্ষ শহীদ: মিথ নাকি বাস্তবতা" পোস্টটা দেখুন। কিন্তু তর্কের খাতিরে ধরে নিলাম যে তিন লক্ষ হত্যাকান্ড ঘটেছে। এবং আরো ধরে নিলাম এই হ্ত্যাকান্ডে জামাতের কোন সহযোগীতা ছিলনা। জামাত ৭১ সালে তার পাকি দোসরদের সাথে বসে বসে কলা চুষত শুধু, আর কিছু করতনা। তার মানে জামাতিদের মতে:
১. মুক্তিযুদ্ধে জামাতিদের বিরোধিতা রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত, জামাত কোন যুদ্ধাপরাধ করেনি।
২. মুক্তিযুদ্ধে তিন লক্ষ মানুষ শহীদ হয়েছিল পাকিদের দ্বারা, সেখানে জামাতিরা তাদেরকে কোন সাহায্য করেনি।


এখন যদি এরকম ধরেই নিই, তাহলে কি দাঁড়ায়? জামাত ৭১ সালে মানব ইতিহাসের অন্যতম বড় অপরাধের/অন্যায়ের সময় অন্যায়ের পক্ষে নিয়েছে। তারা দলগতভাবে অথবা জামাতিদের বড় নেতারা কেউই ব্যক্তিগতভাবে এরকম লার্জ-স্কেলের একটা অন্যায়ের হাত দ্বারা প্রতিরোধ করেনি, জবান দ্বারা প্রতিবাদ করেনি। এমনকি অন্তরেও ঘৃণা পোষণ করেনি, এখনও করেনা। হাত দ্বারা প্রতিরোধ করেনি সেটা স্পষ্ট, কারণ তারা মুক্তিযুদ্ধ করেনি। জবান দ্বারা প্রতিরোধ করেনি সেটাও স্পষ্ট, কারণ তারা মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানি হত্যাকান্ডের বিপক্ষে কোন বক্তব্য-বিবৃতি দেয়নি। অন্তরে ঘৃণা পোষণ করেনি সেটাও স্পষ্ট, কারণ কাউকে ঘৃণা করলে আপনি তার সাথে বসে নয়মাস যাবৎ তার পক্ষে থাকেননা। শুধু এটাই নয়, মুক্তিযুদ্ধের পরেও কোন সময়ই তারা ৭১-এ তাদের ভুমিকার জন্য ক্ষমা চাইনি। তার মানে তারা এখনও সেই অন্যায়কে ঘৃণা করেনা। তর্কের খাতিরে ধরে নিলাম তারা তাদের অন্তরের গভীরে এই অন্যায়কে ঘৃণা করে। তাদের খুবই লজ্জা, তাই মুখ ফুটে কোনদিন বলতে পারেনি। কিন্তু হাত দিয়ে প্রতিরোধ করেনি, জবান দিয়ে প্রতিবাদ করেনি এই দুটা তো অন্তত স্পষ্ট। মুসলিম, তিরমিজি, ইবনে মাজাহ সহীহ হাদিস গ্রন্থ বলে জামাতিরও মেনে নেয়, এমনকি উপরের হাদিসটা শিবিরের পাঠ্যসূচীতেও আছে। তাহলে এটা বুঝা যায় জামাতিদের নেতাদের ইমান খুব বেশির বেশি হল সর্বনিম্ন পর্যায়ে। সর্বনিম্ন পর্যায়ের ইমানদ্বার লোকরা কিভাবে ইসলাম আনবে? ইসলাম আনার মহান কর্মটির নেতারাই যদি সর্বনিম্ন ইমানের অধিকারী হয় তাহলে ইসলাম কিভাবে আসবে? নেতাদেরই যদি এই অবস্থা হয় তাহলে পাতিনেতা, কর্মী এদের ইমানের অবস্থা কি? ইমান না থাকলে আমালের কোন দাম নেই ইসলামে। তাহলে তাদের আমালের অবস্থা কি? ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/Naradhamblog/28865751 http://www.somewhereinblog.net/blog/Naradhamblog/28865751 2008-11-07 00:30:56
© ১০০০-১০০০০০০০০..... নরাধম।

বিখ্যাত ব্লগারদের ব্লগের উপরে "©-অমুক" দেখে নিজেও কপিরাইট করতে শখ হইছে। জাতে উঠলাম কপিরাইট করে। আমার নিজের লেখা না খালি, আপনাদের যাদের যাদের কপিরাইট এখনও করেননি সবার লেখাই আমার নামে কপিরাইটেড! তাই সাধু সাবধান। ভায়োলেটরস উইল বি প্রসিকিউটেড।

All rights reserved. No part of সামুব্লগ may be reproduced, stored in a retrieval system or transmitted, in any form or by any means, electronic, mechanical, photocopying, recording, or otherwise, without the written permission of নরাধম.




এটার সুবিধা
এখন থেকে ব্লগের লেখা নিয়া কোন বই বা ই-বুক পাবলিশ হলে শুধুমাত্র নরাধমের অনুমতি লাগবে। আর কারও অনুমতি লাগব না। সবার লেখার জন্য একবার অনুমতি নিলেই চলবে নরাধমের কাছ থেকে। ওয়ান-স্টপ সারভিস! ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/Naradhamblog/28865588 http://www.somewhereinblog.net/blog/Naradhamblog/28865588 2008-11-06 18:13:39
আলু ব্লগের নাম কি হইবেক?
আলু ব্লগে রাজাকাররে রাজাকার বলা যায়না। ছাগল নিয়ে সুন্দর তথ্যপূর্ণ পোস্ট দেয়া যায়না। বাড়ানো হয়ে যায় **নো আর বিচিত্র হয়ে যায় **ত্র! প্যাঁচালিব্লগের ড়াজাকাররা সবাই দেখি আলুবলগে পুঁটিমাছের মত নাচতেছে। এ প্রেক্ষিতে আলুব্লগের নাম পরিবর্তন করিয়া "প্যাঁচালু" ব্লগ রাখার অভিপ্রায় ব্যক্ত করিতেছি। প্যাঁচালি + আলু = প্যাঁচালু!]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/Naradhamblog/28863565 http://www.somewhereinblog.net/blog/Naradhamblog/28863565 2008-11-02 17:57:24
নরাধমের বর্ষপূর্তিপোস্ট: ট্র্যাডিশানের প্রতি সম্মান দেখালাম। মুখবন্ধ
১ বছর পূর্তিতে বিশিষ্ট ব্লগাররা পোস্ট দেয়। সেখানে তারা ব্লগের বিভিন্ন দিক বিশ্লেষণ করে। কার সাথে বন্ধুত্ব, কার সাথে শত্রুতা এসব বিশ্লেষণ করে। কাকে ভাল লাগে, কেন লাগে, কাকে লাগেনা, কেন লাগেনা সেসব বলে। আমি বিশিষ্ট ব্লগার না হলেও বিশিষ্ট গালিবাজ ব্লগার নিঃসন্দেহে। ট্র্যাডিশানের প্রতি সম্মান রেখে পোস্ট একটা দেওয়া দরকার। তাই দিলাম। তবে আমি এই পোস্টে শুধু নিজের কথাই বলব। বিশিষ্ট ব্লগারদের মত ব্লগের সবাইকে বা সবকিছুকে বিশ্লেষণ করবনা। অনেক বড় পোস্ট। পড়তে ইচ্ছে না হলে "বর্ষপূর্তির অভিনন্দন" দিয়ে চলে যান!! <img src=" style="border:0;" /><img src=" style="border:0;" />

সূচনাপর্ব
আমি ব্লগে রেজিস্ট্রেশান করার অনেক আগে থেকেই ব্লগ পড়তাম। অন্তত ৭/৮ মাস আগে থেকে। তখন সর্বোচ্চ ব্লগারের নাম ঝুলত সম্মুখ পাতায়, আলী-ঢালীর প্রতিযোগীতা চলত নিয়মিত। তখন আমি দেশে ছিলাম, ঢাবি'তে ৪র্থ বর্ষে। তবে ব্লগের প্রতি আসক্ত ছিলামনা। হয়ত দুইতিনদিন নিয়মিত পড়তাম, তারপরে আবার অনেকদিন পড়তাম না। এরকম অন এনড অফ চলত। এখানে আসার পর জামাতিদের লাফানি দেখেই মূলত ব্লগে রেজিস্ট্রেশান করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম। নিক কি নিব সেটা নিয়ে ভাবছিলাম। মাথায় কোন নিকই আসেনা। আমার নিজের আদি নামে নিক নেওয়ার চেষ্টা করেছিলাম, কিন্তু সে নামে অনেকেই আছে। কমন নাম। আমার ঢাবি'র ক্লোজ বন্ধু নাজমুল প্রায়ই "নরাধম" শব্দটা প্রায়ই ব্যবহার করত তার কৌতুকপূর্ণ কথায়। সিরিয়াস ব্লগিংয়ের ইচ্ছা যেহেতু কোনদিনই ছিলনা, তাই নরাধম নিকই নিলাম!

লেখালেখি-পড়াপড়ি-কবিতা-কাব্য-গল্প
আমি কোনদিন লেখালেখি করিনি। কবিতা লিখতে পারিনা, কবিতা বুঝিওনা। গল্পও লিখতে পারিনা। গানও বেশিরভাগ বুঝিনা। উপন্যাস লেখা তো অনেক পরের কথা। কবিতার অভিজ্ঞতা বলতে শুধু ঢাবি'তে লাস্ট বেন্ঞে বসে যেসব ছোটছোট "বিশেষ" অর্থবহ কবিতা লিখতাম সেটাই। সেসব কবিতায় ছন্দমিল থাকতনা। কোবতেগুলো সারা ক্লাসে ছোট চিরকুটে চালু থাকত। একবার এক ইয়াং ম্যাডামের কাছে ধরাও খাইছিলাম। (এই ম্যাডাম আবার আমার ছাত্রীও ছিলেন!! সেটা অন্যএকদিন বলা যাবে।) বলেছিলাম দেরীতে এসেছি বলে রোল নাম্বার চিরকুটে লিখে ম্যাডামের কাছে পাঠাচ্ছিলাম। সে যাত্রায় বেঁচেছিলাম! শিক্ষক যদি কম কড়া হন, তাহলে পিছনে বসে আমি আর আমার বন্ধু রাসেল ওয়ার্ড গেম খেলতাম। (আমি অবশ্য অর্ধেকেরও বেশি ক্লাশ করতাম না।) অনেক সময় যে হারত তাকে নীলক্ষেতে তেহারী খাওয়াতে হত। যাইহোক, এখানে এসে ব্লগে নিবন্ধন করার পর বিভিন্নজনের ব্লগে কমেন্ট করতাম। লিখতাম বালছাল, এখনকার মতই। আমি শুধু রাজনীতি বিষয়ক লেখাই লিখতে পারি। (আমার এম্নিতেই রাজনীতি করার ইচ্ছা আছে, সত্যি বলছি।) সেজন্য হয়ত রাজনীতিবিষয়ক লেখাই ভাল লাগে। যতক্ষণ ব্লগে থাকতাম(তখন ঘন্টার পর ঘন্টা ব্লগে থাকতাম)তার ৯০% ই জামাতিদের সাথে হাঙামা করতে করতেই চলে যেত।

কমেন্ট, ব্যান-আনব্যান আর ব্লগারদের সাথে পরিচয়-বন্ধুত্ব
আমার ব্লগে সেসময়ের স্ট্যান্ডার্ডে প্রচুর কমেন্ট পড়ত। সেটা আমার লেখা ভাল ছিল সেজন্য না। অন্যদের ব্লগে প্রচুর কমেন্ট করতাম বলে তারাও আমি যাই লিখতাম তাতেই কমেন্ট করত! ব্লগে কিছু ব্লগারের সাথে বন্ধুত্ব হল। তবে সেটা অন্য ব্লগারদের মত অত বেশি না। ব্লগিং আর নিজের জীবনকে আলাদা রাখাটাই আমার ভাল লাগে। কোন বিচিত্র কারণে অনেকেই আমাকে বুড়া মনে করত। রাশুদার সাথে যখন ইয়াহুতে প্রথম চ্যাট হচ্ছিল সে তো আমাকে বুইড়া ভাম মনে করেছিল!!! কেন আমাকে অনেকের বুইড়া ভাম মনে হয় সেটা জানিনা। যারা মনে করেন তারা বলতে পারবেন। তামিমও নাকি আমাকে বুইড়া মনে করছিল। আমি বুইড়া না!!! আমি যে ধারায় ব্লগিং শুরু করেছিলাম তাতে ব্যান খাওয়াটা ছিল সময়ের ব্যাপার মাত্র। কতবার যে ব্যান খেয়েছি মনে নেই। অনেকবার ২/৩ দিনের জন্যও ব্যান খেয়েছি। পরে আবার এক্সেস দিয়েছে। কোন এক বিচিত্র কারণে আমার জীবনে আমি সবসময়ই যে কোন জায়গায়ই কতৃপক্ষের সাথে গোলমাল করেছি। ঢাবি'তে বেশিরভাগ শিক্ষকরা আমাকে দুইচক্ষে দেখতে পারতেননা! কয়েকজন শিক্ষক প্রতিশোধও নিয়েছেন আমার উপর অবশ্য। তাই সামহয়ারের কর্তৃপক্ষ আমাকে পছন্দ করবেনা সেটাই স্বাভাবিক। জামাতিদের গদাম লাথির উপর রাখাটাই আমাদের একমাত্র উদ্দেশ্য ছিল। তখন ব্লগে জামাতিদের প্রচুর লেখা আসত। এখন বলতে গেলে ছাগু নেইই। সবচেয়ে রিমার্কেবল ব্যান মনে হয় ৮ই জানুয়ারীর ব্যান। আমরা অনেকেই সেদিন গণব্যান খেয়েছিলাম।

নরাধম এবং আমি: মিল-অমিল
আমার নিজের সম্পর্কে একটু বলি। আমি চট্টগ্রামের ছেলে। মাতৃভাষা চট্টগ্রামের আন্ঞলিক ভাষা। বাংলা বলার সময় চট্টগ্রামের এক্সেন্টটা স্পষ্ট বুঝা যায়। কথা-বার্তা চলাফেরায় গেঁয়ো। ভীষন আনস্মার্ট। পড়ালেখায় মধ্যমমানের বা মেডিওকার। বাস্তবজীবনের আমার সাথে "নরাধম" নিকের চরিত্রের সাথে অনেক পার্থক্য আছে। সিমিলারিটির মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য রাজাকারদের প্রতি ঘৃণা। আরেকটা সিমিলারিটি হল আমার বন্ধুবান্ধবদের মতে আমার লজ্জা-শরম কম। যাকে তাকে যেটা সেটা আমি বলতে পারি। অনেক সময় সেটা নিজের ক্ষতির কারণ হয়। "নরাধম" নিকটাও মোটামোটি এই চরিত্রটা ধরে রেখেছিল। তবে অমিলের মধ্যে সবচেয়ে বড় হল "নরাধম" নিকটা মাথাগরম-টাইপ, একগুঁয়ে। বাস্তবে আমি সেরকম মাথাগরম না, একগুঁয়েও না। যেকোন সিদ্ধান্ত যথেষ্ট ভেবে-চিন্তে নিই। নরাধমের অনেক লেখার মধ্যে আবেগ প্রচন্ড। যেমন মা, তোমাকে , টুকুনের জন্য, সালাউদ্দিনকে। হ্যারি সেলডনের লেখায়ও আবেগ আছে। কুম্ভকর্ণের নিক দিয়ে কিছু সময় নিয়ে লেখা দেওয়ার সুযোগ হয়নি, তাই আবেগী কোন লেখা দেওয়া যায়নি। বাস্তবের আমি মোটামোটি আবেগহীন মানুষ। যুক্তরাষ্ট্রে আসার দীর্ঘ আড়াইমাস পর মাকে ফোন করেছিলাম যে আমি যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছেছি। গত একবছরে সব মিলিয়ে আমি দেশে ফোন করেছি মনে হয় সবমিলিয়ে খুব বেশি হলে ১৫বার। আমি বাড়ি বা দেশ মিস করিনা। মাঝে মাঝে হয়ত ৩/৪ মিনিটের জন্য মিস করি, কিন্তু সেটা তেমন সিগনিফিক্যান্ট না। লোকে বলে আবেগ না থাকলে নাকি আবেগী লেখা লেখা যায়না। সেটা সত্য না। যতক্ষণ লেখি ততক্ষণ আবেগ থাকলেই হল। সেটা ক্রিয়েট করা খুবই সহজ। প্রেম-ভালবাসার কথা বলি। আমি ব্যক্তিগতভাবে এসব পছন্দ করিনা। কারণ দেশে দেখেছি এসবের কোন পরিণতি নেই। শুধু শুধু ঝামেলা। তাছাড়া প্রেমিক-প্রেমিকাদের পুতুপুতু কথা শুনে মাথায় আগুন ধরে যায় আমার। আমি ব্যক্তিগতভাবে ধার্মিক। ইসলাম বিষয়ক লেখাপড়ায় ব্যাপক আগ্রহ। কথা বলার সময় ইনশাআল্লাহ, আলহামদুলিল্লাহ এসব প্রায়ই ব্যবহার করি। যুক্তরাষ্ট্রে এসে আরো বেশি ধার্মিক হয়ে গেছি। তাই প্রেম-ভালবাসা পছন্দ করার কোন কারণ নেই। তবে আমি নিজে ধার্মিক ও রক্ষণশীল হলেও, অন্য কারও দৃষ্টিভংগিকে সম্মান করি। আমার বন্ধু-বান্ধবদের মধ্যে ধার্মিক যেমন আছে তেমনি নাস্তিক এবং অন্যান্য ধর্মাবলম্বিও আছে। এটা মনে হয় আমার মা খুব ধার্মিক আবার বাবা চরম বামপন্থি হওয়ার জন্যই হয়েছে। তাই মনেপ্রাণে তাসলিমা নাসরিনের কথা বলার অধিকারে আর দেশে থাকার অধিকারে বিশ্বাস করি। বন্ধু-বান্ধবদের প্রেমে অনেক সময় সহায়তাও করেছি!! আমার এক ক্লোজ বন্ধুর তার প্রেমিকার সাথে বিয়ে দিতে সাক্ষী আর টাকাও দিয়েছি। যদিও সে প্রেম করে বিয়ে করুক সেটা আমি পছন্দ করিনি। নরাধম নিকে অনেক সময়ই প্রেম-ভালবাসা বিষয়ক হা-হুতাশ লক্ষ করা গেছে। সেটা "নরাধমের" একান্ত ব্যক্তিগত মতামত। আমার নিজের না।<img src=" style="border:0;" /><img src=" style="border:0;" /> তবে আমি কিছুদিনের জন্য একটা প্রেম করেছিলাম।এখন মনে করি সেটা জীবনের সবচেয়ে বড় ভুল ছিল। এ ভুল রিপিট হবার সম্ভাবনা নেই(ইনশাআল্লাহ্‌)।

"নরাধমকে" অনেক ব্লগার অপছন্দ করার কারণ
ব্লগে নরাধমকে অনেক লোকই পছন্দ করেনা। তার যথেষ্ঠ কারণ আছে। আমি নাস্তিক-আস্তিক নিয়ে চিল্লাফাল্লা করি। আবার জামাতিদেরকে গালি দেয়। সুশীলদের সাথেও নরাধমের খাপ খায়না। এ-টিমের সাথে আদর্শগত মিল থাকলেও এ-টীমের সব সদস্য হয়ত আমাকে পছন্দ করেনা। তবে আমি এ-টীমের ছাগু-তাড়ানিতে আছি সবসময়ই এবং তাদের কাছে ব্লগের ছাগু-তাড়ানিতে অবদানের জন্য কৃতজ্ঞ। নাস্তিক-আস্তিক নিয়ে মনে হয় ব্লগে সবচেয়ে বেশি আমিই কথা বলেছি। নাস্তিকদের প্রতি আগে একটা মনের ভিতর থেকে সম্মান কাজ করত। সেটা বাস্তবের নাস্তিকদের দেখে হয়েছিল। কিন্তু ব্লগের নাস্তিকদের ভন্ডামী দেখে সেটা এখন পুরোটাই হাওয়া। না.ধ.-র ভন্ডামী মেনে নিতে পারিনি। "আরিফুর রহমান"-কে রাশেদ, এস্কিমো, মুকুল, আরাশিদের সাথে ঝামেলা করার জন্য অনেক কটু কথা বলেছি। আমি অবশ্য মনে করি সে যা ডিজার্ভ করে তার থেকে অনেক কম বলেছি। এক নিকে বন্ধুত্ব আবার আরেক নিকে এসে ছাগলামি ভন্ডামিরই নামান্তর। আবার আমি যারা খারজানা মাহবুব, আস্তমেয়ে এদের পোস্টে গিয়ে লোল ফালায় বা তৈলাক্ত কমেন্ট করে তাদের সাথেও ঝামেলা করেছি। তাই নরাধমকে অনেক ব্লগারের অপছন্দ করাটাই যুক্তিযুক্ত।

ব্লগীয় নাস্তিকদের নিয়ে
এখানে উল্লেখ্য আরিফুর রহমানকে অ্যাটাক করে দেওয়া একটা পোস্টে আমি তার শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়ে ইনসাল্ট করেছিলাম। অনেকেই এটাকে আমার অহংকার মনে করবে। আমার অহংকার করার মত তেমন কিছুই নেই, তাই সেটা অহংকার না। নাস্তিকরা সাধারণত আস্তিকদেরকে অশিক্ষিত, অযৌক্তিক এসব বিশেষণে বিশেষায়িত করে। তাই আরিফুর রহমানকে সেটা ফিরিয়ে দিয়েছিলাম। কাউকে অ্যাটাক করার সবচেয়ে বড় উপায় সে নিজেকে যেটা মনে করে সেটা যে ঠিক না সেটা চোখে আংগুল দিয়ে দেখিয়ে দেয়া। তবে আরিফুরের নাস্তিকতা-আস্তিকতা, বিশেষ করে ইসলাম নিয়ে যে লেখাপড়া খুবই কম সেটা মনে হয় যে কেউ স্বীকার করবে। ব্লগের নাস্তিকদের মধ্যে সবচেয়ে ভাল লাগে জামাল ভাস্করকে। আদর্শ নাস্তিক বলা যায় তাকে। আরেক নাস্তিক ব্লগার ডটু রাসেল অসম্ভব শক্তিশালী লেখক হলেও ডাবল-স্ট্যান্ডার্ডে বিশ্বাসী। সচু'তে কোন একটা গায়ক(নাম ভুলে গেছি, বব মার্লে না কি জানি, আমি গান শুনিনা, বুঝিওনা।) নিয়ে সে পোস্ট দিছিল। উৎপল শুভ্র নাকি এই গায়ককে প্রাপ্য সম্মান দিয়ে কথা বলেনি, তাই তার ক্ষোভ। পোস্টে যারা কমেন্ট করেছিল তাদের কাউকে কাউকেও দেখলাম খুবই আক্রমণাত্বক কথা বলেছিল। কিছুদিন আগে ব্লগে দেখেছিলাম অন্যমনস্ক শরৎকে নাকি ব্যান করেছে। তারা অন্যদের কাছ থেকে সহনশীলতা আশা করে কিন্তু নিজে সহনশীলতা দেখায়না। সেই গায়কটাকে নাকি প্রচুর লোক সম্মান করে, অথচ উৎপল শুভ্র সেরকম সম্মান করে লেখা দেয়নি, তাই সে উৎপল শুভ্রের উপর ক্ষেপা। অথচ মহানবী (সাঃ)কে কোটি কোটি লোক সম্মান করে সেটা তার মনে থাকেনা, তাই সে মহানবী (সাঃ) আর হযরত আয়েশা (রাঃ)-র যৌন সম্পর্ক নিয়ে চরম আপত্তিকর লেখা দেয়। এবার নাস্তিক-আস্তিক ঝামেলায় খুব ভালমতে বুঝলাম নাস্তিকরা আস্তিকদেরকে সহনশীলতার পাঠ নিয়মিত দিলেও তাদের মধ্যে সে সহনশীলতার বিন্দুমাত্র চর্চা নেই। বিশ্বাস না হলে আমারব্লগে পিয়াল ভাইয়ের ব্লগে "পট খাওয়া যায়েজ করতে নাস্তিক হয়েছি" পোস্টে সবচেয়ে সহনশীল নাস্তিক না.ধ.-র কমেন্ট পড়ুন। সহনশীলতার নমুনা দেখুন। রাশেদের কমেন্টকে পেঁচিয়ে তার মিথ্যাবাদীতার কথা নাহয় নাই বা বললাম। আরেকটা ব্যাপারও এবার স্পষ্ট হয়েছে। বেশিরভাগ নাস্তিকরা ব্লগে জামাতিদের বিরোধিতা করে এজন্য না যে জামাতিরা রাজাকার ছিল আর দেশের বিরোধিতা করেছিল বরং এজন্য করে যে জামাতিরা "আস্তিক"। তাদের কাছে সব আস্তিকই সমান, সব আস্তিকই জামাতি। ইসলাম-বিদ্বেষই মূল কথা এখানে, অন্যকোন বিষয় নয়। তাই আরিফুর রহমান চরম অন্যায় করলেও কোন নাস্তিক সেটার প্রতিবাদ না করে তাকে সাপোর্ট দিয়ে গেছে। এতদিনের ব্লগসংগী এস্কিমো, মুকুল, রাশেদ সবাই তাদের কাছে হয়ে গেছে শুধুই আস্তিক। তাদেরকে তাই প্যাঁচালিতে পাঠাতে হবে! এরপরে হযবরল কথার পোস্ট, আরও পরে আমারব্লগে সাকিব২০০৮ নামের ব্লগারের পোস্টে এডমিনের পক্ষ থেকে সাকিব২০০৮ নিকে কমেন্ট, আরো কিছু ইনসাইড নিউজ পেয়ে নাস্তিকদের মরালিটি নিয়ে চরম হতাশ হয়েছি। অবশ্য "বিশ্বাস" শব্দটা তো তাদের সংবিধানে নেই!!

ব্লগিং এবং সামহয়ার নিয়ে আমার দৃষ্টিভংগী
প্রতিষ্ঠিত মিডিয়াগুলো অনেক কথাই বলতে পারেনা। তাদের বিজ্ঞাপণের হার কমে যাবে বলে করপোরেট-ডমিনেশান নিয়ে লিখেনা। আর্মীদের নিয়েও লিখেনা। উন্নত-বিশ্বে মিডিয়া ভীষণভাবে জায়নিস্টদের দখলে। সেখানে মিডিয়াকে পলিটিকালি কারেক্ট হতে হয়। অলটারনেটিভ যারনালিজম হিসেবে ব্লগিং ক্রমে শক্তিশালী হয়ে উঠতেছে। ভবিষ্যতে ব্লগিং প্রতিষ্ঠিত মিডিয়াদেরকে ছাড়িয়ে যাবে। সত্য বের হয়ে আসবে। প্রথম আলোর মত অতিরিক্ত-নিয়ন্ত্রিত ব্লগিং অবশ্য বেশিদিন টিকবেনা। মডারেট নিয়ন্ত্রণ থাকা উচিৎ বলে মনে করি। বাংলা ব্লগোস্ফিয়ার অনেক এগিয়ে গিয়েছে বলা যায়। আমি জানিনা হিন্দী, উর্দু এসব ভাষায় লোকজন ব্লগিং করে কিনা। মনে হয় করেনা। সে হিসেবে বাংলায় ব্লগিং একটা মাইলফলক। সামহয়ার এদিক দিয়ে নিঃসন্দেহে প্রশংসার দাবিদার। প্রথমপাতায় সবার লেখা আসার বিষয়টা মনে হয় প্রথম শুরু করেছে সামহয়ারই। এটা বড় ইনোভেশান নিঃসন্দেহে। একবছর আগেও ড়াজাকারদের প্রতি সামহয়ার বিশেষ পক্ষপাতদুষ্ট ছিল। তখন সর্ষের মধ্যে ভূত ছিল বলেই সেটা হয়েছিল। এখন সে হিসেবে ব্লগ ড়াজাকারমুক্ত। সবার আন্দোলনের জন্য এটা সম্ভব হয়েছে। তবে আমি মনে করি সামহয়ারে আরো ট্রান্সপ্যারেন্সি আসা দরকার। মডারেটর কারা কারা এবং কিসের ভিত্তিতে হন সেটা স্পষ্টভাবে সবাইকে ঘোষণা দিয়ে জানানো উচিৎ। তাছাড়া মডারেটরদের কাজের বিরুদ্ধে যে কেউ বলতে পারবে সেই অধিকার থাকা উচিৎ। সভ্য জগতে সব দোষীকেই নিজেকে ডিফেন্ড করার সুযোগ দিতে হয়। কাউকে ব্যান করলে তার প্রতিবাদমূলক পোস্ট সরিয়ে দেয়াটা স্বৈরাচারিতার মত। তবুও বলব বাংলা সব ব্লগের মধ্যে সামহয়ারই বেস্ট।

বিশেষ ধন্যবাদপর্ব
শেষে নাস্তিক আর জামাতিদেরকে একটা প্রাপ্য ধন্যবাদ না দিলেই নয়। জামাতিদেরকে আগে চিনলেও ব্লগে এসে তাদের ভিতরের পশুটাকে ভালমতে চিনেছি। তাছাড়া অনেক ব্লগারই বাস্তবজীবনে জামাতিদের উপরের ভদ্র মুখোশটা দেখেছে। তাদের আসল আদর্শের সাথে অনেক ব্লগারই পরিচিত নয়। জামাতিদের নিয়মিত ছাগলামি করার জন্য সেটা অনেকর কাছেই পরিষ্কার এখন। বিশেষ করে যারা বিএনপি সাপোর্টার তারা সবসময়ই জামাতের রাজাকারিতা, তাদের বর্তমান এজেন্ডা, বিশ্বাস এসবকে ডাউনপ্লে করে। এখানে এসে তাদের অনেকেই জামাতিদের আসল চরিত্র বুঝতে পেরেছে। নাস্তিকদের ধন্যবাদ এজন্য যে তাদের জন্য আমাকে ইসলাম নিয়ে পড়তে হয়েছে। ইসলাম নিয়ে আমার মনের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহের জন্মের কারণ তাদের পোস্ট। বেশিরভাগ পোস্টই মিথ্যা আর মিসকোটিং-এ ভরা। ফেইথ-ফ্রিডম আর আনসারিং-ইসলাম.কমে নাস্তিকদের পোস্টকৃত সবপোস্টেরই বিষয়বস্তু পাওয়া যায়। এসবের কনভিনসিং আনসার নেটেই আছে। নাস্তিকদের বিভিন্ন পোস্টের জন্য এ ব্যাপারে আমার পড়ালেখার আগ্রহ জন্মেছে। আমি এরাবিক শিখার প্ল্যান করেছি যাতে কোরাণ ভাল বুঝতে পারি। এজন্য নাস্তিকদের কাছে কৃতজ্ঞ। অবশ্য এসব অনেক নাস্তিকই বুড়া বয়সে জামাতি হবে।

শেষে এসে অবশেষে
তামিমকে বিশেষ ধন্যবাদ দেওয়া দরকার আমাকে আনব্যান করার জন্য পোস্ট দেওয়াতে। তাছাড়া গত কয়েকদিনে প্রচুর ব্লগার (নাম নিলে কারও নাম বাদ পড়বে) আমার আনব্যান নিয়ে প্রতিবাদ করেছেন। সবার কাছে কৃতজ্ঞ। বিবর্তনবাদীও একটা ছোট পোস্ট দিয়েছিলেন। পরে আমি সে পোস্টে কমেন্ট করতে গিয়ে দেখি তিনি পোস্ট ডিলিট করেছেন। হয়ত আমি গালিবাজ বলে আমার সাথে নিজেকে এসসিয়েট করতে চাননি। তবুও সেই সাময়িক পোস্টের জন্যও বিবর্তনবাদীকে ধন্যবাদ। আরো কত কত ব্লগারের কাছে যে কৃতজ্ঞ সেটা বলে শেষ করা সম্ভব নয়। নাম নিতে গেলে অনেকের নাম বাদ পড়বে। অনেকেই শতশত ব্লগারের নাম নিয়ে ধন্যবাদ দেন। আমি গণধন্যবাদ দিলাম। আরিল আর জানাকে বিশেষ ধন্যবাদ আমাকে বর্ষপূর্তির একদিন আগেই মুক্তি দেয়ার জন্য। জামাতি আর ছাগু-নাস্তিক বাদে সবাইকে আবারও ধন্যবাদ।

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/Naradhamblog/28861902 http://www.somewhereinblog.net/blog/Naradhamblog/28861902 2008-10-30 07:01:18
বিজ্ঞপ্তি: ১২(৫৬)(৬৭)(১-ক_৭৮)-অ৩৪৫৬(হকন) এই মর্মে সকলের অবগতির জন্য জানানো যাইতেছে যে বিশিষ্ট ব্লগার, সমাজসংস্কারক, মানবদরদী, গরীবের বন্ধু ...................(<img src=" style="border:0;" /><img src=" style="border:0;" /><img src=" style="border:0;" /><img src=" style="border:0;" />আরো কি কি বসবে ফিল ইন দ্যা ব্ল্যাংকস......!!!)........নরাধমের কমেন্টে ব্যানমুক্তি ঘটিয়াছে। এই উপলক্ষে আজ বেলা ১৩টায় এক বর্ধিত সভার আয়োজন করা হয়েছে। সভাপরবর্তী কাঙালিভোজেরও ব্যবস্থা করা হয়েছে। সকলেই আমন্ত্রিত। <img src=" style="border:0;" /><img src=" style="border:0;" />]]> http://www.somewhereinblog.net/blog/Naradhamblog/28861699 http://www.somewhereinblog.net/blog/Naradhamblog/28861699 2008-10-29 19:39:18 সবিনয় বিনীত নিবেদন এই যে.......। কর্তাপক্ষ এবং কর্তৃপক্ষ,
সামুব্লগ,
ইন্টারনেট!


বিষয়: নরাধমের ১ বছর পূর্তি উপলক্ষে আকুল আবেদন!

জনাব/জনাবা,
সবিনয় বিনীত নিবেদন এই যে নরাধমের আর ১ সপ্তাহ পরে ১ বছর পূর্ণ হইবেক ব্লগে। সেই উপলক্ষে ট্রেইলার পোস্ট! নরাধমের ব্লগে "সেইফ" বলে লেখা আসে কিন্তুক কমেন্টের ব্যান মারছিল কোন জামানায়, কেন সেটা ভুইল্যা গেছেগা। কর্তাপক্ষ আর কর্তৃপক্ষের কাছে সবিনয় অনুরোধ জানালাম যেন আগামী সপ্তাহে নরাধমকে কমেন্টের জন্য মুক্তি দেয়। ২/৩দিন পর নাহয় আবার জেলে ঢুকাবেন। আমার ব্লগে যারা বন্ধু আছেন, শত্রু আছেন (শুধু ছাগু ছাড়া) সবাই বজ্রকন্ঠে আওয়াজ তুলেন নরাধমকে ১ বছর পূর্তি উপলক্ষে ফূর্তি করার জন্য যেন কয়েকদিনের জন্য হলেও কমেন্টের ব্যান আসমানে তুলে নেয়!



নরাধমের কমেন্টে ব্যান,
তুলে নাও, তুলতে হবে।

নরাধম কমেন্টে ব্যান কেন?
কর্তৃপক্ষ জবাব চাই, দিতে হবে।

নরাধমের কমেন্টে ব্যান,
মানিনা, মানবনা।


ইতি-
আপনাদের একান্ত বাধ্যগত
নরাধমের প্রেতাত্মা।
সামুব্লগ।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/Naradhamblog/28859412 http://www.somewhereinblog.net/blog/Naradhamblog/28859412 2008-10-25 10:37:54
কুত্তার বা্চ্চাদের জ্বালায় পারতেছিনা আর (নরাধমের আত্মকথন)।

উইকএন্ডে এখানকার লোকজনকে দেখি হাতে একটা পলিথিন নিয়ে কুত্তা আর কুত্তার বাচ্চাদের চড়াতে বের হয়। কুত্তা হাগলে সেটা পলিথিনের মধ্যে নিয়ে নেয়। উইকএন্ডে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের অন-ক্যাম্পাস বাস সার্ভিস থাকেনা। তাই আমাকে হেটে লাইব্রেরিতে যেতে হয়। আর যাওয়ার পথে আমার পাশের এপার্টমেন্টের প্যাটিও থেকে শুরু করে লাইব্রেরীর চত্বর পর্যন্ত অসংখ্য কুত্তা আর কুত্তার বাচ্চার মুখোমুখি হতে হয়। আমাকে দেখলেই আমার পাশের বাসার কুত্তার বাচ্চাটা ঘেউ ঘেউ শুরু করে দেয়। সে এতই হিংস্র হয়ে যায় যে শিকল ছিড়ে বাইরে বেরিয়ে আসতে চায়। শিকল ছেড়ে বাইরে আসতে পারবেনা জেনে আমি মুখচোখকে বিকৃত করে ভেংচি কাটি। কুত্তার বাচ্চাটা সেটা দেখে আরো রেগে যায়। সে আরো জোরে ঘেউ ঘেউ শুরু করে। আমি আস্তে আস্তে খিটখিটে মেজাজ নিয়ে সামনে এগোয়। সকালে ঘর থে্কে বের হয়েই কুত্তার ঘেউ ঘেউ শুনলে কার ভাল লাগবে বলেন? যাওয়ার সময় সুন্দরী ললনাদের কুত্তাগুলো আমার দিকে কেমন করে যেন তাকায়। আমি কুত্তা তাড়ানোর দোয়া পড়ি। ছোটকালে স্কুলে যাওয়া আসার সময় অনেক কু্ত্তার দেখা পাইতাম বলে মা আমাকে কুত্তার দোয়া শিখিয়েছিলেন। "ইন্নাহুম ইয়াক্বিদুনা কায়দাও ওয়াকিদু কায়দা, ফামাহহিলিল কাফিরিনা আমহিলহুম রুবাইদা" আরবী উচ্চারন বাংলায় লেখা যায়না, খুব টাফ। এটা আসলে কোরআনের একটা আয়াত। কুত্তার দোয়া কিনা জানিনা। তবে ছোটকালে এই আয়াত পড়ে ধুলো নিয়ে কুত্তার দিকে ছুড়ে দিলে কাজ হত। এখানে কুত্তার দিকে ধুলো ছুড়লে লোকে পাগল ভাববে, তাই ধুলো ছুড়িনা, শুধু আয়াতটা পড়ি। তাছাড়া কুত্তার বাচ্চাদের এদেশে ধুলোও পাওয়া যায়না কোথাও। তো, যা বলছিলাম। সুন্দরী ললনারা হয়ত আমার দিকে কোনদিন তাকাতনা, এখন কুত্তায় ঘেউ ঘেউ করে বলে একটু তাকায়। সেটাও কম কি? তাছাড়া কুত্তা শিকল ছিড়ে আমাকে তাড়া করতে চাইলে, ললনারা আমার দিকে তাকিয়ে সুন্দর করে বলে "স্যরি"। সেটাও কম না। তবে এম্রিকান মাইয়াদের প্রতি আমার আগ্রহ নেই। এরা হেগে পানি খরচ করেনা। কাগজ দিয়ে মুছে ফেলে। আমরা দেশে থাকতে কাগজ দিয়ে মুছে আবার পানি নিতাম। এখানে আমি বাসায় ছাড়া অন্য কোথাও টয়লেট করতে পারিনা। কারন সব জায়গায় কাগজ সিস্টেম। কাগজ দিয়ে মুছে ফেলার পর পানি না নিলে গন্ধ বের হওয়ার কথা। তাছাড়া নামাজ-কালাম পড়ি, তাই পবিত্র থাকা ফরজ। ধুর কোথ্থেকে কোথায় চলে আসলাম। কুত্তার বা্চ্চার কথা বলতেছিলাম। কুত্তার বাচ্চারা আমাকে এভাবে শত্রু মনে করলে তো এ দেশে টিকাটাই সমস্যা হয়ে যাবে। আমি অবশ্য কুত্তারা আমাকে তাড়া করলে ভয় পাওয়ার পর একটু ধাতস্ত হলে একটা গালি দিই। বলি "শালার কুত্তার বাচ্চা, তোর মায়েরে বাপ।" তোর মায়েরে বাপ গালিটার মিনিং জানিনা। শালার কুত্তার বাচ্চা গালিটা আসলে নিজের কাছেই ফিরে আসে। কুত্তাকে শালা বলা মানে কুত্তা আমার বউ। তাওবা তাওবা আস্তাগফিরুল্লাহ। অবশ্য গালি দেওয়ার ক্ষেত্রে কেউ মিনিং খুঁজেনা। তাই নিজের ছেলেকেও কুত্তার বাচ্চা, শুয়োরের বাচ্চা বা শালা বলাটা আমাদের মধ্যে খুব কমন।

কুত্তার বাচ্চাদের এখানে এত কদর দেখলে আমার প্রচন্ড ঈর্ষা হয়। কারন সারাজীবনে মনে হয় একটা কুত্তার পিছনে এরা ১ বছরে যত খরচ করে ততটা টাকা আমার পিছনে খরচ হয়নি। পন্ডিত মশাইয়ের সেই কাহিনীটা মনে পড়ে আমার। আমার দেশের মানুষ ফুটপাতে দিন কাটাচ্ছে। ছোট ছোট বাচ্চা দিনের পর দিন উপুস থাকতে হচ্ছে। হাড়জিরজিরে্ বাচ্চারা ডাস্টবিনে খুঁজছে খাবার। আর এরা কুত্তার জন্য বার্থডে পার্টি দিচ্ছে। এদের এটা যত খারাপ লাগে তার থেকে বেশি খারাপ লাগে আমার দেশের অনেকেই নাকি এখন বিদেশি কুত্তা রাখাকে স্ট্যাটাস সিম্বল মনে করতেছে। কুত্তার জন্য হাজার হাজার টাকা খরচ করলেও গাড়ীতে করে যাওয়ার সময় ছোট কোন হাড়জিরজিরে বস্তির বাচ্চা যদি ১টাকার ফুল কিনার জন্য কাকুতিমিনতি করে তাহলে তাকে ধাক্কা দেয়। আসল কুত্তা কে সেটা প্রশ্ন জাগে। এইসব কুত্তাগুলো নাকি যারা কুত্তাগুলো পালতেছে হাজার টাকা খরচ করে অথচ ১টাকার ফুল কিনার অনুরোধ করলে ধাক্কা দিচ্ছে তারা?

আবার একটা গালি দিলাম। বিশ্বের সকল মানবকুত্তা আর পশুকুত্তাকে উদ্দেশ্য করে বললাম "শালার কুত্তার বাচ্চা"। রাজাকার আর ড়াজাকারদেরকে উদ্দেশ্য করেও একটা গালি দিলাম "শালার শুয়োরের বাচ্চা, সারমেয় জারজ। তোদের পাকিবাপরা তোদেরকে কুত্তার মতই মনে করত। তোরা সেটা বুঝতিনা। শালার কুত্তার বাচ্চা"





বিশেষ দ্রষ্টব্য: হ্যারি সেলডন ফ্রন্ট পেজ, কমেন্ট দুটাতেই ব্যান। নরাধম কমেন্টে ব্যান। তাই কমেন্টের জবাব দিতে পারবনা। ব্লগের নারী ড়াজাকারদের আক্রমণ করে একটা পোস্ট দিছিলাম। তার ফল। পোস্টটা দিয়ে অনেকদিনের জন্য হাপিস হয়ে যাব। পরে আসলেও "আমার ব্লগে" স্থায়ী হব। ড়াজাকাররা ছাড়া সবাই ভাল থাকেন। অনেক অনেক ভাল।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/Naradhamblog/28822453 http://www.somewhereinblog.net/blog/Naradhamblog/28822453 2008-07-21 04:25:10
শারফুকে ব্যান করা হয়েছে। http://www.somewhereinblog.net/blog/Naradhamblog/28796773 http://www.somewhereinblog.net/blog/Naradhamblog/28796773 2008-05-12 01:02:47 রাশেদ এবং এস্কিমোভাইয়ের আনব্যান চাই, এই এখুনিই।
আরিল এবং জানা,
আপনাদের নিজেদের ইগোকে বজায় রাখার জন্য ব্লগের বারটা বাজাবেননা। আমরা ব্লগকে ভালবাসি। সামহয়ার যেমন আপনাদের তেমনি আমাদেরও। আর তাই ব্লগটাকে এভাবে ধ্বংস হয়ে যেতে দেখে খারাপ লাগতাছে। রাশেদ এবং এস্কিমোকে আনব্যান করুন, এই এখুনিই। আবার ব্লগ মেতে উঠুক বাঁধহীন আনন্দে, সৃস্টিশীল আলোচনায়, যুক্তিপুর্ণ তর্কে আর আবেগময় ভাববিনিময়ে। আপনাদের একটা ভুল সিদ্ধান্ত ব্লগকে শেষ করে দিতে পারে আর একটা সঠিক সিদ্ধান্ত ব্লগকে আবার আগের মত সবার পদচারণায় মুখরিত করতে পারে।

যখন আমাদের সবার প্রিয় ব্লগার রাশেদ বলে যে কমেন্ট করার জন্য তার হাত নিশপিশ করতেছে তখন কিছু করতে না পারার আক্ষেপ আমাদেরকে প্রচন্ডভাবে ক্ষুব্ধ করে। দুঃখে আমাদের বুক ভেংগে যায়। যখন এস্কিমোভাইয়ের মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক পোস্ট থেকে আমরা আপনাদের হঠকারী আচরণে ডিপ্রাইভ্‌ড হই, আমরা চরমভাবে মানসিকভাবে আঘাতপ্রাপ্ত হই।

Good sense must prevail. Please, please, please কিছুক্ষণের জন্য ইগোটাকে পাশে ঠেলে ব্লগের বৃহত্তর স্বার্থ্যের কথা চিন্তা করে দেখুন, ব্লগটাকে আপনারা কোথায় নিয়ে যাচ্ছেন। যে ব্লগার আপনাদের ব্লগটাকে বাঁচিয়ে রেখেছে তাকেই আপনারা ব্যান করে রেখেছেন অন্যায়ভাবে, এত বড় অকৃতজ্ঞতা আপনাদের কাছ থেকে আশা করিনা।

রাশুদা এবং এস্কিমোভাইয়ের আনব্যান করুন, এই এখুনিই, before it is too late.]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/Naradhamblog/28785107 http://www.somewhereinblog.net/blog/Naradhamblog/28785107 2008-04-04 01:41:00
আরিলের দৃষ্টিআকর্ষন
রাশেদ এবং এস্কিমো ব্লগের সবচাইতে জনপ্রিয়, সজ্জন ব্লগারদের প্রতিনিধিত্ব করে। তারা কোন পরিস্থিতিতেই কোন ধরণের উল্টাপাল্টা করেনা। রাশেদ হল ব্লগের প্রাণ। রাশেদ না থাকলে আপনাদের সামহয়ারের হিট অর্ধেকেরও কম হবে এতে কোন সন্দেহ নেই। আমরা অনেকেই এখানে রাশেদের মত ব্লগার না থাকলে ব্লগিং করতেই আসতামনা। এস্কিমো মুক্তিযুদ্ধের চলমান এনসাইক্লোপিডিয়া। তার পোস্টগুলা দেখুন, তার কমেন্ট দেখুন, তাহলেই পরিষ্কার হবে মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস তুলে ধরার জন্য তার কত প্রচেষ্ঠা।

ইতিমধ্যেই নিশ্চয়ই ক্লিয়ার হয়ে গেছে রাশুদা এবং এস্কিমোভাই না থাকলে ব্লগার লগড-ইন থাকে ৪/৫ জন আর ভিজিটর থাকে ১০০-১৫০ জন। আপনারা মনে করতেছেন ১০ দিন পর রাশেদ আর এস্কিমোকে আনব্যান করলে সব ঠিক হয়ে যাবে। I just want to make it clear for once and for all that, no, not this time.

রাজাকারপুত্র ওয়ামীকে ব্যান করার পর রাজাকারপোনা ফারজানা মাহবুবার প্রতিবাদমুলক পোস্ট আপনারা প্রথম পাতা থেকে রিমুভ করেননি। ব্যার্থ রইছুর পোস্ট আপনারা রিমুভ করেননি। অথচ রাশেদ এবং এস্কিমোকে নিয়ে প্রতিবাদমুলক পোস্ট আপনারা প্রথম পাতা থেকে রিমুভ করতেছেন। এটা কোন ধরণের ফাইজলামি? এটা কোন ধরণের নিরপেক্ষতা?

সামহয়ারকে যে ব্লগার বাঁচিয়ে রেখেছে প্রায় প্রতিটা পোস্টে কমেন্ট করে তাকে আপনারা বিনা কারণে ব্যান করেছেন, তারপর তাদেরকে নিয়ে প্রতিবাদমুলক পোস্ট একটার পর একটা প্রথম পাতা থেকে সরিয়ে দিচ্ছেন, যারা পোস্ট দিচ্ছে তাদেরকে হুমকি দিচ্ছেন। এটা তো সম্পুর্ণভাবে মধ্যযুগীয় বর্বরতা।

রাশুদা এবং এস্কিমোভাইয়ের আনব্যান চাই, এই এখুনিই।

We love Rashed and Eskimo, we love our country, our freedom-fighters are people we hold most dear and unless you lift the ban on Rashed and Eskimo right now without any delay, WE WILL SAY TO BBA " GO TO HELL"

The stakes are too high this time.
The question is about patriotism this time.
The concern relates to our independence and freedom-firghters this time.
The attacks were on our most sacred feelings this time. So, this time, unless you lift the ban before it is too late, somewherein blog can be considered clinically dead. The earlier you understand this, the better.





]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/Naradhamblog/28784895 http://www.somewhereinblog.net/blog/Naradhamblog/28784895 2008-04-03 07:09:28
মা, তোমাকে। উৎসর্গঃ প্রবাসী সবাইকে, যারা প্রতি মুহুর্ত্যে দেশে থাকা প্রিয়জনদেরকে, বিশেষ করে মা'কে, মিস করে। মন খারাপ হয়ে গেলে দুঃখিত।


মা, মনে আছে আমি বলতাম সারা বিশ্বে বিপ্লব ঘটাব? সমস্ত মেহনতী মানুষের মুক্তির জন্য যুদ্ধ করব? মা, আমি এখন আর বিপ্লবের স্বপ্ন দেখিনা। তোমার সাথে বসে তোমার হাতে রান্না করা গরম ভাত খাওয়াই আমার স্বপ্ন এখন। পিজার গন্ধ আর পাউরুটির স্বাদ নিতে নিতে এগুলো দেখলেই বমি আসে। রাইস কুকারে রান্না ভাতে কোনমতেই তোমার রান্না ভাতের গন্ধ আসেনা। শীতল পাটিতে বসে ভাত খাব, মা। পাশে ভাইয়া থাকবে। আমি হাসির কথা বললে সে সবসময়ের মত অট্টহাসি দিয়ে চরম মমতায় আমার মাথায় একটা চাটি মারবে। ছোটবোন কিছুক্ষন পর জিজ্ঞেস করবে কৌতুকটা কি। সবাই আবার হাসব। গরম ভাতের গন্ধ থাকবে নাকে। ছোটভাই ক্রিকেট খেলায় ব্যাটিং করে ফিল্ডিং না করেই পালিয়ে আসলে তাকে ক্ষেপাব। ছোটবোন যে আমাদের ছোটবোন না, তাকে কুড়িয়ে পেয়েছি সেটা বললেই সে কাঁদবে। মা, ছোটবোনটা কি এখনও সেরকম বোকাসোকা আছে? আমি আসার সময় সে আমাকে জড়িয়ে ধরে সে কি কান্না। মা, ছোটবোনের জন্য তো কোনদিন কিছু করিনি, বরং খালি ক্ষেপাতাম। কিন্তু কেন সে অমন করে কাঁদল? আমি সারাটা পথ ধরে ওর কান্নার কথা মনে করেছি। এখনও ১৪/১৫ বছরের কোন কিশোরী মেয়ে দেখলে আমি আবার তাকায়, খুঁজে ফিরি ছোটবোনের কোন চিহ্ন তার মধ্যে আছে কিনা। ছোটবোন চট্টগ্রাম গেলে প্রতিবারই আমাকে পরবর্তীবার আসার সময় চুড়ি, কানের দুল এসব আনতে বলত। আমি কোনদিন মনে করে নিয়ে যায়নি। মা, বিশ্বাস কর, এবার আমি গেলে সারা মার্কেটের সব চুড়ি, কানের দুল তার জন্য নিয়ে যাব।

তুমি দেখ মা, আমি ছোটভাইয়ের জন্য তার পছন্দের সব জুতা কিনে দিব। তার জন্য আইসক্রিম ফ্যাক্টরির সব আইসক্রিম নিয়ে যাব। ভাইয়ার সাথে দেখা হয়না তিন বছর। তাকে ছোটকালে সারাজীবনটাই খালি জ্বালিয়েছি। আমার হয়ে কত মার খেয়েছে সে। তার কপালে এখনও আমার মারা ইটের আঘাতের দাগ আছে। এবার গেলে ভাইয়াকে বলব যে আমার সব সফলতার ৯৯ ভাগ তার জন্য, তার মাধ্যমেই। আসার সময় যতক্ষণ তোমাদের সামনে ছিলাম ততক্ষণ একটুও কাঁদিনি। খুব স্বাভাবিক ছিলাম। যখন ঢাকা আসার গাড়িতে উঠলাম তখন আমি অনেক কেঁদেছি, মা। ফুঁফিয়ে ফুঁফিয়ে কেঁদেছি। বাসের সবাই আমার দিকে তাকাচ্ছিল। তাকাক, আমি আজ কাঁদব। আমি জানি মা, সে যে তোমাকে ছেড়ে এসেছি আর কোনদিন তোমার কাছে চিরদিনের মত ফিরে যেতে পারবনা। আধুনিক জীবন যে আমাদেরকে যাযাবর বানিয়েছে। সফলতার পিছনে দৌড়াতে দৌড়াতে আমরা যে সব হারাচ্ছি মা, আমি সব জানতাম, তাই আমি মন উজাড় করে কেঁদেছি।

মা, হারভারড/স্ট্যানফরড/হোয়ারটন/শিকাগো তে পিএইচডি করে আইভি লীগে শিক্ষকতা করার স্বপ্নের কথা বলেছিলাম মনে আছে? মা, আমার কাছে সে স্বপ্নের এখন কানাকড়িও মুল্য্ নেই। বিখ্যাত হওয়ার কোন প্রয়োজন আমার কাছে এখন নেই, মা। শুধু তোমার পাশে বসে গল্প করতে চাই। ঢাকায় থাকার সময় চট্টগ্রামে বাড়িতে গেলে সারাদিন বন্ধুদের সাথে আড্ডা মেরে রাত বারটায় আসতাম। তুমি রাগ করতে খুব তোমাদের সাথে গল্প না করেই আবার ঢাকায় চলে আসতাম বলে। মা, এবার তুমি দেখ, দেশে গেলে শুধু সারাদিন তোমার পাশে বসে থাকব। একটুও নড়বনা। সময়মত নামাজ পড়তামনা বলে তুমি অনেক সময়ই রাগ করতে। এখন আমি প্রতিদিন পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ সময়মত পড়ি, মা। সকালে উঠেই কোরান পড়ি। আল্লাহকে সন্তুষ্ঠ করার জন্য না, তুমি বলতে বলে। বাবা সবসময় রাগী ছিলেন। তুমি বলতে আসলে তিনি খুব ভাল মানুষ। আমাদের গোসলের পর লুংগী ধুয়ে দিতেন। শোয়ার সময় মশারী টাংগিয়ে দিতেন। রাতে উঠে কিছুক্ষণ পরপর দেখতেন মশায় কামড়াচ্ছে কিনা। কোনদিন এগুলো নিয়ে চিন্তা করিনি, মা। এবার দেখ, দেশে গেলে আমিই বাবার লুংগী ধুয়ে দিব। রাতে আমি বাবার মশারী টাংগিয়ে দিব। ঘড়িতে এলার্ম দিয়ে প্রতি ঘন্টা পরপর ঘুম থেকে উঠে বাবাকে মশাই কামড়াচ্ছে কিনা দেখব। সকাল বেলা বাবাকে জোর করে হাঁটতে নিয়ে যাব। কথা দিচ্ছি মা, তুমি যেরকম চাইতে সেরকম হয়ে যাব।

মা, তোমার কি মনে আছে ঢাবি'তে পড়ার সময় আমার একবার খুব অসুখ করেছিল? কিছুই খেতে পারতামনা। হাঁটার শক্তিও নেই। তবুও নানীর কথা না শুনেই জোর করে চট্টগ্রাম চলে গিয়েছিলাম। ভাইয়ার বুয়েটে তখন ওর পরীক্ষা চলতেছিল। পরীক্ষা না দিয়েই সে আমাকে চট্টগ্রাম নিয়ে গিয়েছিল। ঘরে পৌঁছেই তোমাকে দেখামাত্রই আমার একশ তিন ডিগ্রী জ্বর এক মুহুর্ত্যেই কমে গিয়েছিল। সবাই সে কি হাসাহাসি আমাকে নিয়ে। ওরা ত জানেনা মা, তোমাকে দেখলে আমার জ্বর না, ক্যান্সারও ভাল হয়ে যাবে। অসুখের সময় আমি গরুর মাংশ খেতে পারছিলামনা মুখে স্বাদ নেই বলে। তুমিও কোরবানীর ইদের মাংশ খাওনি যতদিন আমি খাইনি। মা, তুমি এরকম কেন? তুমি কি জানতেনা এসব স্মৃতি তোমার ছেলেকে পরে কোন একসময় চরম কষ্ট দিবে?

মা, আর কোনদিন কি ভাইয়া, বাবা, আমি, ছোটভাই, ছোটবোন, তুমি সবাই একসাথে বসে গরম ভাত খেতে পারব? সবাই যে নিজ কাজে ব্যস্ত হয়ে যাচ্ছে। সবাইকে একসাথে করা যাবে কি আর? আর কোন ইদ কি সবাই একসাথে করতে পারব? অথবা কোন কোরবানীর গরু একসাথে কাটাতে পারব? খাওয়ার পর অনেকক্ষণ ধরে গল্প কি হবে আর কোনদিন? কিংবা সবাই একসাথে হাসতে পারব? অথবা সবাই একসাথে কান্না? মা, তোমার অসাধারণ ভাল একমাত্র মেয়ের বিয়ে হয়ে যাবে একসময়, তোমার বড়ছেলের সংসার হয়ে অন্য কোন দেশে চলে যাবে। আমিও হয়ত থাকব অন্য কোন দেশে। মা, সেই সব দিনগুলো কি আর কোনদিন ফিরে আসবেনা? মা, যে সফলতার নাম সবাইকে ছেড়ে থাকা সে সফলতা আমি চাইনা, মা। আমি কুপমন্ডুক হব, গরীব থাকব, অলস থাকব, তবুও আমি সারাজীবন তোমার পাশে থাকতে চাই মা, শুধু এটাই আমার চাওয়া, মা, শুধু এটাই।

মা, সবাই জানে আমি আবেগহীন। মনে করে বাড়ির জন্য, তোমার জন্য, সবার জন্য আমার কখনও মন খারাপ হয়না। তুমি ত জান মা আমি কত বেশি আবেগপ্রবণ। এখনও প্রতিদিন রাতে ঘুমানোর আগে চোখের পানিতে বালিশ ভিজিয়ে ফেলি। প্রায় প্রতি রাতেই স্বপ্ন দেখি তোমার কাছে গেছি, তোমার সাথে গল্প করতেছি। সমাহয়ারইনের মাকে নিয়ে কোন লেখায় পড়িনা আমাকে কাঁদায় বলে। মা, তুমি নিশ্চয় জান উপরে যতই শক্ত মনের মানুষ মনে হোকনা কেন আমি ভিতরে ভীষন দূর্বল মনের। মা, তাই প্রতিদিন তোমাদের কথা মনে করি। মা, সারাজীবন তোমাকে কাছে পেয়ে কোনদিন উপলব্ধি করিনি তুমি আমার জীবনের কতটুকু অংশ জুড়ে আছ। কোনদিন তোমাকে জড়িয়ে ধরে বলিনি মা, তোমাকে ছাড়া আমার এক মুহুর্ত্যও চলবেনা। শক্তমনের ছেলে কি কখনও এরকম বলে? মা, এবার দেশে গেলে তোমাকে জড়িয়ে ধরে বলব "মা, আমি তোমাকে ভালবাসি। তোমাকে অনেক মিস করেছি। আমি আর কোনদিন তোমাকে ছেড়ে যাবনা। আমার পিএইচডি'র কোন দরকার নেই, মা। আইভি লীগের শিক্ষক হতে চাইনা আর। বিখ্যাত হওয়ার চেয়ে তুমি আমার কাছে অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ, মা। আমি সারাজীবন তোমার সাথেই থাকব, মা, এই এখানেই।"


]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/Naradhamblog/28772176 http://www.somewhereinblog.net/blog/Naradhamblog/28772176 2008-02-20 03:14:08
মুহাম্মাদ জাফর ইকবালের ছবি ডিলিট মারছে!


প্রোফাইল ইমেজ রেখেছিলাম জাফর ইকবাল স্যারের। কিন্তু কারা যেন অভিযোগ করেছে আর আমারে ডিলিট মারতে অনুরোধ কইরা ব্লগ কতৃপক্ষ নিজেরাই ডিলিট মারছে। কাদের গাত্রদাহ শুরু হয় জাফর ইকবাল স্যারের ছবি দেখলে?]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/Naradhamblog/28771834 http://www.somewhereinblog.net/blog/Naradhamblog/28771834 2008-02-19 01:05:11
আড্ডা হবে?
চলেন আমরাও আড্ডা দিই। রাজাকাররা ছাড়া অন্য সবাই আসুন আড্ডা দিয়ে মন হালকা করি। আমি নিজেই গত কয়েকদিন খুব ডিপ্রেস্‌ড। আড্ডা দিয়ে মনে হালকা করি।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/Naradhamblog/28771290 http://www.somewhereinblog.net/blog/Naradhamblog/28771290 2008-02-17 02:16:24
সাইদী : নিরপেক্ষ দৃষ্টিতে "লোকটা দৌড়াচ্ছে। পিছনে এক বাঘ তাড়া করতেছে। লোকটা জীবন হাতে নিয়ে দৌড়াচ্ছে। প্রচন্ড বেগে দৌড়াতে হচ্ছে আর কিছুক্ষণ পরপর পিছনে ফিরে থাকাতে হচ্ছে কখন বাঘটা কাছে চলে আসে আবার। দৌড়াতে দৌড়াতে একটু দূরে একটা গাছ দেখা গেল। গাছের কাছে আসল। তাড়াতাড়ি গাছে বেয়ে উঠল। উঠে একটা ডালে উঠে বসল। নিচে বাঘটা এসে গাছের নিচে দাড়ি্য়ে আছে। যে পাশে বাঘ দাড়িয়ে আছে সেপাশ ছাড়া অন্য সবপাশে বিশাল গর্ত। গর্তের মধ্যে বিরাট বিরাট সাপ, বিচ্ছু অন্য ভয়ংকর পোকামকড়। নিচে নামলেই বাঘে ধরবে। গাছ থেকে পড়ে গেলেই সাপে খাবে। এমন সময়ে দেখা গেল একটা সাদা পাখি আরেকটা কাল পাখি যে ঢালে সে বসে আছে সে ঢালে ঠোঁট দিয়ে আঘাত করতেছে আর ঢালটা আস্তে আস্তে কেটে যাচ্ছে। ঢাল কেটে গেলেই সে গর্তে পড়ে যাবে। মহাভয়ংকর অবস্থা। সে চিন্তা করে কাঁপতেছে প্রচন্ডভাবে। হঠাৎ তার মাথায় একটা কি যেন পড়ল। উপরের দিকে থাকিয়ে দেখে একটা মধুর চাক। সেখান থেকে ফোঁটা ফোঁটা মধু পড়তেছে।একটু চেখে দেখল সে জিবে নিয়ে। খুব মিষ্টি। সে গাল হা করে মধু খেতে আরম্ভ করল। মধুর চাকের দিকে হা করে মধু খেতে খেতে সে বাঘের কথা, গর্তের কথা, সাপের কথা, পাখির কথা ভুলে গেল।সে সুমিষ্ট মধুর জগতে হারিয়ে গেল।"

হঠাৎ লোকটার স্বপ্ন ভেংগে গেল। বুঝল এতক্ষণ সব স্বপ্ন ছিল। এরকম অদ্ভুত স্বপ্ন দেখার কারন কি সে বুঝতে চেষ্টা করল। এক বুজুর্গ লোক ছিলেন এলাকায় যিনি স্বপ্নের ব্যাখ্যা করতেন। সকাল উঠেই তার কাছে গেল। তিনি সব শুনে বললেন "আসলে এটা সব মানুষের জন্যই বাস্তবতা, স্বপ্ন নয়। যে বাঘটাকে দেখলেন সেটা আজরাইলের প্রতিমূর্তী। মৃত্যু যে আমাদের প্রতিমুহুর্ত্যে তাড়া করতেছে সেটাই এটা বুঝাচ্ছে। গর্তটা হল কবর। কবরের আযাব বুঝাচ্ছে গর্তের মধ্যে সাপ, বিচ্ছু দিয়ে। পাখি দুটা দিন আর রাতকে বুঝাচ্ছে। গাছের ঢালটা হল আমাদের হায়াত। রাতদিন কাটতে কাটতে আমাদের হায়াত ফুরিয়ে যাচ্ছে। যেকোন সময় মৃত্যু হবে আর কবরে যেতে হবে। মধুটা হচ্ছে দুনিয়ার লোভ, সম্পত্তি, টাকা পয়সা। আর দুনিয়ার লোভে পড়ে আমরা মৃত্যুর কথা, কবরের কথা, হায়াতের কথা সব ভুলে বসে আছি, আছি দুনিয়ের সুখ নেওয়ার তালে।"


২.
এই কাহিনীটা ছিল ক্লাশ ফাইভে থাকাকালীন সময়ে শুনা। সাইদীর ওয়াজের ক্যাসেট ছিল আমার কাজিনের কাছে। সেখানে প্রথম সাইদীর ওয়াজে শুনেছিলাম এটা। চট্টগ্রামে সাইদী'র সম্মেলন "ইসলামী সমাজকল্যান সংস্থা" নামক জামাত শিবিরের একটা সংগঠনের ব্যানারে হয়। সম্মেলনের নাম "তাফসীরুল কোরআন মাহফিল"। আমার এক চাচাতভাই সাইদীর খুব ভক্ত ছিল। সাইদীর ওয়াজের সব ক্যাসেট উনার কাছে ছিল। আমার সাইদীর সাথে পরিচয় খুব ছোট বয়সে। চাচাতভাইয়ের বাসায় সাইদীর ওয়াজের ক্যাসেট শুনলাম। বলতে দ্বিধা নেই যে সাইদীর ওয়াজ মনে খুব দাগ কেটেছিল। আমি প্রায়ই সাইদীর ওয়াজ শুনার জন্য চাচাতভাইয়ের কাছে যেতাম। সাইদীর কন্ঠ খুব সুন্দর। কোরাণের আয়াতগুলো অসাধারণ কন্ঠে পড়েন। নিরপেক্ষ দৃষ্টিতে দেখলে যে কেউ তার ওয়াজ পছন্দ করবে। স্বপ্নের কাহিনীটা শুনে প্রায়ই রাতে আমি দঃস্বপ্ন দেখে জেগে উঠতাম। দিনের বেলায় পিছনে বাঘের ভয়ে থাকতাম। মৃত্যুর চিন্তাটা খুব ছোট বেলায় ঢুকে গিয়েছিল মনে। সাইদীকে ভীষন পছন্দ করা শুরু করলাম। বাসায় আব্বা এসব আনতে দিতেননা। সাইদীর ওয়াজ শুনতেছি বললে বাসা থেকেই বের করে দিবেন। তাই লুকিয়ে লুকিয়ে সাইদীর ওয়াজ শুনতাম কাজিনের বাসায় গিয়ে।
আরেকটু বড় হওয়ার পর সাইদীর ওয়াজ অনেক অনেক বার শুনা হয়ে গেছে। ক্লাশ এইট-নাইনে উঠার পর আমি সাইদী এক্সপার্ট হয়ে গেলাম। সাইদীর সব ওয়াজ মুখস্ত। এমনকি নতুন ওয়াজের ক্যাসেটেও আমার জন্য নতুন কিছু ছিলনা। তার ওয়াজের প্যাটার্ন, কখন কোরাণের কোন আয়াত বলবে সব আমার আগে থেকেই জানা। তাই আগের মত আর তার ওয়াজে তেমন মজা পাইনা। আস্তে আস্তে সে সময়ে আমি রাজনীতি সম্পর্কেও সচেতন হচ্ছি। দেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম সম্পর্কে পড়তেছি। মুক্তিযুদ্ধ সম্পর্কে জানতেছি। নিয়মিত দৈনিক পত্রিকা পড়া শুরু করলাম। যাযাদি তখনও দালালি শুরু করেনি। তাই যাযাদি গোগ্রাসে গিলতাম। জামাতিদের সম্পর্কে ধারণা পরিষ্কার হল। উল্লেখ্য পাঠ্যপুস্তকে রাজাকারের কথা লিখা থাকলেও কোথাও কারা সেই রাজাকার সেটা লেখা থাকতনা। কোন একটা সাপ্তাহিকে সাইদী সম্পর্কে আর্টিকল পড়লাম। নিজামী, গোআ'দের কাহিনী পড়লাম। স্থানীয় কিছু বড়ভাইদের কাছ থেকে এ ব্যাপারে আরও জানলাম। সাইদীর প্রতি যে মোহ ছিল সেটা গিয়ে চরম ঘৃণা জন্ম নিল। গোআ হয়ে গেল আমার থলিতে সবচাইতে বড় গালি। আমরা বন্ধুরা কাউকে গালি দিতে চাইলে বলতাম "শালা, তুই একটা গোলাম আজম।"

৩.
কিন্তু তখনও সাইদীর ব্যাপারে একটা বিষয়ে আমার মনে খটকা থেকে গেল। এই লোকটার ওয়াজে এখন খালি আ'লীগকে গালি দেওয়া ছাড়া আর কিছুই থাকেনা। জামাতি কথা প্রচার করাই তার ওয়াজের মেইন ফোকাস হয়ে গেল। আর শেখ হাসিনার প্রতি কুইংগিত করা তার ফ্যাশান। তাহলে তার ওয়াজে এত মানুষ আসে কোথ্থেকে। উল্লেখ্য চট্টগ্রামে ছাড়া অন্য কোন এলাকায় তার ওয়াজে এত লোক আসেনা। ঢাকা মিরপুরেই তার ওয়াজ হয়। লোকসংখ্যা বড়জোড় ৩ হাজার। এই ব্যাপারটা আমার মাথায় ঢুকল। চিন্তা করে দেখলাম চট্টগ্রামে চট্টগ্রাম কলেজ, মহসিন কলেজ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় এবং আরো অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান শিবিরের দখলে। সাতকানিয়ায় শিবিরের বড় ক্যান্টনমেন্ট। তাছাড়া চট্টগ্রামের লোক কোন বিচিত্র কারনে ওয়াজের ভক্ত। হয়ত অতিমাত্রায় মাদ্রাসা আর মাজারের কারনে তাদের এ বকধর্মিকতা। ওয়াজ শুনে পরের দিনই ফজরের নামাজে আর পাওয়া যায়না। এ বকধার্মিকতা নিয়ে শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হকের একটা চুটকি আছে। পরে একসময় বলতে চেষ্টা করব। তবে সাইদীর ওয়াজের মুল আবেদন অন্য জায়গায়। তার কন্ঠ খুব সুন্দর সেটা সন্দেহ নেই। কিন্তু সবচাইতে আকর্ষনীয় বিষয় হল তার ওয়াজের পর অন্তত পক্ষে দশবারজন হিন্দুর মুসলমান হয়ে যাওয়া। এটা খুবই অবাক করা বিষয়। তাই সাইদীকে চরম ঘৃণা করা শুরু করলেও এই বিষয়টা আমাকে খুব ভাবাতে শুরু করল।

৪.
২০০০-০১ সালের দিকে। তখন এইসএসসিতে পড়ি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কলেজে। চবি স্বভাবতই শিবিরের ঘাঁটি। আমার ক্লাসমেটদের মধ্যে অনেকেই শিবিরের সাথে সরাসরি জড়িত। তাদের হাতে সেসময়ই মোবাইল। তবে এদের সবচাইতে আশ্চর্য্যের বিষয় হচ্ছে তারা ছিল ক্লাসে সবচাইতে লুইচ্চাটাইপ ছেলে। একদিকে ইসলাম আনার জন্য জানপ্রাণ অন্যদিকে মেয়েদের সাথে নোংরামিতে তারা সবার আগে।
সে সময়ই চট্টগ্রামে সাইদীর ওয়াজ মাহফিল। কিন্তু এবার লোকজন বেঁকে বসেছে। তাফসীরুল কোরআনের নামে জামাতি ধ্যানধারণা প্রচার, রাজনৈতিক প্রচারণা চালানোর জন্য মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের লোকজন তাকে মাহফিল করতে দিতে রাজি নয়। বিরাট আন্দোলন শুরু হয়েছে। শেষ পর্যন্ত সে অন্য একটা জায়গায় সম্মেলন করল। আমার কাজিনের কথা আগেই বলেছি। তিনি সাইদী'র একনিষ্ঠ ভক্ত। কিন্তু এবার দেখি সাইদীকে ওয়াজ করতে না দিলেও তিনি কোন মিছিল মিটিং করলেননা। এমনকি সাইদী'র ওয়াজেও গেলেননা। ঘটনা কি জানার জন্য আগ্রহ বোধ করলাম। কাজিনকে জিজ্ঞেস করলাম। কিন্তু তিনি আমাকে বামপন্থি মনে করাতে কোনমতেই বলেননা। অনেক চাপাচাপির পর বলতে রাজি হলেন। তিনি নাকি বিশ্বস্থ সুত্রে খবর পেয়েছেন সাইদীর ওয়াজে হিন্দুদেরকে মুসলমান বানানোর যে নাটক করা হয় তা সম্পূর্ণ বানানো। অন্যান্য জেলার শিবির, জামাত কর্মীদেরকে হিন্দু সাজিয়ে আনা হয় আর মানুষকে ধোঁকা দেওয়ার জন্য তাদেরকে মুসলমান বানানো হয়।
৫.
আমি তার কাছে কথাটা শুনলেও বিশ্বাস করতে পারিনি। এত বড় জোচ্চুরি কিভাবে সম্ভব? তাই আরো অনেক চিন্তা করলাম। চিন্তা করে দেখলাম একজন মানুষের জীবনে ধর্ম একটা খুব গুরুত্বপূর্ণ জায়গা দখল করে আছে। ইন ফ্যাক্ট, ধর্মের মত এত গুরুত্বপূর্ণ স্থান মনে হয় আর কিছুর নেই। যে কোনদিন নামাজ পড়েনি, পড়েনা, ধর্মীয় অন্য কোন কাজই করেনা সেও নিজেকে মুসলমান পরিচয় দেয়। একই কথা প্রযোজ্য অন্য ধর্মাবলম্বীদের জন্যও। এমনকি সুনীল গাংগোপাধ্যায়ের বইয়ে পড়েছি নাস্তিকরা যখন কোন বিপদে পড়েন এবং কোন উপায় থাকেনা তখন নাকি আল্লাহকে বলেন "হে আল্লাহ, এবারের মত মাফ করে দাও। কথা দিচ্ছি এবারের পর আর নাস্তিক থাকবনা!" তাছাড়া দেখা যায় তারা জানাজা পড়াতে নিষেধ করেননা, কবর দিতেও না। বিয়ে করার ক্ষেত্রেও ধর্ম মেনেই বিয়ে করেন। একইভাবে চরম বিশ্বাসী লোকের মনেও মাঝে মাঝে নাস্তিকতা দানা বাঁধে। আসলে এবসলিউট নাস্তিক বা আস্তিক কেউ নেই। তো যা বলছিলাম, আসলে ধর্ম অনেক বড় একটা ফ্যাক্টর। কেউ নিজের ধর্ম পরিবর্তন আগে অনেক ভাববে। ধর্ম পরিবর্তন করার পরে অনেক সামাজিক প্রতিবন্ধকতার মধ্যে থাকতে হয়। তাছাড়া কোন শিক্ষিত মানুষ ধর্ম পরিবর্তন করতে গেলে তাকে এবসলুটলি নিশ্চিত হতে হবে যে তার ধর্ম ভুল এবং যে ধর্ম সে নিচ্ছে সেটাই সঠিক ধর্ম। অন্য অনেক বিবেচনাও থাকতে পারে। কিন্তু যেটাই হোক, ধর্ম পরিবর্তনের জন্য তাকে অনেক ভাবনা চিন্তার মধ্যে দিয়ে যেতে হবে। যুক্তরাষ্ট্রে এসে তাবলীগের জামাতে গিয়ে যারা খ্রীষ্টান থেকে মুসলমান হয়েছে এরকম মানুষের সাথে কথাবার্তা বলেও বুঝতে পারলাম তারা অনেকদিন চিন্তাভাবনা করেই মুসলমান হয়েছেন। বাংলাদেশের মত দেশে যেখানে ব্যক্তিস্বাধীনতা নেই সেখানে এটা আরো অনেক জটিল বিষয়। তাই কোন হিন্দু মুসলিম হওয়ার আগে তাকে অনেক ভাবতে হবে। তার ডিসিশানের পরিণতি কি সেটা চিন্তা করতে হয়। তার পরিবারের কথা ভাবতে হয়। সমাজের কথা ভাবতে হয়। সাইদীর ওয়াজে যেটা থাকে সেখানে কোনমতেই কোন হিন্দু ওয়াজ শুনার জন্য যাবেনা। তার ওয়াজে সাম্প্রদায়িক উস্কানি থাকে। এম্নি্তেই হিন্দুরা জামাতিদেরকে প্রচন্ড ভয় পাই। একাত্তরে এবং পরবর্তীতে বিভিন্ন সময় হিন্দুদের উপর জামাতিরা যা অত্যাচার করেছে তাতে জামাতিদেরকে তারা চরম ঘৃণা না করে উপায় নেই। তাছাড়া সাইদীর ওয়াজে ইসলাম নিয়ে আলোচনার চেয়ে রাজনৈতিক প্রপাগান্ডাই বেশি। আর কোন হিন্দু মুসলমান হওয়ার নিয়ত করলেও সারা বছর বসে থেকে শুধুমাত্র সাইদীর ওয়াজে গিয়ে মুসলমান হয়ে আসবে এটা পাগলেও ব