গ্রামীণফোন সারা দেশে "গ্রামীণফোন কমিউনিটি ইনফরমশেন সেন্টার" সংক্ষেপে জিপি সিআইসি নামে গ্রামীণ জন সাধারণের উদ্দেশ্যে তাদের ইন্টারনেট ভিত্তিক তথ্য সেবা চালু করে ২০০৬ সালের মাঝামাঝি সময়ে।
স্থানীয় উদ্যোক্তাদের মাধ্যমে প্রতিটি সিআইসি-তে কমপক্ষে ১টি কম্পিউটার, প্রিন্টার, স্ক্যানার ইত্যাদির সমন্বয়ে একটি স্বতন্ত্র দোকান ঘর (সেটি উন্মুক্ত বাজার, বা জন সমাগম হয় এমন স্থানে) বসায়। এর সাথে জিপি হতে ১টি বিজনেস সলিউশন সীমের সাথে একটি এজ মোডেম দেয় যার দাম ধরা হয় নগদে ১৩,০০০ টাকা। কোম্পানী দোকানের সাইন বোর্ড, ব্যানার, পোষ্টার ইত্যাদি দেয় যাতে করে কোম্পানীর লোগো ব্যবহার করা আছে। প্রথম কয়েক মাস উদ্যোক্তাদের জন্য পরীক্ষামূলক ইন্টারনেট ফি ধরা হয়নি। তারপর হতে প্রতি মাসে ৮৫০ টাকা + ১৫% ভ্যাটসহ মোট বিল প্রতিমাসে ৯৭৭.৫০ টাকা। এছাড়া প্রতিটি উদ্যোক্তাকে বিদ্যুৎ বিল, ঘর ভাড়া ইত্যাদি নিজেকেই বহন করতে হয়। প্রতি মাসে দেখা যায় কমপক্ষে ২০০০ টাকা খরচ হয়।
উদ্যোগটি নি:সন্দেহে ভাল এবং যুগান্তকারী তা বলার অপেক্ষা রাখে না। কিন্তু দীর্ঘ সময় চলে যাবার পর দেখা গেল উক্ত উদ্যোগটি মাঠে মারা যাবার মতোই অবস্থা। এর বিভিন্ন কারণ রয়েছে। হাতে গোনা মাত্র কয়েকটি সিআইসি তাদের ব্যবসা সম্প্রসারিত করে লাভের মুখ দেখেছে। বাকীদের অবস্থা খুবই নাজুক।
প্রথমত: গ্রামীণ জনগোষ্ঠী ইন্টারনেট সম্পর্কে সচেতন নয়। এখানে পর্যাপ্ত সেবা গ্রহণের জন্য গ্রাহক পাওয়া যায় না। মাসে দু'চারজন গ্রাহক এখানে আসে। তাদের নিকট থেকে যে সেবা মূল্য নেয়া হয় তাতে করে একজন উদ্যোক্তা কোনক্রমেই লাভবান হতে পারবে না।
দ্বিতীয়ত: নেটের স্প্রীড ক্ষেত্র বিশেষে খুবই কম। একজন ব্যক্তি যদি ব্রাউজিং করতে আসে তাকে দীর্ঘ সময় অপেক্ষ করতে হতে পারে, ইন্টারনেটের মাধ্যমে ভিডিও কনফারেন্সিং করতে গেলে দূর্বল গতির কারণে ওয়েব ক্যামের ছবি থেমে থাকে। কলের শব্দ শোনা যায় না ইত্যাদি সমস্যা। এতে গ্রাহক আগ্রহী হয় না।
তৃতীয়ত: উদ্যোক্তাদের দীর্ঘদিনের দাবি ছিল মাসিক ইন্টারনেট বিল কমানোর। জিপি কর্তৃপক্ষ তা কোন দিনও আমলে নেয় নি। জিপি পি-২,পি-৩, পি-৪ নামে গ্রাহকদের আনলিমিটেড ইন্টারনেট ব্যবহারের সুযোগ দিচ্ছে একই ট্যারিফের মাধ্যমে। এতে করে একই স্থানে অন্যরা সমান সুযোগ দিচ্ছে একই মূল্যে। এতে করে সিআইসি-র উদ্যোক্তারা তীব্র প্রতিযোগীতার সম্মুখীন হচ্ছেন।
চতুর্থত: অন্য ফোন কোম্পানী একই স্থানে আরও কম বিলে ইন্টারনেট সেবা দিচ্ছে। এতে করে অনেক উদ্যোক্তা বর্তমান সংযোগ বন্ধ রেখে অন্য কোম্পানীর লাইন ইউজ করছে। শুরুতে জিপিসিআইসি-র সংখ্যা একটা পর্যায়ে প্রায় ৬০০তে উত্তীর্ণ হয়েছিল, বর্তমানে ৫০০ এর নীচে নেমে এসেছে।
চলবে.........
সর্বশেষ এডিট : ২৯ শে অক্টোবর, ২০০৮ সন্ধ্যা ৬:৫৫

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



