অনেক দিন আগের কথা। সম্ভবত ১৯৯৭ সালের কোন একদিন চৈত্র মাসে ভাতিজাকে আই স্পেশাল ডাক্তার দেখানোর জন্য তাকে নিয়ে যশোর যেতে হয়েছিল। ডাক্তার পাওয়া না যাওয়ায় ফিরে আসতে হলো। যাওয়ার সময় বাসে করে গিয়েছিলাম। ফেরার পথে রাত হয়ে যাবে ফিরতে পারব না, বাধ্য হয়েই ট্রেনে ফিরব বলে সিদ্ধান্ত নিলাম।
রাত দশটায় দিনাজপুর গামী মেইল ট্রেন সীমান্ত নামক ট্রেনের টিকিট কাটলাম। ট্রেন আসতে ১ ঘন্টা দেরী হবে বলে ঘোষণা দেয়া হলো। তখন রাত প্রায় সাড়ে নয়টা বাজে। ভাতিজাকে বসিয়ে রেখে আমি গেলাম একটু এদিক ওদিক ঘোরা ফেরা করার জন্য। যশোর ষ্টেশনে দাড়িয়ে রাতের বেলা দিক বিভ্রম হলো। কোনটা পূর্ব-পশ্চিম বুঝতে পারলাম না। মনে পড়ে যতদুর সম্ভব পুব দিকে হাটা ধরলাম। এলোমেলো হাটতে হাটতে প্লাটফর্মের বাইরে রেল লাইন বরাবর আধা আলো অন্ধকারে একটু দাড়ালাম। একটা ছায়া মূর্তি আমার কাছে এসে দাড়াল। আমি খেয়াল করিনি। ছায়া মূর্তি কথা বলে উঠল, বসবেন স্যার?
আমি জিজ্ঞাসা করলাম কে? কে আপনি?
মহিলা কণ্ঠে বলে উঠল স্যার একটু বসলে আসনে আমার ডেরায়?
বোকার মতো আমি জিজ্ঞাসা করলাম, কেন আপনার ওখানে বসতে যাব, আমি তো ট্রেনের যাত্রী, ট্রেন এলেই চলে যাব।
মেয়েটি সম্ভবত আমার সরল কথায় উৎফুল্ল হলো, বলল কেন বসবেন একটু এদিকে আসেন দেখায়া দিই।
আমি তো তার কথায় হতভম্ব! আমার বুঝতে আর বাকী রইল না, মহিলাটি কি বলতে চাইছে। আমার পূর্ব কোন অভিজ্ঞতা না থাকায় আমি মহিলার প্রথম আহবান বুঝতে পারি নি।
তাড়াতাড়ি সেখান থেকে সরে আসতে পা বাড়ালাম। পিছন হতে মহিলাটি বলছে স্যারের সাহস নাই, কাপুরুষ। আমি কোন কথা না শুনে সামনে এগুলাম।
প্লাটফর্মের আলোতে এসে দেখি আমার সারা শরীর ঘামে ভিজে গেছে। বুক ধরফর করছে। কেন করছে জানেন?? আমি তখন অনার্স দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র। নিষিদ্ধ জগত সম্পর্কে কিছুই জানতাম না।
চলবে....

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



