এজেন্ডাবিহীন এবং পূর্ব নির্ধারিত বৈঠকে বিডিআর মহাপরিচালক ও বিএসএফ মহাপরিচালকের মধ্যে যে আলোচনা হয়েছে তাতে যা জানা গেছে তাহলো বিডিআর পুর্নগঠনে ভারত সহায়তা দিবে। কারো কোন সহায়তা পেতে হলে তার প্রতি নতজানু থাকতে হয়। সে কাজটিই করেছেন সরকার তথা বিডিআর মহাপরিচালক। তিনি দিল্লি গিয়ে বিএসএফকে ধন্যবাদ দিয়েছেন, বাংলাদেশ রাইফেলসএর এই ক্রান্তিলগ্নে তারা বড় ধরণের কোন কিছু না করার জন্য।
এটা দেখে জেনে বুঝে আমাদের মনে হয়। হায়রে অভাগা জাতি। আমরা কত অসহায়! আমরা মেরুদন্ডহীন এক প্রাণীতে পরিনত হয়েছি অথবা হতে যাচ্ছি।
স্মরণ করা যেতে পারে, আমরা কোন বিএসএফকে ধন্যবাদ দিতে গেলাম? যারা রৌমারী-পাদুয়া, বড়াইবাড়িতে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে ঢুকে নির্বিচারে বিডিআর-এর উপর গুলি চালিয়েছিল, তাদেরকে? নাকি দেশের বিভিন্ন সীমান্তে সাধারণ বাংলাদেশীদের যারা পাখির মতো গুলি করে মারে প্রতিনিয়ত হাতের নিশানা ঠিক করার জন্য তাদের?
আমরা ছোট দেশ হিসেবে যতই নিজেরা প্রতিবেশীর সাথে বন্ধুত্বপূর্ণ আচরণ করি এবং তাদের নিকট থেকেও অনুরূপ আশা করি সেটা যে ঠিক নয় অতীত আমাদের তাই মনে করিয়ে দেয়।
আমরা মনে করি, বিডিআর গঠন করা উচিত দেশীয় বিশেষজ্ঞদের মতামতের ভিত্তিতে, যাদের দিকে আমাদের বন্দুক তাক করা থাকবে তাদের নিকট থেকে পরামর্শ নেয়া বা তাদের সহায়তা নেয়া হবে গারার হাতে মুরগী বর্গা দেয়ার মতোই ঘটনা।
সমস্যা হলো আমাদের দেশের তথাকথিত বুদ্ধিজীবি ও ইদানিংকালের মিডিয়া গুলো একপেশে বিবৃতি ও সংবাদ তথ্য দিয়ে প্রমাণ করতে চাইছে যে, আমরা একমাত্র ভারতের অনুকম্পা ছাড়া দেশ টিকিয়েই রাখতে পারবো না।
আমার কাছে ভারত পাকিস্তান কেউ আমাদের মিত্র নয়। অতীতে দেখা গেছে ভারত আমাদের মুক্তিযুদ্ধে সহায়তা করলেও তারা আমাদের পরবর্তীতে শোষণই করেছে, বাণিজ্য, সীমান্ত, পানিচুক্তি ইত্যাদিতে। অন্যদিকে পাকিস্থান কখনই আমাদের বন্ধু রাষ্ট্র হতে পারে না। সীমান্ত কাছাকাছি থাকার কারণে পাকিস্থানের চেয়ে ভারতই আমাদের জন্য বড় হুমকি হতে পারে।
বর্তমান সরকারের নতজানু অবস্থা দেখে আমরা শংকিত।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

