আমাদের দেশে বঞ্চনার ইতিহাস অনেক পুরোনো। তাই এই পুঞ্জিভুত ক্ষোভও কম নয়।
গত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় পুলিশ বাহিনীর সুযোগ সুবিধা বৃদ্ধির কথা উঠেছিল। সেই বিষয় নিয়া বর্তমান আইজি সাহেব অনেক ট্রাই মাইরা শেষ পর্যন্ত সরকারের বিপক্ষে কথা বললেন। তারপরও কোন লাভ হয় নাই।
আনসার বিদ্রোহ হইল একবার। কিন্তু এখনও আনসারদের কোন উন্নতি হয় নাই। তাদের হাড্ডিসার স্বাস্থ্য মনে করায়া দেয় তারা আসলে বঞ্চনার শিকার।
গার্মেন্টস শ্রমিকরা এই দেশের সবচেয়ে বেশি বৈদেশিক মুদ্রা আইনা দেয়। তারা দিন রাত কাজ করে। ১৮/২০ ঘন্টা কাজ করলেও তাদের বেতন ভাতা ঠিক মতো পায় না। তাদের কথা শোনার কেউ নাই। মাঝে মাঝে তারা রাস্তায় নামে। গাড়ি ভাঙ্চুর করে। আমরা ভদ্রলোকেরা ঘৃণায় নাক সিটকাই।
ঢাকা শহরের যে কোন রাস্তায় বাইর হোন, যানজটে পড়বেন। গরমে সিদ্ধ হওয়া ছাড়া কাউরে এই কথা বলার নাই। আমরা ঘণ্টার পর ঘণ্টা যানজটে পইড়া থাকাটারে স্বাভাবিক বইলা ধইরা নিছি।
লোডশেডিং বাড়তে বাড়তে এখন বিদু্যৎ যায় না আসে তা নিয়া পত্রিকাগুলি রসিকতা মারে। বিদু্যৎ বিভাগের অভিযোগ করার একটি জায়গা আছে। ওই খানে ফোন মারলে বলে, বলতে পারব না।
দ্রব্যমূল্য সারা দুনিয়ায় কমলেও আমাদেরটা কমে না। কোন কারণ ছাড়াই বাড়তে থাকে। বিডিআর আর্মি মরল দাম বাড়ল চাউল আটা। বিডিআর আর্মি কি চাউল আটার ব্যবসা করে ?
কোন তরুণ একটা ব্যবসা করতে চায়। গেল কোন সরকারী অফিসে। ঘুষ দিতে দিতে ব্যবসা করার আশা মিট্যা যায়। ৩৮ জায়গায় ঘুষ না দিয়া কোন ইন্ডাস্ট্রি স্থাপন করা যায় না এই দেশে।
কত ঘুষ দিতে হইব সেই খোঁজ নেয়ার পরই সরকারী চাকুরি পাওয়ার সম্ভাবনা আচ করা যায়। ঘুষ না দিয়া চাকুরি যে পাইতে চায় সে এক রামগাধা।
কোন এক বোকারাম ইনকাম ট্যাক্স দিতে গেছিল। ইনকামওয়ালা তার ইনকামের এমন হিসাব দেখাইছে উনি পালায়া বাইচা গেছেন। ইনকাম টেক্স না দিয়া ব্যবসা করা ছাড়া তার কোন উপায় নাই।
বঞ্চনার এই রকম হাজার হাজার উদাহরণ দেয়া যাবে। তালিকা বড় হবে কেবল। বৃটিশ ও পাকিস্তানের প্রেতাত্মা বসে আছে সব প্রশাসনে। বৃটিশ ও পাকিস্তানী শোষণ করার সহযোগী আইন তাদের হাতে। জনগণ তাদের প্রজা বা ভৃত্য। সেই প্রভুদের মনোরঞ্জন করা ছাড়া জনগণের কোন উপায় নাই।
সরকার আসে, সরকার যায়। কখনও রাজনৈতিক সরকার, কখনও উর্দিওয়ালাদের সরকার। সংবিধান ছিড়ে কুটি কুটি করে ফেলে দেয়। কিন্তু শোষণের আইন বদলায় না। বদলায় না বঞ্চনার ইতিহাস।
আজ সাধারণ মানুষ কোথায় যাবে ? তাদের হাতে বন্দুক নাই। তাদের কথা শোনার কেউ নাই। তারা আজ বড় অসহায়। লোডশেডিং, যানজট, ভাঙ্গা রাস্তাঘাট, ঘুষ দুর্নীতি, চাঁদাবাজি, ছিনতাই ইত্যাদির শিকার হতে হতে জনগণ হতাশার শেষ সীমানায়।
বর্তমান সরকার দিন বদলের কথা বলে ক্ষমতায় এসেছে। দিন বদল হয়েছে। দখল চলছে। যে যেখানে পারছে দখল করছে। ছাত্রলীগ, শ্রমিক লীগ, যুব লীগ, লীগের পর লীগ। কিন্তু জনগণের ভাগ্য বদলানোর কোন কথা নাই।
যাদের হাতে বন্দুক ছিল, তারা তাদের দাবি জানাইছে। আমাদের হাতে তো বন্দুক নাই। আমরা কী করমু ? আমাদের পুঞ্জিভুত ক্ষোভ জানানোর কোন জায়গাও নাই।
সর্বশেষ এডিট : ২৮ শে ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ দুপুর ১:৪৫

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



