somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বিডিআর সদর দপ্তর, সেনানিবাস এবং কেন্দ্রীয় কারাগার : সরিয়ে নাও

০২ রা এপ্রিল, ২০০৯ ভোর ৫:৪৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

গতকাল ১ এপ্রিল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতীয় সংসদে বিরোধী দলীয় সভানেত্রী খালেদা জিয়াকে উদ্দেশ্য করে বলেছেন, ক্যান্টনমেন্টের বাড়িটি সেনাবাহিনীকে ছেড়ে দেওয়ার জন্য। এটা নাকি ক্যান্টনমেন্ট বোর্ড আইনের পরিপন্থী। আর তিনি বা তার সরকার ওখানে বিডিআর বিদ্রোহে নিহত সেনা কর্মকর্তাদের পুনর্বাসন করবেন। তিনি আরো বলেছেন, বিরোধী দলীয় নেত্রী থাকা অবস্থায় তাকে নাকি ক্যান্টনমেন্টে প্রবেশ করতে দেয়া হয়নি। তার বিরুদ্ধ মামলা পর্যন্ত করা হয়েছিল। ফলে এখন তার প্রশ্ন, বর্তমান বিরোধী দলীয় নেত্রী, একজন রাজনীতিবিদ, কি করে ক্যান্টনমেন্টের ভেতরে বসবাস করবেন? সেটা কি আইনের লঙ্ঘন নয়? এ আলোচনা চলার সময় খালেদা জিয়া সংসদে উপস্থিত ছিলেন না।
রাতের বিবিসির সংবাদে শুনতে পেলাম, বিএনপির মহাসচিব খন্দকার দেলোয়ার বলেছেন, খালেদা জিয়ার ক্যান্টনমেন্টে থাকা যদি বেআইনি হয় তাহলে সরকার বিচারালয় গেলেই পারেন, এ কথা সংসদে তোলা উদ্দেশ্যমূলক। তিনি আরো বলেছেন, বিডিআর বিদ্রোহে নিহত সেনা কর্মকর্তাদের পরিবারগুলোকে পুনর্বাসনের জন্য দেশে আরো অনেক জায়গা আছে। দেশে কি জায়গার অভাব পড়েছে?
আমরা নিশ্চিত থাকতে পারি, এ নিয়ে এখন বেশ ভালই বাহাস চলবে। আইন, ইতিহাস ইত্যাদি নানা প্রসঙ্গ প্রাসঙ্গিক-অপ্রাসঙ্গিকভাবে ভুল-শুদ্ধভাবে ওঠে আসবে দুই দলের কথায়।
কিন্তু আমরা যারা জনসাধারণ, আমাদের কিছু কথা এখন তোলা দরকার।
(এক). বিডিআর হেডকোয়ার্টার ঢাকা শহরে কেন? বিডিআরের কাজ সীমান্তে। সেই সীমান্তরক্ষী বাহিনীর সদর দপ্তর ঢাকা শহরের বুকের ওপর চাপিয়ে বসিয়ে রাখার অর্থ কি? মাত্র কদিন আগে যে বিডিআর বিদ্রোহ হয়ে গেল এতে কয়েকজন সেনাঅফিসার মারা গেছে। এ নিয়ে অনেক শোক, প্রায় কারবালার মাতম হয়েছে। কিন্তু ওই ঘটনায় তিনজন সাধারণ মানুষও মারা গেছে। এ সংখ্যা আরো বাড়তে পারত। সেনাবাহিনী আর বিডিআর জওয়ানরা যদি মুখোমুখী যুদ্ধে লিপ্ত হত, তাহলে মৃত্যুর সংখ্যা কোথায় গিয়ে দাঁড়াত বলা কঠিন। পিলখানার ভিতরে একটি স্কুলে সে সময় এসএসসি পরীক্ষা চলছিল। পরিস্থিতর অবনতি ঘটলে ওই ছোট ছেলেমেয়েদর কি ঘটত? চার-পাঁচ দিন ধরে আশেপাশের অধিবাসীদের যে আতঙ্ক আর নিরাপত্তাহনীতায় দিন কাটাতে হয়েছে তা শুধু নিরাপত্তাহীনা-অনিশ্চয়তাতেই সীমাবদ্ধ না-ও তো থাকতে পারত! অদূর ভবিষ্যতে এ ধরনের আর কোনো ঘটনা না ঘটুক এটাই আমরা চাই। কিন্তু বাংলাদেশ সব সম্ভবের দেশ। ফলে পিলখানার আশেপাশের অধিবাসীসহ ঢাকা শহরের এক বিরাট অংশের মানুষের জীবন. সম্পদ বিপর্যয়ের মুখে পড়তে পারে। এছাড়া ঢাকা শহরের বর্তমান দশা সম্পর্কে কিছু না বলে শুধু এটুকু বলাই যথেষ্ট যে দিন দিন এ শহর আর বাসযোগ্য থাকছে না। এর নিঃশ্বাস বন্ধ হয়ে আসছে। শহরকে একটু হাঁফ ছাড়ার জায়গা দেয়া দরকার। মূলত এ তিনটি কারণে আমরা বিডিআর হেডকোয়ার্টার বা পিলখানা ঢাকা শহর থেকে সরিয়ে নেয়ার দাবি করতে পারি। ক্যান্টনমেন্টের ভেতরে যেমন রাজনীতিকের বসবাস করা ঠিক নয়. তেমনি সাধারণ নাগরিকদের বুকের ওপর সীমান্ত পাহারাদানকারী অস্ত্রধারীদেরও বসে থাকা আইনগতভাবে না হলেও নৈতিক ও সামগ্রিক প্রয়োজনবোধ কোনোদিক থেকেই ঠিক নয়। পিলখানা সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হোক, দেশে জায়গার অভাব তো নেই।
(দুই). সেনানিবাস সম্পর্কেও একই কথা খাটে। ঢাকা শহরের ভেতরে ক্যান্টনমেন্ট থাকার অর্থ কি? পৃথিবরী কোন দেশের রাজধানী শহরের বুকের ওপর ক্যান্টনমেন্ট আছে? সেনাবাহিনী কি রাজধানীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করে? না ঢাকা শহরের এমন পর্যাপ্ত জায়গা আছে যে এখানে ক্যান্টনমেন্ট থাকলে নাগরিকদের কোনো অসুবিধা হয় না?
এর সাথে আরেকটু বলা দরকার। মাত্র একবার বিডিআর জওয়ানরা বিদ্রোহ করেছে, ৫৭ জন আর্মি অফিসার মারা গেছে। এর আগে সেনাবাহিনীর অভ্যন্তরে কতবার বিদ্রোহ, ক্যু-পাল্টা ক্যু হয়েছে? তাতে কতজন মারা গেছে? দুই জন রাষ্ট্রপতি খুনের দায় কাদের ঘাড়ে? বিচারের নামে কতজনকে খুন করা হয়েছে? যাক, আমার কথা হল, ওনাদের ভেতরে আর বিদ্রোহ-ক্যু ঘটবে না তা কি হলফ করে বলা যায়? আর কোনো রাষ্ট্রপতি বা রাজনীতিবিদ যে বন্দুক-কামানের খোরাকি হবেন না তারই নিশ্চয়তা কি? মাত্র একবার বিডিআর জওয়ানরা বিদ্রোহ করেছে, ৫৭ জন আর্মি অফিসার মারা গেছে। এর আগে সেনাবাহিনী
অভ্যন্তরে কতবার বিদ্রোহ, ক্যু-পাল্টা ক্যু হয়েছে? তাতে কতজন মারা গেছে? দুই জন রাষ্ট্রপতি খুনের দায় কাদের ঘাড়ে? বিচারের নামে কতজনকে খুন করা হয়েছে? সাধারণ মানুষই কি ওনাদের কাছ থেকে নিরাপত্তা পাবে? অপরাশেন ক্লিনহার্ট (সম্ভবত ২০০২ সালে) চালানোর সময় শুধু আর্মির বুট আর বেয়নেটের আঘাতে ৫৮ জন মানুষ মারা গিয়েছিল।
যাক, আমার কথা হল, ঢাকা শহরের এমন সুযোগ আজ আর নেই যে এখানে পিলখানা বা ক্যান্টনমেন্ট থাকতে পারে। হতবাক হয়ে যাই যখন দেখি নৌবাহিনীর সদর দপ্তরও কোনো নদীর পাড়ে না হয়ে ঢাকা শহরে রাখা হয়।
অনেক আগে শুনেছিলাম ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার নাকি ঢাকা শহর থেকে সরিয়ে নেওয়া হবে। কিন্তু ইদানিং আর সে কথাটা শোনা যাচ্ছে না।
হাসিনা-খালেদা এবং তাদের অনুসারীরা ক্যান্টনমেন্টে রাজনীতিবিদের থাকা ঠিক না বেঠিক, খালেদার থাকা উচিত না উচিত নয়, এসব নিয়ে বাহাস করতে থাকুন। আমরা যেন তাতে ফেঁসে না যাই। আমাদের দাবি আমাদেরই তোলা উচিত। ঢাকা শহর থেকে পিলখানা, ক্যান্টনমেন্ট, কারাগার সরাও।
১৬টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

মন কথনিকা-৪৮৭৩-৭৪

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৯

মন কথনিকা-৪৮৭৩
তোমার আমার মতামতে আকাশ পাতাল সীমা
আমার বুলি বরফ জলের তোমার যেন বোমা,
তুমি বলো রোদের তেজে আমি বর্ষার মতন
বুকের ভিতর বন্ধু বুঝি পাথর পুষো যতন।

মন কথনিকা-৪৮৭৪
পিঠে ব্যথা ভাল্লাগে না, মন... ...বাকিটুকু পড়ুন

শিক্ষা খাতে শুরু হয়েছে তারেক রহমান ম্যাজিক

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১১:২৯


রাজনীতির মাঠে ক্ষমতার হাতবদল যেমনই হোক না কেন, সাধারণ মানুষের আসল নজর থাকে জীবনের মৌলিক জায়গাগুলোতে। আর একটি দেশের ভবিষ্যৎ বদলে দেওয়ার সবচেয়ে বড় হাতিয়ার হলো শিক্ষা ব্যবস্থা।... ...বাকিটুকু পড়ুন

পাহাড়ে চড়া আর মাউন্টেনিয়ারিং: এক নয়

লিখেছেন মুনতাসির, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৮




আজকাল পাহাড়ে ওঠা অনেক সহজ হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায় প্রতিদিনই দেখা যায় কেউ না কেউ কোনো পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন। ট্রেইল ধরে হেঁটে, কখনো দড়ি ধরে, কখনো গাইডের সাহায্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের গ্রামের গল্প!

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৩



আমাগো গ্রাম আপনারা সবাই চিনেন।
মুন্সিগঞ্জ, বিক্রমপুর। শ্রীনগর থানা। খুবই প্রাচীন অঞ্চল। অবশ্য এখন গ্রাম বদলে গেছে! ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল হয়েছে, বিউটি পার্লার, কমিউনিটি সেন্টার, শপিংমল, ফাস্টফুডের দোকান হয়েছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

×