somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

শ্রমিকদের দাবি জানানোর গণতান্ত্রিক রাস্তা করে দিতে হবে

১২ ই জুলাই, ২০০৯ রাত ২:৩৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

শ্রমিকদের দাবি জানানোর গণতান্ত্রিক রাস্তা করে দিতে হবে

আশুলিয়ায় শ্রমিক বিক্ষোভ এবং বাংলাভিশন টকশোতে উত্তেজিত গার্মেন্টস মালিকদের নেতা সালাম মুর্শেদিX((

আজ রাতে বাংলাভিশনে মুখোমুখি বলে একটি টকশোতে (প্রচার করা হয় রাত ১১.১৫ তে) গার্মেন্টস মালিকদের নেতা, বিজিএমই-এর সভাপতি সালাম মুর্শেদী সাহেব অত্যন্ত উত্তেজিত হয়ে উঠেছিলেন। তার উত্তেজনার কারণ, গার্মেন্টস শ্রমিকদের ট্রেড ইউনিয়ন করার অধিকার দাবি। টকশোশোতে উপস্থিত আরেক আলোচক, রাজেকুজ্জামান রতন, যিনি সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্টের সাধারণ সম্পাদক, তিনি এ দাবি বেশ জোরালোভাবে তুলেছিলেন। সালাম মুর্শেদী সাহেব তাই রাগে অগ্নিশর্মা।X(
তার ভাষ্য, ট্রেড ইউনিয়ন অধিকার থাকাতে দেশের শিল্প-কলকারখানাতে আজ এই দুর্দশা।

এ নিয়ে আরেকদিন বিস্তারিত আলাপ করা যাবে। আপাতত গার্মেন্টস সেক্টরে সম্প্রতি ঘটে যাওয়া আশুলিয়া বিক্ষোভ নিয়ে দু'চার কথা তোলা যাক।

গত জুন মাসের শেষ ক’টি দিন প্রবল শ্রমিক বিক্ষোভে উত্তাল ছিল সাভারের আশুলিয়া অঞ্চল। তিনজন শ্রমিকের মৃত্যু এবং একটি বৃহৎ গার্মেন্টস প্রতিষ্ঠান আগুনে পুড়িয়ে দেওয়াসহ অসংখ্য শ্রমিক হতাহত হওয়ার মধ্য দিয়ে শ্রমিক বিক্ষোভের আপাত অবসান হয়েছে বলে মনে হচ্ছে।
এ ঘটনার পর থেকে বিভিন্ন মহল থেকে পরস্পরবিরোধী নানা বক্তব্য আসছে। এর একটি হচ্ছে, সমস্ত ঘটনার দায়ভার শ্রমিকদের কাঁধে চাপানোর চিরাচরিত কায়দা। অন্যটি হল, বহুল উচ্চারিত ‘গভীর ষড়যন্ত্র’-তত্ত্ব, যার মূল কথা হল বাংলাদেশের গার্মেন্টস শিল্পকে ধ্বংস করার জন্য শ্রমিক বিক্ষোভের পেছনে বিদেশী শক্তির (এনজিওর মাধ্যমে) ইন্ধন। আর তৃতীয় প্রধান যে বক্তব্যটি উঠে এসেছে, তা হল, শ্রমিক বিক্ষোভের পেছনে আছে মূলত বহুদিনের জমা হওয়া ক্ষোভ-বিক্ষোভ; তবে শ্রমিকদের এ বিক্ষোভের সুযোগ নিয়ে ঝুট ব্যবসায়ী বলে খ্যাত একদল সন্ত্রাসী ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটিয়েছে। এবং এ ঝুট সন্ত্রাসীরা প্রায় সকলেই সরকারি দলের আশ্রয়-প্রশ্রয় প্রাপ্ত।
গত কয়েক বছর ধরে যতবারই শ্রমিক বিক্ষোভের ঘটনা ঘটেছে, প্রতিবারই ভাঙচুর-লুটপাট এবং নৈরাজ্য সৃষ্টির সঙ্গে এ তথাকথিত ঝুট ব্যবসায়ীদের সংশ্লিষ্টতা থাকলেও এবারই প্রথম বিষয়টি স্পষ্টভাবে উঠে এসেছে। শ্রমিক সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকে বার বার এই তথাকথিত ঝুট ব্যবসায়ী সন্ত্রাসীদের সংশ্লিষ্টতার কথা বলা হলেও সরকার বা গার্মেন্টস মালিক পক্ষ, সালাম মুর্শেদী বা আনিসুল হক সাহেবরা, কেউ-ই বিগত দিনে তা মানতে রাজি হননি।

২৭ জুন আশুলিয়ার জামগড় এলাকায় ফ্যান্টাসি কিংডম সংলগ্ন এস সূহী সোয়েটার ফ্যাক্টরিতে শ্রমিক ছাঁটাইকে কেন্দ্র করে বিক্ষোভ শুরু হয়। ওই বিক্ষোভ দমাতে কারখানা প্রশাসনের নির্দেশে আনসাররা গুলি চালালে আল আমিন নামের ২৭ বৎসর বয়স্ক একজন শ্রমিকের মৃত্যু ঘটে। গুলিবিদ্ধ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন রনি (২৯), নসরুল (২৫) এবং বিলকিস (২৩) নামের তিন শ্রমিক যাদের মধ্যে রনির অবস্থা আশঙ্কাজনক।
শ্রমিকের মৃত্যুর বিচার এবং দোষীদের শাস্তি দাবি করে পরদিন এস সূহী সোয়েটারসহ আশেপাশের শ্রমিকরা রাস্তায় নেমে আসে। তাদের দমন করতে পুলিশ লাঠিচার্জের পাশাপাশি রাবার বুলেট ও কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করে। এদিনও (২৮ জুন) পুলিশের গুলিতে আকতার হোসেন (২৩) নামের আরেকজন শ্রমিকের মৃত্যু ঘটে। এ মৃত্যু, বলাই বাহুল্য, শ্রমিক বিক্ষোভকে আরো তীব্র করে তুলেছিল। সারাদিন ধরে চলা শ্রমিক-পুলিশ সংঘর্ষে বুলেটবিদ্ধ হয়ে তিনজন শ্রমিক গুরুতর আহত হয়। এছাড়া আহত হয়েছে কমপক্ষে দুইশত শ্রমিক। এদিন শ্রমিকদের দমন করতে পুলিশের সাথে স্থানীয় যুবলীগের নেতা-কর্মীরা যোগ দেয় বলে বিভিন্ন পত্রিকা তাদের খবরে উল্লেখ করেছে।/:)

ঘটনার তৃতীয় দিন ২৯ জুন শ্রমিক বিক্ষোভ আরো ব্যাপক আকার ধারণ করে এবং আশেপাশের এলাকায় ছড়িয়ে যায়। এদিন গার্মেন্টস শ্রমিক সংগ্রাম পরিষদসহ বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ আশুলিয়ায় আন্দোলনরত শ্রমিকদের সাথে সংহতি জানাতে এবং শ্রমিক হত্যার বিচারের দাবিতে সমাবেশ করতে ওই অঞ্চলে যান। সংবাদপত্রের ভাষ্য অনুযায়ী, শ্রমিক বিক্ষোভ প্রশমিত করতে বিজিএমইএ-র নেতৃবৃন্দও শ্রমিক নেতাদের সহযোগিতা কামনা করেছিলেন। যখন তাদের নেতৃত্বে সমাবেশ চলছিল ঠিক সে সময় নরসিংহপুরে অবস্থিত হা-মীম গ্রুপের একটি সোয়েটার কারখানা একদল বহিরাগত সন্ত্রাসী আগুন লাগিয়ে পুড়িয়ে দেয়। পুলিশ এ ঘটনার দায়ভার শ্রমিক নেতৃবৃন্দের ঘাড়ে চাপিয়ে দিয়ে তাদের নামে মামলা করেছে। অন্যদিকে ঘটনার পর হা-মীম গ্রুপ কর্তৃপক্ষের বয়ান এবং গত কয়েকদিন ধরে বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় প্রকাশিত তথ্য থেকে দেখা যাচ্ছে এ ঘটনার সাথে শ্রমিক বা শ্রমিক নেতৃবৃন্দের দূরতমও কোনো সম্পর্ক নেই। হা-মীম গ্রুপ কর্তৃপক্ষ অগ্নিকাণ্ডের সময় পুলিশের নিষ্ক্রিয়তা এবং ফায়ারব্রিগেড কর্তৃপক্ষের অসহযোগিতার কথাও বেশ জোর দিয়ে বলেছেন, যদিও কয়েকটি পত্র-পত্রিকা এবং কিছু মহল শুরু থেকেই শ্রমিকদের দিকে আঙুল তুলে রেখেছিল।
আশুলিয়ার শ্রমিক বিক্ষোভের সূত্রপাত যেখানে, ঘটনার কার্যকারণ বুঝতে হলে, সেখানে দৃষ্টি ফেলাটা খুব জরুরি। একজন সরকার দলীয় মহিলা এমপির স্বামীর মালিকানাধীন কারখানা থেকে ঘটনার শুরু (আমরা ফুটনোট দিয়ে বলতে পারি : গার্মেন্টস মালিক স্বামীর সুবাদেই সম্ভবত ওই ভদ্রমহিলা এমপি হয়েছেন!)। ওখানে শ্রমিকরা তাদের মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে আন্দোলন করছিল। আন্দোলন করা মানে মালিকদের চোখে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করা, শ্রমিকদের উত্তেজিত করা, উসকানি দেওয়া। (সালাম মুর্শদী সাহেবরাও তাই মনে করেন)। আর তাই সে অপরাধে ১৫-২০ জন শ্রমিককে ছাঁটাই করা হল। বিক্ষুদ্ধ শ্রমিকদের শায়েস্তা করতে আনসার গুলি চালালো, একজন শ্রমিকের মৃত্যু ঘটল। এ ঘটনায় কি মালিক বা প্রশাসনের তরফ থেকে বিন্দুমাত্র গণতান্ত্রিক আচরণের ছাপ পাওয়া যায়?

শ্রমিক বিক্ষোভের কারণ অনুসন্ধান করতে গিয়ে দৈনিক ইত্তেফাক ৩০ জুন ’০৯ একটি প্রতিবেদনে বলছে, “ওয়ান ইলেভেনের পর জরুরি অবস্থার সুযোগ নিয়ে অনেক কারখানা মালিক শ্রমিকদের ন্যায্য পাওনা থেকে বঞ্চিত করেছেন। অনেক কারখানায় ন্যূনতম মজুরি বাস্তবায়ন করা হয়নি।” ওই প্রতিবেদনে আরো বলা হয়েছে, “সরকারের কারখানা পরিদপ্তর চলতি বছরের প্রথম ৫ মাসে ৮২৫টি কারখানায় অনুসন্ধান চালিয়ে দেখেছে যে, ওই কারখানাগুলোর মধ্যে ১২২টি কারখানা শ্রমিকদের নিয়মিত বেতন দেয় না।”
অভিযোগ দুটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। গার্মেন্টস শিল্পে আজ থেকে প্রায় তিনবছর আগে ১৬৬২.৫০ টাকা ন্যূনতম মজুরি ঘোষণা করা হয়েছিল। সে সময় অধিকাংশ শ্রমিক সংগঠনই এ ঘোষণাকে প্রত্যাখ্যান করে কমপক্ষে ৩ হাজার টাকা ন্যূনতম মজুরি দাবি করেছিল। ইতোমধ্যে বাজার দর কয়েকগুণ বেড়েছে। চাল-ডাল-তেল এমনকি শাক-সব্জির দামও কয়েকগুণ বেড়েছে। বেড়েছে বাড়ি ভাড়া, গাড়ি ভাড়াসহ জীবনধারণের সব ধরনের ব্যয়। অনেকে অনেক দিক থেকে হিসাব করে দেখিয়েছেন, এখনকার বাজারদর অনুযায়ী সর্বনিম্ন মজুরি হওয়া উচিৎ ৭ হাজার টাকা। কিন্তু গার্মেন্টস খাতে এখনো সেই ১৬৬২ টাকাই বহাল আছে। তাও সব কারখানায় সে মজুরিও দেওয়া হয় না। অথচ মালিকরা (সালাম মুর্শেদী প্রমুখ সাহেবরা) ২০০৭ সাল থেকেই দাবি করে আসছেন যে ন্যূনতম মজুরির ঘোষণা নাকি সব কারখানায়ই বাস্তবায়ন করা হয়েছে!
কিন্তু প্রশ্নটা তো শুধু মজুরির নয়। শ্রমিকদের আরো একটি গুরুত্বপূর্ণ অধিকার হল ওভারটাইম। শতকরা ৯৯ ভাগ কারখানায় ওভারটাইমের কোনো বালাই নেই -- এ কথা চ্যালেঞ্জ করে বলা যায়। নামমাত্র টিফিনের বিনিময়ে শ্রমিকদের দিয়ে ৩ থেকে ৬ ঘণ্টা পর্যন্ত বাড়তি খাটানো হয়। (আমার এক বন্ধু গার্মেন্টসে অডিট করতে যান। তার হাতে এমন অনেক প্রমাণ দেখেছি যে, কমপ্লায়েন্টস্ কারখানা হিসাবে যেগুলো স্বীকৃত সেখানেও মালিকরা দুই-তিন ধরনের হিসাব রক্ষা করেন। একটা বায়ারদের দেখানোর জন্য, একটা শ্রমিকদের জন্য। আরেকটা সম্ভবত সরকারের জন্য!) এর সাথে আছে কারখানা প্রশাসনের কর্মকর্তাদের আচরণ। শ্রমিকদের সাথে যে আচরণ তারা করে থাকেন, শুধু সেটাই যথেষ্ট যে কোনো ধরনের শ্রমিক বিক্ষোভের জন্য।

আমরা এস সূহী কারখানায় সংঘটিত ঘটনায় আবার নজর দিই। শ্রমিকরা মজুরি বাড়ানোর দাবি তুলে কি কোনো অন্যায় করেছিল? মালিকপক্ষ কি তাদের দাবি নিয়ে আলাপ-আলোচনা করার কোনো উদ্যোগ নিয়েছিল? সরকারের শ্রম মন্ত্রণালয় কি সেখানে শ্রমিক-মালিক বিরোধ নিষ্পত্তি করার জন্য সচেষ্ট হয়েছিল? বা সরকারের অন্য কোনো সংস্থা? এসবের কিছুই ঘটেনি। মালিকপক্ষের কাছে শ্রমিক বিক্ষোভ নিরসনের একটাই মহৌষধ - ‘ডাণ্ডা’ ব্যবহার। এই তো চলছে সর্বত্র!
তথাকথিত ঝুট ব্যবসায়ীদের প্রসঙ্গেও একটু বলা দরকার। গার্মেন্টস ফ্যাক্টরির ঝুট শুধু নয়, টিফিন সরবরাহ করা নিয়েও এক বিরাট চক্র গজিয়ে উঠেছে। এরা সকলেই বড় রাজনৈতিক দলগুলোর আশ্রয়-প্রশ্রয়প্রাপ্ত। এই ঝুট ব্যবসার বখরা ওইসব দলগুলোর অনেক উচুঁতলা পর্যন্ত আসে। এসব কথা ওপেন সিক্রেট, সবাই জানেন। মালিকদের সাথে এসব ঝুট ব্যবসায়ীদের বিরোধ যেমন আছে, আবার মালিকরাও এদের লালন-পালন করে থাকেন। উদ্দেশ্য ওই একটাই -- শ্রমিক দমন। কারখানায় শ্রমিক বিক্ষোভ ঘটলেই মালিক এদের ডেকে নিয়ে আসে শ্রমিক ঠ্যাঙানোর জন্য। আবার ব্যবসার সুবিধাবঞ্চিতরাও এসে হাজির হয় -- মালিককে বেকায়দায় ফেলে সুবিধা নেওয়ার জন্য। এখন অধিকাংশ ক্ষেত্রেই শ্রমিকরা যেহেতু ততটা সংগঠিত নয়, ফলে শ্রমিকদের বিক্ষোভ চলে যায় ওইসব ঝুট ব্যবসায়ী সন্ত্রাসীদের নিয়ন্ত্রণে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে এরাই শ্রমিকদের ‘ঠাণ্ডা’ করে দেয়। কখনো কখনো মালিকের সাথে সৃষ্ট বিরোধ নিরসন এবং দর-কষাকষির জন্য নিজেদের বাহিনী নিয়ে শ্রমিকদের মধ্যে ঢুকে ভাঙচুর-লুটপাট চালায়। হা-মীম গ্রুপের কারখানায় অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের ঘটনায় এ সত্যটা স্পষ্টভাবে উন্মোচিত হয়েছে।

এ কথা অস্বীকার করে লাভ নেই যে বর্তমান বেতন কাঠামো সময় অনুপযোগী শুধু নয়, অত্যন্ত অমানবিক। এ দিয়ে জীবনধারণ করা যায় না। কিন্তু মালিক পক্ষ বা সরকার কেউ-ই শ্রমিকের মনুষ্যোচিত মজুরি নিয়ে কথা বলছেন না, আবার শ্রমিকদেরও কথা বলতে দিচ্ছেন না। কথা বলতে চাইলেই ‘ডাণ্ডা মেরে ঠাণ্ডা করা’র পথ ধরছেন। কিন্তু মাথায় লাঠির বাড়ি মেরে তো শ্রমিকের পেটের আগুন নেভানো যায় না। আর পেটে যদি আগুন জ্বলে তবে তার স্ফুলিঙ্গ বাইরে ছড়াবেই। বিগত দিনগুলোতে গণতান্ত্রিত শ্রমিক সংগঠনগুলো বার বার এ কথা অত্যন্ত জোর দিয়ে বলে এসেছে যে শ্রমিককে তার দাবির তোলার, সে দাবি নিয়ে কথা বলার ব্যবস্থা করে দিতে হবে (টকশোতে রাজেকুজ্জামান রতন যে দাবি তুললেন), গার্মেন্টস ক্ষেত্রে ট্রেড ইউনিয়ন অধিকার দিতে হবে। কিন্তু ট্রেড ইউনিয়ন অধিকার দেবার কথা শুনলেই আমাদের মালিকদের গায়ে কাঁপুনি দিয়ে জ্বর আসে (যেমন সালাম মুর্শেদী সাহেবের এ। তারা বরং আরো বেশি করে গুন্ডা-মাসত্মান-ঝুট-টিফিন ব্যবসায়ী পুষবেন কিন্তু শ্রমিকদের কথা বলতে দেবেন না -- এমনটাই তাদের মনোভাব। আমাদের সরকারও গার্মেন্টস মালিকদের এমন বশংবদ প্রতিনিধি যে শ্রমিকদের আইএলও স্বীকৃত, সংবিধান স্বীকৃত ট্রেড ইউনিয়ন অধিকার দেওয়ার পরিবর্তে দিনের পর দিন মালিকদের অন্যায় আবদারে সায় দিয়ে চলেছেন। তাদের বাধ্য করার ক্ষমতা সরকারের নেই। এ অবস্থার অবসান হওয়া দরকার। এ অবস্থা যদি চলতে থাকে, ‘ষড়যন্ত্র ষড়যন্ত্র’ বলে চেঁচিয়েও কোনো ফল পাওয়া যাবে না। গার্মেন্টস শিল্পকে যদি রক্ষা করতে হয়, সবার আগে শ্রমিকদের কথা বলার এবং তাদের দাবির ন্যায়সঙ্গত সমাধানের পথে সরকার এবং মালিকপক্ষকে হাঁটতে হবে। শ্রমিকদেরকেও, বিচ্ছিন্ন বিভক্ত না থেকে, ট্রেড ইউনিয়নের গণতান্ত্রিক অধিকার আদায় এবং ন্যায়সঙ্গত মজুরি ও অন্যান্য গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। শ্রমিকদের মনে রাখতে হবে, গণতান্ত্রিক আন্দোলনের পথ অবারিত না হলে শোষণমুক্তির সংগ্রাম বেগবান করা যাবে না।

ফুটনোট : ভ্যানগার্ড জুলাই ২০০৯ সংখ্যায় মূল লেখাটি প্রকাশিত হয়েছে। আজকের টকশোর পরিপ্রেক্ষিতে সামান্য সংযোজন-সম্পাদনা করে ব্লগের পাঠকদের সাথে শেয়ার করলাম।
সর্বশেষ এডিট : ১২ ই জুলাই, ২০০৯ রাত ২:৪৯
৭টি মন্তব্য ৬টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

দ্য ড্রাগ কিং

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:১৫


সতর্কবার্তা: এটি একটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক ক্রাইম ফিকশন। বাস্তব একটি অপরাধের কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে পাঠকদের জন্য এর চরিত্র, নাম এবং স্থান পরিবর্তন করে গল্পটি সাজানো হয়েছে।

খুলনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামুতে আবারও লিলিপুটিয়ানদের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮

আমার গত পোস্টে আলামিন১০৪ নামের এক ব্লগার মন্তব্য করেছেন যে - "এ আই দিয়ে হুমায়ূন আহমেদের মতো লেখা যায়।"
তিনি এ আই-কে প্রম্পট দিয়েছিলেন ' হুমায়ুন আহমেদের মতো গল্প লিখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইজিবাইক চলাচলের প্রকৃত কর্তৃপক্ষ কে?

লিখেছেন মাহদী হাসান শিহাব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:৩৪



দেশের বিভিন্ন শহর ও গ্রামে ইজিবাইক নামে একটি যানবাহন চলাচল করে। কিন্তু এর পরিচালনা, লাইসেন্সিং এবং চলাচলের ক্ষেত্র সম্পর্কে সুস্পষ্ট ও সর্বজনবিদিত কোনো নীতিমালা সাধারণ মানুষের কাছে দৃশ্যমান নয়।

শহরের ভেতরে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

মন কথনিকা-৪৮৭৩-৭৪

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৯

মন কথনিকা-৪৮৭৩
তোমার আমার মতামতে আকাশ পাতাল সীমা
আমার বুলি বরফ জলের তোমার যেন বোমা,
তুমি বলো রোদের তেজে আমি বর্ষার মতন
বুকের ভিতর বন্ধু বুঝি পাথর পুষো যতন।

মন কথনিকা-৪৮৭৪
পিঠে ব্যথা ভাল্লাগে না, মন... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

×