আমার প্রিয় পোস্ট

"আকাশে নক্ষত্র দেখে নক্ষত্রের মতন না হয়ে পারিনি আমি / নদী তীরে বসে তার ঢেউয়ের কাঁপন, / বেজেছে আমার বুকে বেদনার মত / ঘাসের হরিৎ রসে ছেয়েছে হৃদয়"। _আহমদ ছফা

টিপাইবাঁধ নিয়ে বাদ-প্রতিবাদ ও ভারত রাষ্ট্রের চরিত্র বিচার - ২

২৮ শে জুলাই, ২০০৯ সকাল ৮:৩৫

শেয়ারঃ
0 2 0

আজ ২৮ জুলাই, আহমদ ছফার অষ্টম প্রয়াণ দিবসের প্রথম ভাগে ভারত রাষ্ট্রের চরিত্র বিচারে প্রবৃত্ত হইলাম।
আমার প্রথম লেখাটি ছিল মূল লেখার মুখবন্ধ।
Click This Link
অর্থাৎ পাঠকদের (ব্লগে আমার লেখার পাঠক হাতে গোনা ৮/১০ জন) মুখ বন্ধ রাখাই ছিল উদ্দেশ্য। কিন্তু মনজুরুল হক শুরুতেই প্রশ্ন তুলে আমাকে পেরেশানিতে ফেল দিয়েছেন।
মনজুরুল হক বলেছেন:
"আপনার লেখাটি বেশ আগ্রহভরে পড়তে শুরু করেছিলাম। কয়েক বার হোঁচট খাবার পর ভাবলাম পরের পর্ব আসুক। ভারত রাষ্ট্রের রাষ্ট্রীয় চরিত্র বিশ্লেষণ জরুরী, তবে এতটা নয় যে তাতেই টিপাইমুখ বাঁধের পক্ষে তাদের অবস্থান পরিষ্কার হবে।"

আমি তার জবাবে বলেছি, এবং আমার প্রথম লেখায়ও এটাই বলার চেষ্টা করেছি যে ভারত রাষ্ট্রের চরিত্র বিচার করে টিপাইবাঁধ নিয়ে ভারতের অবস্থান পরিস্কার হবে কিনা, সেটা আমার কাছে যতটা জরুরি তার চেয়ে জরুরি আন্দোলনকারীদের অবস্থান পরিস্কার করা। আপনি যে শত্রুর বিরুদ্ধে আন্দোলন করছেন তার চরিত্র আপনার কাছে স্পষ্ট না হলে আপনি লড়াই করবেন কিসের ভিত্তিতে? সেই সঙ্গে এও তো সত্য যে শত্রুকে সঠিকভাবে চিহ্নিত করার ওপর যুদ্ধের ফল অনেকটাই নির্ভর করে। শত্রু নির্ধারণ সঠিক হলে মিত্র নির্ধারণও সহজ হয়ে যায়।

যাক, এসব কথা থাক, এখন ভারত রাষ্ট্রের চরিত্র বিচারে নামা যাক!

পেছন পানে দেখা : ভারতের বুকে পুঁজি গড়ে ওঠার ইতিহাস
আজকের ভারতের অবস্থান বোঝার জন্য পেছনের দিকে একটু চাইতে হবে, ভারতের বুকে পুঁজি গড়ে ওঠার ইতিহাসটা জানতে হবে।
এমনিতে আমরা সাধারণভাবে জানি যে ভারতের সাথে আরবদের বাণিজ্যিক যোগাযোগ ছিল। সেটা সমুদ্র পথে এবং খাইবারপাস হয়ে স্থল পথেও। আরব বণিকদের হাত হয়ে ভারতের পণ্য, বিশেষত মসলিন, তাঁতসহ বিভিন্ন বস্ত্রসামগ্রী, মশলা ইত্যাদি ইউরোপ পর্যন্ত যেত। এসব পণ্যের খুব কদর ছিল ইউরোপে। যে কারণে ইউরোপ ভারতে আসার সমুদ্রপথ আবিষ্কারের জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছিল। এর বাইরে জাভা, সুমাত্রা ইত্যাদি অঞ্চলের সাথেও সমুদ্রপথে ভারতের সওদাগরি বা বাণিজ্য চলত। এসব অনেক আগের কথা। কিন্তু এসব তথ্য থেকে যে বিষয়টি বেরিয়ে আসে তাহল ভারতের বুকে বণিক (merchent capital) পুঁজির বিকাশ ঘটেছিল।
তৎকালীণ ভারতবর্ষে সুদিপুঁজিরও (User capital) বিকাশ ঘটেছিল। ওই সুদিপুঁজি-ওয়ালারা আজকের ব্যাংকের যে আদি রূপ, মহাজনী কারবার এবং মহাজনী পুঁজি (User Bank) তা গড়ে তোলে।
খুব সাম্প্রতিক ইতিহাসে, অর্থাৎ ভারতবর্ষ ব্রিটিশের পদানত হওয়ার সময়ে, নবাব সিরাজের আমলে আমরা জগৎশেঠ, উমিচাঁদ, রায়দুর্লভ, রাজভল্লব ইত্যাদি যাদের নাম পাই তারা সবাই তাদের পুঁজি সুদিপুঁজি হিসাবে লগ্নি করত, বণিক পুঁজি হিসাবে বাণিজ্যে খাটাত। এমনকি নবাবরাও নানা প্রয়োজনে তাদের কাছ থেকে সুদের বিনিময়ে টাকা ধার করত। এদের সম্পদের হিসাব অনেক গবেষকই বের করেছেন। ইতিহাসের ছাত্ররা জানেন যে এরা প্রায় কেউ-ই বাংলা অঞ্চলের ছিলেন না, ছিলেন মাড়োয়ারী বা গুজরাটি। এদের সাথে নবাবের যে দ্বন্দ্ব ছিল তার মূলে ছিল ব্যবসায়-বাণিজ্যে সুবিধা পাওয়া না-পাওয়ার দ্বন্দ্ব। এই সুবিধা লাভের আশাতেই তারা নবাবের বিরুদ্ধে ঘোঁট পাকায় এবং ব্রিটিশ ইস্ট-ইন্ডিয়া কোম্পানিকে এ আঁতাতে যুক্ত করে। এ চক্রের হাতে এক সময় নবাব পরাজিত হন। কিন্তু জগৎশেঠ-মীরজাফর চক্র আর ইস্ট-ইন্ডিয়া কোম্পানির মধ্যে দ্বন্দ্ব তীব্র আকার ধারণ করে।
ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি তাদের প্রভাব খাটিয়ে ইংরেজ বণিকদের ট্যাক্স মওকুফ করিয়ে নেয়। এদিকে টালমাটাল পরিস্থিতির মুখে মীর কাসিম নবাব হলেন। তিনি স্থানীয় বণিকদের স্বার্থ রক্ষায় সচেষ্ট হলেন। চেষ্টা করলেন নবাবী আমলের সুবিধাটুকু যাতে দেশী বণিকরা পায়। অন্ততপক্ষে যাতে ইংরেজের মতো ট্যাক্স মওকুফের সুবিধা যাতে তারা পায়। কাসিম সে আইন করেছিলেন। কিন্তু তাতে বিরোধ আরো তীব্র আকার ধারণ করে। ইংরেজরা কাসিমকে সরানোর জন্য মরিয়া হয়ে ওঠে; বক্সারের যুদ্ধে কাসিমের পরাজয় ঘটে। বস্তুতপক্ষে এ পরাজয় মীর কাসিমের ব্যক্তিগত পরাজয় ছিল না, এ ছিল ব্রিটিশ পুঁজির হাতে ভারতীয় পুঁজির চূড়ান্ত পরাজয়। ভারতীয় বণিকী পুঁজি ব্রিটিশ ইস্ট-ইন্ডিয়া কোম্পানির অধীনস্ত হয়ে গেল। যদিও ইস্ট-ইন্ডিয়া কোম্পানির পুঁজির সাথে অন্যান্য ব্রিটিশ ও ইউরোপীয় পুঁজিরও দ্বন্দ্ব ছিল, তারাও ভারতের বাজারে ঢুকতে চাইছিল। সে প্রসঙ্গ এখানে আলোচ্য নয়।

পরাধীন ভারত
ঔপনিবেশিক ভারতে কীভাবে পুঁজি গড়ে ওঠেছিল তার বিস্তৃত বর্ণনা দিয়েছেন গবেষক লেভকভস্কি (A. I. Levkovsky) তার ‘Capitalism in India : Basic Trends and Its Development’ (People Publishing House-1966) বইটিতে।
বাংলায় যেমন জগৎশেঠরা ছিল, ভারতের অন্যান্য অঞ্চলেও এ ধরনের বণিকী বা সুদি পুঁজির মালিকরা ছিল। যেমন পশ্চিম ভারতে ছিল আরিয়ানজি, নাথজি, সুরাটে আত্মারাম ভকত, আহমেদাবাদে নাগর শেঠ ইত্যাদি। এবং এদের অনেকেরই ছিল মহাজনী সুদি ব্যবসায়। তাদের ব্যাংকিং ছিল সুবিদিত।
১৮৫৭ সালের সিপাহী বিপ্লবের পর একদিকে ভারত ইস্ট-ইন্ডিয়া কোম্পানির হাত থেকে খোদ ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের করতলে চলে গেল, অন্যদিকে সিপাহী বিপ্লবে দিল্লীর মুসলমান নবাব ও তার অনুসারী ছোট ছোট মুসলমান রাজা-বাদশাদের সম্পৃক্তা ব্রিটিশদের সাথে মুসলমানদের দূরত্ব বাড়িয়ে দেয়। ব্রিটিশরা মুসলমানদের সন্দেহের চোখে দেখত, তাদের প্রতি অধিক বিমাতাসূলভ হয়ে উঠল, যার প্রভাব পড়েছে মুসলমান বণিকদের ভাগ্যে। ব্রিটিশের হিন্দু-মুসলমান বিভাজন নীতির ফলে শিকে ছিঁড়ল হিন্দু ব্যবসায়ীদের ভাগ্যে । আর এ সময় থেকেই শুরু হয় টাটা-বিড়লা প্রমুখ পুঁজিপতিদের উত্থান।
চলবে ..............................................
পরের পর্ব
Click This Link

 

সর্বশেষ এডিট : ২৯ শে জুলাই, ২০০৯ সকাল ৯:২০ | বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...

 

১. ২৮ শে জুলাই, ২০০৯ সকাল ৯:৩৬
আলী আরাফাত শান্ত বলেছেন: সাম্প্রতিক কালে ভারতের শ্রেনী চরিত্রের যে বিশ্লেষন সেটা জানার জন্য মুখিয়ে রইলাম ভাইয়া!

++
২৯ শে জুলাই, ২০০৯ সকাল ৭:৩৫

লেখক বলেছেন: পড়ার জন্য ধন্যবাদ। আসছে সে আলোচনা।

২. ২৮ শে জুলাই, ২০০৯ সকাল ১০:১৮
ভিন্ন চিন্তা বলেছেন: লেখক কে ধন্যবাদ।

পাঠকে দৃষ্টি আকর্ষণ।

'বেনিয়া' বা বণিক শব্দ টির প্রতি আমাদের অনেকে বর্তমান অভিজ্ঞতার আলোকে কিছু অন্ধ ঘৃণা পোষন করি। এ লেখাটি পড়া সময় সে অবস্থান কিছুটা স্বচ্ছ কিচ্ছুটা নিরপেক্ষ করা প্রয়োজন। না হলে প্রারম্ভেই তাল হারিয়ে ফেলবেন।

মনে রাখা দরকার সনাতন সামান্ত ক্ষুদ্র কুটি শিল্প নির্ভর ও আঞ্চলিক সরল বাজার ব্যবস্থা আগল ভেঙে আধুনিক বৃহদায়ন যান্ত্রিক শিল্প বিপ্লবের পথ প্রশস্ত হয়েছে আমাদের চোখে ঘৃর্ণ 'বেনিয়া' জাতের হাত ধরে ......... নানা সংঘাত- আন্তসংঘাতের মধ্য দিয়ে।

৩. ২৮ শে জুলাই, ২০০৯ সকাল ১০:৩৪
প্রণব আচার্য্য বলেছেন: বিশ্লেষণটা ভালো লাগছে। পরবর্তি পর্বের জন্য ...
৪. ২৮ শে জুলাই, ২০০৯ সকাল ১০:৪৬
ভিন্ন চিন্তা বলেছেন: ................কিন্তু এসব তথ্য থেকে যে বিষয়টি বেরিয়ে আসে তাহল ভারতের বুকে বণিক (merchent capital) পুঁজির বিকাশ ঘটেছিল।................

এখানে ভারতের বুকে বণিকী পুজির বিকাশ সময়কাল টাকে একটু স্পেশিফাই করা দরকার। যদিও উপনিবেশিবক শাসনের ঊষা লগ্নের যে সকল মূলতঃ ব্যাকিং পুজির কেন্দ্রগুলো (ব্যক্তি) উল্লেখ করেছেন সকলই সনাতন ধর্মালম্বি সম্প্রদায় ভুক্ত ।

তবে ভারত বর্ষে বণিকী পুজি বিকাশত (সংগঠিত বিকাশ অর্থ) ঘটে মুসলমানদের হাত ধরে।

প্রায় বাঁধাহীন ভাবেই ভারত বর্ষে আরব বণিকরা ইসলামের আগমনের পূর্ব থেকে বাণিজ্য করে এসেছে।সুমদ্র পথে জাভা- সুমাত্রা পর্যন্ত ভারত বর্ষের যে বাণিজ্যিক সংযোগের ইতিহাস পাওয়া যায় তা কিন্তু আরব বণিকদের .......... ভারতীয় বণিক নয়।

ভারত বর্ষের সনাতন ধর্মালম্বিরা সংগঠিত বাণিজ্যে আগ্রহী হযে উঠে মুসলমানদের হাতে রাজশক্তি হারানোর পর। অপর দিকে সরাসরি রাজদন্ড হাতে পাওয়ার পর পশ্চিম হতে আসা মুসলমান শাসকরা প্রত্যক্ষ বাণিজ্যিক কর্মকান্ডে পিছিয়ে পরে বা আগ্রহ হারায়।

এখানে এই পিছিয়ে পরার অন্যতম কারণ না বললেই না। এ সময় পশ্চিম এক আন্তৎসংঘাতময় পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে মুসলিম শাসন কেন্দ্রে পরিবর্তন ঘটে এবং ভারতীয় মুসলমান শাসকরা আরবীয় কেন্দ্রিয় মুসলমান শাসন বা খিলাফতের সাথে সম্পর্ক ছেদ করে স্থায়ী ভাবে ভারতীয় হয়ে যায়।উক্ত পরিপেক্ষিত ভারতীয় মুসলমানদের বণিকী চরিত্র হারানোর প্রক্রিয়াকে ত্বারান্বিত কের।

অর্থাৎ আমরা যদি বণিকী পুজি কে শিল্পপুজি বিকাশের পথে সেতু বন্ধন হিসাবে বিবেচনা করি তবে মুসলমানরা ভারত বর্ষে পিছনে হাটতে শুরু করে।
২৯ শে জুলাই, ২০০৯ সকাল ৭:৪৭

লেখক বলেছেন: প্রিয় ভিন্ন চিন্তা
আমার লেখার মূল বিবেচ্য বিষয় কিন্তু ভারতের পুঁজি গড়ে ওঠার ইতিহাস আলোচনা নয়। কিন্তু মূল আলোচনার সুবিধার্থে পুরনো ইতিহাসে একনজর চোখ বুলানো। এত বিস্তৃত আলোচনা করতে গেলে আসল আলোচনা হারিয়ে যাবে। আর এখানে আমরা কোনো গবেষণাপুস্তক রচনা করছি না। আমি খুব সরলভাবেই আলোচনা করতে চাইছি।

আমি খুব সুনির্দিষ্টভাবে ব্রিটিশ দখলের পূর্বে বণিক পুঁজি এবং সুদি মহাজনী পুঁজির মালিকদের শীর্ষস্থানীয় কয়েকজনের নাম উল্লেখ করেছি।
একইভাবে ব্রিটিশ শাসনের শুরু এবং তার কিছুদিন পর থেকে যারা আদিম ব্যাকিং পুজির কেন্দ্রগুলো (ব্যক্তি) হিসাবে গড়ে উঠেছিল তাদের নামও উল্লেখ করেছি।

৫. ২৮ শে জুলাই, ২০০৯ দুপুর ১২:৫২
ভিন্ন চিন্তা বলেছেন: ১৮৫৭ সালের সিপাহী বিপ্লবের পর একদিকে ভারত ইস্ট-ইন্ডিয়া কোম্পানির হাত থেকে খোদ ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের করতলে চলে গেল, অন্যদিকে সিপাহী বিপ্লবে দিল্লীর মুসলমান নবাব ও তার অনুসারী ছোট ছোট মুসলমান রাজা-বাদশাদের সম্পৃক্তা ব্রিটিশদের সাথে মুসলমানদের দূরত্ব বাড়িয়ে দেয়। ব্রিটিশরা মুসলমানদের সন্দেহের চোখে দেখত, তাদের প্রতি অধিক বিমাতাসূলভ হয়ে উঠল, যার প্রভাব পড়েছে মুসলমান বণিকদের ভাগ্যে।..........................

১৮৫৭-১৮৫৮ সাল ব্যাপী 'সিপাহী বিদ্রোহ' সম্পর্কে আপনার বক্তবের সাথে এক মত হতে পারলাম না। সিপাহী বিদ্রোহ মধ্য দিয়ে এক দিকে ভারতীয় জাতীয়তাবাদী চেতনার উন্মেষ ঘটে , অপর দিকে লক্ষনৌরের নবাব কিংবা দিল্লীর বাদশাহের জাতীয়তাবাদী বিপ্লবী সিপাহীদের সাথে একাত্ময় হতে ব্যর্থতার মধ্য দিয়ে ভারত বর্ষে সামান্ত ব্যবস্থার যবনিকাপতন ঘটে।

সিপাহী বিদ্রোহ শুধু মাত্র মুসলমান সিপাহীদের বিদ্রোহ ছিল না। যুগ যুগ ধরে এটাকে সাম্প্রদায়িক চরিত্র দেওয়া চেষ্টা চলে আসছে। ১৮৫৭ সালের সিপাহী বিদ্রোহ সম্পর্কে কার্ল মার্কসের উক্তি টা লক্ষণীয় (৩০ জুন ১৮৫৭

''এর আগেও ভারতীয় সেনাবাহিনীতে বিদ্রোহ হয়েছে, বর্তমান বিদ্রোহ কতগুলো বৈশিষ্টসূচক এবং মারাত্মক লক্ষণে চিহ্নিত।এই প্রথম সিপাহী বাহিনী হত্যা করল তাদের ইউরোপিয় অফিসারদের। মুসলমান ও হিন্দুরা তাদের তাদের পারস্পরিক বিদ্বেষ পরিহার করে মিলিত হয়েছে সাধারণ মনিবের বিরুদ্ধে ,' হিন্দুদের মধ্য থেকে তা শুরু হয়ে আসলে তা শেষ হয়েছে দিল্লির সিংহাসনে এক মুসলমান সম্রাটকে বসিয়ে;'।

১৮৫৮ সালে সিপাহী বিদ্রোহের অবসানের পর ''ব্রিটিশরা মুসলমানদের সন্দেহের চোখে দেখত, তাদের প্রতি অধিক বিমাতাসূলভ হয়ে উঠল, যার প্রভাব পড়েছে মুসলমান বণিকদের ভাগ্যে।'' এ উক্তির সাথে একমত হতে পারছি না।ভারতের মুসলমানরা যে ইংরেজ বাগমনের আগেই তাদের বণিকী উৎকর্ষতা হারাতে শুরু করেছিল , আমি তা আগের মন্তবে বলেছি।

সিপাহী বিদ্রোহে আশ্রয় দাতা হওয়ায় ঢাকার বর্তমানে নবাব পরিচয ধারীরা ইংরেজদের সুনজরে আসে এবং নবাব উপাধি পায়। সিপাহী যুদ্ধোত্তর কালে সারা ভারত বর্ষে এ রকম সুনজর পাওয়া মুসলমান অভিজাত শ্রেনী একে বারে কম নয়।মনে রাখতে হবে, দীর্ঘ মুসলমান শাসন কাল স্বত্ত্বেও ভারত বর্ষে মুসলমানরা সংখ্যা লঘু এবং সমাজের নিন্মবর্গেই ছিল সিংহ ভাগ মুসলমানদের অবস্থান।

১৮৫৮ সালে ভারত বর্ষে সিপাহী বিদ্রোহের ঘটনা চক্রের মধ্য দিয়ে খোদ ব্রিটেনে ক্ষমতার ভার কেন্দ্রের এক মৌলিক পরিবর্তন সূচিত হয়। যদি কার্ল মাকর্সের ভাষা বলি (১৮৫৩).....

'' ভারতের প্রগতিতে এতো দিন পর্যন্ত গ্রেট ব্রিটেনের শাসক গোষ্ঠিগুলোর যে স্বার্থ ছিল সেটা নিতান্ত আকস্মিক , অস্থায়ী ও ব্যতিরেকমূলক।অভিজাত শ্রেনী চেয়েছিল জয় করতে,ধনপতিরা ( বণিকী পুজি মালিক) চেয়ে ছিল লুন্ঠন আর মিল-তন্ত্রীরা (শিল্প পুজি মালিক ) চেযেছিল শস্তায় বেঁচে বাজার দখল।এখন দান উল্টে গেছে।মিল-তন্ত্রীরা আবিষ্কার করেছে যে উৎপাদনশীল দেশরূপে ভারতের বূপান্তর তাদের কাছে একান্ত জরুরী............''।

লেখক বলেছেন ''ব্রিটিশের হিন্দু-মুসলমান বিভাজন নীতির ফলে শিকে ছিঁড়ল হিন্দু ব্যবসায়ীদের ভাগ্যে । আর এ সময় থেকেই শুরু হয় টাটা-বিড়লা প্রমুখ পুঁজিপতিদের উত্থান।''...........................

প্রায় ২০০ বছরের ইংরেজ শাসনের মহা সূত্র নিৎসন্দেহে হিন্দু-মুসলমান বিভাজন নীতি ( কার্ল মার্কস যাকে রোমানদের divide et impera বলেছেন)। কিন্তু , হিন্দু সম্প্রদায়ের অভিজাত শ্রেনীর ভাগ্যে খুলে যাওয়া কারণ ব্রটিশ মিল-তন্ত্যী বা শিল্প পুঝির সাথে তড়িত গাঁট ছাড়া বাঁধার যোগ্যতা থাকা।
পড়ুন পৃষ্ঠা ১৬ থেকে ১৯:
Click This Link
২৯ শে জুলাই, ২০০৯ সকাল ৮:০২

লেখক বলেছেন: এখানেও একই কথা। একটা ঘটনার মূল যে দিকটা আমাদের আলোচনা বুঝতে সাহায্য করবে আমি শুধু সেদিকেই ইঙ্গিত করব। ঢাকার নবাবরা যেমন ব্রিটিশদের সহযোগীতা করেছে, ঝাঁসির রানীও বিদ্রোহে যোগ দিয়েছে, যোগ দিয়েছে তাঁতীয়া টোপী, নানা সাহেব প্রমুখ। কিন্তু ঘটনার মূল প্রভাব হল এই যে ভারতের মুসলমানদের সাথে ব্রিটিশ শাসক এবং ব্যবসায়ীদের দূরত্ব এবং অবিশ্বাস বেড়ে গেল। কোনো পক্ষই আর কোনো পক্ষকে বিশ্বাস করছে না।
সিপাহী বিদ্রোহ অবশ্যই হিন্দু-মুসলমানের মিলিত সংগ্রাম ছিল, কিন্তু সেই সংগ্রামে ঘোষিত নেতা হিসাবে এসেছিলেন দিল্লীর নবাব, এবং তার পরিবার। এটা ইতিহাস। যারা বিদ্রোহের সূচনা করেছিলেন তারা দিল্লীর নবাবকেই নেতা মনোনীত করলেন। হিন্দুরা যারা যোগ দিয়েছিল তারাও নবাবকে নেতা হিসাবে মেনে নিলেন। এখানে সিপাহী বিদ্রোহের সফলতা-ব্যর্থতা নিয়ে আলোচনা অপ্রাসঙ্গিক।
সিপাহী বিদ্রোহ যে হিন্দু-মুসলমানের মিলিত সংগ্রাম ছিল এটা ব্রিটিশরাও বেশ ভালভাবেই ধরতে পেরেছিল। যে কারণে হিন্দু-মুসলমান বিভাজন নীতি তারা প্রয়োগ করতে শুরু করে।
আপনি যখন লিখছেন, তখন কিন্তু আপনি আমার বক্তব্যকেই সমর্থন করছেন _ "হিন্দু সম্প্রদায়ের অভিজাত শ্রেনীর ভাগ্যে খুলে যাওয়া কারণ ব্রটিশ মিল-তন্ত্যী বা শিল্প পুঝির সাথে তড়িত গাঁট ছাড়া বাঁধার যোগ্যতা থাকা।" অর্থাৎ সিপাহী বিদ্রোহের সময়ে এসে মুসলমানদের মধ্যে পুঁজির জোর ততটা নেই। ব্রিটিশ মিল-তন্ত্রীদের সাথে গাঁটছড়া বাঁধার তড়িৎ ক্ষমতা নেই। হিন্দু অভিজাত শ্রেণী বললে বিষয়টা ভুল হতে পারে, বণিক শ্রেণী।

২৯ শে জুলাই, ২০০৯ সকাল ৮:০৪

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ।

৭. ২৯ শে জুলাই, ২০০৯ সকাল ১১:৪৫
ভিন্ন চিন্তা বলেছেন: আপনার লেখা যেখানটিতে আমার সাথে দ্বিমত থেকে গেল, তা হচ্ছে ........... সিপাহী বিদ্রোহ উত্তর ভারতবর্ষে হিন্দু অভিজাত শ্রেণী ব্রিটিশ শিল্প পুজির সাথে স্বার্থের গাঁটছেরা বেঁধেছিল এবং মুসলমান বণিক সম্প্রদায়ে প্রতি ব্রিটিশ রাজদন্ড বৈরী হয়ে উটলো...... এর অন্যতম কারণ কখনই দিল্লীর মুসলমান সম্রাটের সিপাহী বিদ্রোহের আরোপিত নেতা হয়ে উঠবার কারণ নয়। সিপাহী বিদ্রোহের সূচনা আগেই ১৮৫৩ সালে কার্ল মাকর্স সুদূর লন্ডনে বসে 'কলকাতা কেন্দ্রিক এক নতুন ভারতীয় শ্রেনীর অবির্ভাবের সংকেত প্রদান করেছেন।যারা সিপাহী বিদ্রোহের পূর্বকাল হতেই ধীরে ধীরে ব্রিটেনের মিল-তন্ত্রীদের আকাঙ্খা অনুসারে ভারতীয় ভূ-খন্ডে শিল্প পুজির প্রত্যক্ষ বিকাশের উপযোগি হিসাবে নিজেদের গড়ে তুলেছে।

১৮৫৭ সাল উত্তর কালের ব্রিটিশ পার্লমেন্টে ভারতীয় উপনিবেম নিয়ে বণিকী পুজি সাথে শিল্ফ পুজির দ্বন্দ্ব প্রবঠ আকার ধারণ করছিল।

১৮৫৮ সালে সিপাহী বিদ্রোহের পরিসম্পাত্তির মধ্য দিয়ে ভারতীয় মুক্তি সংগ্রামের প্রথম প্রচেষ্টার শুধু পরিসমাপ্তি ঘটেনি , একই সাথে খোদ ব্রিটেনে বণিকী পুজির সাথে শিল্প পুজির আন্তঃসংঘাতের চুড়ান্ত বিজয় সাধিত হয়।

যেহেতু ভারতীয় পুজির বিকাশ, বুর্জোয়া শ্রেণীর আবির্ভাব ব্রিটিশ উপনিবেশের গর্ভে কখনও হাত ধরে কখন অন্তৎসংঘাতের মধ্য দিয়ে। সুতরাং খোদ ব্রিটিশ রাষ্ট্র ব্যবস্থার দ্বান্দ্বিক প্রক্রিয়ার সাথে ভারতীয় পুজি বিকাশের সরাসরি জড়িত।

সত্যই,সংক্ষিপ্ত আলোচনায় এতো গভীরে যাওয়া যায় না।

**********************************************
কিন্তু আমার আপত্তি বা এত কথার কারণ হচ্ছে............ বাংলাদেশে সাম্প্রদায়িক পক্ষপাত দুষ্ট বহুল প্রচলিত ইতিহাস বলে যে,..............
সিপাহী বিদ্রোহের নেতৃত্ব মুসলমানদের ছিল এবং মুসলমানরা যেন আর মাথা তুলে দাড়াতে না পারে সে জন্য হিন্দু সম্প্রদায়ে প্রতি ইংরেজ বিশেষ কৃপা প্রদর্শন করেছে।এও বলা হয়, মধ্য এশিয়ায় ব্রিটিশ রাজশক্তি মুসলমান খলিফা আর বিকাশমান নতুন মুসলিম ধারা ওহাবিজম (ভারত বর্ষে তিতুমীর- শরিয়তুল্লাহ) এর সাথে সংঘাতের কারণে ভারতীয় মুসলমানদের ভয়ের চোখে দেখতো এবং সেই কারণেই হিন্দু সম্প্রদায়কে বিশেষ সুবিধা প্রদান করেছে।

আপনার বক্তব্যে এই বক্তব্যের সাথে একই রকম মনে হয়েছে।

''১৮৫৭ সালের সিপাহী বিপ্লবের পর একদিকে ভারত ইস্ট-ইন্ডিয়া কোম্পানির হাত থেকে খোদ ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের করতলে চলে গেল, অন্যদিকে সিপাহী বিপ্লবে দিল্লীর মুসলমান নবাব ও তার অনুসারী ছোট ছোট মুসলমান রাজা-বাদশাদের সম্পৃক্তা ব্রিটিশদের সাথে মুসলমানদের দূরত্ব বাড়িয়ে দেয়। ব্রিটিশরা মুসলমানদের সন্দেহের চোখে দেখত, তাদের প্রতি অধিক বিমাতাসূলভ হয়ে উঠল, যার প্রভাব পড়েছে মুসলমান বণিকদের ভাগ্যে। ব্রিটিশের হিন্দু-মুসলমান বিভাজন নীতির ফলে শিকে ছিঁড়ল হিন্দু ব্যবসায়ীদের ভাগ্যে ।''

আপনার লেখার মূলভার কেন্দ্র থেকে আমি বিচ্যুত নই।
৮. ৩০ শে জুলাই, ২০০৯ বিকাল ৪:৫৮
সালাহ্ উদ্দিন শুভ্র বলেছেন: ভারতের পুঁজি বিষয়টা অনেক জটিল। আজ থেকে আড়াই তিন হাজার বছর আগেও বাণিজ্য ছিল। তখনকার সময়ের মুদ্রাও পাওয়া যায়। সেই মুদ্রা কি পুঁজি হিসেবে ছিল। নাকি কেবলমাত্র বিনিময়ের মাধ্যম হিসেবেই ছিল। ব্রিটিশদের সময় থেকে কেন আমাদের ইতিহাসকে বিচার করা হচ্ছে। তার আগের সময় কই যাবে।

পুঁজি সংস্কৃতি বিচ্ছিন্ন বিষয় নয়। এর অনেক উদাহরণ দেয়া যায়। আমাদের দেশে সেই বাজার সংস্কৃতি হিসেবে কবে থেকে প্রতিষ্ঠিত। এখনো এদেশে বিনিময় প্রথা আছে। এবং বিত্তহীনরা বিনিময় প্রথাতেই অনেক স্বস্তি পায়। কারণ বাজার তাদের জন্য নয়-এটা তারা বোঝে। তাহলে কাজার অনিবার্জ হয়ে উঠেছে কবে থেকে। সেই বাজারে ভারত শুধু তার দেশেই নয় আমাদের দেশেও ভারতীয় পণ্যই বিক্রি করে। এই পুঁজি ভারতের। কিন্তু ভারত পুঁজিতে সমৃদ্ধ হয়েছে কিভাবে-সে বাজারকে প্রধাণ করেছে-সংস্কৃতিকে দমন করেছে। ধর্ম এখানে সংস্কৃতি হিসেবেই বিবেচ্য।

ফলে ভারতকে তার ইতিহাসের সর্বপ্রাচীন থেকেই বিচার করতে হবে-পুঁজির প্রশ্নে ও।

পরবর্তী পর্বে যাচ্ছি ।
৩০ শে জুলাই, ২০০৯ বিকাল ৫:১৯

লেখক বলেছেন: "ভারতকে তার ইতিহাসের সর্বপ্রাচীন থেকেই বিচার করতে হবে -- পুঁজির প্রশ্নেও"
প্রিয় সালাহ্ উদ্দিন শুভ্র, আপনার এ প্রশ্নটি আমার বোধের অগম্য। আমি পুঁজি বলতে যা বুঝি তা হল এই, বিনিময়ের একটি বিশেষ স্তরে এসে উদ্বৃত্ত মূল্য বা শ্রমশোষণের প্রক্রিয়ায় সঞ্চিত মূলধন যা পুনরায় উৎপাদনে ফিরে যায় এবং শ্রমশোষণ করে।
এর আগেও মুদ্রা ছিল কিন্তু পুঁজি ছিল না।
আমার বুঝ এটুকুই। হয়ত ভুল।

৯. ৩০ শে জুলাই, ২০০৯ বিকাল ৫:৩৮
সালাহ্ উদ্দিন শুভ্র বলেছেন: হ্যাঁ ঠিকই আছে। কিন্তু সেই মুদ্রা কি করে পুঁজি হল। এটা একটা প্রশ্ন।

আমাদের নিজস্ব পুঁজি থাকলে তার নিজস্ব ইতিহাসই কেবল নয় সংস্কৃতিও আছে।

আর ভারতে পুঁজির শুরুকালটা কখন। কিভাবে। বাণিজ্য আগেও ছিল-শ্রমশোষণও ছিল। আচ থেকে হাজার পনেরশ বছর আগেও। সেই পুঁজির হিসেব কোথায়।
১০. ৩১ শে জুলাই, ২০০৯ রাত ৩:৪৯
নিকো৮১২৩ বলেছেন: মুদ্রা কি করে পুজি হলো এটা তো শুধু ভারতের ক্ষেত্রে নয় সব ক্ষেত্রেই এক রকম। এটা কি সংস্কৃতির উপর নির্ভর করে নাকি???? বানিজ্য তো শুধু পনেরশ বছর না আরও অনেক হাজার বছর পেছনে গিয়েও পাওয়া যেতে পারে। মানে দ্রব্য বিনিময় থেকে শুরু করলে তো প্রায় মানব সভ্যতার সমান। কিন্তু বাণিজ্য আর শ্রম শোষণ থাকলেও তার ফর্ম আর সমাজে তার প্রতিক্রিয়া বা প্রভাবের মাত্রা কি আজকের মতো ছিল নাকি?
০২ রা আগস্ট, ২০০৯ বিকাল ৪:০১

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ তোর এই গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্যের জন্য।

১১. ০৩ রা আগস্ট, ২০০৯ রাত ১:০০
সালাহ্ উদ্দিন শুভ্র বলেছেন: @নিকো১২৩
১.এখানকার আলোচ্য বিষয় ভারত।

২. সংস্কৃতির ওপর নির্ভর করেই। সংস্কৃতি ছাড়া যদি মানুষ না থাকে সংস্কৃতি ছাড়া পুঁজিও থাকে না।

৩. না পুঁজির প্রভাব দশ বছর আগে আর পরে এক থাকে না। কিন্তু পুঁজির নিজস্বতা থাকলে তার নিজস্ব ইতিহাসও থাকে-নিজস্ব সংস্কৃতিও থাকে। আপনি কোনটাকে শ্রম শোষণ বলছেন-কেবল কলের শ্রমিকের শ্রম শোষণ নাকি সামগ্রিক কৃষকেরও-জেলেদেরও। নারী সমাজেরও। সমস্ত ক্ষেত্রেই কি পুঁজি সমান আচরণ করেছে? আগে যেমন করতো এখনও তাই করছে?

আলোচনা অসম্পূর্ণ থাকলে তা শেষ বিচারে ভুল বলেই প্রমাণিত হয়।

১২. ২৫ শে আগস্ট, ২০০৯ রাত ৩:৩৬
নিকো৮১২৩ বলেছেন: শুভ্রদা তোমার পয়েন্টা একদম পয়েন্ট ছাড়া। কিসের সাথে কি মিলায় কি বানাচ্ছো তা শুধু তুমিই বুঝতেছো। দুনিয়ার আর আমরা যারা আছি একটু কম বুদ্ধির মানুষ তাদের বোঝার মত করে বললে ভাল হয়। তোমার পয়েন্ট ধরে ধরে বলি...

১. হইলো ভারত তাতে কি??? কি কারনে তোমার মনে হয় যে ভারতে পুজি বিকাশের নিয়মটা অন্য সমাজের মতো না??? (বিদেশী পুজি আগমনের পূর্বে)

২. সংস্কৃতি ছাড়া পুজি থাকে না কথাটার মানে কি???

৩. আর তিন নাম্বার প্রশ্ন তোমার আসলে হইছে কি??? মানব সভ্যতার ইতিহাস যেটা সাধারণ ভাবে জানা যায়....সেখানে কি এটাই বলে নাই যে মানুষ যখন স্থায়ীভাবে বসবাস করা শুরু করলো তখন থেকেই অন্য মানুষের শ্রম শোষণ করা শুরু করলো। মানব সভ্যতার যে ধাপগুলো সেখানে শোষনের ফর্ম বদলাচ্ছে কিন্তু "সমস্ত ক্ষেত্রেই কি পুঁজি সমান আচরণ করেছে? আগে যেমন করতো এখনও তাই করছে?" বলতে কি বুঝাচ্ছো তা আমার বোধের অগম্য। হয়তো অন্যদেরও।
১৩. ২৫ শে আগস্ট, ২০০৯ বিকাল ৪:৪৭
সালাহ্ উদ্দিন শুভ্র বলেছেন: @নিকো-
১. প্রতিটি সমাজ মাত্রেই তার নিজস্ব ইতিহাস আছে। ফলে ভারতের ইতিহাস আলাদাই। এখানে পুঁজির বিকাশের ধারাবাহিকতাও আলাদা। আমি আগেই বলেছি এখানে সামন্তবাদকে ভেঙ্গে পুঁজিবাদ আসেনি।

২. সংস্কৃতি ছাড়া কিভাবে পুঁজি থাকে। তাহলে পুঁজিবাদী সংস্কৃতি বলতে আমরা কি বুঝি। স্থানভেদে পুঁজির সংস্কৃতি ভিন্ন হয়-এটাই আমি বলতে চাই। যে পুঁজি ভারতের সেই পুঁজি শুধু কি টাকার অর্থেই ভারতের হয়-যেমন আমাদের দেশে যে স্লোগানটি চালু আছে-দেশের পণ্য বা বিভিন্ন কর্পোরেট সংস্থা দেশীয় বিভিন্ন উৎসবে এতো তৎপর থাকে কেন। বিভিন্ন এনজিওগুলো কি করছে -আমাদের দেশের মানুষের পাশে ত্রাতা হিসেবে আবির্ভুত হচ্ছে-সামাজিক হয়ে উঠছে। পুঁজির ছলনাকে কখনোই বোঝা যাবে না তার সংস্কৃতিকে না বুঝলে। আবার যেই পুঁজি দেশীয় তার কৌশল কি-কেবল টাকার অর্থেই কি পুঁজিবাদ হয় নাকি-তাহলে দেশীয় পণ্য কেনার কথা কারা বলে এখন।

৩. আমি বলছিনা পুঁজিবাদের ইতিহাস হাজার বছরের-কিন্তু কালে যা পুঁজি হয়ে উঠলো অতীতে তা কি ছিল-কিভাবে তা পুঁজি হয়ে উঠলো-কাদের হাতে গেল সেই পুঁজি। শ্রম শোষণ আগেও ছিল কিন্তু পুঁজিবাদ এসে শ্রম শোষণকে আড়াল করতে চাইলো এবং পরে তা ব্যাপক হয়ে উঠলো। কিন্তু শোষণের মানুষগুলোতো সবাই এক না। আমাদের দেশে একজন জেলে কিভাবে শোষিত হয়-আর সমস্তরকম শোষণের মাঝখানে যে ফড়িয়া দালাল ঢুকে পড়েছে এটা কিভাবে হল-এরা কারা। মহাজন আমাদের দেশে এখনো আছে। তাই বলছিলাম আমাদের দেশের পুঁজিবাদ অবশ্যই আলাদা। মোল্লারা এতো দাপুটে হয়ে উঠছে কেন-তার কোপানলে শোষিত হওয়া নারী কার শিকার সরাসরি পুঁজির না রাষ্ট্রের না পুঁজির সংস্কৃতির। রাষ্ট্রের সাথে পুঁজির সম্পর্ক কি। রাষ্ট্র কোন পুঁজির পক্ষে থাকে-কিভাবে একই সাথে দুইরকম পুঁজির সাথে তার সখ্যতা থাকে নাকি বিরোধও থাকে। রাজনীতির বিরোধ আর পুঁজির বিরোধ কি আলাদা। এসব আলাপ ছাড়া পুঁজির ইতিহাস আলোচনা অস্পূর্ণ।

আমি অনেকগুলো মন্তব্য করেছি এই লিখার কয়েকটি পর্বে। সবগুলো মিলিয়ে পড়লে বুঝতে পারা যাবে আশা করছি। তারপরও সময় করে আলোচনার আগ্রহ আছে।
১৪. ২৬ শে আগস্ট, ২০০৯ ভোর ৪:৪৯
নিকো৮১২৩ বলেছেন: ১। "প্রতিটি সমাজ মাত্রেই তার নিজস্ব ইতিহাস আছে। ফলে ভারতের ইতিহাস আলাদাই। এখানে পুঁজির বিকাশের ধারাবাহিকতাও আলাদা। আমি আগেই বলেছি এখানে সামন্তবাদকে ভেঙ্গে পুঁজিবাদ আসেনি।" -

ভারতের আলাদা ইতিহাস আর পুজি গড়ে ওঠার ইতিহাস আলাদা কথাটা কি ঠিক হলো?? ভারতে সামন্তবাদকে ভেঙ্গে পুজিবাদ আসেনি। একথাটা ঠিক কারন ভারতে বৃটিশ পুজির আগমন সে পথ বন্ধ করে দিয়েছে। কিন্তু তার আগে ভারতে যতটুকু পুজি কেন্দ্রীভূত হচ্ছিল তার মধ্যে পুজি সঞ্চয় এর সাধারণ নিয়ম কাজ করছিলো না সেটা মনে করবার বিশেষ কোন কারণ আছে কি?

২। সংস্কৃতি ছাড়া কিভাবে পুঁজি থাকে। তাহলেঁ পুঁজিবাদী সংস্কৃতি বলতে আমরা কি বুঝি।

পুজিবাদ সৃষ্ট সংস্কৃতি আর সংস্কৃত সৃষ্ট পুজি দুটো কি এক?? সংস্কৃতি পুজি সৃষ্টি করে এমন কথা মনে হয় তুমি বলতে চাও নাই? নাকি? প্রথমে তো পুজি সঞ্চিত হতে থাকে তারপর তার বিকাশের পরিপূরক সংস্কৃতি সে গড়ে তোলে তাই না কি??? ফলে ভারতে যখন দেশীয় পুজি গড়ে ওঠার সুযোগই পায়নি একক ভাবে তখন একক কোন সংস্কৃতি কি ভারতে জন্ম নেয়া বাস্তব?

"যে পুঁজি ভারতের সেই পুঁজি শুধু কি টাকার অর্থেই ভারতের হয়-যেমন আমাদের দেশে যে স্লোগানটি চালু আছে-দেশের পণ্য বা বিভিন্ন কর্পোরেট সংস্থা দেশীয় বিভিন্ন উৎসবে এতো তৎপর থাকে কেন। বিভিন্ন এনজিওগুলো কি করছে -আমাদের দেশের মানুষের পাশে ত্রাতা হিসেবে আবির্ভুত হচ্ছে-সামাজিক হয়ে উঠছে। পুঁজির ছলনাকে কখনোই বোঝা যাবে না তার সংস্কৃতিকে না বুঝলে।" - মার্কেটিং বলে একটা শব্দ আছে তাই না? তোমার সব দেশের পুজিই বিকাশের জন্য মার্কেটিং করে তাই না? দেশী বিদেশী সংস্থা নিজেদের পণ্য বিক্রয় বাড়াবার জন্য সক্রিয় থাকে। মানুষের পাশে ত্রাতা হিসেবে আবির্ভূত হচ্ছে সেটাও তো মার্কেটিং।

আর জেলের শোষণে ফড়িয়া দালালরা ঢুকে পড়েছে ফলে আমাদের দেশের শোষণের রূপটা কি অন্য হয়ে গেছে?
১৫. ২৬ শে আগস্ট, ২০০৯ ভোর ৪:৫৭
নিকো৮১২৩ বলেছেন: আর নারীদের ক্ষেত্রেও পুজি সেই একই আচরন করে যেটা সে আর সবার সাথে করে.....নারী শ্রম সস্তা তাই তার সাথে পুজির আচরন আর এদেশের শ্রম সস্তা তাই নিজের দেশ থেকে এদেশে আসা এটা যদি দেখ তাহলে দেখবে পুজির আচরনে মাত্রাগত পার্থক্য আছে মূলগত পার্থক্য না।
১৬. ২৬ শে আগস্ট, ২০০৯ ভোর ৫:০২
নিকো৮১২৩ বলেছেন: আর পুজির ছলনা বোঝার জন্য পুজির সাধারণ সংস্কৃতি বোঝাই কি যথেষ্ট না? পুজিবাদ যেখানে যা যেভাবে ব্যবহার করলে সবচেয়ে বেশি লাভ করতে পারবে তাই তো করছে। এর তো কোন রকমফের নাই। পরিবেশ পার্থক্যভেদে কৌশল আলাদা এর বেশি কিছু কি?
১৭. ২৬ শে আগস্ট, ২০০৯ বিকাল ৫:৩২
সালাহ্ উদ্দিন শুভ্র বলেছেন: * খালি শ্রম দিয়ে নারীকে বিচার কার ঠিক নয়। নারীর সাথে সমাজের আচরণ পুরুষতান্ত্রিক-পুঁজির আচরণও তাই। এখানে পুঁজি সমাজের বিকৃতিকেই বাড়িয়ে চলেছে।

১৮. ২৭ শে আগস্ট, ২০০৯ রাত ২:৩৬
নিকো৮১২৩ বলেছেন: খালি শ্রম দিয়ে নারীকে বিচার করা হয়ও না। সে কাজ তো অনেক আগেই বন্ধ করা হয়েছে। শ্রেণী বৈষম্য আর লিঙ্গ বৈষম্য যে এক না এবং তাদের আলোচনাও যে আলাদা কনটেক্সট এ করতে হবে এগুলো তো এখন পুরান আলাপ তাই না।
১৯. ৩১ শে আগস্ট, ২০০৯ রাত ১২:৩৪
আবু নাঈম বলেছেন: ধন্যবাদ সালাহ্ উদ্দিন শুভ্র এবং নিকো৮১২৩-কে। আমি শুভ্র-কে আনন্দের সাথে আহ্বান করব, এ বিষয়ে যদি তিনি একটি পূর্ণাঙ্গ লেখা দেয়। কারণ একটা লেখার সঙ্গে মন্তব্যের পর মন্তব্য জুড়ে দিয়ে আলোচনা চালানো এবং তা অনুসরণ করা আমার জন্য কঠিন। ফলে শুভ্র যদি তার আলোচ্য বিষয়টি নিয়ে দুর্বল হোক, সবল হোক, একটি আলাদা লেখা দেয় তাহলে আমার বা অন্য যে কারো পক্ষেই আলোচনা করা সহজ হবে। আশা করি, শুভ্র বিষয়টি ভেবে দেখবেন।
৩১ শে আগস্ট, ২০০৯ রাত ১২:৪৫

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ।
আগ্রহ জাগাতে পেরেছি বলে পরিশ্রম সার্থক মনে করছি।

 

মোট সময় লেগেছে ২.১৩০৭ সেকেন্ড

 

সামহোয়‍্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব‍্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...
© সামহোয়্যার ইন...নেট লিমিটেড | ব্যবহারের শর্তাবলী | গোপনীয়তার নীতি
'আগুনের ছবি দেখতে আগুনের মতো দেখালেও পোড়াবার ক্ষমতা থাকে না' _ আহমদ ছফা
আর এস এস ফিড

পোস্ট আর্কাইভ

আমার লিঙ্কস

আমার বিভাগ

    কোন বিভাগ নেই