কারো চোখের পানি হয়তো এতটা কঠিন নয় যে এই শিশুটার কান্না দেখে চোখে পানি আসবে না। কারো মন হয়তো এতটা শক্ত নয় যে এই শিশুটির কান্না দেখেও মন গলবে না।
সবাই সব কিছু হারিয়েছে সেই ভয়াল সিডরের আঘাতে। যে লোকটার স্ত্রী, সন্তান, মেয়ে , মা মারা গেছে, তাকেও খাবারের জন্যে আকাশের পাণে তাকিয়ে থাকতে হচ্ছে। হেলিকপ্টারের আওয়াজ ই এখন শান্তির প্রতিক। স্বজন হারানোর কষ্ট চাপা পড়ে গেল হেলিকপ্টার থেকে ছুরে ফেলা ত্রানের দিকে চেয়ে। আশা একটাই, একটা ধলে যেন আমার হাতে এসে পরে।
থাকার জন্য ভিটে মাটিটাও বিলীন হয়ে গেছে। বৃষ্টি আর ঠান্ডা বাতাস আর এখন তাদের কষ্ঠ দেয় না। কষ্ট শুধু একটাই, বাপ হারানো ছেলেটাকে খেতে দিতে না পারা। সে এখন কার জন্যে কাঁদবে? উঠোনে গায়ে চাদর মুড়িয়ে শুয়ে থাকা স্বামীর জন্যে, নাকি সে খোকনের জন্য যে কিনা মায়ের জ্বরের সময় সারা রাত জেগে মায়ের মাথায় পানি ঢেলেছিল?
যে তার প্রিয় কাউকে হারিয়েছে, সেই জানে স্বজন হারানোর কষ্ট কেমন। আমি বুঝব না তাদের কষ্ট। আমি বুঝব না ক্ষেতের মাঝে পড়ে থাকা পিতার লাশের গন্ধ। আমি বুঝব না নদীতে মায়ের লাশ ভেসে যাওয়ার কষ্ট।
যারা সেখানে গিয়ে সরেজমিনে দেখেছেন সেখানের অবস্থা, তারা জানে সে এলাকার কি অবস্থা। আসুন আমরা আমাদের সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেই তাদের জন্যে। নিজের পুরনো পোষাকটি দিয়ে আসি বিডিআর এর কেম্পে। হয়তো আপনার সেই শারী বা সার্ট টি হবে কোন আক্রান্তের মুখের হাসি। আপনি হয়তো সে হাসিটা কোন দিনও দেখেন নি। সমর্থ অনুযায়ী দিয়ে আসি খাদ্য সামগ্রী। আপনার দেয়া খাবারে হয়তো কেও এক বেলা খেতে পারে পেট ভরে।
সিডরের আঘাতে লন্ড ভন্ড এলাকার বেঁচে যাওয়া কোন একটা লোকও যেন না খেয়ে মারা না যায়, সে জন্য আমারাও কিছু একটা করতে পারি।
আপনার হাত বাড়িয়ে দিন তাদের জন্য। ওরা তাকিয়ে আছে আপনারই দিকে।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

