তখন আমি কৈশরের শেষ আর যৌবনের প্রারম্ভে। যা দেখি সবই ভাল লাগে। কোন কিছু নিয়ে রাত ভর ভেবে ভেবে দিনে গভীর ঘুমে মগ্ন হই। বিপরীত লিংগের প্রতি কৌতুহল জন্মাতে থাকে। নিজের মা ও বড় বোন ছারা অন্য কোন মেয়ের সাথেই স্বাভাবিক ভাবে কথা বলতে পারতাম না। এমন কি খালাতো, মামাতো বোনের সাথেও। কথা বলার প্রয়োজন পরলে উল্টা পাল্টা বলে ফেলতাম।
আবেগের কথা আসলে তো কথাই নেই। ভাল লাগা কোন মেয়ের সাথে কথা বলতে বুকে ভুমিকম্প শুরু হয়ে যেত। এক কথায় ভালা পুলা হিসেবে ব্যাপক সুনাম ছিল এলাকায়।
তো একদিন বৈকালে আমি আর আমার বন্ধু জয়নাল সাইকেল নিয়া শহর থেকে গেরাম এলাকায় ঘুরতে গেলাম। অনেক পুরনো হিন্দু বাড়ীর পুকুর ঘাটে বসলাম গল্প করতে। একটু পরেই দেখি একজন বড় ভাই আসলো আমাদের দিকে। উনাকে দেখে মনে হল, দুনিয়াতে কিছুই বাকি রাখে নাই। সিগারেটের ধোঁয়া থেকে নিয়া, গাঁজা মদ সব কিছুকেই তিনি জয় করেছেন।
তিনি কাছে এসেই বললেন,
তুমি আর এই এলাকায় আসবে না।
: কেন?
: আমি বলেছি তাই।
: কিন্তু কেন?
: আব্বে বেশী কথা কইবি না, হাড্ডি গুরা কইরা দিমু। কইদিন আগে জেল থেকে আইছি, তোকে মাইরা আবার জেলে যামু।
আমি এই ধমক শুইনা বিরাট ভয় পাইছি। জয়নাল বললো, ঠিক আছে আমরা আসবো না এই এখানে। তো কেন আসবো না সেটা তো বলেন।
তিনি বললেন,..........(নাম কমু না) ওর লগে পিরীত করার সাহস করছে ও।
আমি বললাম, কার লগে?
অমুকের লগে। এর লগে পিরীত করার লাইগা অমুক আমার লগে যোগাযুগ করে না।
আকাশ থেইকা পড়লাম আমি। এই ভিতু পুলাডারে আবার কেডায় ভালা পাইলো।
আমি কইলাম, ভাই ও যদি আমারে ভালা পাইয়া আপনারে ভুলে যায়, তাহলে সেটা আপনার ব্যার্থতা।
আবার কথা কস!!
আরেকটা ধমক খাইয়া ঠান্ডা হইয়া গেলাম।
মেয়েটার নাম লইয়া চলে এলাম। যারে আমি চিনি না ওর লাগে আমার পিরীত হয়ে গেছে। ঘটনা জানতে অভিযানে লাগলাম। মিশন শেষে ফলাফল এই হলো যে মাইয়াটার লগে আসলেই আমার ভালা খাতির হয়ে গেছে।
অন্য কাউকে ভেবে বড় ভাইটা আমাকে কিছুক্ষন ধমকাইয়া উনার পোড়া কলিজার ছাই ঝেরেছেন।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

