ক্লাস ফাইভে পড়ি। ১৬ লাইনের কবিতা মুখস্ত করতে পারার আনন্দের বয়স। সবার আগে অংক কষে স্যারকে দেখিয়ে সাব্বাস পাবার বয়স। রোল নং কম্পিটিশানের বয়স।
তো বকুল ভাইয়ের মটর সাইকেলে চড়ার খুব সখ হলো। যখন বকুল ভাই এস এস সিতে পড়ে। বয়স কম বলে বড় ভাইয়েরা তার হাতে মটরসাইকেলের চাবি দেয় না, পরে হাত পা ভাংবে বলে।
একদিন আমি আর সেলিম মিলে ধরলাম বকুল ভাইকে আমাদেরকে মটরসাইলে চড়ানোর জন্য। বহুম চিন্তা ভাবনা করে বকুল ভাই রাজি হলেন। তবে একটা শর্ত দিলেন।
শর্তটা হল সুইটি আপাকে একটা চিঠি পৌছিয়ে দিতে হবে আমাদের দুজনকে। সরাসরি হাতে হাতে দিতে হবে। আর এইটা যেন কেউ জানতে না পারে। যদি জানে তাইলে আমাদের দোজনের খবর আছে নাকি।
ছোট্ট একটা কাম আমরা ওয়ার টুতেই করে ফেললাম। সুইটি আপার বইয়ের ভিতরে চিঠি খানা দেখে এসে বললাম সুইটি আপার হাতে পৌছে দিয়েছি।
এইবার আমাদের মটরসাইকেল চড়ার পালা। আন্টিকে পটিয়ে চাবি নিল বকুল ভাই। সেলিম বকুল ভাইয়ের সামনে বসলো আমি পিছনে বসলাম। কিছুক্ষন ঘুরিয়ে বকুল ভাই বললেন, যা এইবার তোরা যা। আমরা বললাম না আমরা যাব না। আরো অনেক ক্ষন ঘুরাতে হবে।
বকুল ভাই রাজি হল। কিন্তু স্টার্ট হচ্ছে না। ব্রেক করার সময় স্টার্ট বন্ধ হয়ে গিয়েছিল।
আমাদেরকে বললো, দে তোরা ধাক্কা দে।
ধাক্কা দিচ্ছি...দিচ্ছ... দিচ্চি মাগার স্টার্ট হচ্ছে না।
বকুল ভাই বললেন আরো জোরে দে।
এইবার দুইজনে জোরে ধাক্কা দিলাম। আমরা দৌরাচ্ছি..............................
বু..ম...... বু...ম.........স্টার্ট হল....
আমরা দৌড় কে নিয়ন্ত্রন করতে পারলাম না। উপুর হয়ে পড়ে গেলাম পাকা রাস্তায়।
প্রথমে কিছু হয়নি। একটু পরে দেখি রক্ত বের হচ্ছে। রক্ত দেখে আমরা উভয়েই কান্না শুরু করে দিলাম।
এর পরে যতবারই মটরসাইকেল চালিয়েছি ছোট্ট কালের কথাটা মনে পড়েছে।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

