এখনো এ বাড়ীর বাতাসে
মৃত্যুর চিৎকার বেজে যাচ্ছে
জমাট বাঁধা রক্তের নদী--ঘরের মেঝেতে--দাওয়ায়--উঠোনে
ছেঁড়া পোশাকের টুকরোগুলো
এখানে-ওখানে উড়ে বেড়ানো কয়েক গাছা দীঘল-কেশ
এদিক-ওদিক উল্টে-পাল্টে যাওয়া যৎসামান্য আসবাব
মাটিতে গড়ানো একটি হুঁকো--তান্ডবের সাক্ষী হয়ে আছে।
---'তোমরা অন্য কোথাও চলে যাও
ছেলে যুদ্ধে গেছে জানাজানি হলে প্রাণে বাঁচবেনা'
স্বজনেরা বলে।
---'কোথা যাবো?
দুই বুড়ো-বুড়ি,সন্তান-সম্ভবা পুত্রবধু,সোমত্ত মেয়ে
বাতের ব্যথা--হাঁটতে কষ্ট হয়
যাবার উপায় নেই
যা হয় হবে,এখানেই থাকি
তবুতো নিজের ঘর-বাড়ী।'
এই আপাত-উদাসীনতার আড়ালে
দুশ্চিন্তার পোকারা কুরে কুরে খায়-----
চোরা-রহমত রাজাকারে নাম লিখিয়েছে
একবার বাজারে হাত-সাফাইর সময়
হাতে-নাতে ধরে দিয়েছিল তার ছেলে;
সে কথা এখনো কি রহমতের মনে আছে?
অবশেষে নরকের দূতেরা ঠিকই আসে---
পাশবিক-নৃশংসতা থেকে আসন্ন-প্রসবা বধুটিও রক্ষা পায়না
রক্ষা পায়না--প্রায় বৃদ্ধা রমনীটিও;
বৃদ্ধ-বৃদ্ধা এবং বধুটির গুলি খাওয়া লাশ পড়ে থাকে।
তুলে নিয়ে যায়--সোমত্ত মেয়েটিকে।কোথায়?
তা আর কোনদিনই জানা হয়না।
যুদ্ধ এখনো শেষ হয়নি।ছেলে বাড়ী ফেরেনি।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

