স্বাধীনতা পরবর্তী সমস্ত নির্বাচনের রেকর্ড ভঙ্গ করে একচেটিয়া জয়লাভ করেছে বর্তমান নির্বাচিত সরকার।এই নির্বাচিত সরকারের কাছে বাংলাদেশের প্রতিটি মানুষের প্রধানতম দাবী---যুদ্ধাপরাধীদের বিচার। এব্যাপারে সরকারের আগ্রহী সদিচ্ছা আমাদের আশাবাদী হতে সাহায্য করেছে বৈকি।কিন্তু সরকারের উপর সব ভার ছেড়ে দিয়ে আশাবাদী অপেক্ষায় বসে থাকলে আমাদের চলবেনা।এ ব্যপারে সরকারকে সর্বতোভাবে সহযোগিতা করতে হবে আমাদের।একাত্তরের প্রতিটি বিশ্বাসঘাতক দেশদ্রোহীর বিচার যাতে সুনিশ্চিত হয় সেদিকে সজাগ দৃষ্টি রাখতে হবে আমাদের সবাইকে--যাতে একটাও যুদ্ধাপরাধী কোন ফাঁক গলে বেরিয়ে না যেতে পারে বিচারের আওতা থেকে।নিষিদ্ধ করতে হবে ওদের সমস্ত রাজনৈতিক কর্মকান্ড যাতে আবার সংগঠিত হয়ে মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে না পারে।
গ্ণতান্ত্রিক সরকার জনগণের জন্য --জনগণের দ্বারা--জনগনের মধ্য থেকে নির্বাচিত সরকার। কাজেই গণতান্ত্রিক সরকারের প্রতিটি কর্মকান্ডে জনতার সমর্থন এবং অংশগ্রহণ অপরিহার্য।এটা আমাদের গণতান্ত্রিক অধিকার।আর এই অধিকার রক্ষায় সচেষ্ট থাকতে হবে আমাদেরই।নির্বাচনের পরেই নির্বাচিতরা যাতে আমাদের ভুলে না যান--সেটা আমাদেরই দেখতে হবে।এ যাবত কাল আমরা দেখে এসেছি নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরা কিভাবে --কত তাড়াতাড়ি জনগণের কথা ভুলে গেছেন।গণতন্ত্রের লেবাসে স্বৈরশাসনের পরাকাষ্ঠা এদেশের মানুষ কম দেখেনি।বিগত তথাকথিত নির্বাচিত সরকারের আমলের স্বৈরাচারী কর্মকান্ড-উদ্ভুত পরিস্থিতিতে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের ক্ষমতা গ্রহণ ----দুই দুইটা বৎসরের শ্বাসরুদ্ধকর পরিবেশের কথা আশাকরি সবার মনে এখনো তরতাজা।বর্তমান সরকারের কাছে আমরা এমনটি প্রত্যাশা করিনা--তাদের প্রতি আমাদের আস্থারও অভাব নাই।তারপরেও আর যাতে এমন পরিস্থিতির উদ্ভব না হয় তা দেখতে হবে--সতর্ক থাকতে হবে---নিশ্চিত করতে হবে এদেশের জনগণকেই।সরকারের প্রতিটি উন্নয়নমূলক কর্মকান্ডে সহযোগিতা করা যেমন আমাদের কর্তব্য--তেমনি সরকার তথা কোন জনপ্রতিনিধির অন্যায় কর্মতৎপরতায় প্রতিবাদ এবং প্রতিরোধে সোচ্চার হওয়াও আমাদের নাগরিক দায়িত্ব।জনপ্রতিনিধিরা জনগণের মাঝখান থেকেই ঊঠে এসেছেন---ভিন্ন কোন গ্রহ থেকে নয়।আমরা সবাই যেমন ভালমন্দে মেশানো মানুষ--ওরাও তাই।আমাদের প্রায় সকলের মাঝেই কমবেশী অপরাধ-প্রবণতা,লোভ-লালসা আছে।
যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের জন্য এদেশের আপামর জনতা যেভাবে একই প্লাটফরমে জড়ো হয়েছে ---মৌলিক অধিকার রক্ষার প্রতিটি ক্ষেত্রে এভাবে একতাবদ্ধ থাকলে এদেশে গণতন্ত্রের পূর্ণাঙ্গ প্রতিষ্ঠা অসম্ভব কিছু নয়।
রাষ্ট্রের কাছে আমরা কি চাই?চাই সুন্দর-নিরাপদ সামাজিক জীবনের নিশ্চয়তা।সন্ত্রাসবিহীন,অন্যায়-অবিচারের বাইরের নিরাপদ সমাজ ব্যবস্থা।আইনের যথাযথ প্রতিষ্ঠা ও প্রয়োগ।কিন্তু এসব চাহিদা পূরণে আমাদের নিজেদের দায়িত্ব এবং ভূমিকা কতটুকু ---তা কি আমরা ভেবে দেখি?উন্নত বিশ্বের আইন-কানুনের উদাহরণ বা উপমা আমাদের মতো দারিদ্রপীড়িত জনগোষ্ঠীর জন্য খানিকটা হাস্যকরও বটে।যে দেশের অধিকাংশ মানুষ অক্ষরজ্ঞানহীন তারা আইন-কানুন ,রীতি-নীতি জানবে এবং মানবে এটা মনে হয় অতিকল্পনা হয়ে যায়।কিন্তু আমরা যারা তথাকথিত শিক্ষিত সমাজ--আমাদের মাঝে কতজন শতভাগ আইন মেনে চলি?আমরা আইন-কানুনের চর্চা করলে এবং শিক্ষাবঞ্চিত দরিদ্র জনগোষ্ঠীকে এব্যাপারে সচেতন করে তুললে ওরাও আইন মেনে চলতো বলেই দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি।ওরা চুরি-ছিনতাইয়ের মতো বেআইনী কাজগুলো করে সীমাহীন অভাবের তাড়নায়,অন্যায় করে অজ্ঞতার জন্য।
এসব নিম্নবিত্তরা চুরি করে অভাবে আর উচ্চবিত্তরা চুরি করে ,
অন্যায় জেনেও --লোভের স্বভাবে।
সামাজিক নিরাপত্তার প্রশ্নটি আসলেই আইনপ্রয়োগের প্রশ্নটি আসে।আমাদের দেশও আইনের বাইরে নয়--দেশে আইন-কানুন আছে ঠিকই কিন্তু তা মেনে চলার অভ্যাস তৈরি হয়নি আমাদের।শুধু আইন থাকলেই হয়না ---নিজেদের নীতিবোধ এবং বিবেককে জাগ্রত না রাখতে পারলে আইন শুধু কাগজের পৃষ্টায়ই লিপিবদ্ধ থাকবে। আইন প্রয়োগকারী সংস্থার দায়িত্ব আইনের সুষ্ঠূ প্রয়োগ--আইনভঙ্গকারীর দৃষ্টান্তমূলক কঠোর শাস্তি বিধান যাতে একই অপরাধ দ্বিতীয়বার কেউ করার সাহস না পায়।এই শাস্তিবিধান প্রক্রিয়ায় আইনপ্রয়োগকারী সংস্থাগুলোকে সক্রিয় সহযোগিতা করা আমাদের নাগরিক দায়িত্বের মাঝেই পড়ে।সমস্ত অন্যায়-অবিচারের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুললে অন্যায়কারী কখনো মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে পারবেনা।
আসুন আমরা সকলে মিলে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের পাশাপাশি সমস্ত অন্যায়-অবিচারের বিরুদ্ধে সোচ্চার হই---দৃঢ় সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলি যাতে সমস্ত দুর্নীতি-সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের আবর্জনা মুক্ত করে একটি সত্যিকারের নিরাপদ --সুন্দর সমাজ প্রতিষ্ঠা করতে পারি।
সর্বশেষ এডিট : ০৫ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ বিকাল ৩:৪৪

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



