আপনার আদরের ছেলে মেয়ে মোবাইল ফোন দিয়ে কি করছে, কি হচ্ছে একটু খোঁজ নিন। আমি গতকালের দেখা একটি ঘটনা এখানে উল্লেখ করছি বিষয়টি সম্পর্কে ধারণা দেবার জন্য।
.
.
.
.
মোবাইলে টাকা লোড দিতে একটি দোকানে যাই, প্রায়ই খানিকটা সময় বসি। এর মধ্যে অনেকের সাথে কথা হয় বিভিন্ন বিষয়ে। গতকাল বিকালে গিয়েছি টাকা তুলতে। একজন এলো হন্তদন্ত হয়ে। ঐ দোকানে আবার কম্পিউটারে রিংটোন, মুভি কিপ ইত্যাদি দেয়া হয়। উঠতি বয়সের ছেলে, কত হবে বয়স। ১৪ থেকে ১৬ হবে হয়তো। দোকানীকে বলছে ভাই নতুন যে লুকাল ক্লিপটা এসেছে তা লোড দিতে কত নিবেন। আমি চুপচাপ তাদের দরদাম শুনছি। ২০ টাকা লাগবে। দোকানীর উত্তর। কোন কথা নেই, ২০ টাকা দোকানীর সামনে রাখলো আগন্তক ছেলেটি। মূহুর্তের মধ্যে কাজ শেষ করে চলে গেল সে। রাজ্য জয়ের হাসি আর ব্যস্ততা দেখে আমার কেন জানি কৌতুহল হলো। দোকানীকে এক ফাকে জিজ্ঞাসা করলাম ভাই, ছেলেটি কি নিয়ে গেল? দোকানী আমতা আমতা করে বলল, ভাই বলতে লজ্জা হচ্ছে, পাট ক্ষেতে তোলা ৯মিনিটের একটি লুকাল এডাল্ট ক্লিপ গতকাল এসেছে, পাত্র পাত্রী স্থানীয়, এরই মধ্যে প্রায় ২৫০ টি লোড দিয়েছি। আমি জিজ্ঞাসা করলাম, ভাই ক্লিপটিতে কি আছে, সে যা জানালো তাতে আমি অবাক হলাম। কৌতুহল দমাতে না পেরে নিজেই যা দেখলাম! সত্যি আমরা প্রযুক্তির ছোঁয়ায় কতদুর এগিয়েছি। পাট ক্ষেতের আদিম লীলাও এখন মুঠোফোনের বদৌলতে আমাদের আদুরে সন্তানদের বাহারী মোবাইলে চলে যাচ্ছে। আর এটা তারা করেছে স্থানীয় কোন পাটের ক্ষেতের দিনের আলোতে, দক্ষ ক্যামেরাম্যানের মতোই ধারণ করা দৃশ্যাবলী দেখলে মনে হবে না যে এটি ক্যামেরা ফোনে ধারণ করা । একজন ধারণ করেছে সেই আদিম দৃশ্যাবলী, লজ্জাবতী! অসহায় মেয়েটি ছবি তুলতে বাধা দিয়েও পারছে না। দু তিন মিনিট দেখার পর আমি সেখান থেকে চলে এলাম। কোথায় চলেছি আমরা? সচেতন অভিভাবক, ছেলে মেয়ের আব্দার রক্ষা করতে তাদের আমরা কোথায় নিয়ে যাচ্ছি একবার ভেবে দেখবেন।
ভালই হলো আমাদের আর বিদেশ থেকে এসব আমদানী করতে হবে না।
সর্বশেষ এডিট : ২২ শে সেপ্টেম্বর, ২০১০ সন্ধ্যা ৬:১৪

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



