গত দু’দিন দুটো সুঅভ্যাস নিয়ে আলোচনা করেছিলাম। আজকে আরেকটা গুরুত্বপূর্ন দিক অঙ্গীকার নিয়ে আলোচনা করবো। আমাদের যতগুলো অভ্যাস আছে তার মধ্যে অঙ্গীকার করা অন্যতম। আমরা বুঝি বা না বুঝি কথায় কথায় অঙ্গীকার বা ওয়াদা করতে কার্পন্য করি না । কিন্তু সেই অঙ্গীকার ভঙ্গ করতেও কার্পন্য করি না। এটার গুরুত্ব আমাদের উপলব্ধিতে আসে না । আসলে আমরা আমাদের অনেক অভ্যাসে ই পারিপার্শ্বিকতা দ্বারা প্রভাবিত হই। আমরা আমাদের আশেপাশে দেখি একজন লোক বলছে আপনার সাথে আগামীকাল দেখা হবে। কিন্তু আগামিকাল আর সেই লোকের দেখা পাওয়া যায় না। আবার আমাদের নেতারা অনেক ওয়াদা করেন – কিন্তু তা পূর্ণ করেন না। আমরা ও তাই করি । অন্যে যা করে তাই করে করে আমরা ভুল ও শুদ্ধ এর ভেতর প্যাচ লাগিয়ে দেই । একজন লোককে আমি যে অপেক্ষা করতে বললাম, সে যে আমার জন্য অপেক্ষা করে থাকলো এতে তার কি পরিমাণ ক্লেশ ও কষ্ট হচ্ছে তা আমরা বুঝতে পারি না । পারি , যখন আমাদেরকেও তেমনি অপেক্ষায় থাকতে হয় । আসলে অঙ্গীকার কি? অঙ্গীকার হচ্ছে কাউকে কোন কথা দেয়া, কোন কাজ করার জন্য বা দেখা করার জন্য বা যে কোন উদ্দেশ্য নিয়ে কারো সাথে ওয়াদা করা ।
আমরা অনেক কথাই খেলাচ্ছলে নেই । আমরা বলার উদ্দেশ্য নিয়ে বলি । তার মধ্যে কোন কর্মযোগ থাকে না । যেমন :
আমরা কাউকে বলি তোমাকে এটা কিনে দেবো।
তোমাকে এটা এনে দেবো।
তোমাকে ওমুক স্থানে নিয়ে যাবো।
তোমাকে ওটা করে দেবো।
তুমি কাল ওখানে ৫টার সময় থাকবে আমি দেখা করবো।
তোমাকে কাল টাকা দেবো ।
..... ইত্যাদী কথাগুলো কিন্তু সবই গুরুত্বপূর্ন হয়ে যাচ্ছে । যতক্ষন এগুলো মনের মধ্যে থাকছে ততক্ষন এগুলোর তেমন গুরুত্ব নেই, কিন্তু যখনই এগুলো আমাদের মুখনিসৃত হচ্ছে এবং অপরপক্ষ তা শুনতে পাচ্ছেন তখনই এগুলো সব মূল্যবান অঙ্গীকারে পরিণত হচ্ছে। আমাদের ওপর দায়িত্ব বর্তাচ্ছে এগুলো সব পূরন করা। কেন অঙ্গীকার পূরন করতে হবে? ওয়াদা ভঙ্গ করার পাপ পূন্যের কথা বাদ দিলাম । কারন আমরা অনেকে পাপ পূন্যকে আমলে নিতে চাই না। পার্থিব বা সামনের কারনগুলো দেখুন:
অঙ্গীকার পূরণ না করে আসলে আমরা নিজেকেই অস্বীকার করছি। নিজের মূল্য নিজে নষ্ট করার মাধ্যমে নিজেকে হীন মানুষে পরিণত করা হচ্ছে।
অপরকে কষ্ট দানের মাধ্যমে আসলে আমরা নিজের কষ্ট পাওয়ার পথকে প্রশস্ত করছি।
মানুষের কাছে নিজেকে ওয়াদা ভঙ্গকারী হিসাবে চিহ্নিত করছি।
নিজের কথাকে মূল্যহীন করে তোলা। যেমন: আমরা অনেকের বেলায় বলি – ওর কথার তো কোন দামই নেই । একে দিয়ে কিছু হবে না। তেমনি আমাকে নিয়েও অনেকে তাই ভাবে।
আসলে আমাদেরকে নিজেদের কথার দিকে তাকাতে হবে। নিজেদেরকে বুঝতে হবে আমরা মানুষ হিসাবে সৃষ্টির সেরা জীব । আমাদের কথার গুরুত্ব আছে বিধায় আমাদের ওয়াদারও মূল্য আছে। শুধুমাত্র একটু চিন্তাভাবনা করে যদি কথা বলি তাহলে দেখবো আমাদের কথা আমাদের বাস্তবতা প্রকাশ করবে। নতুন বাস্তবতা সৃষ্টি করবে আমাদের মূল্যবান কথা বা ওয়াদা। আমরা কাজ করার আগে যদি ভাবি তাহলেই সমস্যা থাকে না । বুদ্ধিমান মানুষ কাজ করার আগে ভাবে আর বোকারা ভাবে দেরীতে বা পরে। আর ওয়াদা বা অঙ্গীকার রক্ষাকারীরা পৃথিবীর সর্বক্ষেত্রে প্রসংশিত ও পুরস্কৃত হন।
আল্লাহতাআলা পবিত্র কোরানে বলেছেন:
--- হে বিশ্বাসীগণ, ওয়াদা অবশ্যই রক্ষা করতে হবে। --সূরা মায়েদা : ১
আসলে ওয়াদা রক্ষাকারী হবার জন্য আমাদেরকে নিয়মিত অনুশীলনী বা চর্চা করতে হবে। আমরা টাকা পয়সা সংক্রান্ত ওয়াদা ভঙ্গ সবচেয়ে বেশী করি। টাকা পয়সার ব্যাপারে যদি আমরা একটু সতর্ক থাকি তাহলে এ সমস্যা হয় না। আমরা:
১। আজকে যে কথাগুলো বললাম তা মূল্যায়ন করে তার মধ্যে যত ছোটই হোক যে ওয়াদাগুলো আছে তা চিহ্নিত করতে পারি ।সেগুলো পালনের ব্যাপারে সচেষ্ট থাকতে পারি ।
২। যেটা পারবো না তা না বলা থেকে বিরত থাকবো। যা পারবো না বা করবো না তার জন্য দৃঢ়তার সাথে না বলার প্রাকটিস করবো। অনুরোধে ঢেকি গিলবো না।
৩। ধার কর্জ থেকে বিরত থাকার চেষ্টা করবো। কারন এগুলো আমাদের ওয়াদা করায় ও তা ভঙ্গ করায় সবচেয়ে বেশী।
আসুন আমরা চেষ্টা করি নিজেদেরকে সঠিক মানুষে পরিণত করতে। অন্তত রোজা রেখে আপনাদের ওয়াদাগুলো পূরণ করুন। না হলে রোজার গুরুত্ব অনেকটাই কমে যাবে। আপনার রোজাকে সত্যিকারের মানুষ হওয়ার ট্রেনিং হিসাবে ব্যবহার করুন। দেখবেন পরবর্তী দিনগুলোও সুন্দর হচ্ছে।
ধন্যবাদ । আগামীকাল আবার দেখা হবে।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



