আমার প্রিয় পোস্ট
- গভীর রাতে কয়েক কিশোরের অ্যাডভেঞ্চার - ক্যাডেট নম্বর ৯৯৯
- এ ছবি আপনাকে দেখতেই হবে! আপনি এদেশের মানুষ নন? - তীরন্দাজ
- Joni, Joni please don't cry - রোবট রাজকন্যা
- আমি নিজেই যখন ঈশ্বর হয়ে যাই /বিহংগ। - বিহংগ
- সব বাবারা দেখতে এক রকম! - মানবী
- বঙ্গবন্ধু কি সত্যিই দালালদের ক্ষমা করেছিলেন? আসুন নতুন করে ট্রুথ কমিশন গঠনের দাবি জানাই - শওকত হোসেন মাসুম
আলজাজিরা টিভিতে করাচির বোমা হামলা দেখতে দেখতে
১৯ শে অক্টোবর, ২০০৭ রাত ২:৩২
বিভত্স দৃশ্য। নৃশংস হত্যাকান্ড নাকি গণহত্যা? রক্ত রঞ্জিত একজন একপায়ে লেংচাতে লেংচাতে ঘটনাস্থল থেকে পালাতে চাইছে। ইতস্তত, বিক্ষিপ্ত ছড়ানো ছিটানো মৃতদেহ।
বেনজির ভুট্টোকে নিয়ে সমর্থকদের গাড়িবহরের মিছিলটি ধীর গতিতে এগুচ্ছিল। মাঝখানে আকষ্মিক বিস্ফোরণ। আগুনের গোলা উঠে গেল আকাশের দিকে।
রাত দেড়টা থেকে আলজাজিরার ব্রেকিংনিউজে বেনজিরের গাড়িবহরে হামলার খবরটি দেখতে দেখতে যেমন লাগছিল তাই শেয়ার করছি ব্লগের বন্ধুদের সঙ্গে। এর কিছুক্ষণ আগেই পোস্ট করেছিলাম একটি নতুন ব্লগ 'একটি বিতর্ক : কে জিতলেন বেনজির নাকি মোশাররফ?'। পরমুহূর্তে টিভির পর্দায় বোমা হামলার লাইভ সম্প্রচার দেখতে দেখতে আগের পোস্টটি রীতিমতো ডেড হয়ে গেল। ওই বিষয়ে নিজেরই এখন এই মুহুর্তে বিতর্ক করতে ইচ্ছে করছে না।
খবরে কেউ বলছে ৭ জন, কেউ বলছে ৩০-৩৫ জন নিহত। বেনজিরের খুব কাছেই হামলাটি হয়। তিনি অবশ্য অক্ষত আছেন। বেনজির জঙ্গিদের বিরোধীতা করে আসছেন জোরালোভাবে। তাই তিনি তাদের লক্ষ্যে পরিণত হয়েছেন!
মনটা ভীষণ খারাপ হয়ে গেল। টিভির পর্দায় দেখতে দেখতে চোখে ভাসছিল রমনা বটমূল, পল্টন, যশোর, ময়মনসিংহের সিনেমা হল, বঙ্গবন্ধু এভিনিউ, শাহজালালের মাজারের বিভত্স দৃশ্যগুলো। ঢাকা, সিলেট, যশোর, করাচি, লন্ডন, মাদ্রিদ, নিউইয়র্ক- বিশ্বের সর্বত্র আজ জঙ্গিবাদের থাবা। ইসলাম ধর্মের নামে এভাবে মানুষ হত্যা? আমিও এসব স্থানের কোনোটিতে থাকতে পারতাম। আপনিও। কিম্বা আমার-আপনার বাবা, মা, সন্তান যে কেউ এর শিকার হতে পারেন।
কি করবো আমরা? এই হত্যাকারীদের হাতে জিম্মি হয়ে থাকবো? নাকি রুখে দাঁড়াবো? কিভাবে রুখবো এই সন্ত্রাসবাদ?
প্রকাশ করা হয়েছে: রাজনীতি বিভাগে ।
লাল দরজা বলেছেন:
হা খোদাতালা অশ্রু প্রথম মন্তব্যটাই এমন করলেন। শুনেই মনে হয় মুখস্ত কথা, হিম শীতল অনুভূতি হীন। ভাই আপনাদের কল্পনা শক্তির প্রসংশা(!) করি। সরি ম্যান।
নিজেরআয়না বলেছেন:
রাত তিনটা পাঁচ মিনিটে আলজাজিরা জানাল, কমপক্ষে ৮৫ জন নিহত এবং আহত ১৫১ জন। করাচির হাসপাতালগুলো রক্তের জন্য মধ্যরাতে নাগরিকদের কাছে আহ্বান জানাচ্ছে।
শামনগড় বলেছেন:
হাসিনা, বেনজির জানিনা তয় আমগো টানবাজার সম্রাট শামীম ওসমান এইরকম একটা ঘটনা ঘটাইয়া ইলেকশনে জিতছিলো........এটা অধুনা পলিটিক্সের একটা মোক্ষম অস্ত্র।
এস্কিমো বলেছেন:
শাবাশ, শামনগড়...
একটু আগে বিবিসি তে খবর টা পড়লাম।
বোমা হামলা বিষয়টার সাথে ইসলামের নাম জড়িয়ে দিয়ে এই সন্ত্রাসী দলগুলো আসলে কার জন্য কাজ করছে?
গজ কচ্ছপ বলেছেন:
এই হামলাকারীরা এতদিন বাঙলাদেশ, কাশ্মীর, ইত্যাদি জায়গায় হাত মকশো করেছে, এবার নিজের ঘরেই আসল যুদ্ধ করবে। আই-এস-আই ছাড়া আর কে? বেনজীর ক্ষমতায় এলে কাদের সবচেয়ে বেশি ক্ষতি? প্রগতিশীল পাকিস্তানিদের অবস্থা আমাদের মতই করুণ। দুঃখের বিষয় তারাও একজন সৎ নেতা খুঁজে পাচ্ছেনা! পাকিস্তান আর বাঙলাদেশ দুটোরই সামরিক বাহিনী একযোগে ভষ্মীভূত করে দিতে পারলে উপমহাদেশের বেশীর ভাগ সমস্যার সমাধান হয়ে যেত।
নিজেরআয়না বলেছেন:
আজ দুপুরে (বেলা পৌনে একটা) জানা গেল মৃতের সংখ্যা ১২০ ছাড়িয়েছে। বেনজিরের আদর্শ, মত ও পথের সঙ্গে একমত না হলেও এই নৃশংস বোমা হামলার নিন্দা জানাই। বেনজির, নওয়াজ, শেখ হাসিনা বা খালেদা জিয়া- ব্যক্তি মানুষ, তাদের নিজস্ব দল ও সমর্থক আছে। পরস্পরের মত পথের পার্থক্য আছে। এদের সবার বিরুদ্ধে যেসব দুর্নীতির অভিযোগ আছে তাও একেবারে অসত্য নয়। এ নিয়ে আলাদা বিতর্ক হতে পারে। গজ কচ্ছপ আপনি কি জানেন, আশির দশকের শেষে তালেবানদের পৃষ্ঠপোষকতা দিয়েছেন বেনজির। এই দায়িত্ব স্বীকার করে তিনি ক্ষমাও চেয়েছেন। বাংলাদেশে যেমন জঙ্গিদের পৃষ্ঠপোষক ছিল বিএনপি-জামায়াতের জোট সরকার। আওয়ামী লীগ তাদের শাসনামলে জঙ্গিদের লালন-পালন না করলেও এড়িয়ে গেছে। মোকাবিলা করেনি। দেখা যায়, শুধু সামরিক শাসকদের এজন্য দায়ী করা যায় না। গণতন্ত্রের তথাকথিক ধ্বজাধারীরা কোনো অংশে কম যাননি। সারা বিশ্বে প্রকৃত গণতান্ত্রিক ও সত্ নেতা খুবই কম। নেলসন ম্যান্ডেলা একটা শতাব্দীতে খুব বেশি জন্মান না।
আসলে ব্যক্তির সততার উপর বেশি জোর না দিয়ে প্রক্রিয়াটা স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক করা জরুরি। আর সেটা করা গেলে গণতন্ত্রেরও অনেকটা অর্জন করা যায়।
আমি অশ্রু ও শ্যামনগড়ের মন্তব্যের সঙ্গে একমত নই। বেনজির বা হাসিনা যদি নিজেদের জীবনের ওপর ঝুঁকি নিয়ে এরকম বোমা হামলার কথা ভাবতে পারেন, তাহলে খালেদা বা নিজামী তেমন ঝুঁকি নেন না কেন? কেন শুধুই হাসিনা, শামীম ওসমান, উদীচী, সিপিবি, ছায়ানট, ব্রিটিশ হাইকমিশনারের ওপর হামলা হয়? কেন খালেদা, নিজামী, আমিনী বা শিবির, সৌদি কূটনীতিকের ওপর হামলা হয় না? আর এখন যখন মুফতি হান্নান, বাংলা ভাই, শায়খ আবদুর রহমান এরকম হামলার কথা নিজেরা স্বীকার করেন তখন আপনাদের মন্তব্য বা দৃষ্টিভঙ্গী রাজনৈতিক পক্ষপাতদুষ্ট।
আজকের বিশ্ব ইসলামের নামে একদল জঘন্য জঙ্গিগোষ্ঠীর হাতে জিম্মি। জন্মদাতা মার্কিন আর ব্রিটিশ শাসকরাই এখন এই জঙ্গিদের আক্রমণের লক্ষ্য। জঙ্গিদের আমরা কিভাবে মোকাবিলা করবো, শুধু আইনশৃঙ্খলার সমস্যা হিসেবে দেখবো কিনা, বাংলা ভাই, আবদুর রহমানকে ফাঁসি দিয়ে বা লাদেনকে হত্যা করেই এই সমস্যার সমাধান চিরতরে সম্ভব কিনা- এসব বিষয় নিয়ে সুস্থ বিতর্ক ও সমাধান প্রয়োজন। জঙ্গি মতাদর্শ জন্মের উর্বর ক্ষেত্র তৈরি করে বা রেখে ব্যক্তি জঙ্গি নির্মূল কতোটা বাস্তবসম্মত তাও ভাবতে হবে। এই সমস্যার স্বল্প মেয়াদী বা দ্রুত সমাধান নেই। অথচ বুশ-ব্লেয়ার-গর্ডন কিম্বা আমাদের সরকার প্রকৃত সমাধানের উদ্যোগ না নিয়ে জঙ্গিদের ফাঁসি দিয়ে বা হত্যা করে বাহবা নিচ্ছে! আর বিশ্বে প্রতিদিন, প্রতিঘন্টায় হয়তোবা মিনিটে জন্ম নিচ্ছে আরও আরও নতুন জঙ্গি।


















