নুরনাহারের ভালবাসা ও দ্বিতীয় সংসার।
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
Tweet
লেখাটা বেশ বড় হয়ে গেছে। আশা করি ধৈর্য নিয়ে পড়বেন। যদি কারো ধৈর্যচ্যুতি ঘটে তাহলে লেখককে ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখার অনুরোধ রইল।
আমি তোমাকে দিতে চেয়েছিলাম আমার একান্ত মৌলিক ভালবাসা
যে ভালবাসার স্বত্ব শুধুমাত্র আমারই আছে
দিতে চেয়েছিলাম, আমার লেখা একমাত্র কবিতাটি
আমার বাগানের একমাত্র ফুল, যেটি শুধুমাত্র তোমারই জন্য ফুটেছিল।
যার জন্য আজন্ম অলস এই আমি খেটে মরেছি রাতদিন।
তোমাকে দিতে চেয়েছিলাম সোনালী নৈ:শব্দে ভরা কিছু শব্দমালা
যা আমি প্রকাশ করব শব্দহীন বর্নসমষ্টিতে, তোমার গভীর
গাঢ় দুচোখে চোখ রেখে। প্লাবন ডাকাতে চেয়েছিলাম তোমার
অবশ হয়ে যাওয়া দেহের প্রতিটি কোষ থেকে কোষে
যেভাবে সমাজতন্ত্রীরা বিপ্লবের ডাক দেয় মুষ্ঠিবদ্ধ হাতে
বিদ্রোহী প্লাকার্ড হাতে নিয়ে।
আমার কবিতার মর্মার্থ বুঝতে তুমি ব্যর্থ হয়েছ
আমার বাগানের একমাত্র ফুলটি তোমার হাতে যাওয়া মাত্র
মৃত্যুবরন করেছে। যেফুল একবারই মাত্র ফোটে
আমার শব্দহীন ভালবাসার একান্ত প্রকাশভঙ্গি বুঝতে
তুমি ভুল করেছ, অত্যন্ত করুন ভাবে
তোমার শুকিয়ে যাওয়া কোষ জাগাতে আমি ব্যর্থ হয়েছি প্রচন্ডভাবে।
বুঝে গেছি আমি,
আমার মৌলিক ভালবাসা পাওয়ার যোগ্য তুমি নও
হতে পারনি এখনও
যে ভালবাসার স্বত্ব শুধুমাত্র আমারই আছে।
- (সাইফুল ইসলাম)
চারটি অক্ষরের সমন্বয় খুব ছোট একটি শব্দ 'ভালবাসা" যাকে আরবী ভাষায় মুহাব্বত ও ইংরেজী ভাষায় Love বলে। যার অর্থ হচ্ছে, অনুভূতি, আকর্ষণ, হৃদয়ের টান; যা মানুষের অন্তরে আল্লাহপাক সৃষ্টিগতভাবে দিয়ে দেন। সাধারণত ভালবাসা দুই ধরনের (১) বৈধ ও পবিত্র (২) অবৈধ ও অপবিত্র । বিবাহের পূর্বে আধুনিক যুবক-যুবতীরা যে সম্পর্ক গড়ে তুলে তাকেই অবৈধ ও অপবিত্র ভালবাসা বলে। আর পবিত্র ভালবাসা বলতে আল্লাহ ও রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর প্রতি ভালবাসা, সন্তানের প্রতি পিতা-মাতার ভালবাসা,স্বামী-স্ত্রীর ভালবাসা ইত্যাদিকে বুঝায়। ভালবাসার নামে দেশের ভবিষ্যত সম্ভাবনাময় যুব সমাজকে ধ্বংস ও নিঃশেষ এর দিকে টেলে দিচ্ছে। যার ফলে পরিবার, সমাজ সবই হচ্ছে কলংকিত, অধ:পতিত। যার জলন্ত প্রমাণ আমাদের নুরনাহার। ভালবাসার জন্য ঘর ছেড়ে আজ সম্ভাবনাময় একজন চিকিৎসক হওয়া থেকে বঞ্চিত।
মানুষ মাত্রই অস্তিত্বশীল এমনটা তাই ভাবা ভুল। নিজের অস্তিত্বে প্রমাণ দিতে হলে শুধু মানুষ হলেই হয় না। থাকতে হয় বিচার বিশ্লেষণ ক্ষমতা, থাকতে হয় ভাবুক চিন্তা, থাকতে হয় দায়িত্ববোধ। এসব গুন মানুষকে করে তুলে অস্তিত্বশীল। মানুষ মূলত নিজস্ব চিন্তা চেতনা দ্বারা নিজের একটি লক্ষ্য স্থির করে। যে লক্ষ্যের দিকে সে এগিয়ে চলে। লক্ষ্যহীন জীবন যেন মাঝিহীন নৌকার মতো। নীটশে বলেন, প্রত্যেক মানুষ যে কাজই করুন না কেনো, তার পেছনে থাকে ইচ্ছাশক্তি। আর এ ইচ্ছাশক্তি জগতকে পরিবর্তন করার এবং জগতে নিজের প্রভুত্ব প্রতিষ্ঠা করার উপাদান হিসেবে কাজ করে। আর সেই প্রভুত্ব প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে মানুষ যে নিয়ন্ত্রণ জগতে নিয়ে আসে, সেই ঘটনাটাই মানুষকে অস্তিত্বশীল করে তুলেছে। নিজেকে প্রকাশ করার ব্যপারে জ্যাঁ পল সার্তে বলেছেন, প্রতি মুহূর্তে ভিন্ন ভিন্ন বাস্তবতার সম্মূখিন হয় মানুষ এবং সেই বাস্তবতা মোকাবেলা করার জন্য সে নিজেকে নতুন করে তৈরী করে নেয়। আর এ তৈরী করার মাধ্যমেই সে নিজেকে প্রকাশ করে। প্রত্যেকটি মানুষের মধ্যেই অপূর্ণতা থাকে। সেই অপূর্ণতা পূরণের আপ্রাণ চেষ্টার মাধ্যমেও মানুষ অস্তিত্বশীল হয়ে ওঠে। মানুষের ভেতরের শূণ্যতাটাই তার অস্তিত্বশীলতার প্রকাশ। কারণ, মানুষ যখন নিঃসঙ্গ থাকে তখন নিজের মাঝে এক অদ্ভুত ধরনের শূণ্যতা আবিষ্কার করে। যে শূণ্যতা তাকে নিজের সম্পর্কে ভাববার সুযোগ তৈরী করে দেয়। যে ভাবনার ফলে সে নিজের মাঝে নিয়ে আসতে পারে একটি পরিবর্তন সেই ভাবনাটাই তার অস্তিত্বের প্রমাণ। কিন্তু নুরনাহার নিজের জীবনের সকল সম্ভবনা, সকল স্বপ্ন, সকল চাওয়া পাওয়াকে কবর দিয়ে কোন অস্তিত্বের প্রমান দিল আমার বোধগম্য নয়।
এক বর্ষন-মন্থিত মধ্যরজনীতে দুটি হৃদয় কাছাকাছি এসেছিল কোন এক অদৃশ্য শক্তির নিপুণ পরিচালনায়। ওরা মাতাল হয়েছিল পরস্পরের ভালবাসা এবং সৌরভের মোহে আবেগের তাড়নায়। সেই মোহ কল্পনায়-স্বপ্নে লালন করতে করতে ধীরে ধীরে পরিনত হলো ভালবাসায়, রচনা করল ভালবাসার স্বপ্নিল ছোট নীড়। বিনিময় হলো কিছুদিন হৃদয়-নিংড়ানো আবেকের আকুতি। ওরা ভুলে গেল মা-বাবা, ভাই-বোন, আত্মীয় পরিজন। প্রেমের নতুন আনন্দে ওরা হাল্কা মেঘের ওপর ভাসলো ক্ষনিকের জন্য। তারপর বাস্তবের রূঢ়তা নিমিশেই সশব্দে ওদেরকে নামিয়ে আনল প্রাণহীন শক্ত মাটিতে। ওদের এই নিস্তরঙ্গ ছকবাঁধা জীবনে কাঁপন তুললো অভাব। হঠাৎ ভালবাসার মায়াবী ঘরে প্রবেশ করল বৈশাখী ঝড়ো হাওয়া। ঝড়ো হাওয়ায় শিমুলকে ভাসিয়ে নিয়ে যেতে লাগল মায়াবী ভালবাসার ছকবাধাঁ জীবন থেকে। কিন্তু এই প্রেমহীন বদ্ধ পরিবেশে শিমুলের ছোঁয়া নুরনাহারকে আপ্লুত করল অনেক বেশী ও হারিয়ে গেল কামনায়, চাওয়ায়। নুরনাহার ভাবলো শিমুল মরুভূমির উষ্ণ বাতাস মুছে দেবে ওর না পাওয়ার বেদনা, অবদমিত আকাঙ্খার আকুতি। ওর অস্তিরতা, ওর অশান্তি বাঁধ ভেঙ্গে ফেলতে চায়।
কিন্তু প্রেম জিনিসটা হলো হৃদয়ের ব্যাপার। এটা বোধ-বুদ্ধি কিংবা যুক্তি-তর্কের ধার ধারে না। তাইতো হেমন্তের মিস্টি আমেজে যে হৃদয় চিকিৎসক হওয়ার স্বপ্ন নীড় রচনা করার কথা ছিল সে হৃদয় আজ ঝরে পড়া বাসী ফুলের মত নিঃপ্রান। না পাওয়ার বেদনা, পেয়ে হারানোর মর্মজ্বালায় মৃত স্মৃতির প্রদীপ জ্বালিয়ে দু'চোখের পাতা ভেজানো এক দুঃসহ জীবন অতিবাহিত করছে নুরনাহার। ওর জীবন থেকে সুখ এখন হারিয়ে গেছে পুরোপুরি। একদিকে পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন, অন্যদিকে শিমুলকে কাছে না পাওয়ার আঘাতে ও নিরন্তর রক্তাক্ত হচ্ছে। শিমুল সেই সকালে নুরনাহারকে ঘুমে রেখে বেরিয়ে যায়, কোথায় যায় বলে যায় না, মোবাইলটিও বন্ধ থাকে।শিমুলের অনুপস্থিতিতে দিন শেষে অলস সন্ধ্যায় নুরনাহারের বিষাদ ঘন হতে থাকে। রাতে "ইনসমনিয়ায়" ডুবে একাকী, না খেয়ে ডুকরে ডুকরে কাঁদে। ঘুমহীন চোখের নিচে কালি পুরো হতে থাকে। একাকিত্বের বিষন্নতা নামের রোগটা ধীরে ধীরে দখল করে নিতে থাকে ওর মস্তিস্ক, স্নায়ু এবং শরীর। ও জীবনকে উপভোগ করতে চায় সমস্ত উপলদ্ধি দিয়ে, শত অবহেলার পরও শিমুলকে ভালবাসতে চায়, আবদ্ধ করে রাখতে চায় জীবনের সাথে। কিন্তু শিমুলের ব্যবহারে মাঝে মাঝে গম্ভীর হয়ে যায়, কি যেন ভাবে, ওর দৃষ্টি অস্বচ্ছ হয়ে যায়।যে ভালবাসার কারনে নুরনাহার বিলাসী জীবনের মায়া ত্যাগ করে মাকে নামাজরত অবস্থায় রেখে ভিন্ন ধর্মাবলম্বী একটি ছেলের সাথে ঘর বাঁধার স্বপ্ন নিয়ে বাড়ী ছাড়ে সেখানে আর কিছু না থাকুক অন্তত পরস্পরের প্রতি ভালবাসার কোন অভাব থাকার তো কথা নয়। ঠিক কবির মত আজ আমারও বলতে ইচ্ছা করছে ভালবাসাহীন হাজার বছর আমি চাইনা। চাই একটুখানি জীবন কিন্তু ভালবাসা, মায়া-মমতা,স্নেহের আবেগে পরিপূর্ণ এক সুন্দর পৃথিবী। একথা বারবার শিমুলকে বলার পরও তার আচরনে পরিবর্তন আসে না। ভালবেসে বিয়ে করে অতি দ্রুত বিচ্ছেদ হওয়া যেন অতি স্বাভাবিক ও প্রাকৃতিক ব্যাপার হয়ে গিয়েছে আজকের আধুনিক সমাজে। ঠিক কোথায় যেন আমরা সবাই ধীরে ধীরে নিমজ্জিত হয়ে যাচ্ছি। যেখানে আমাদের ভালবাসা, বিশ্বাস, আস্থা সব হারিয়ে যাচ্ছে। জীবনে দুঃখ আসবে, দুর্দশা আসবে, বাধা আসবে, বিপত্তি আসবে কিন্তু তাতে কি? একজন আর একজনের ভালবাসার টানে, আস্থার প্রতি আস্থা রেখে সব বাধা অতিক্রম করে এগিয়ে যাব। আজ সেই প্রেরণাও নাই। কারো প্রতি কেউ আজ আর আস্থা রাখতে পারছে না। সন্তান যখন পৃথিবীতে পদার্পন করে তখন তার একমাত্র নিরাপত্তার স্থান তার মা-বাবা। কিন্তু সন্তান নিজের ভালবাসার জন্য সেই নিরাপত্তার স্থানও ত্যাগ করে চলে যায় শুধুমাত্র বিপরীত লিঙ্গের আকর্ষণে?। মা-বাবার মনে কষ্ট দিয়ে কেউ কখনো সুখী হতে পারে না। তাই নুরনাহারের দুঃস্বপ্নের প্রহর কখনও শেষ হয় না । কারণ এখনও ভালবাসাগুলো স্বার্থ সংশ্লিষ্ট। মানুষ মানুষের জন্য কিছু করতে চায় না। নিজে কি পেল সেই হিসাব মিলাতেই মানুষগুলো বেশি ব্যস্ত থাকে। ভালবাসা, ভাল কিছু করার মানসিকতা মানুষের কাছ থেকে আস্তে আস্তে দুরে চলে যাচ্ছে। সেখানে দুইজন মানুষের আদর্শিক মিল খুব কমই হয়। তাই প্রেমিক-প্রেমিকার মন কষা-কষি লেগেই থাকে। প্রেমিক-প্রেমিকাদের মধ্যে আইডিওলজিক্যাল কনসেপ্ট এর মিল খুব একটা গুরুত্ব বহন করেনা। তাই তো তারা একে অন্যের জন্য নিজের সব শখ, ভাললাগাকে বিসর্জন করতে পারে অনায়াসেই। মানুষ ভুলের উর্দ্ধে নয় কিন্তু মাঝে মাঝে এই ভুল তার অপূর্ণ ম্যাচিউরিটির সাক্ষ্য বহন করে। ফলাফল এই জঘন্য পৃথিবী। যে পৃথিবী আমরা কেউ চাই না, কিন্তু আবার নিজের স্বার্থের কোন কিছু ছাড়তে রাজি না। নিজেকে পরিবর্তনই আসল কাজ । এটা দিয়েই শুরু করতে হবে--আমাদের পথচলা। কিন্তু সবাই সেই পরিবর্তনের পথে সহজে আসতে পারে না। যেমন পারেনি শিমুল।
তাই শিমুলের আচরনে বাধ্য হয়ে তাকে ছেড়ে গ্রামের বাড়ীতে চলে আসে নুরনাহার। ইতিমধ্যে প্রবাসী বাবা সব কিছুই অবগত হয়। মেয়ের আবদারে বাড়ীতে যাওয়ার জন্য মনস্থির করে ছুটিতে বাড়ী চলে যায়। বাড়ীতে যাওয়ার পূর্বেই দ্বিতীয় মেয়ের বিয়ের ব্যাপারটি পাকাপাকি করে নেয়। দ্বিতীয় মেয়েকে বিয়ে দেয় পূর্ব পরিচিত মধ্যবিত্ত একটি শিক্ষিত ছেলের কাছে। ছেলেটি বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ালেখার পাশাপাশি একটি বেসরকারী কোম্পানীতে চাকুরী করে। মেয়েটিকেও নিজ খরচে ফরিদপুর সারদা সুন্দরী মহিলা কলেজে পড়াচ্ছে। যে মেয়েটির চিকিৎসক হয়ে বংশের মুখ উজ্বল করার কথা ছিল সে আজ সবার করুনার পাত্রে পরিনত হয়েছে। তারপরও বাবা তার মেয়েকে সুখী দেখতে চায়। সে মেয়েকে বারবার বুঝাতে চেষ্টা করে হিন্দু ছেলেটির স্মৃতি মন থেকে মুছে ফেলার জন্য। কিন্তু নুরনাহারের বিশ্বাস সে আবার ফিরে আসবে। এভাবে প্রায় এক মাস বুঝানোর পর সে তার সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে স্বামীকে একতরফা ভাবে তালাক দেওয়ার জন্য রাজি হয় এবং কোর্টের কাগজে স্বাক্ষর করে শিমুলকে তালাক দেয়। তালাকের অল্প কিছু দিন পরই এলাকার পরিচিত জাপান প্রবাসী এক ছেলের সাথে বিয়ের কথাবার্তা চলতে থাকে এক পর্যায় ছেলের ব্যাপারে খোজ খবর নিয়ে জানা যায় ছেলে পূর্বে একটি বিয়ে করেছিল বাচ্চা হওয়ার সময় তার স্ত্রী বাচ্চাটি রেখে মারা যায়। বাচ্চাটির ভবিষ্যৎ চিন্তা করে এত দিন বিয়ে করেনি । বাচ্চাটি এখন বড় হয়েছে। সব দিক বিবেচনা করে নুরনাহারের সন্মতিতে অতি অল্প সময়েই বিয়ের কাজটি শেষ করা হয়।
দ্বিতীয় সংসারেও সুখ নামক সোনার হরিনটি খোঁজে পায়নি নুরনাহার। দ্বিতীয় স্বামী প্রায়ই অতীত নিয়ে প্রশ্ন তোলে। তারপরও সব কিছুকে মানিয়ে নেওয়ার চেষ্টায় সবার সাথে মিলেমিশে দ্বিতীয় সংসার টিকিয়ে রাখার সংগ্রামে প্রতি নিয়ত সংগ্রাম করছে। মানুষ যখন তার যোগ্যমর্যাদা হারিয়ে ফেলে, তখন সে অনিচ্ছা সত্বেও অনেক কিছু মেনে নেয়। মেনে নেওয়া ছাড়া আর কোন পথ তার সামনে খোলা থাকে না। সমাজে মেয়েদের দুর্দশার জন্য শুধু পুরুষরাই দায়ী নয়। সব মেয়ে ইচ্ছে থাকলে জীবনে স্বপ্রতিষ্ঠিত হতে পারে না, স্বনির্ভর হতে পারে না। প্রবল ইচ্ছা শক্তিই নিজকে প্রতিষ্ঠিত করতে সহায়ক ভূমিকা পালন করে। কিন্তু নুরনাহারের অপরিনত বয়সের প্রেম তাকে এক অনিশ্চিত অন্ধকার ভবিষ্যতের দিকে ধাবিত করে। মানুষের মৌলিক গুনাবলিকে সুন্দর একটা শেইপ এনে দেয় ধর্মীয় অনুশাসন। কারণ ভালবাসার ফিলিংস এই মৌলিক গুনাবলী সবার মধ্যেই থাকে কিন্তু সেই ফিলিংসটা কিভাবে কাজে লাগাতে হয় তা ধর্মীয় অনুশাসন ছাড়া পূর্ণতা পায়না।ভালবাসা তো শুধুই সৃষ্টির জন্য ধ্বংসের জন্য না! কে তাদের শিখাল যে ভালবাসা কেবল ছেলে-মেয়ের মধ্যেই হতে পারে? কারা সমাজের তরুণ প্রজন্মকে বলে ভালবাসাবিশ্বাসহীন, একে অপরের প্রতি শ্রদ্ধাবোধশুন্য ভালবাসার শক্তি আজ সমাজে তাই চরম বিভীষিকা। এর থেকে পরিত্রাণের উপায় কি ? প্রয়োজন আমাদের চিন্তাশক্তির ম্যাচিউরিটি,প্রয়োজন ভালবাসার সঠিক ক্ষেত্র উপলব্ধি তার সাথে সাথে এসবকে সুন্দরভাবে শেইপ করার জন্য দরকার ধর্মীয় অনুশাসন যা সর্বদা চার্জের মত কাজ করে। অর্থাৎ ধর্মীয় অনুশাসনের প্রতিনিয়ত প্রাক্টিক্যাল চার্জ ভালবাসাকে নিয়ে যায় সুন্দর কোন প্রান্তে যা কখনও বিভীষিকা ছড়ায়না..... ভুল অপব্যাখ্যা দিয়ে তাদেরকে ধীরে ধীরে চিন্তাশূন্য করে গড়ে তুলে না। যে ভালবাসা বিশ্বাস থেকে তৈরি হয়না,তাকে ভালবাসা বলা যায়না।ভালবাসা বিশ্বাস থেকেই তৈরি হয়।যখন কোন ছেলে অথবা মেয়ে ভালবাসার কারনে তার মা,বাবার মনে ব্যথা দেয় তখন তার মা,বাবার সারা জীবনের বিশ্বাস ভালবাসাও মিথ্যা হয়ে যায়। সেই সন্তান কখনোই জীবনে সুখী হতে পারে না।
যার হবার কথা ছিল মানুষের সেবক, সে এখন স্বামী সংসারের নির্দিষ্ট গন্ডীর সেবক হয়ে স্বামী সন্তানের সেবায় ব্যস্ত সময় কাটায়। যার বিনিময়ে পায় অবহেলা, অপমান। তারপরও নিজের ভিতরের দুঃখটাকে পাথর চাপা দিয়ে বর্তমান অবস্থার জন্য নিজকেই দায়ী করে এই সংসারকে সম্বল করেই কাটিয়ে দিতে চায় অনাগত ভবিষ্যতের দিনগুলি। এভাবেই একটি স্বপ্ন ও সম্ভবনাময় চিকিৎসকের স্বপ্নের অপমৃত্যু ঘটে।
বি:দ্র: লেখাটি সত্য ঘটনার আলোকে লেখা। যাকে নিয়ে লেখা তাকে আমি ছোট বেলা থেকে কোলে পিঠে করে মানুষ করেছি। নিজে শিক্ষকের দায়িত্ব নিয়ে ভাল ফলাফল করাতে অক্লান্ত পরিশ্রম করেছি। আমার উৎসাহ ও অনুপ্রেরনাতেই ভাই তার মেয়েকে উচ্চবিত্ত কলেজে ভর্তি করাতে রাজি হয়েছিল। তাই মাঝে মাঝে নিজকেও অপরাধী মনে হয় কেন তাকে চিকিৎকের পিতা হবার স্বপ্ন দেখিয়েছিলাম। স্বপ্নই মানুষকে বাঁচিয়ে রাখে। স্বপ্নই মানুষকে ভবিষ্যতে সুন্দর কিছু করার অনুপ্রেরনা দেয়। কিন্তু সেই স্বপ্ন যখন পূরন হওয়ার পূবেই ভেঙ্গে খান খান হয়ে যায় তখন তাকে মেনে নেওয়া ছাড়া আর কিছু করার থাকে না।
হামিদুর রহমান (পলাশ)
জয়পাড়া, দোহার, ঢাকা।
বর্তমানে সৌদি প্রবাসী। জীবিকার প্রয়োজনে ইরকা মিডেলইষ্ট প্রেট্রোলিয়াম এন্ড প্রেট্রোকেমিক্যাল কোম্পানীতে কর্মরত।
ই-মেইল: [email protected]
http://www.opest.net/my_blog.php
৭টি মন্তব্য ৬টি উত্তর
আলোচিত ব্লগ
দ্য ড্রাগ কিং

সতর্কবার্তা: এটি একটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক ক্রাইম ফিকশন। বাস্তব একটি অপরাধের কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে পাঠকদের জন্য এর চরিত্র, নাম এবং স্থান পরিবর্তন করে গল্পটি সাজানো হয়েছে।
খুলনা... ...বাকিটুকু পড়ুন
সামুতে আবারও লিলিপুটিয়ানদের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে
আমার গত পোস্টে আলামিন১০৪ নামের এক ব্লগার মন্তব্য করেছেন যে - "এ আই দিয়ে হুমায়ূন আহমেদের মতো লেখা যায়।"
তিনি এ আই-কে প্রম্পট দিয়েছিলেন ' হুমায়ুন আহমেদের মতো গল্প লিখে... ...বাকিটুকু পড়ুন
ইজিবাইক চলাচলের প্রকৃত কর্তৃপক্ষ কে?

দেশের বিভিন্ন শহর ও গ্রামে ইজিবাইক নামে একটি যানবাহন চলাচল করে। কিন্তু এর পরিচালনা, লাইসেন্সিং এবং চলাচলের ক্ষেত্র সম্পর্কে সুস্পষ্ট ও সর্বজনবিদিত কোনো নীতিমালা সাধারণ মানুষের কাছে দৃশ্যমান নয়।
শহরের ভেতরে,... ...বাকিটুকু পড়ুন
মন কথনিকা-৪৮৭৩-৭৪
মন কথনিকা-৪৮৭৩
তোমার আমার মতামতে আকাশ পাতাল সীমা
আমার বুলি বরফ জলের তোমার যেন বোমা,
তুমি বলো রোদের তেজে আমি বর্ষার মতন
বুকের ভিতর বন্ধু বুঝি পাথর পুষো যতন।
মন কথনিকা-৪৮৭৪
পিঠে ব্যথা ভাল্লাগে না, মন... ...বাকিটুকু পড়ুন
“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬
আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।