শুকনো ঘাসের শুন্যবনে আপন মনে , অনাদরে অবহেলায় গান গেয়েছিলেম।

অতঃপর

২৭ শে এপ্রিল, ২০০৯ বিকাল ৪:১৭

শেয়ারঃ
0 0 0

পরদিন, খুব ভোরে হলগেটের দারোয়ানের ডাকাডাকিতে ঘুম ভেঙেছিলো। দারোয়ান জানিয়েছিলো খুব জরুরী প্রয়োজনে একজন দেখা করতে চাইছেন। খুব জরুরী!
মুখহাতে পানি ছিটিয়ে, একটু ভদ্রস্থ হয়ে বের হয়ে এলাম। আগত ব্যাক্তিটির মুখচ্ছবিতে কি ছিলো জানিনা। মূহুর্তে অজানা আশঙ্কায় বুক কেঁপে উঠেছিলো আমার।তারপরও বিন্দুমাত্র কল্পনা করতে পারিনি, কি ভয়ানক দুসংবাদটি অপেক্ষা করছিলো আমার জন্য সেদিন ভোরে ।

ছেলেটিকে কোনোদিন দেখিনি আমি। ছেলেটি জানালো, সুপ্তের ডায়েরী থেকেই আমার কথা জেনেছে সে, আমার ঠিকানাটাও ওখান থেকেই পাওয়া। তাই আমার কাছে তার আসা।
ছেলেটি আরো জানালো, গতরাতে সুপ্ত স্যুইসাইড করেছে । ছেলেটি আরো সব কি কি যেন বলে যাচ্ছিলো কিন্তু আমার কানে কিছুই আর ঢুকছিলো না তখন। আমি স্থবীর স্থানুবৎ দাড়িয়ে রইলাম, ওর দিকে চেয়ে। ওর ঠোটের নাড়াচাড়াগুলোই দেখতে পাচ্ছিলাম শুধু, কানে কিছুই যাচ্ছিলোনা। কি যে সব বলে গেলো ছেলেটি, জানলাম না কিছুই।

সুপ্তের লাশ দেখতে যাইনি আমি। একফোঁটা কাঁদিওনি সেদিন বা এরপর আর কোনোদিনও। কান্না পায়নি আমার। অথচ বেলা বাড়তেই কি করে যেন হলের অর্ধেক মেয়েরাই জেনে গিয়েছিলো সেদিন, আমার এই লুকানো ভালোবাসাটির কথা।

খুব নিভৃতে, সযতনে সবাইকে আড়াল করে যে সম্পর্কটির সৃষ্টি হয়েছিলো আমাদের দুজনার মাঝে, তা আরো বেশী প্রকাশিত হয়ে পড়লো সুপ্তের মৃত্যুর পর। চারিদিকে কানাঘুসা শুরু হল , হলের সিট ছেড়ে দিতে বাধ্য হলাম।

আমাদের সমাজে কূমারী মায়েদের স্থান নেই যে কোনো। সবার চোখে অবহেলা ও ঘৃণার পাত্রী তারা।

চারিদিকে অন্ধকারাছন্ন তমসারাত্রী! খুব সহজে বুঝে গেলাম, শুধু সমাজ কেনো? নিজের পরিবারেও স্থান হবেনা আমার।

 

সর্বশেষ এডিট : ২৮ শে এপ্রিল, ২০০৯ বিকাল ৫:১০ | বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...

 

১. ২৭ শে এপ্রিল, ২০০৯ বিকাল ৪:২৬
কৌশিক বলেছেন: গল্পটির মধ্যে সাডেন শুরুর চমক ও কুমারি মাতার অনুষঙ্গে সংক্ষিপ্তাকারেও বিশাল টাইমলাইন তুলে ধরার কারিশমা আছে। তবে নির্লিপ্ততার মধ্যে "মূহুর্তে অজানা আশঙ্কায় বুক কেঁপে উঠেছিলো আমার" এই অনুভবের সাথে "ছেলেটি জানালো, গতরাতে সুপ্ত স্যুইসাইড করেছে" এখানে একটু মনে হলো দুয়েকটা শব্দের ভিন্নতায় বা অন্যথায় আরেকটু তীব্র অথবা নির্লিপ্ত হতে পারতো। একদমই নিজের যেমন মনে হলো...বললাম। ভালো লেগেছে...আরো পড়তে চাই আপনার পোস্ট..
২৭ শে এপ্রিল, ২০০৯ বিকাল ৪:৩১

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ আপনাকে। আমি লিখতে জানিনা। জীবনে কখনও লেখালিখির চেষ্টাও করিনি। লেখালিখি করার মত চিন্তা করার সময়টা জীবনের এক কঠোর, বাস্তবতার রুক্ষতায় অনেকখানি পেরিয়ে গেছে।

একটু স্থিতু হয়ে এসে হঠাৎ খুব ইচ্ছে হয়, জীবননাট্যের কাব্য বা গল্প লিখতে।

২৭ শে এপ্রিল, ২০০৯ বিকাল ৫:০৫

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ

৩. ২৭ শে এপ্রিল, ২০০৯ সন্ধ্যা ৬:২৮
আশফাক সফল বলেছেন: পরিবেশনার দিক থেকে চমৎকার
২৭ শে এপ্রিল, ২০০৯ রাত ৯:৩৯

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ আপনাকে

৪. ২৮ শে এপ্রিল, ২০০৯ সকাল ৯:২১
কৌশিক বলেছেন: লিখতে না জানার নমুনা যদি হয় এই....আপনি তো পাবলিকের খবর বানাইয়া দিবেন....আরো লেখেন...লিখতে থাকেন..
২৮ শে এপ্রিল, ২০০৯ বিকাল ৫:০৭

লেখক বলেছেন: আরো লিখবো। অনেক কিছু লেখার আছে হয়তো। হয়তোবা এটা এক রকম নিজের সাথে নিজের কথাবলা। তবুও যে আপনি পড়েছেন এই অনেক বেশী।

৫. ২৮ শে এপ্রিল, ২০০৯ রাত ৮:৪৬
ট্র্যানজিস্টার বলেছেন: সিরিজটা পড়লাম, ভালো লাগলো। নিয়মিত লিখুন।
২৮ শে এপ্রিল, ২০০৯ রাত ৯:৪৮

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ আপনাকে।

 

মোট সময় লেগেছে ১.৫৩০০ সেকেন্ড

 

সামহোয়‍্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব‍্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...
© সামহোয়্যার ইন...নেট লিমিটেড | ব্যবহারের শর্তাবলী | গোপনীয়তার নীতি
এই কথাটি মনে রেখ, তোমাদের এ হাসিখেলায়, আমি যে গান গেয়েছিলেম
আর এস এস ফিড

পোস্ট আর্কাইভ

আমার লিঙ্কস

আমার বিভাগ

    কোন বিভাগ নেই