টেবিল ঘড়ির টিক টিক আওয়াজে ঘুমের সাথে বন্ধুত্বটা ভালই জমে উঠেছিল শাহরিয়ার শাকিলের। একা এক রুমে ঘুমায় শাকিল বাবা মা আর একটি মাত্র বোন তারা ঘুমায় শাকিলের পাশের রুমগুলোতে। শাকিলের বাবা মা আজ বাসায় নেই, বেড়াতে গিয়েছে দুদিনের জন্য তাদের এক বন্ধুর বাসায়। বাসায় আজ শাকিল আর ওর ছোট বোন সাদিয়া। সাদিয়া ও ঘুমিয়ে আছে ওর রুমে।
মধ্যরাতে, কোন এক মেয়ের নাক ফুপিয়ে কান্নার আওয়াজ শুনতে পাচ্ছিল শাকিল, অনেকক্ষন যাবৎ শুনতে পাচ্ছিল আওয়াজটা তবে চোখ খুলে তাকায়নি কে কাঁদছে। আওয়াজটা বন্ধ হল, এখন আর কোন শব্দই শুনতে পাচ্ছিল না শাকিল।
হঠাৎ শুনতে পেল,
কার হাত থেকে যেন ছুরি পরলো মেঝের উপর এবং শুনতে পেলো " আজ আমি পৃথিবীর সবচেয়ে সুখী মানুষ, আমি আমার ভালবাসার মানুষ হত্যার বদলা নিতে পেরেছি" এই বলে অট্রহাসিতে মেতে উঠছে কোন এক ষোড়শী ।
এক লাফে বিছানা থেকে উঠে শাকিল, উঠেই দেখতে পায় ওর রুমেও রক্ত আর রক্ত। রক্তের উপর পা দিতে শাকিলের সমস্ত শরীর কাঁপছিল তার পরেও সাহস নিয়ে রক্তে পা দুটি লাল করে ওর রুমের দরজা খুলল।
দরজা খুলেই দেখতে পেল ওর রুমের সামনের ফাকা জায়গাটা রক্তাক্ত, যেন রক্তের বন্যা বয়ে গেছে পুরা বাসাটা। মেঝের উপর পরে আছে একটি মেয়ের গলা কাটা লাশ। শরীর টা পরে আছে এক প্রান্তে আর মাথাটা পরে আছে আরেক প্রান্তে আর পাশেই বসে আছে যার অট্রহাসিতে জেগে উঠে শাকিল সেই মেয়েটি হাতে একটি রক্তাক্ত ছুরি।
শাকিলের পায়ের আওয়াজ পেয়েই বড় বড় চোখে মাথা তুলে তাকায় সাদা শাড়ী পড়া মেয়েটি।
শাকিল সাহস নিয়ে মেয়েটাকে প্রশ্ন করে তুমি এই মেয়েটা কে খুন করেছো কেন?
মেয়েটি বলে : ও আমার ভালবাসার মানুষ কে কেড়ে নিয়েছে শুধু তাই নয় অনেক কষ্ট দিয়েছে এখনো অনেক কষ্ট দিচ্ছে আর তা আমি সহ্য করতে পারিনি তাই আমি ওকে খুন করেছি।
শাকিল : তবে আমার বাসায় কেন?
তোমার বাসায় মেয়েটা দৌড়িয়ে এসেছে তুমি মেয়েটাকে চিনতে পারোনি? ওই দেখে ওর মাথাটা হাতে তুলে দেখো ওর তোমার প্রমিকা শ্রাবণী ও তোমার সাথে প্রেমের অভিনয় করতো আর আমার ভালবাসার মানুষটির সাথেও প্রেমের অভিনয় করতো । এখন তুমি চাইলে আমাকে খুন করতে পারো আমার আর এই পৃথিবীতে বাঁচান কোন ইচ্ছাই নেই। আমি আমার সব হারিয়েছি , হারিয়েছি আমার প্রেম ভালবাসা সব সব।
সর্বশেষ এডিট : ০২ রা নভেম্বর, ২০০৮ সন্ধ্যা ৭:২৮

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


