
ইতালি প্রবাসী আদম ব্যাপারী সালাউদ্দিন নয়নের প্রতারণার শিকার হয়ে সর্বস্বান্ত হয়েছে ১৫ বাংলাদেশী। মামলায় ওয়ারেন্ট পেনডিং থাকা সত্ত্বেও জেল থেকে পালিয়ে আত্মগোপন করেছে ওই প্রতারক।জানা গেছে, নোয়াখালীর মাইজদী উপজেলার সালাউদ্দিন নয়ন (পাসপোর্ট নম্বর ত ০৯৭৬১৩৯) দীর্ঘদিন ধরে ইতালি বাস করছেন। ২০০৭ সাল থেকে বিভিন্ন সময় দেশে এসে তার পিতার সহায়তায় বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে ইতালি পাঠানোর কথা বলে প্রায় দেড় কোটি টাকা নেন। এর মধ্যে বরিশাল বগুড়া রোডের কবির হোসেনের কাছ থেকে আট লাখ ২০ হাজার টাকা, ঢাকা হাজারীবাগ এলাকার আবদুল মালেকের কাছ থেকে ছয় লাখ টাকা, ময়মনসিংহের রফিকুল হাসানের কাছ থেকে সাড়ে তিন লাখ টাকা, নেত্রকোনার আমজাদ হোসেনের কাছ থেকে নয় লাখ টাকা, ঢাকার সূত্রাপুরের মিলন পাটোয়ারীর কাছ থেকে ছয় লাখ ৮০ হাজার টাকা, মানিকগঞ্জের সরাইলের শফিকুল ইসলামের কাছ থেকে সাত লাখ টাকা, সাভারের বশিরউল্লার কাছ থেকে আট লাখ টাকা, কুমিল্লার জাহাঙ্গীর আলমের কাছ থেকে আট লাখ ১০ হাজার টাকা, ফরিদপুরের গোলাম হোসেনের কাছ থেকে আট লাখ টাকা এবং ঢাকার আদাবরের হোসেন আহম্মদ ভূঁইয়ার কাছ থেকে ৬৩ লাখ টাকা নিয়েছেন বলে প্রতারিতদের দায়ের করা মামলা সূত্রে জানা গেছে। উল্লেখিতদের প্রত্যেকের টাকার সাথে তাদের পাসপোর্টও নিয়েছেন ওই প্রতারক। গত জানুয়ারিতে সালাউদ্দিনের দেশে আসার সংবাদ পেয়ে হোসেন আহম্মদ ভূঁইয়া পাওনা টাকার জন্য আদাবর থানায় মামলা করেন। ওই মামলায় ১৯ জানুয়ারি পুলিশ সালাউদ্দিনকে গ্রেফতার করে। পরে কোর্ট তাকে কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠায়। সালাউদ্দিনকে গ্রেফতারের সংবাদ পেয়ে প্রতারণার শিকার অন্য ব্যক্তিরাও বিভিন্ন থানায় এবং কোর্টে মামলা করেন। বরিশালের কবির হোসেন ঢাকা মুখ্য মহানগর হাকিমের আদালতে প্রতারণার মামলা করলে ২৩ ফেব্রুয়ারি আদালত সালাউদ্দিনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে। ২৪ ফেব্রুয়ারি বেলা ২টায় গ্রেফতারি পরোয়ানা ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে পৌঁছানো হলেও কৌশলে ওই দিন জেল থেকে বেরিয়ে আত্মগোপন করেন। ওয়ারেন্ট পেইন্ডিং থাকাবস্থায় সে কিভাবে ছাড়া পেয়েছে তা নিয়ে রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে। এ ব্যাপারে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র তত্ত্বাবধায়ক জানান, নতুন ওয়ারেন্ট পৌঁছানোর আগেই সালাউদ্দিন আগের মামলায় জামিন পেয়ে জেল থেকে বেরিয়ে যান। বিষয়টি লিখিতভাবে আদালতে অবহিত করা হয়েছে বলে তিনি জানান। সালাউদ্দিন যেকোনো সময় দেশ ছেড়ে পালাতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন ভুক্তভোগীরা। সালাউদ্দিন দেশ ত্যাগের সুযোগ পেলে টাকা আদায় সম্ভব হবে না বলে বলে জানান তারা। সে যেন দেশ ত্যাগ করতে না পারে সে জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান তারা।
******************************************
আপনাদের পরিচিত কেউ ইতালী আসতে চাইলে দালালদের খপ্পরের ব্যপারে সচেতন করুন।
ইতালীর আরো কিছু খবর জনতে এখানে ক্লিক করুন] ।
সর্বশেষ এডিট : ২৯ শে জুলাই, ২০১০ রাত ১২:৪৫

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



