somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

হযরত ইব্রাহিম (আ.) ইসমাইল (আ.)-কে নয়, ইসহাক (আ.)-কে কোরবানি করতে নিয়ে গিয়েছিলেন? আসুন দেখি কোরআন ও বাইবেল কি বলে।

০২ রা আগস্ট, ২০১০ রাত ১০:৫০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আজ সকালে ফেসবুকে কোন এক বন্ধুর শেয়ার করা লিংক থেকে জানতে পারি,
মুসলিম জাতির পিতা হযরত ইব্রাহিম (আ.) ইসমাইল (আ.)-কে নয়, ইসহাক (আ.)-কে কোরবানি করতে নিয়ে গিয়েছিলেন দাবি করে এর সঠিক ব্যাখ্যা চেয়ে হাইকোর্টে রিট পিটিশন দায়ের করেছেন বিশ্ব শান্তি পরিষদের প্রেসিডেন্ট দেব নারায়ণ মহেশ্বর।
লিংক : কোরবানি নিয়ে কোরআনের শুদ্ধতা দাবি করে রিট

তখন থেকেই নেটে একটু ঘাটাঘাটি করি আসল বিষয়টি কি তা জানার জন্য।

প্রথমেই আমি যে বিষয়টি আমি খুঁজি, ইসমাইল (আ.) ও ইসহাক (আ.) মধ্যে কে বড় কে ছোট? তা খুঁজতে গিয়ে বাইবেল এ যা পেলাম।

ইসমাইল সম্পর্কে পেলাম :
১৬:১৬ অব্রামের ছিয়াশি বছর বয়সে ইশ্মায়েলের জন্ম হয়েছিল।
(আদি পুস্তক )


ইসহাক সম্পর্কে পেলাম :
১৭:১৬ আমি তাকে আশীর্বাদ করে তারই মধ্য দিয়ে তোমাকে একটা পুত্রসন্তান দেব। আমি তাকে আরও আশীর্বাদ করব যাতে সে অনেক জাতির এবং তাদের রাজাদের আদিমাতা হয়।”
১৭:১৭ এই কথা শুনে অব্রাহাম মাটিতে উবুড় হয়ে পড়লেন এবং হেসে মনে মনে বললেন, “তাহলে সত্যিই একশো বছরের বুড়োর সন্তান হবে, আর তা হবে নব্বই বছরের স্ত্রীর গর্ভে!
(আদি পুস্তক )

লিংক : আদি পুস্তক দেখুন ১৬:১৬ ও ১৭:১৬ ও ১৭:১৭ অধ্যায়।

এবার আসুন দেখি কোরআন কি বলে :

আমরা সব সময় বড় ও ছোটদের নাম একসাথে বলতে বা লিখতে গেলে সেখানে বড় নাম আগে ও ছোটদের নাম পরেই বলে বা লিখে থাকি।
পবিত্র কোরআনেও তাই করা হয়েছে যেখানেই ইব্রাহিম, ইসমাইল ও ইসহাকের কথা বলা হয়েছে সেখানেই ইসমাইলের নাম আগে তারপরে ইসহাকের নাম লিখা হয়েছে।

যেমন দেখুন :
অথবা তোমরা কি বলছ যে, নিশ্চয়ই ইব্রাহীম, ইসমাঈল, ইসহাক, ইয়াকুব (আঃ) ও তাদের সন্তানগন ইহুদী অথবা খ্রীষ্টান ছিলেন? আপনি বলে দিন, তোমরা বেশী জান, না আল্লাহ বেশী জানেন? (আল বাকারা : ১৪০)
তোমরা কি উপস্থিত ছিলে, যখন ইয়াকুবের মৃত্যু নিকটবর্তী হয়? যখন সে সন্তানদের বললঃ আমার পর তোমরা কার এবাদত করবে? তারা বললো, আমরা তোমার পিতৃ-পুরুষ ইব্রাহীম, ইসমাঈল ও ইসহাকের উপাস্যের এবাদত করব। তিনি একক উপাস্য। (আল বাকারা : ১৩৩)
বলুন, আমরা ঈমান এনেছি আল্লাহর উপর এবং যা কিছু অবতীর্ণ হয়েছে আমাদের উপর, ইব্রাহীম, ইসমাঈল, ইসহাক, ইয়াকুব এবং তাঁদের সন্তানবর্গের উপর আর যা কিছু পেয়েছেন মূসা ও ঈসা এবং অন্যান্য নবী রসূলগণ তাঁদের পালনকর্তার পক্ষ থেকে। আমরা তাঁদের কারো মধ্যে পার্থক্য করি না। আর আমরা তাঁরই অনুগত। (আল ইমরান : ৮৪)

তাহলে বাইবেল ও কোরআনের তথ্যমতে এ কথা প্রমাণিত যে হযরত ইব্রাহীম (আ.) এর ছেলের মাঝে ইসমাইল (আ.) বড় ও ইসহাক (আ) ছোট।

এবার আসুন দেখি কোরবাণী করতে ইব্রাহীম (আ.) কাকে নিয়ে গিয়েছিলে? আসুন দেখে নেই কাকে কুরবাণী করতে নিয়ে গিয়েছিলেন।

কোরআন যা বলে :
আসলে কোরআনে এভাবে কোথাও লিখা নেই যে ইব্রাহিম (আ.) ইসমাইল কে কুরবানী করতে নিয়ে গিয়েছিলেন।
তবে আমরা যদি একটু খেয়াল করে আল কোরআনের সুরা আস সাফফাতের ১০০ থেকে ১০৭ নং আয়াত পর্যন্ত পড়ি তাহলে আমাদের সবার কাছে বিষয়টি পরিস্কার হবে যে ইসমাইল (আ.)কেই কুরবাণীর জন্য নিয়ে যাওয়া হয়েছিল।

দেখে নই আয়াত গুলি একটু :
১০০) হে পরওয়ারদিগার! আমাকে একটি সৎকর্মশীল পুত্র সন্তান দাও৷”
এ দোয়া থেকে স্বতষ্ফূর্তভাবে একথা জানা যায় যে , হযরত ইবরাহীম সে সময় সন্তানহীন ছিলেন৷

১০১) আমি তাকে একটি ধৈর্যশীল পুত্রের সুসংবাদ দিলাম৷
এ আয়াত দ্বারা এটাই বুঝা যায় আল্লাহ তাকে একটি সন্তান দিয়েছিলেন। যিনি ছিলেন হসমাইল (আ).

১০২) সে পুত্র যখন তার সাথে কাজকর্ম করার বয়সে পৌঁছুলো তখন (একদিন ইবরাহীম তাকে বললো, “ হে পুত্র! আমি স্বপ্নে দেখি তোমাকে আমি যাবেহ করছি, এখন তুমি বল তুমি কি মনে কর?” সে বললো, “ হে আব্বাজান! আপনাকে যা হুকুম দেয়া হচ্ছে তা করে ফেলুন, আপনি আমাকে ইনশাআল্লাহ সবরকারীই পাবেন৷”
এ আয়াতে এটা বুঝা যায় যে ইব্রাহিম (আ) ইসমাইলকে তার স্বপ্নের কথা জানান ও ইসমাইল (আ) তাতে রাজি হন।

১০৩) শেষ পর্যন্ত যখন এরা দু’জন আনুগত্যের শির নত করে দিল এবং ইবরাহীম পুত্রকে উপুড় করে শুইয়ে দিল৷

১০৪) এবং আমি আওয়াজ দিলাম, ৬২ “ হে ইবরাহীম!

১০৫) তুমি স্বপ্নকে সত্য করে দেখিয়ে দিয়েছো৷ আমি সৎকর্মকারীদেরকে এভাবেই পুরস্কৃত করে থাকি৷
১০৬) নিশ্চিতভাবেই এটি ছিল একটি প্রকাশ পরীক্ষা৷”
১০৭) একটি বড় কুরবানীর বিনিময়ে আমি এ শিশুটিকে ছাড়িয়ে নিলাম।

কোরআনের লিংক এখানে।

আশা করি আমরা বিষয়টি বুঝতে পেরেছি যে ইব্রাহিম (আ.) ইসমাইলকেই কুরবাণী করতে নিয়ে গিয়েছিলেন ইসহাক (আ) কে নয়।
সর্বশেষ এডিট : ০২ রা আগস্ট, ২০১০ রাত ১০:৫০
৩৪টি মন্তব্য ৪টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

গল্পঃ গল্প শুরু এখান থেকেই

লিখেছেন অপু তানভীর, ২২ শে আগস্ট, ২০১৯ সকাল ৮:২৫

-বল মা কবুল!

মাওলানা সাহেব আরও দুইবার কথাটা বললেন। আলমগীর হোসেন তার স্ত্রী নীলুফারকে চোখের ইশারা করলেন। তিনি আগে থেকেই স্ত্রীকে খানিকটা বুঝিয়ে রেখেছিলেন। নীলু যদি মুখ দিয়ে কোন কথা বলতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

পাপ বাপকেও ছাড়ে না!!! পার্ট -২

লিখেছেন ঘূণে পোকা, ২২ শে আগস্ট, ২০১৯ দুপুর ২:০৫



সাবেক স্বরাষ্ট্র-প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর...একটা সময় প্রচুর ক্ষমতার মালিক ছিলেন!
এতো বেশি আতিশয্য যে এক শার্ট ২য় বার পড়তেন না,
ওয়ারড্রপে ২০০০ শার্ট রিজার্ভ ছিল!
আজ তার ১ শার্টে মাস পার হয়,... ...বাকিটুকু পড়ুন

রাস্তায় পাওয়া ডায়েরী থেকে-১০৬

লিখেছেন রাজীব নুর, ২২ শে আগস্ট, ২০১৯ বিকাল ৩:২১



১। বই পড়াটা আপনার উন্নতির জন্য সবচেয়ে শর্টকাট রাস্তা।
একটা টাই, একটা স্যুট, একটা ব্র্যান্ডেড শার্টের চেয়ে একটা ভাল বই আপনাকে বেশি স্মার্ট করবে। বইপড়া স্বাভাবিকভাবেই মানুষকে স্মার্ট... ...বাকিটুকু পড়ুন

এক বাস্তব কুসংস্কারের গল্প।

লিখেছেন জাদিদ, ২২ শে আগস্ট, ২০১৯ বিকাল ৪:০০

কুসংস্কার নিয়ে গত কিছুদিন ধরে একটু পড়াশোনা করার চেষ্টা করেছি। কুসংস্কার কি শুধুই অযৌক্তিক যেকোনো বিশ্বাস বা অভ্যাস নাকি কাকতালীয় কিছু ঘটনার প্রেক্ষিতে কোন ঘটনা যা এক সময় সমাজে স্বীকৃত... ...বাকিটুকু পড়ুন

১০০ জন ডাক্তার, ২০০ জন স্বাস্থ্যকর্মী ডেংগুতে আক্রান্ত

লিখেছেন চাঁদগাজী, ২২ শে আগস্ট, ২০১৯ রাত ৮:১৮



Hospitals are not mosquito free!

ডেংগুর শুরুতেই ঢাকা মেডিক্যাল, পিজি ও অন্যান্য সরকারী হাসপাতালগুলোর উচিত ছিলো, বংগবন্ধু মিলনাতন, ও এই ধরণের সব বড় বড় মিলনায়তন, ও কম্যুনিটিটি... ...বাকিটুকু পড়ুন

×