সাংবাদিকতাকে নিয়ে অনেক আগে থেকেই স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছিলাম। আমি বড় হলে সাংবাদিক হবো। আমি তখন ক্লাস এইটের ছাত্র। পত্রিকার পাতায় সাংবাদিক নিয়োগের একটি বিজ্ঞপ্তি। আমার মনের মাঝে ভীষণ আলোড়ন তৈরি হলো। যোগ্যতা হিসাবে তারা যা চেয়েছে তা সবই আমার আছে।
তাই আর বাধা থাকার কথা নয়। নিজের কাছে অনেকটা ভাব বেড়ে গেল। সাংবাদিক এবার আমি হবোই। আমাকে আর কেউ বাধা দিতে পারবে না। তখন আমাদের এলাকা ছিল সন্ত্রাসীদের আড্ডাস্থল। তাই আমার স্বাধীন স্বদেশটাকে রক্ষার দায়িত্বটা নিতেই সাংবাদিকতার পেশায় আসার ইচ্ছা মনে মনে পোষন করতাম। কেননা তখন পড়তে শিখেছিলাম 'স্বাধীনতা অর্জনের চেয়ে রক্ষা করা কঠিন' ।
বাড়িতে কাউকে বলিনি। গোপনে গোপনে বই দেখে দরখাস্ত লিলে পাঠিয়ে দিলাম। সংশ্লিষ্ঠ ঠিকানায়। দশ পনের দিন কেটে গেল। আমার সাংবাদিকতার কার্ড আর এলো না। অবশেষে বিশ দিনের মাথায় একটা ভিপি এলো আমার ঠিকানায়। পোস্টমাস্টার জানালেন ২শ টাকা দিয়ে তুলতে হবে। পাগল নাকি আমি দুইশ টাকা পাবো কোথায়? আমি বললাম ঠিক আছে পরে দেখবো, উনি জানালেন, না নিলে ফেরত পাঠিয়ে দেব। আমি যেন দম ফেলে বাচলাম। বললাম, এখনই ওটাকে ফিরিয়ে দেবার ব্যবস্থা করেন।
ফিরে গেল আমার সাংবাদিক হবার প্রথম আমন্ত্রণ। তবুও কষ্ট পেলাম না। কারণ সে সময় ২শ টাকা আমার কেন আমার পরিবারের জন্যেও অনেক কিছু। যা দিয়ে আমাদের সংসারের ১৫ দিনের বেশ ভালভাবেই চলে যাবে।
কিন্তু দূর্ভাগ্য আমার পিছু চাড়লো না। ১০-১৫ দিন পরে আবার এলো। এবার কথাটা বাবার কানে পৌছে গেলেন। অবস্য দায়িত্ব পালন করলেন আমাদের পোস্ট মাস্টার উনি আবার মুমিন মুসলমান মানুষ আল্লার দল করেন। বাবাও তাকে খুব ভাল জানতেন। তাই তার কথা ফেলতে পারলেন না। বাবাকে উনি ভয় দেখালেন যে, যদি ভিপিটা তুলে না নিই তাহলে আমার নামে পোস্ট অফিস মামলা করবেন। আমার অপরাধ আমি চিঠি লিখেছিলাম। বাবা সাদাসিধে জীবন যাপন করতে পছন্দ করেন। হাজার ক্ষতি দিয়ে হলেও তিনি কারো সাথে অযথা ঝামেলায় জড়ান না। তাই মামলা মকদ্দোমার ভয়ে বাবা আমাকে নিয়ে গেলেন তার সাথে দেখা করতে। ২শ টাকা দিয়ে ভিপি তুলে যা পেলাম তা হলো ২টা বই, একটা ফরম, বই দুইটার দাম বড় জোর ৪০ টাকা। ফরমে আবার তিনশ টাকার মানি অর্ডার সহ ফরম পূরন করে পাঠাতে লিখেছে।
বাবা কান টেনে ধরলেন। আমার মতামত জানার জন্য। আমার কানের ব্যথায় বলে দিল আমার আর সাংবাদিক হতে হবে না। আমার এই ঘটনার জন্য আমাকে যে কোন সময় কটু কথা শুনতে হয়। একটা কাজ করতে গেলেই প্রশ্ন ওঠে সাংবাদিকতা করার মত হবে নাতো? কেননা সেদিন বাবা আমার জন্য আমাদের অভাবের সংসারে অন্যের কাছ থেকে টাকা ধার করে এনেছিল। আমাদের অবস্থা তখন এতটাই নাজুক ছিল যে কেউ সহজে আমাদের টাকা পয়সা ধার দিত না। কারণ তারা মনে করতো ধার নিলে আর শোধ দিতে পারবো না। যাই হোক তখনো সাংবাদিকতার ভুত ঘাড় থেকে নামেনি। তুষের আগুনের মত বুকের ভিতর ধিক ধিক করে জ্বলছিল। তবুও আর সাংবাদিক হবার জন্য পত্রিকার বিজ্ঞাপন দেখে আর কখনো প্রলুব্ধ হয়নি।
উল্লেখ্য আমার স্বপ্ন আমি বাস্তবায়ন করতে পেরেছি। আমার শ্রম, মেধা, সৃজনশীলতা, আর অদম্য ইচ্ছা শক্তি আমাকে অনেকদুর এদিয়ে আসতে সহযোগীতা করেছে। আমি এখন দেশের একটা খ্যাতনামা জাতীয় দৈনিকে কাজ করি। ব্লগ বন্ধুদের প্রতি অনুরোধ কেউ আমার মত প্রচাতরণার ফাঁদে পা দেবেন না। বিষেশ করে আপনার অনুজ, যার মধ্যে ক্রিয়েটিভিটি আছে সে কিন্তু প্রথম বার ধাক্কা খাবে। তাদের জন্যই আমার এই লেখা। প্রতারক চক্রকে নিষক্রিয় করার দায়িত্ব আজ আমাদের সকলের। আমাদরে স্বাধীন স্বদেশের মাটি থেকে প্রতারক চক্রকে উৎখাত করবোই।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



