ঘটনাটা খুলেই বলি। খবরটাতে বলা হয়েছে, বৃটিশ প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরন একটি অনুষ্ঠানে যোগ দিবেন। নির্ধারিত সময়ে অনুষ্ঠানে পৌছাতে হবে তাই সড়ক পথ পরিহার করে তিনি ওয়েস্টমিনস্টার থেকে পাতাল ট্রেনে উঠলেন। সঙ্গে একজন মাত্র দেহরক্ষী ট্রেনে ভারতীয় বংশোদ্ভূত এক মায়ের কোলে ফুটফুটে শিশু দেখে তাঁর খোঁজ নিলেন। বললেন, ‘এটা কি আপনার সন্তান?’ ওই নারী হ্যাঁ সূচক বজাব দিলে তিনি বলেন, ‘আপনার শিশুসন্তান বেশ সুন্দর হয়েছে।’ ওই শিশুটির মায়ের নাম সঙ্গীতা। তিনি তখনো বুঝতে পারেননি তাকে যিনি প্রশ্ন করছেন তিনি বৃটিশ প্রধানমন্ত্রী। সঙ্গীতা তার স্বামী ইয়ানোকাকে প্রশ্ন করলেন, ‘লোকটি কে?’ উত্তর শুনে প্রথমে বিশ্বাস করতে চাননি সঙ্গীতা। পরে একরাশ বিস্ময় নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর দিকে এগিয়ে যান সঙ্গীতা। প্রশ্ন করেন, ‘আপনি কি বৃটিশ প্রধানমন্ত্রী? ’ সঙ্গীতার প্রশ্নের জবাবে ক্যামেরন জবাব দেন হ্যাঁ। বলেন, ‘একটি বৈঠকের তাড়া আছে, সময়মতো সেখানে পৌছানোর জন্য তিনি সড়ক পথের পরিবর্তে পাতাল ট্রেনে করে যাচ্ছেন।’
এবার আসুন আমরা কিছু মিল খোঁজার চেষ্টা করি। বৃটিশ প্রধানমন্ত্রীর ওই ঘটনার সঙ্গে আমাদের দেশের বিভিন্ন সময়ের প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী-আমলাদের চলাচলের দৃশ্যের মিল খুঁজে দেখুন। কি কিছুই খুঁজে পাচ্ছেন না? পাবেন না আমি জানি। তবুও ব্যর্থ চেষ্টা আরকি। আমাদের দেশের প্রধানমন্ত্রীরা এভাবে যাবেন কল্পনাই করা যায় না। তাঁরা যাওয়ার এক ঘণ্টা আগে থেকে রাস্তায় সাধারণ মানুষের চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়। ফাঁকা রাস্তায় দুর্বার গতিতে তারা যান। কালো গ্লাসের ভেতর থেকে বাইরে এক-আধটু দেখবার চেষ্টা করেন। দেখেন তাঁর গাড়ি যেহেতু দুর্বার গতিতে যাচ্ছে সেহেতু রাস্তায় কোনো জট নেই। একারণে মাঝে মধ্যে পত্রিকার ছাপা ছবিও বিশ্বাস করতে চান না। বলেন, ‘বানোয়াট-ষড়যন্ত্র’র কথা।
এই খবরটি পড়ার পর, আমি আজ একটা দিবা স্বপ্ন দেখেছি। দেখি বিআরটিসি বাসে উঠেছি, শাহবাগ যাবো। একই বাসেই উঠলেন আমাদের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। গণভবনের সামনের ক্রসিং থেকে তিনি উঠলেন। সচিবালয় যাবেন। জরুরী ক্যাবিনেটের মিটিং আছে। সামনের দিকের একটা ফাঁকা সিট পেয়ে বসে গেলেন। এর আগে যাত্রীদের সবার খোঁজ-খবর নিলেন। কেউ কোনো দুর্ভোগে রয়েছে কিনা সেটা জানতে চাইলেন। কিন্তু দ্রব্যমূল্যের চরম উর্ধ্বগতির সময়েও সবাই হাসিমুখে বললেন, ‘কোনো সমস্যা নেই। আমরা সবাই ভালো আছি।’ প্রধানমন্ত্রীকে পাশে পেয়ে সবাই কষ্টের কথা ভুলে গেছেন। বাস চলছে। বাসের ছোট্ট একটা ঝাকুনিতে আমার দিবা স্বপ্ন ভেঙ্গে গেল।
আমি আনমনে একটু হাসলাম। ভাবছি, আমাদের দেশে, আমাদের প্রধানমন্ত্রীরা কি কখনো এমন হবেন? কখনো কি তারা আমাদের মতো সাধারণের কাছে এগিয়ে যাবেন? আমাদের সমস্যার খোঁজ-খবর করবেন? এটুকু করলেই তো সারাজীবন মতায় থাকা যায়, অন্য কোনো ‘নীলনকশা’ করতে হয় না।
সর্বশেষ এডিট : ১৮ ই অক্টোবর, ২০১১ দুপুর ২:৫০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



