somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আলো ঝলমল, পানি টলটল, ঐ শাপলা দিঘীর কাছে , আমার অনেক ঋণ আছে

২৬ শে নভেম্বর, ২০০৯ রাত ১০:৩১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

হাজার ব্যাস্ততার মাঝেই ছোট ছোট বাচ্চাদেরকে নিয়ে একটা অনুষ্ঠান করাতে হলো। অনেক চিন্তা ভাবনা করে,খেটেখুটে অনুষ্ঠানটার থিম, কনসেপ্ট বের করেছিলাম।/:)আবার বেছে বেছে ঠিকঠাক যুৎসই গান গুলো কম্পোজ করতে গিয়ে আমার অবস্থা কেরোসিন হয়েছিলো আর কি, আর একটু হলেই। :P

তাইবলে, রিহার্সেল শুরুর আগ মুহূর্ত পর্যন্ত স্বপ্নেও আশা করিনি এতটুকু পুচ্চিপুচ্চি বাবুগুলো এত ভালো পারফরমেন্স দেখাবে।

আমাদের দেশের গ্রামে গন্জে যে বিভিন্ন পেশার মানুষগুলো ছড়িয়ে রয়েছে।তাদের অবদান, তাদের কথা আমাদের বাবুগুলো আজকাল কতটুকু জানে আর ?

ধান ফলায় যে মানুষটি তাকে কৃষক বলে সেকথাটাই বা কতগুলো বাচ্চারা আজ জানে?জেলে মাছ ধরে আর আমরা যে মাছেভাতে বাঙ্গালী তা মনে হয় এখনকার শহূরে বাচ্চাগুলো ভুলতেই বসেছে। তাদের প্রিয় খাবার বার্গার, কে এফসি .........../:)

যাইহোক, ধান কাঁটার মৌসুমে সঙ্গীসাথীদেরকে ধান কাঁটার আহবান জানালো, আমার এই পিচ্চি কিষানীবউটা।

তারপর এই গানটার সাথে সাথে নেচে গেয়ে মাতালো এই দুজন পুচ্চিপুচ্চি কিষান কিষানী।
আয়রে আয়রে ছুটে আয়রে সবে আয়রে আয়
সোনালী ধানেরও ইশারাতে
আয়রে সবে কাস্তে হাতে আয়রে কাটি ধান
কাটি ধান কাটি ধান আয়রে.........।
আমার হাসিখুশী পিচ্চি চাষীটা হেমন্তের ধান কেটে ঘরে তুলতে পেরে মহাখুশী।


মাথার ঘাম পায়ে ফেলে মাছ ধরে জেলে।নৌকো বোঝাই করে বাড়ী ফেরে যখন সে, তার নতুন রাঙা বউটি নাকের নথ নাড়িয়ে সেই মাছ কেটেকুটে তাকে মাছের ঝোল আর এক থালা ভাত সামনে বেড়ে দেয়, জেলেটির বুক বুঝি গর্বে ভরে ওঠে তার নিজ পেশার কথা ভেবেই।

এই যে আমার রাঙা বউ আর গর্বিত জেলেটি।

তারা নাচের সাথে গেয়েছিলো ,
রাঙা বউ মাছ কোটেরে, উঠানে বসিয়া,
রং বেরং এর মাছ কুটে বঠিতে ফেলিয়া, বউ পান মুখে দিয়া।


গরু ছাগল নিয়ে মাঠের পানে ছুটে চলে যেই রাখাল বালকটি, সময় কোথায় তার কাজ ফেলে একটু গল্প করার, একটু ফিরে চাওয়ার???
তাইতো রাখাল বালকের ব্যাস্তবেলায় , মেয়েটি যখন পথরোধ করে তার গন্তব্য জানতে চায়। রাখার বালকটি তার উত্তর বাঁশীর সূরেই দেয়।

সেই মেয়েটি যে রাখালছেলে অনুরোধ করেছিলো বারেক ফিরে চাইতে,
রাখাল ছেলে রাখাল ছেলে বারেক ফিরে চাও,
বাঁকা গায়ের পথটি বেয়ে কোথায় চলে যাও????

এত কাজের মাঝেও কর্মক্লান্ত মানুষগুলোকে বিনোদন দিতে প্রায়ই গ্রামের মেঠোপথে দেখা মেলে সাপুড়েদের। বীন বাজিয়ে তারা যখন গায়,
বাবু সেলাম বারে বারে ,
আমার নামটি গয়া বাইদ্যা বাবু বাড়ী পদ্মার পার।
ছেলেবুড়ো ভীড় করে দেখে সেই ভয়ংকর কালনাগনাগীনির বশীকরন খেলা......

তবে স্টেজের সামনে আমার হাতদুটি কালনাগিনীদেরকে বশীকরণ করা সাপুড়েদেরকে স্টেজে বশীকরন করায় নিয়োজিত ছিলো।:P

নদীনালা, খালবিলে ভরা এই বাংলাদেশের জনপ্রিয় বাহন নৌকা। মাঝি যখন ভাটিয়ালী গান গেয়ে নৌকা বেয়ে চলে তখন নদীর হিমেল মিঠেল বাতাসে মিলায় সেই মন মাতানো সূর।

আমার সেই সব মাঝিরা........./:)/:)/:)( মাঝিদের ছবিগুলো একদম আসেনি। আসলে এসব ছবিগুলি খুবই আনাড়ী লোকের তোলা। প্রফেশনাল ক্যামেরাম্যানের ছবিগুলো হাতে আসেনি এখনও।/:))

যাইহোক,
ধান ও গানের দেশ আমাদের এই বাংলাদেশ। বিভিন্ন পেশায় নিয়োজিত ও গর্বিত আমাদের দেশের মানুষগুলোর প্রানে বয়ে চলা গান, নাচ ও সূর যেন এত দুঃখ দূর্দশাতেও তাদের মুখের নির্মল হাসিটুকু কখনও মলিন হতে দেয়না।
ঠিক যেন এই শিশুগুলির হাসিমুখের মতই!!!!!!!!!!

আবারও এই ছবিতে আমার তর্জণী হেলনে তাদের হাসিটুকু বশীকরন প্রচেষ্টায় কেউ যদি একটুও মর্মাহত হয়ে থাকে।/:) তাই তাদের জন্য দিলাম এই বোনাস ছবিটা।:):):)


১২১টি মন্তব্য ১২১টি উত্তর পূর্বের ৫০টি মন্তব্য দেখুন

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আসলে কেউ ফেরে না।

লিখেছেন রানার ব্লগ, ০৮ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৭:০৬

মৃতরা ফিরে আসে না।
ফিরে আসে তাদের ফেলে যাওয়া শূন্যতা,
চায়ের কাপের ধোঁয়া,
অধেক বলা কোনো কথা
অথবা হঠাৎ থেমে যাওয়া কোন সুর

যে প্রেম চলে গিয়েছিল,
সে আর কোনোদিন দরজায় কড়া নাড়ে না।
শুধু একদিন আয়নায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্য ড্রাগ কিং

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:১৫


সতর্কবার্তা: এটি একটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক ক্রাইম ফিকশন। বাস্তব একটি অপরাধের কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে পাঠকদের জন্য এর চরিত্র, নাম এবং স্থান পরিবর্তন করে গল্পটি সাজানো হয়েছে।

খুলনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামুতে আবারও লিলিপুটিয়ানদের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮

আমার গত পোস্টে আলামিন১০৪ নামের এক ব্লগার মন্তব্য করেছেন যে - "এ আই দিয়ে হুমায়ূন আহমেদের মতো লেখা যায়।"
তিনি এ আই-কে প্রম্পট দিয়েছিলেন ' হুমায়ুন আহমেদের মতো গল্প লিখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইজিবাইক চলাচলের প্রকৃত কর্তৃপক্ষ কে?

লিখেছেন মাহদী হাসান শিহাব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:৩৪



দেশের বিভিন্ন শহর ও গ্রামে ইজিবাইক নামে একটি যানবাহন চলাচল করে। কিন্তু এর পরিচালনা, লাইসেন্সিং এবং চলাচলের ক্ষেত্র সম্পর্কে সুস্পষ্ট ও সর্বজনবিদিত কোনো নীতিমালা সাধারণ মানুষের কাছে দৃশ্যমান নয়।

শহরের ভেতরে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

মন কথনিকা-৪৮৭৩-৭৪

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৯

মন কথনিকা-৪৮৭৩
তোমার আমার মতামতে আকাশ পাতাল সীমা
আমার বুলি বরফ জলের তোমার যেন বোমা,
তুমি বলো রোদের তেজে আমি বর্ষার মতন
বুকের ভিতর বন্ধু বুঝি পাথর পুষো যতন।

মন কথনিকা-৪৮৭৪
পিঠে ব্যথা ভাল্লাগে না, মন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×