হাজার ব্যাস্ততার মাঝেই ছোট ছোট বাচ্চাদেরকে নিয়ে একটা অনুষ্ঠান করাতে হলো। অনেক চিন্তা ভাবনা করে,খেটেখুটে অনুষ্ঠানটার থিম, কনসেপ্ট বের করেছিলাম।
তাইবলে, রিহার্সেল শুরুর আগ মুহূর্ত পর্যন্ত স্বপ্নেও আশা করিনি এতটুকু পুচ্চিপুচ্চি বাবুগুলো এত ভালো পারফরমেন্স দেখাবে।
আমাদের দেশের গ্রামে গন্জে যে বিভিন্ন পেশার মানুষগুলো ছড়িয়ে রয়েছে।তাদের অবদান, তাদের কথা আমাদের বাবুগুলো আজকাল কতটুকু জানে আর ?
ধান ফলায় যে মানুষটি তাকে কৃষক বলে সেকথাটাই বা কতগুলো বাচ্চারা আজ জানে?জেলে মাছ ধরে আর আমরা যে মাছেভাতে বাঙ্গালী তা মনে হয় এখনকার শহূরে বাচ্চাগুলো ভুলতেই বসেছে। তাদের প্রিয় খাবার বার্গার, কে এফসি ...........
যাইহোক, ধান কাঁটার মৌসুমে সঙ্গীসাথীদেরকে ধান কাঁটার আহবান জানালো, আমার এই পিচ্চি কিষানীবউটা।
তারপর এই গানটার সাথে সাথে নেচে গেয়ে মাতালো এই দুজন পুচ্চিপুচ্চি কিষান কিষানী।
আয়রে আয়রে ছুটে আয়রে সবে আয়রে আয়
সোনালী ধানেরও ইশারাতে
আয়রে সবে কাস্তে হাতে আয়রে কাটি ধান
কাটি ধান কাটি ধান আয়রে.........।
আমার হাসিখুশী পিচ্চি চাষীটা হেমন্তের ধান কেটে ঘরে তুলতে পেরে মহাখুশী।
মাথার ঘাম পায়ে ফেলে মাছ ধরে জেলে।নৌকো বোঝাই করে বাড়ী ফেরে যখন সে, তার নতুন রাঙা বউটি নাকের নথ নাড়িয়ে সেই মাছ কেটেকুটে তাকে মাছের ঝোল আর এক থালা ভাত সামনে বেড়ে দেয়, জেলেটির বুক বুঝি গর্বে ভরে ওঠে তার নিজ পেশার কথা ভেবেই।
এই যে আমার রাঙা বউ আর গর্বিত জেলেটি।
তারা নাচের সাথে গেয়েছিলো ,
রাঙা বউ মাছ কোটেরে, উঠানে বসিয়া,
রং বেরং এর মাছ কুটে বঠিতে ফেলিয়া, বউ পান মুখে দিয়া।
গরু ছাগল নিয়ে মাঠের পানে ছুটে চলে যেই রাখাল বালকটি, সময় কোথায় তার কাজ ফেলে একটু গল্প করার, একটু ফিরে চাওয়ার???
তাইতো রাখাল বালকের ব্যাস্তবেলায় , মেয়েটি যখন পথরোধ করে তার গন্তব্য জানতে চায়। রাখার বালকটি তার উত্তর বাঁশীর সূরেই দেয়।
সেই মেয়েটি যে রাখালছেলে অনুরোধ করেছিলো বারেক ফিরে চাইতে,
রাখাল ছেলে রাখাল ছেলে বারেক ফিরে চাও,
বাঁকা গায়ের পথটি বেয়ে কোথায় চলে যাও????
এত কাজের মাঝেও কর্মক্লান্ত মানুষগুলোকে বিনোদন দিতে প্রায়ই গ্রামের মেঠোপথে দেখা মেলে সাপুড়েদের। বীন বাজিয়ে তারা যখন গায়,
বাবু সেলাম বারে বারে ,
আমার নামটি গয়া বাইদ্যা বাবু বাড়ী পদ্মার পার।
ছেলেবুড়ো ভীড় করে দেখে সেই ভয়ংকর কালনাগনাগীনির বশীকরন খেলা......
তবে স্টেজের সামনে আমার হাতদুটি কালনাগিনীদেরকে বশীকরণ করা সাপুড়েদেরকে স্টেজে বশীকরন করায় নিয়োজিত ছিলো।
নদীনালা, খালবিলে ভরা এই বাংলাদেশের জনপ্রিয় বাহন নৌকা। মাঝি যখন ভাটিয়ালী গান গেয়ে নৌকা বেয়ে চলে তখন নদীর হিমেল মিঠেল বাতাসে মিলায় সেই মন মাতানো সূর।
আমার সেই সব মাঝিরা.........
যাইহোক,
ধান ও গানের দেশ আমাদের এই বাংলাদেশ। বিভিন্ন পেশায় নিয়োজিত ও গর্বিত আমাদের দেশের মানুষগুলোর প্রানে বয়ে চলা গান, নাচ ও সূর যেন এত দুঃখ দূর্দশাতেও তাদের মুখের নির্মল হাসিটুকু কখনও মলিন হতে দেয়না।
ঠিক যেন এই শিশুগুলির হাসিমুখের মতই!!!!!!!!!!
আবারও এই ছবিতে আমার তর্জণী হেলনে তাদের হাসিটুকু বশীকরন প্রচেষ্টায় কেউ যদি একটুও মর্মাহত হয়ে থাকে।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

