১. তামিম ইকবাল
২. ইমরুল কায়েস
৩. মোহাম্মদ আশরাফুল
৪. সাকিব আল হাসান
৫. রকিবুল হাসান
৬. মুশফিকুর রহিম
৭. মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ
৮. নাইম ইসলাম
৯. আব্দুর রাজ্জাক
১০. রুবেল হোসেন
১১. সৈয়দ রাসেল
বর্তমান বাংলাদেশ দল বড় দলগুলোর সাথে জেতার ক্ষমতা রাখে না কিন্তু ভালো একটা লড়াই করার ক্ষমতা রাখে। কেননা, আমরা যদি ব্যাটিং লাইন টা একটু খেয়াল করি তবে দেখা যাবে ব্যাটিং লাইন আপ এর অষ্টম প্লেয়ার নাইম ইসলাম ছক্কা নাইম নামে পরিচিতএবং সে একজন অলরাউন্ডার হিসেবেই পরিচিত। কিন্তু এই লাইন আপ নিয়েও কেনো জেতা সম্ভব নয়? আমরা কিন্তু এর চেয়েও খারাপ ব্যাটিং লাইন আপ নিয়ে বড় বড় দলগুলোর সাথে জিতেছি. . . তাহলে সমস্যাটা কোথায়?
প্রথম একমাত্র সমস্যাটা হচ্ছে বোলিং, পেসার. . . আমাদের মূল বোলার মাশরাফি নেই। তার জায়গাটা কেউই পূরন করতে পারছে না! কেউই না!! কেউই না!!
এবার আমাদের এই ১১ জন খেলোয়ার নিয়ে কিছু মন্তব্য নিচে দিচ্ছি..
১. তামিম ইকবালঃ
তামিম ইকবালের প্রথম দিকের ম্যাচগুলোর কথা মনে আছে। আমার কাছে ওর ব্যাটিংটা দেখলেই ভয় লাগতো। মনে হতো এই বুঝি আউট হয়ে যাবে! এই বুঝি আগে থেকেই স্থিও করবে যে এই বলটা সে সামনে এগিয়ে মারবেই। দেন উইকেট কিপার, অথবা সিøপ অথবা লং লেগ এ ক্যাচ। কিন্তু এই তামিম নিজেকে যেভাবে প্রতিষ্ঠিত করেছে তা সত্যিই অসাধারন। গতোবছর নিয়মিত রান করেছে। এবং আমি মনে করি বাংলাদেশ টিমের সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য ব্যাটসম্যান এখন তামিমই। নিজের দিনে ও ম্যাচ জেতানোর মতো ক্ষমতা রাখে।
২. ইমরুল কায়েসঃ
আজকের ব্যাটিং বাদে এর আগের ম্যাচগুলোতে ইমরুল কায়েসের ব্যাটিংটা আমার কাছে খুবই বিরক্ত লেগেছে। গতোকালের ভারতের সাথের ম্যাচে ৭০ রান করার পরও আমি ওকে দল থেকে বাদ দেয়ার পক্ষে ছিলাম। মুল কারন ছিলো এই ব্যাটিং উইকেটে ১০০ বল খেলে ৭০ রান করাটা দলের জন্য ক্ষতিকর ই মনে করি। এই ধরনের পিচে ১০০ বল খেলে কমপক্ষে ৯০ রান করা উচিৎ, তাছাড়া সে ওপেনিং খেলেছে। এমনতো না যে সে যখন নেমেছে তখন বাংলাদেশের অবস্থা খারাপ ছিলো। ইন্ডিয়ার সাথে আরও ২০-৩০ রান বেশী করতে পারলে ম্যাচটার ফলাফল অন্যরকম হতে পারতো। অনেকে হয়তো এই যুক্তির বীপরিতে চলে যাবেন। কেননা ২৯৭ করতে পারলে ৩২০ ও করতে পারবে। তবে আমি বলব রান ৩০০+ হয়ে গেলেই ব্যাটসম্যানদের মাথায় প্রেসার কাজ কওে এবং ক্রিকেটে মানসিক চাপটা অনেক গুরুত্বপূর্ন। আজকের ইমরুলের খেলা খারাপ লাগেনি। যদি এরকম খেলতে পারে তবে ও দলেই থাকুক।
৩. মোহাম্মদ আশরাফুলঃ
অসাধারন এক খেলোয়ার যিনি কিনা টেন্ডুলকারের পাশে নিজের নাম লেখানোর ক্ষমতা রাখেন। কিন্তু আফসোস, ক্ষমতা রাখেন কিন্তু তা দেখাতে পারেন না! আমি বুঝিনা এই ছেলেটার সমস্যা কোথায়? যথেষ্ট ভালো খেলার ক্ষমতা ওর আছে এবং সত্যি কথা বলতে যেদিন খেলে সেদিন কিন্তু শুরু থেকেই বোঝা যায়। অষ্ট্রেলিয়ার সাথে যে ম্যাচটা আমরা জিতলাম, কি যে খেলল. . . তার পরের ম্যাচেই ৫২ বলে ৯৪ রান। ইংল্যান্ডতো ভয়ই পেয়ে গিয়েছিলো। অথচ এই আশরাফুলের গড় রান ২৫ এর ও নিচে!! আমার মনে হয় ওকে এক ম্যাচ খেলিয়ে ৫ ম্যাচ বিশ্রাম দেয়া প্রয়োজন অথবা ওকে বলা দরকার তুমি যদি এই ম্যাচে ৫০ করতে না পার তবে দলকে তুমি ৫০০০০ টাকা দিবে, আর যদি ৫০ করতে পারো তবে ৫০০০০ টাকা নিবে। অনেকটা জুয়ার মতো! হা হা হা... আসলে আশরাফুল একটা রহস্য!
৪. সাকিব আল হাসানঃ
খুব আফসোস করতাম যে সাকিবের মতো আর দুইটা খেলোয়ার আমরা যদি পেতাম!! বুঝতেই পারছেন . . . এখন আফসোসটা একটু কম. . .
৫. রকিবুল হাসানঃ
নিঃসন্দেহে ভালো খেলে। একদিনের ম্যাচে তার গড় ৩০ এর মতো। প্রায় প্রতি ম্যাচে ২০, ৩০, ৪০ রান সে করেই চলেছে। সুতরাং তাকে বাদ দেয়ার চিন্তা টিম ম্যানেজম্যান্ট করতে পারছে না! কিন্তু আমি মনে করি তার পরিবর্তে আফতাবকে খুব শিঘ্রই দলে অন্তভুক্ত করা প্রয়োজন। আফতাব বাংলাদেশ দলের জন্য নিজেই একটা একক শক্তি। আফতাবের নিজের দিনে আফতাব বড় দলের বিপক্ষেও বাংলাদেশকে জেতানোর ক্ষমতা রাখে, কিন্তু রকিবুলের নিজের দিনে রকিবুলের করা রান বাংলাদেশের জন্য সুফল বয়ে নাও আনতে পারে। বরং হিতে বীপরিত হতে পারে।
৬. মুশফিকুর রহিমঃ
একজন ভালো উইকেট কিপার। তবে এই জায়গাটায় আমি কি যেনো একটা মিস করি! আমি মিস করি সাঙ্গাকারাকে, আমি মিস করি ম্যাককালাম কে, আমি মিস করি গিলকিস্টকে। মুশফিক নিঃসন্দেহে ভালো খেলে, কিন্তু তবুও মনে হয় একটা জাত ব্যাটসম্যান দরকার, যে কিনা সাঙ্গকারা অথবা গিলকিস্টের সমতুল্য হতে পারে।
৭. মাহমুদুল্লাহ রিয়াদঃ
সাকিবের ব্যাপারে লিখতে গিয়ে বলেছিলাম যে সাকিবের মতো আর দুইটা খেলোয়ার যদি আমরা পেতাম! আমি মনে বাংলাদেশ দলের দ্বিতীয় সাকিব অথবা দ্বিতীয় অলরাউন্ডার হচ্ছে রিয়াদ।
৮. নাইম ইসলামঃ
”ছক্কা নাইম”। বাংলাদেশ দলের তৃতীয় অলরাউন্ডার। সাকিব, রিয়াদ এবং নাইম আসায় বাংলাদেশ দলটা অনেক শক্তিশালি হয়েছে।
৯. আব্দুর রাজ্জাকঃ
বর্তমানে সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য বোলার। তবে এই সিরিজে কিছুই করতে পারেনি! আমি এক্ষেত্রে রাজ্জাকের কোনো দোষ দেখিনা। এই ব্যাটিং ট্র্যকে তার কিছুই করার নেই!
১০. রুবেল হোসেনঃ
বলে ভালো পেস আছে। কিন্তু বলের লেনথ খুবই খারাপ। ওকে আরও শিখতে হবে।
১১. সৈয়দ রাসেলঃ
রাসেল ভালো বলার। ও যেভাবে ইনসুইং এবং আউটসুইং বল করে তা সত্যিই অসাধারণ, তবে আমি বলবো ওর বলে গতিটা যদি আরও একটু বেশী হতো তবে তা ওর জন্য এবং বাংলাদেশ দলের জন্যও ভালো হতো।
উপরের দলটা নিয়ে নিয়মিত খেলা সম্ভব হলেও বড় দলের সাথে জেতা সম্ভব নয়!! ক্রিকেটে বাংলাদেশ এখন আর আগের অবস্থানে নেই। এখন আর সে যুগ নেই যে ৫০ ওভার টিকে থাকতেই হবে। যুগ পাল্টেছে, এখন সময় এসেছে জেতার জন্য খেলার। সুতরাং ৫০ ওভার খেলার জন্য না খেলে জেতার জন্য খেলো বাংলাদেশ।
শুধুমাত্র দলের দুটো পরিবর্তনই বড় দলের বিপক্ষে বাংলাদেশকে জয়ের মুখ দেখাতে পারে।
১. তামিম ইকবাল
২. ইমরুল কায়েস/অন্য কেউ
৩. আফতাব আহমেদ
৪. মোহাম্মদ আশরাফুল
৫. সাকিব আল হাসান
৬. মুশফিকুর রহিম
৭. মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ
৮. নাইম ইসলাম
৯. আব্দুর রাজ্জাক
১০. মাশরাফি বিন মর্তুজা
১১. সৈয়দ রাসেল/নতুন কেউ
উপরের দলটা নিয়ে আমরা ইনশাআল্লাহ ২০১১ এর বিশ্বকাপে চমক দেখাবোই. . .
বিঃ দ্রঃ বর্তমান দল নিয়ে যে জেতা সম্ভব নয়, ব্যাপারটা তা নয়। একদিনের ম্যাচে সবই সম্ভব, সুতরাং হয়তো জেতা সম্ভব, তবে নিয়মিতভাবে নয়। আমরা নিয়মিতভাবে জিততে চাই। আর কতো লড়াই!!

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



