অনেকগুলো ব্যাপার মিডিয়াতে উঠে আসলো...
আমি বলবো অনেকটা সাপে বর হওয়ার মতো ঘটনা ঘটলো। কর্পোরেট ব্যাবসায়ীরা নিজেদের ফায়দা লুটার জন্য অস্ত্র হিসেবে কি কি ব্যাবহার করছে তাতো ক্ষমতাবানরা দেখেও না দেখার ভান করছে! যারা ক্ষমতায় আছেন তারা কিছুই বলছেন না, মাথা ঘামাচ্ছে সাধারন মানুষেরা। এরকমটাই সবসময় হয়!! এবং এরকমটাই সবসময় হবে....
৪-৫ বছর ধরে নিয়মিতো শহীদ মিনারের সামনে দিয়ে আসা যাওয়া করি। কৈ, ২১ শে ফেব্রুয়ারী ছাড়া আর কোনো দিনতো মানুষ গুলোকে অভিনয় করতে দেখিনা!! কি দরকার এই ফালতু আনুষ্ঠানিকতা করার? ভেতরে যদি শ্রদ্ধাবোধ না থাকে তবে ঐ একদিন পলাশীর প্রান্তর থেকে জুতা হাতে আনুষ্ঠানিকতা করে ফুল দেয়ার কোনো প্রয়োজন নেই।
২০০৭ সালের দিকে একবার আমি সারারাত শহীদ মিনারে ছিলাম। আমার সাথে ছিলো সাগর আর শুভ। সবচেয়ে বড় মিনারটিতে হেলান দিয়ে বসে ছিলাম। বড় মিনারটির পেছনে একটা পাগল শুয়ে ছিলো। পরিচিতো পাগল। মাধে মাঝেই এই এড়িয়াতে তাকে দেখি। সে বিরবির করে কি যেনো বলছিলো আর বার থু থু ফেলছিলো। আমি একবার তার খুব কাছে যাওয়ার চেষ্টা করলাম এবং কি বলছে তা বোঝার চেষ্টা করলাম। কিন্তু ব্যার্থ হলাম এবং শেষ পর্যন্ত পাগলটা সম্ভবত আমাদের উপর বিরক্ত হয়েই সেখান থেকে চলে গিয়েছিলো। ঐ জায়গাটা তার ঘুমানোর জায়গা।
আমরা তিনজন গল্প করছিলাম। একসময় শহীদ মিনারে জুতা নিয়ে উপরে উঠার প্রসঙ্গটা তুললাম। আমি বললাম, পুরো শহীদ মিনারের প্রাঙ্গনে সবসময়ই খালি পায়ে উঠা উচিৎ, শুধুমাত্র একদিন খালি পায়ে শ্রদ্ধা দেখিয়ে কি লাভ? স্বভাবতই সাগর আমার বিরুদ্ধে চলে গেলো! ও কিছু যুক্তি দেখালো, ওর কথা হচ্ছে শ্রদ্ধাবোধটা থাকে ভেতরে। কে জুতা নিয়ে উঠলো অথবা উঠলো না এটা তার নিজস্ব ব্যাপার। কিছু কিছু ব্যাপার নিয়ে ওর সাথে আমার মোটামুটি ঝগড়াই হলো। শুভ একবার বললো এই সামান্য ব্যাপার নিয়ে এতটা ইমোশনাল হওয়া ঠিক না। ওর কাছে ব্যাপারটা সামান্য এবং ইমোশনাল হতে পারে। সেদিন একটা প্রতিগ্গাও করেছিলাম, প্রতিগ্গাটা আর একদিন হয়তো শেয়ার করা যাবে... তবে এটুকু বলি ২০০৭ এর পর কোনো ফেব্রুয়ারীতেই আমি শহীদ মিনারে ফুল দিতে যাই নি।
শহীদ মিনারে জুতা নিয়ে উঠা, ঝালমুড়ি খেয়ে-বাদাম খেয়ে শহীদ মিনার নোংরা করা, এসব কোনো কিছু কেউ আমি সমর্থন করি না! আমি মনে করি ভাষা-শহীদদের যোগ্য সম্মান দিতে শুধু ২১ফেব্রুয়ারীর আনুষ্ঠানকতা করে কোনো লাভ নেই, তাদেরকে সত্যিকারের সম্মান দিতে চাইলে শ্রদ্ধাবোধটা ভেতরে জাগ্রত করতেই হবে, যেনো সেটা বাইরেও প্রকাশ পায়।
গতোবছর আমি কিছু ছবি তুলোছিলাম। একটা ছিলো আমরণ অনশনের সময় তোলা... অন্যপ্রসঙ্গে একটা কথা বলি.. কিছু হলেই আজকাল দেখা যায় আমরণ অনশন... অথচ কাউকে এখনো মরতে দেখিনি। গতোবছরের আগের বছর ঈদের সময় এরকম একটা আমরণ অনশন চলছিলো.... অনশন অনশন, অথচো সন্ধ্যায় যখন একজন গাড়িতে করে বিরাট ডেস্কিতে খাবার নিয়ে আসলো তখন সবাই উল্লাসিতো হয়ে ফেটে পড়লো.... সেটার ভিডিও আমার কাছে ছিলো, খুঁজলে হয়তো পাবো। একেই বলে আমরণ অনশন। মজার মজার ঘটনা অনেক আছে লিখতে গেলে অনেক বড় হয়ে যাবে...
আর ফুল ছোড়াছুড়ির ঘটনা কি এবারই প্রথম শুনলেন?
যদি এবারই প্রথম শুনে থাকেন তবে বলি, ফুল ছোড়াছুড়ি প্রায় প্রতিবছরই হয়। এই বছরের আগের বছরও ফুল ছোড়াছুড়ি হয়েছিলো। তবে এর আগের বছরগুলোতে ছোড়াছুড়িতে অংশগ্রহন করতে সেখানের পথ শিশুরা অথবা একেবারেই নিন্মশ্রেনীর মানুষেরা। আর এবার সেই কাপানো ৩০ মিনিটে অংশ নিলো কিছু সাধারন মানুষ যাদের বেশীরভাগকেই যুবক শ্রেনীর বলে মনে হলো.... !!
যাই হোক, এই ধরনের নোংরা ঘটনার পর যদি এই ধরনের কাপানো ৩০ মিনিরে মতো কৌতুক পরবর্তীতে বন্ধ হয় এবং পরবর্তিতে যদি কোনো ভালো উদ্যোগ নেয়া হয় তবে বলবো একটা খারাপের মধ্যেও হয়তো ভালো কিছু হয়ে গেলো অথবা হয়ে যেতে পারে....
সর্বশেষ এডিট : ০২ রা মার্চ, ২০১০ রাত ২:১৪

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


