somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

২০১০ সালের ২১ শে ফেব্রুয়ারীর ফুল ছোড়াছুড়ির ঘটনায় অবাক হওয়ার কিছু নেই....

০২ রা মার্চ, ২০১০ রাত ১:৩৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

এবার দুনিয়া কাঁপানো ৩০ মিনিট হওয়াতে ভালোই হলো।
অনেকগুলো ব্যাপার মিডিয়াতে উঠে আসলো...
আমি বলবো অনেকটা সাপে বর হওয়ার মতো ঘটনা ঘটলো। কর্পোরেট ব্যাবসায়ীরা নিজেদের ফায়দা লুটার জন্য অস্ত্র হিসেবে কি কি ব্যাবহার করছে তাতো ক্ষমতাবানরা দেখেও না দেখার ভান করছে! যারা ক্ষমতায় আছেন তারা কিছুই বলছেন না, মাথা ঘামাচ্ছে সাধারন মানুষেরা। এরকমটাই সবসময় হয়!! এবং এরকমটাই সবসময় হবে....


৪-৫ বছর ধরে নিয়মিতো শহীদ মিনারের সামনে দিয়ে আসা যাওয়া করি। কৈ, ২১ শে ফেব্রুয়ারী ছাড়া আর কোনো দিনতো মানুষ গুলোকে অভিনয় করতে দেখিনা!! কি দরকার এই ফালতু আনুষ্ঠানিকতা করার? ভেতরে যদি শ্রদ্ধাবোধ না থাকে তবে ঐ একদিন পলাশীর প্রান্তর থেকে জুতা হাতে আনুষ্ঠানিকতা করে ফুল দেয়ার কোনো প্রয়োজন নেই।



২০০৭ সালের দিকে একবার আমি সারারাত শহীদ মিনারে ছিলাম। আমার সাথে ছিলো সাগর আর শুভ। সবচেয়ে বড় মিনারটিতে হেলান দিয়ে বসে ছিলাম। বড় মিনারটির পেছনে একটা পাগল শুয়ে ছিলো। পরিচিতো পাগল। মাধে মাঝেই এই এড়িয়াতে তাকে দেখি। সে বিরবির করে কি যেনো বলছিলো আর বার থু থু ফেলছিলো। আমি একবার তার খুব কাছে যাওয়ার চেষ্টা করলাম এবং কি বলছে তা বোঝার চেষ্টা করলাম। কিন্তু ব্যার্থ হলাম এবং শেষ পর্যন্ত পাগলটা সম্ভবত আমাদের উপর বিরক্ত হয়েই সেখান থেকে চলে গিয়েছিলো। ঐ জায়গাটা তার ঘুমানোর জায়গা।

আমরা তিনজন গল্প করছিলাম। একসময় শহীদ মিনারে জুতা নিয়ে উপরে উঠার প্রসঙ্গটা তুললাম। আমি বললাম, পুরো শহীদ মিনারের প্রাঙ্গনে সবসময়ই খালি পায়ে উঠা উচিৎ, শুধুমাত্র একদিন খালি পায়ে শ্রদ্ধা দেখিয়ে কি লাভ? স্বভাবতই সাগর আমার বিরুদ্ধে চলে গেলো! ও কিছু যুক্তি দেখালো, ওর কথা হচ্ছে শ্রদ্ধাবোধটা থাকে ভেতরে। কে জুতা নিয়ে উঠলো অথবা উঠলো না এটা তার নিজস্ব ব্যাপার। কিছু কিছু ব্যাপার নিয়ে ওর সাথে আমার মোটামুটি ঝগড়াই হলো। শুভ একবার বললো এই সামান্য ব্যাপার নিয়ে এতটা ইমোশনাল হওয়া ঠিক না। ওর কাছে ব্যাপারটা সামান্য এবং ইমোশনাল হতে পারে। সেদিন একটা প্রতিগ্গাও করেছিলাম, প্রতিগ্গাটা আর একদিন হয়তো শেয়ার করা যাবে... তবে এটুকু বলি ২০০৭ এর পর কোনো ফেব্রুয়ারীতেই আমি শহীদ মিনারে ফুল দিতে যাই নি।

শহীদ মিনারে জুতা নিয়ে উঠা, ঝালমুড়ি খেয়ে-বাদাম খেয়ে শহীদ মিনার নোংরা করা, এসব কোনো কিছু কেউ আমি সমর্থন করি না! আমি মনে করি ভাষা-শহীদদের যোগ্য সম্মান দিতে শুধু ২১ফেব্রুয়ারীর আনুষ্ঠানকতা করে কোনো লাভ নেই, তাদেরকে সত্যিকারের সম্মান দিতে চাইলে শ্রদ্ধাবোধটা ভেতরে জাগ্রত করতেই হবে, যেনো সেটা বাইরেও প্রকাশ পায়।

গতোবছর আমি কিছু ছবি তুলোছিলাম। একটা ছিলো আমরণ অনশনের সময় তোলা... অন্যপ্রসঙ্গে একটা কথা বলি.. কিছু হলেই আজকাল দেখা যায় আমরণ অনশন... অথচ কাউকে এখনো মরতে দেখিনি। গতোবছরের আগের বছর ঈদের সময় এরকম একটা আমরণ অনশন চলছিলো.... অনশন অনশন, অথচো সন্ধ্যায় যখন একজন গাড়িতে করে বিরাট ডেস্কিতে খাবার নিয়ে আসলো তখন সবাই উল্লাসিতো হয়ে ফেটে পড়লো.... সেটার ভিডিও আমার কাছে ছিলো, খুঁজলে হয়তো পাবো। একেই বলে আমরণ অনশন। মজার মজার ঘটনা অনেক আছে লিখতে গেলে অনেক বড় হয়ে যাবে...



আর ফুল ছোড়াছুড়ির ঘটনা কি এবারই প্রথম শুনলেন?
যদি এবারই প্রথম শুনে থাকেন তবে বলি, ফুল ছোড়াছুড়ি প্রায় প্রতিবছরই হয়। এই বছরের আগের বছরও ফুল ছোড়াছুড়ি হয়েছিলো। তবে এর আগের বছরগুলোতে ছোড়াছুড়িতে অংশগ্রহন করতে সেখানের পথ শিশুরা অথবা একেবারেই নিন্মশ্রেনীর মানুষেরা। আর এবার সেই কাপানো ৩০ মিনিটে অংশ নিলো কিছু সাধারন মানুষ যাদের বেশীরভাগকেই যুবক শ্রেনীর বলে মনে হলো.... !!



যাই হোক, এই ধরনের নোংরা ঘটনার পর যদি এই ধরনের কাপানো ৩০ মিনিরে মতো কৌতুক পরবর্তীতে বন্ধ হয় এবং পরবর্তিতে যদি কোনো ভালো উদ্যোগ নেয়া হয় তবে বলবো একটা খারাপের মধ্যেও হয়তো ভালো কিছু হয়ে গেলো অথবা হয়ে যেতে পারে....
সর্বশেষ এডিট : ০২ রা মার্চ, ২০১০ রাত ২:১৪
৫টি মন্তব্য ৫টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

দ্য ড্রাগ কিং

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:১৫


সতর্কবার্তা: এটি একটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক ক্রাইম ফিকশন। বাস্তব একটি অপরাধের কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে পাঠকদের জন্য এর চরিত্র, নাম এবং স্থান পরিবর্তন করে গল্পটি সাজানো হয়েছে।

খুলনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামুতে আবারও লিলিপুটিয়ানদের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮

আমার গত পোস্টে আলামিন১০৪ নামের এক ব্লগার মন্তব্য করেছেন যে - "এ আই দিয়ে হুমায়ূন আহমেদের মতো লেখা যায়।"
তিনি এ আই-কে প্রম্পট দিয়েছিলেন ' হুমায়ুন আহমেদের মতো গল্প লিখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইজিবাইক চলাচলের প্রকৃত কর্তৃপক্ষ কে?

লিখেছেন মাহদী হাসান শিহাব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:৩৪



দেশের বিভিন্ন শহর ও গ্রামে ইজিবাইক নামে একটি যানবাহন চলাচল করে। কিন্তু এর পরিচালনা, লাইসেন্সিং এবং চলাচলের ক্ষেত্র সম্পর্কে সুস্পষ্ট ও সর্বজনবিদিত কোনো নীতিমালা সাধারণ মানুষের কাছে দৃশ্যমান নয়।

শহরের ভেতরে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

মন কথনিকা-৪৮৭৩-৭৪

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৯

মন কথনিকা-৪৮৭৩
তোমার আমার মতামতে আকাশ পাতাল সীমা
আমার বুলি বরফ জলের তোমার যেন বোমা,
তুমি বলো রোদের তেজে আমি বর্ষার মতন
বুকের ভিতর বন্ধু বুঝি পাথর পুষো যতন।

মন কথনিকা-৪৮৭৪
পিঠে ব্যথা ভাল্লাগে না, মন... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

×