ঈশ্বরে বিশ্বাস অবিশ্বাস বা আস্তিক নাস্তিক ধরনের বিতর্কের এইবার বোধহয় চিরঅবসান হতে চলছে। জাপানের একদল জীববিজ্ঞানী মানবদেহে স্রস্টার প্রতি বিশ্বাসের জন্য দায়ী একটি জিন সনাক্ত করতে সক্ষম হয়েছে।
একদল মানুষ যখন অন্ধভাবে স্রস্টার প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করতে পারছে, আরেকদল তখন কোন অবস্থাতেই স্রস্টার অস্তিত্ব স্বীকার করতে রাজি নয়! যুগ যুগ ধরে চলে আসা মানুষের এই চিরচারিত বৈশিষ্টের বড় কারনটি এখন মানুষের হাতের নাগালে!
মানবদেহের ক্রোমোজোম ১১ তে এই জিনটির অস্তিত্ব ধরা পড়ে। এর নামকরন করা হয়েছে ট্রাস্ট জিন১ (Trust1)। এই জিনটি যেসব মানুষের মাঝে প্রকটভাবে প্রকাশিত (Actively expressed) হয়, তারাই স্রস্টাকে অকপটে বিশ্বাস করতে শুরু করে। সবচেয়ে মজার ব্যপার হলো, বয়স বাড়ার সাথে সাথে এই জিনটি প্রভাবিত (Induced) হতে থাকে এবং বৃদ্ধবয়সে এর প্রকাশ বহুগুনে বেড়ে যায় এবং মানুষ স্রস্টার প্রতি আস্থাবান হয়! আরো মজার ব্যাপার হলো বিভিন্ন ধরনের শরীরিক বা মানসিক চাপ (Stress) এই জিনটিকে একটিভেট হতে সহায়তা করে যার জন্য বিভিন্ন বিপদে আপদে স্রস্টাকে স্মরন হয়।
কিছু কিছু মানুষের শরীরে এই জিনটি পুরোপুরি অকার্যকর (Inactivate)থাকে, এবং তারা কখনোই স্রস্টার অস্তিত্ব স্বীকার করে না। বিভিন্ন ধর্মের ৫০০ জন মানুষের মধ্যে গবেষনা করে ১৯৯ জন মানুষের মধ্যে এই জিনটি ইনএকটিভ/অকার্যকর পাওয়া গেছে যাদের মধ্যে ১৮০ জনই স্রস্টাকে অবিশ্বাষ করেন (৯০%)।
বহুদিন ধরে চলে আসা এই গবেষনার সর্বশেষ ফলাফলগুলো আরো চমকপ্রদ। মানবদেহের এই জিনটি যখন একটিভলি প্রকাশিত হয় তখন এটি KNW-7 নামের অন্য একটি জিনকে প্রকাশে বাধা (Inhibit) দেয়। এই KNW-7 নামের জিনটি মূলত মানুষের মুক্তচিন্তা বা বুদ্ধিমত্বার বিকাশে সহায়ক। তাই যেসব মানুষ স্রস্টাকে বিশ্বাস করে তাদের চিন্তাচেতনা একটা গন্ডীর মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে বলে বিজ্ঞানিরা মনে করছেন।
বিস্ময়করভাবে মানবদেহের এই জিনটিকে পুরোপুরি নিয়ন্ত্রন করা সম্ভব! জন্মের পরই Antisense RNA technology র মাধ্যমে এই জিনটির প্রকাশ যেমন চিরতরে বন্ধ করে দেয়া যাবে (১০০% নাস্তিক) তেমনি বিশেষ ধরনের হরমোনাল Inducer ব্যবহার করে একে সারাজীবনের জন্য একটিভ করে দেয়া যাবে (১০০% আস্তিক)।
তাই সেইদিন হয়ত আর দূরে নয় যেদিন সমগ্র জাতিকে সিদ্ধান্তে পৌছতে হবে যে আমরা খোদাভীরু আস্তিক হব নাকি খোদাবিহীন নাস্তিক হব!
কারন জন্মের পরপরই অন্যান্য টিকার সাথে আস্তিক নাস্তিক টিকাও হয়ত বাজারে পাওয়া যাবে। তবে অধিকাংশ জীববিজ্ঞানীর মতে, এই জিনটিকে অকার্যকর করে দেয়ার মধ্যেই মানবজাতির সত্যিকার মঙ্গল নিহিত। মানুষের চিন্তা চেতনা আর বুদ্ধির বিকাশের জন্য এবং মানব সভ্যতাকে হিংসা বিদ্ধেষ আর যুদ্ধবিগ্রহ থেকে রক্ষা করে এক সত্যিকারের শান্তিময় পৃথিবী গড়তে এই জিনের প্রকাশ বন্ধ করার এখনই সময়!
পুনষ্চ: এটি আমার উর্বর মস্তিস্ক থেকে বের হওয়া একটি বায়োলজিক্যল কল্পকাহিনী, যা এই শতকের মাঝামাঝিতে সত্য হলেও হতে পারে!!!
সর্বশেষ এডিট : ১৩ ই আগস্ট, ২০০৯ বিকাল ৫:৫৭

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


