আধুনিক প্রযুক্তিগত বিশ্বের সর্বশেষ ‘তাণ্ডবলীলা’ ফেসবুক। এর আলোয় পৃথিবী এখন আলোকিত। ফেসবুক আবার পৃথিবীজুড়ে অন্ধকারও নামিয়ে এনেছে। আলো আর আঁধারের খেলায় ফেসবুকের কোনো জুড়ি নেই। প্রতিদিন এই সামাজিক নেটওয়ার্ক লক্ষ লক্ষ বন্ধু তৈরির মাধ্যম হিসেবে কাজ করছে। এই ফেসবুকের কারণে প্রতিদিন ভাঙছেও লক্ষ লক্ষ বন্ধুত্ব, সম্পর্ক। স্বামী আর নিটোল বন্ধুত্বের ভেতরে অবিশ্বাস তৈরিতে ফেসবুকের এখন আর কোনো বিকল্প নেই। হারিয়ে যাওয়া বন্ধুর সন্ধান দিয়ে আর নতুন বন্ধু তৈরি করে পৃথিবীজুড়ে তোলপাড় ফেলে দিয়েছে এই নেটওয়ার্ক। ইন্টারনেট ব্যবহারকারীদের সবচে পছন্দের সাইটটির নাম এখন ফেসবুক।
একটি সামাজিক নেটওয়ার্ক মানুষের যাপিত-জীবনে কতটা প্রভাব বিস্তার করলে বিশ্বের সবচে শক্তিধর আমেরিকার প্রেসিডেন্ট সে বিতর্কে নিজেকে জড়িয়ে ফেলতে পারেন? প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা স¤প্রতি ফেসবুক বিষয়ে তার আশঙ্কার কথা প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেছেন, আমাদের পরবর্তী প্রজšে§র মেধা বিকাশে বিশেষ অন্তরায় সৃষ্টি করছে ফেসবুক। কম্পিউটার ব্যবহারকারী অধিকাংশ তরুণ-তরুণী দিনের বেশিরভাগ সময় খরচ করে ফেসবুকের স্বপ্নময় জগতে। মজার ব্যাপার হচ্ছে, আমেরিকান প্রেসিডেন্ট ফেসবুকের বিরুদ্ধে ‘যুদ্ধ ঘোষণা’ করলেও নিজেও ফেসবুকের মোহ কাটাতে পারেননি। তিনিও এই সামাজিক নেটওয়ার্কের একজন মেম্বার। তার স্ত্রী মিশেল ওবামাও ফেসবুকের সঙ্গে কাটান দিনের বেশ কিছুটা সময়। বলিউড কিংবদন্তি অমিতাভ বচ্চন সকালে চা-নাস্তা নিয়ে কয়েক ঘণ্টা কাটিয়ে দেন ফেসবুকের ১৩ লক্ষ বন্ধুর সঙ্গে মতবিনিময় করে।
‘ই-মেইল’ ব্যবহারকারীরা এখন প্রাচীনপন্থি। ফেসবুকের জনপ্রিয়তা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ‘ইয়াহু’ এবং ‘গুগল’ ব্যবসায়িকভাবে হুমকির মুখে পড়েছে। গত মে মাসে ফেসবুকে ২০ কোটি ডলার বিনিয়োগ করছে বলে ঘোষণা দেয় রুশ বিনিয়োগকারী সংস্থা ডিজিটাল স্কাই টেকনোলজিস। এর ফলে প্রতিষ্ঠান হিসেবে ফেসবুকের মূল্য দাঁড়ায় ১ হাজার কোটি ডলার। ফেসবুক বোর্ডের সদস্য মার্ক আন্দ্রিসেন বছরের শুরুর দিকে বলেছিলেন, এ বছর ফেসবুকের রাজস্ব ৫০ কোটি ডলার ছাড়িয়ে যাবে।
ফেসবুক ব্যবহারকারীর সংখ্যা এখন ৩০ কোটি। এটি এখন পৃথিবীর সবচে বৃহত্তম সামাজিক নেটওয়ার্ক। গত বছর ফেসবুক ব্যবহারকারীর সংখ্যা ছিল ১০ কোটি। মাত্র এক বছরের মধ্যে এর ব্যবহারকারীর সংখ্যা বেড়েছে তিনগুণ। ব্রডপয়েন্ট অ্যামটেকর বিশেষজ্ঞ বেন স্যাচার স¤প্রতি বলেছেন, ফেসবুক ব্যবহারকারীরা কোটি কোটি ডলার বিনিয়োগ করছে এই সাইটটির পেছনে। ফেসবুকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মার্ক জুকারবার্গ প্রতিষ্ঠানটির ওয়েবসাইটের ব্লগে জানিয়েছেন, গত তিন মাসেই প্রতিষ্ঠানটি অবাধ তথ্যপ্রবাহে স্বনির্ভর হয়ে উঠেছে। যার জন্য নির্ধারিত ছিল ২০১০ সাল। ৫ বছর আগে হার্ভার্ডের ছাত্রাবাস কক্ষে তৈরি হওয়ার পর থেকেই ফেসবুক পৃথিবীজুড়ে ঢেউ জাগিয়ে তুলেছে।
বাংলাদেশের ইন্টারনেট ব্যবহারকারীদের ওপরও প্রভাব ফেলেছে এই নেটওয়ার্ক। দেশের রাজনীতিক, কবি, সাহিত্যিক, সাংবাদিক, নাট্যকার, গীতিকার, অভিনেতাসহ বিভিন্ন পেশার খুব কম খ্যাতিমানই আছেন যাদের ফেসবুকের আইডি নেই। আব্দুল্লাহ আবু সায়ীদ, হুমায়ূন আহমেদ, নির্মলেন্দু গুণ, সুজিত মোস্তফা, সাজ্জাদ কাদির, ফরহাদ মজহার, আনিসুল হক, মাহী বি চৌধুরী, আব্দুর নূর তুষার, পীর হাবিব আর কবির বকুল থেকে শুরু করে মাহফুজ আহমেদ, তারিন, অপূর্ব, চঞ্চল, চয়নিকা চৌধুরী, তমালিকা পর্যন্ত কে নন ফেসবুকের মেম্বর? ফেসবুকের মাধ্যমে খ্যাতিমানরা তাদের কর্মের কথা ছড়িয়ে দিচ্ছেন পৃথিবীতে। চ্যাটিংয়ের মাধ্যমে নিজেদের ভাবনাও বিনিময় করছেন মুগ্ধ ভক্তদের সঙ্গে।
বাঙালিরা আবেগপ্রবণ জাতি বলেই ফেসবুক খুব দ্রুত প্রভাব ফেলতে পেরেছে এ জাতির ওপর। বাংলাদেশের অনেক পারিবারেই এখন অশান্তির প্রধান কারণ ফেসবুক। নতুন নতুন বন্ধু তৈরির সুযোগ থাকায় স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্কের ভেতরে খুব সহজেই তৈরি হচ্ছে অবিশ্বাস। স্কুল-কলেজমুখী তরুণ-তরুণী ফেসবুক আসক্ত। বাংলাদেশে মোবাইলে ফেসবুকের নতুন প্রবেশাধিকার দেয়ায় এর ব্যবহারকারীর সংখ্যা আরো বেড়েছে।
পূনস্চ: হায় আল্লাহ এই ফেসবুকের নির্যাতন থেকে আমাকে হেফাজত কর!

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



