আজকে বেশ কয়েকটা পোস্ট দেখলাম বিভিন্ন সময়ে। যাদের মূল সুর হলো 'মানুষ পশু কুরবানী করার মাধ্যমে নিজের ভেতরের পশুকে কুরবানী দিয়েছে।'
একটু খটকা লাগলো, কারন কুরবাণী সম্পর্কে এ ধরনের হাস্যকর যুক্তি আগে তেমন একটা শুনিনি। বোঝা গেলো, প্রাচীন উপাসনা থেকে ইসলামের উদ্ভবের ইতিহাস তেমন কেউ একটা জানে না।
আসুন একটু ঘেঁটে দেখি, কুরবানী আসলে কি?
উর্দু এবং ফার্সী ভাষায় কুরবাণী এসেছে আরবী কুরবাণ শব্দ থেকে। আরবীতে যার মানে হলো আল্লার কাছাকাছি যাবার চেষ্টা এবং তাকে 'তুষ্ট' করা। কুরবাণ সব ধরনের দাতব্য কর্মকান্ডই বোঝাতো একসময়, শুধু পশুহত্যা নয়। কিন্তু ইসলামে একে কোনো এক মাসের তিন দিন পশুহত্যার মাধ্যমে আল্লাকে খুশি করার নাম হয়ে গেলো কুরবানী।
প্রতিটি ধর্মেই পশু উৎসর্গ করার মাধ্যমে তাদের উপাস্যকে খুশি করার প্রবণতা লক্ষ্য করা যায়। ইসলামও এর ব্যাতিক্রম নয়। পার্থক্য শুধু ইসলামে উপাস্যকে দৃষ্টিগোচরে রাখা হয় না, যেমনটি হয় অন্যান্য ধর্মে মুর্তির মাধ্যমে।
গল্প মোতাবেক সৃষ্টিকর্তা যখন ইব্রাহীমের কাছে 'কুরবান' চাইলেন, বললেন সবচে প্রিয় বস্তুকে উৎসর্গ করতে, নিজের পুত্রকে বেছে নিলেন ইব্রাহীম। পোড়ামুখোদের প্রশ্ন সেই থেকে, নিজের জীবন কেন উৎসর্গ করলেন না ইব্রাহীম? কারন এক পুত্র গেলে অন্য পুত্র আসবে? এ কি সত্যিকারের উৎসর্গ হলো?
গল্প হয়তো প্রাচীন প্রথাকে ইসলামে অন্তর্ভূক্ত করার একটা প্রচেষ্টা ছিলো, কিন্তু আজকের মুসলমানেরা বাংলাদেশে সেটা বলতে কেন যেন হেসিটেট করছে।
তারা 'অন্তরের পশু' ইত্যকার অজুহাত খাড়া করে রাস্তাঘাটে এই নির্মম দৃশ্যগুলি কোমলমতি শিশুদের সামনে মঞ্চস্থ করছে। রক্ত দেখে কাঁপবে কেন মুসলিমের অন্তর? কবিয়াল প্রশ্ন করে।
সত্যি বলতে গেলে, কুরবাণী হলো আল্লার প্রতি দাসত্বের একটা নিদর্শন। দাসত্বের অর্থ হলো, প্রশ্ন ব্যতিরেকে যা বলা হয়, তা করতে বাধ্য থাকা।
ধর্মগুলি আমাদের 'দাসত্বের' ট্রেনিং দেয়, প্রতিনিয়ত। আমাদের শেখায় কিভাবে বিনা আপত্তিতে সবসময় আমাদের উচিত সৃষ্টিকর্তার নামে চলে আসা অন্যায়গুলি মেনে নিতে।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


