গত কয়েকদিন থেকেই ভাবছিলাম এবারের ভ্যালেনটাইনস ডে তে প্রিয় একজনকে কি গিফট দেয়া যায়... ভাবতে ভাবতে এখসময় ঠিক করলাম একটা নরম তুলতুলে টেডি-বিয়ার দিলে মন্দ হয় না ... ঐ রকম জিনিস তার বেশ পছন্দ যা সে মুখে না বললেও চোখের ভাষায় ঠিকই আন্দাজ করা যায় ... কিন্তু কিনতে গেলাম কি আর কিনে আনলাম কি ... থাক আর রহস্য না করে খুলে বলি ঘটনা কি হয়েছে ---
টেডি-বিয়ার কিনবো বলে মনস্হির করেছিলাম গতকাল রাতেই, সকালে কিছু কাজ ছিল - ভাবলাম সেগুলো সারবো আর সাথে সাথে ওটাও কিনে আনবো ... কাজ আর কখন করবো ঘর থেকে বের হয়ে সোজা চলে গেলাম গিফট কর্নারে ... সেখানে নানান রকম গিফটের সমারোহ ... একটা থেকে আরেকটা সুন্দর ... যেদিকে তাকাই সেদিকেই এত সুন্দর সুন্দর জিনিস তারা এবার তুলেছে ... দেখলে খালি কিনতে ইচ্ছা করে ... যাই হোক ... মনকে স্হির করলাম ... এসব দেখে কাজ নেই ... সোজা যাই টেডি-বিয়ারের সন্ধানে ...বিশাল দোকানটি ঘুরতে ঘুরতে একটা সেকশনে এসে দেখি ... ওমা ! এখানের কম করে হলেও ১০০ রকমের টেডি আমার দিকে তাকিয়ে হাসছে ... সবগুলোই বলছে আমাকে কিনো, আমাকে কিনো .... আমি মনে মনে বলি -- হলো তো এইবার ? এত গুলোর মধ্যে থেকে কোনটা কিনবো আমি এখন ?
জটিল রকম মনোযোগের সাথে আমি টেডি-বিয়ারের দুনিয়ার পা রাখার কিছুক্ষন পরেই হাতে একটা মৃদু ঝাকুনি অনুভব করলাম ... তাকিয়ে দেখি, আরে এইটা কে ? -- এ যে আমার দুষ্টু হাসির মিষ্টি বুড়ি কোকড়াচুলওয়ালী .... সে তার বড় বড় পাপড়ী ওয়ালা চোখ দিয়ে আমার দিকে অবাক হয়ে তাকিয়ে আছে ...
ও জিজ্ঞেস করলো -- এই, তুমি এখানে কি করছো ? ...
আমি বললাম -- একটা টেডি কিনতে এসেছি
আমার কথা শুনে পুসকিটা যেন আরো একটা রাম-ধাক্কা খেল মনে মনে ... কিছুক্ষন তাকিয়ে থেকে বললো -- ছেলেরা কি এগুলো দিয়ে খেলে নাকি, ওগুলো তো আমাদের জন্য ...
আমি কথা ঘুরাবার জন্য বললাম -- তা , তুমি এখানে কি করছো ?
ও বললো -- এখানে সুন্দর সুন্দর ডল এসেছে তো, তাই কিনতে এসেছি ... কিন্তু বল, তুমি টেডি কার জন্য কিনবা ?
আমি বুঝলাম এবার না বললে দেড়-ফুটি ক্ষেপে যাবে তাই বললাম -- না মানে , একজনকে গিফট দিবো তো, তাই ...
ও আবার জিজ্ঞেস করলো -- কিসের (উপলক্ষে) গিফট ?
পড়ে গেলাম না এইবার কঠিন পরীক্ষায় ? পুসকিরে বুঝাই ক্যামনে এইটা কি ? তাও তারে বুঝানোর চেষ্টা করলাম -- আমার একজন প্রিয় মানুষ আছে যাকে আমি একটা গিফট দিতে চাই ... ও তো অনেক দুরে থাকে, তাই এই গিফট টা পেলে ওর অনেক ভাল লাগবে, যখনই টেডি টা সে দেখবে মনে করবে আমি তার সাথে আছি ... (এর পরে ওরে আমি ক্যামনে বুঝাবো ভেবে পাচ্ছিলাম না
কোকড়া চুলওয়ালী মুচকি হেসে বললো -- তাই বলো -- ভ্যালেনটাইন গিফট
আমি তো শুনে
এর পরে বললাম -- আচ্ছা তুমি দেখি সব জান , তাহলে আমাকে একটা গিফট সিলেক্ট করে দাও ...
ও বললো --- টেডি থেকে একটা ? নাকি অন্য যে কোন কিছু
আমি বললাম --- তুমি যেটা কিনতে বলবা সেটাই কিনবো ... এবার বলো কি কিনবো ...
পুসকি বলে -- তুমি ওকে এটা পাঠালে সে কি সময়মতো পাবে ?
আমি বললাম -- মনে হয় না , দেরী হতে পারে
ও আবার বললো -- হুম... তুমি ওর সাথে কথা বলো কিভাবে ?
আমি বললাম -- ফোনে আর অনলাইনে
ও বললো -- অনলাইনে কি লিখে লিখে কথা বলো ?
আমি বললাম -- হ্যা , ক্যান ?
ও বললো -- ওখানে কথা বললে তো ফোনে কথা বলা লাগে না, (ঠিক এই কথাটা গত ১ বছর ধরে আমি শুনছি তার কাছ থেকে, কিন্তু একবার রাগ করে হেডফোন-মাইক ভেঙ্গে ফেলার পরে আর এখনো পর্যন্ত কিনি নাই
আমি বললাম -- হু, তা ঠিক ... কিন্তু আমার হেডফোন নাই যে, এ জন্য ওখানে কথা বলতে পারি না ...
এবার কোকড়া চুলওয়ালী বললো -- তাহলে এক কাজ করো, তোমার গিফট তো এখন সময়মতো পৌঁছাবে না তার চেয়ে তুমি হেডফোন কিনো ... তাহলে সারা দিন ওর সাথে কথা বলতে পারবা
একে তো কোকড়াচুলওয়ালীর কোন কথা আমি ফেলতে পারি না, তার উপরে এখন তার কথা না রেখে উপায় নেই ... তাই একটা হেড-ফোন নিয়ে বাসায় ফেরার পরে ....
অনলাইন হয়ে তাকে ভ্যালেনটাইন গিফট হিসেবে ১ বছর পরে অনলাইনে আমার ভয়েস শুনে সে প্রথমে থমকে গেল, এর পরে অবাক হয়ে কিছুক্ষন প্রশ্নচোখে তাকিয়ে থাকলো ... এর পরে যখন ঘটনা খুলে বললাম ... বুঝতে পারিনি সে ঘড়ির দিকে তাকিয়ে আছে ... সব জানার পরে সে শুধু এতটুকু বলতে পারলো ---
আজকে সন্ধ্যা ৭:৫৮ মিনিটে আমি এমন একটা কথা জানতে পারলাম যা আমার এখনো বিশ্বাস হচ্ছে না ..... আমি এখানে তোমার আওয়াজ শুনছি, তুমি আজ আমার অনেক দিনের চাওয়া কে আজ পুরণ করে দিলে ... এখন যখন খুশী তোমার সাথে কথা বলতে পারবো ... তোমার গলার আওয়াজ শুনতে পাওয়া থেকে কি আমার জন্য আর কোন কিছু কি বেটার গিফট হতে পারে বলো ? .....
আমরা এবারের ভ্যালেনটাইনস ডে এর সব আনন্দ আমাদের দেড়-ফুটি কোকড়াচুলওয়ালীকে দিলাম
.
সর্বশেষ এডিট : ২৮ শে মে, ২০০৯ দুপুর ১২:৩৭

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


