আমার প্রিয় পোস্ট

এই ব্লগের সব লেখা সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

** || ** একটুকরো উজ্বল আলোর হাতছানি ** || **

১৪ ই মে, ২০০৯ ভোর ৪:৫৮

শেয়ারঃ
0 0 0



মোটা কালো ফ্রেমের চশমাটির কাঁচগুলো আজকাল কেমন বড় বেশী ঝাপসা লাগে ... বার বার মুছেও সেই আগের মতো স্পষ্ট দেখা যায় না ... চোখ দুটো ও যেন বড় বেশী বেয়াড়া হয়ে গিয়েছে ... বলা নেই কওয়া নেই যখন তখন, বয়ে চলা নদীর মতো জলের ধারা বইয়ে দিতে থাকে ... ইজি চেয়ারটাতে দোল খেতে বেশ ভালই লাগে ... তবে এখান থেকে উঠতে গেলে শরীরটাকে যেন আজকাল অনড় পাথরের মত ভারি অনুভূত হয় ... সামনের জানালায় ভারী পর্দা দেয়ার কারনে বাইরের কড়া রোদ ঘরে প্রবেশ করে না ... এতে অবশ্য খুব বেশী সমস্যা না হলেও মাঝে মাঝে হালকা শীত অনুভূত হলেই জীর্নশীর্ন শালটি আকড়ে ধরে নিজের শরীরের গরমটাকে ভিতরে ধরে রাখার আপ্রান চেষ্টা করে যান তিনি ... দু ছেলে এক মেয়ের সবাই আজ বড় হয়েছে ... মেয়েকে তার মনের মত জায়গাতে বিয়ে দিতে পেরেছেন, আর বেশ সুখেই আছে সে ... ছেলেগুলোও আজ যার যার জীবনে প্রতিষ্ঠিত... একসাথে দু ভাই থাকলেও কখনো তারা একে অপরের সাথে ঝগড়া করে না, তবে দিন দিন কেমন যেন একটা দুরত্বের কালো ছায়া গ্রাস করে নিচ্ছে ওদের সম্পর্ক কে ... এ বাড়ীতে দু বৌ ছাড়াও তার ৪ - ৫ জন নাতি নাতনী আছে ... ওদের সবার কোলাহলে বাড়ীটি সবসময় গমগম করলেও একটি ঘরে থাকে জমাট নিঃস্তব্ধতা ... এ ঘরের একমাত্র বাসিন্দাটা যেন সবার মাঝে থেকেও আলাদা এক জগতে বসবাস করে ... বৌ-মা রা ঠিক কি কারনে এখানে আসে না, তা তার জানা নেই ... তবে একদিন ওদের একে অপরকে বলতে শুনেছিলেন তার ঘরে ঢুকলে নাকি ওদের দম বন্ধ হয়ে যায় ... ছেলে গুলো আজকাল সারা দিন বাইরে থাকে, অনেক রাতে ক্লান্ত হয়ে ঘরে ফেরে, তাই ওরাও সময় করে উঠতে পারে না তার কাছে আসার ... আগে মাঝে মাঝে বাড়ীর বাইরের লনে তিনি হাটতেন, কিন্তু ওটা এভাবে নিজের দখলে থাকলে নাকি নাতি নাতনীদের খেলায় অসুবিধা হয় ... তাই তিনি আর ওখানে হাটতে ও যান না আজকাল ... এক সময় পর্যন্ত সবাই একসাথে ডাইনিং টেবিলে বসে রাতের খাবার খেতেন ... কিন্তু তিনি অন্যদের মতো কাটা চামচ দিয়ে খান না বলে অন্যরা নাকি ঠিকমতো খেতে পারে না , ওরা আধুনিক সমাজে বড় হচ্ছে, তাই হাত দিয়ে খাওয়া দেখলে ওদের ঘেন্না করে ... এ জানার পরে থেকে তিনি আর ওদের সাথে বসে খান না ... কাজের বুয়ার দিয়ে যাওয়া খাবার একলা একলা নিজের ঘরে বসে খান ... তার শুধু একটাই শখের জিনিস আছে , আর তা হলো একটা পুরোনো ভাঙ্গা রেডিও, যারা উনার সবচেয়ে প্রিয় মানুষটি অনেক দিন ধরে পয়সা জমিয়ে কিনেছিল ... প্রতিদিন রাতে তারা এই রেডিও তে গান শুনতে শুনতে ঘুমুতেন ... তাই আজও তিনি এই ভাঙ্গাচোরো রেডিওটিতে গান শোনার চেষ্টা করেন ... আর মনে মনে তার কথা মনে করেন যিনি তাকে ছেড়ে চলে গিয়েছেন দুর কোন এক অজানা দেশে ... কিন্তু আজকে যেন কার উচ্চস্বরের কথা তার কানে আসলো ... কেউ বলছে -- ঐ বুড়ো না মরলে এই টিনের বাক্সের আওয়াজ বন্ধ হবে না ... এর শব্দের জন্য তো ঘরে মেহমান পর্যন্ত আনতে লজ্জা হয় ... মুখে কয়টি অপ্রতিরোধ্য কষ্টের ভাজ ছাড়া তিনি আর কোন রকমের বিমর্ষতার ছাপ আসতে দিলেন না নিজের মাঝে ... শুধু কাপা দু হাতে পুরোনো সে রেডিওটাকে তার বিবর্ন চামড়ার কভারে মুড়ে ঠিক সেভাবেই দাফন করে দিলেন একটি কংকালসার টিনের বাক্সে যেভাবে তিনি তার সকল কষ্টগুলোকে পিতৃত্বের মমতায় মুড়ে বন্ধ করে রেখেছেন নিঃশব্দে ....

আজ তিনি বড় ক্লান্ত ... কাঁপাকাঁপা দুটি হাতে মোটা ফ্রেমের চশমাটা মুছে চোখে দিতেই যেন হঠাৎ এক রঙ্গীন আলোর ঝলকানিতে যেন উদ্ভাসীত হয়ে উঠলো চারিদিক ... আলোর তীব্রতা কমতেই দেখতে পেলেন তার প্রিয় মানুষটি হাসিমুখে দু হাত বাড়িয়ে তাকে ডাকছেন নিজের দিকে ..


 

প্রকাশ করা হয়েছে: মনের কিছু এলোমেলো কথা...  বিভাগে । সর্বশেষ এডিট : ১৪ ই মে, ২০০৯ ভোর ৫:২৫ | বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...

 

১. ১৪ ই মে, ২০০৯ ভোর ৫:১৫
কখনো মেঘ, কখনো বৃষ্টি বলেছেন: যখন চারপাশে বাতি নিভে আসে....

লেখা নিয়ে কিছু বলার নেই। প্রিয়তে রেখে দিলাম

লেখাটা যখন পড়ছিলাম তখন একটা গান বাজছিলো...ব্যাথার সুরটা যেনো আরো বেশি বেজে উঠলো।

Click This Link
১৪ ই মে, ২০০৯ দুপুর ১:৩৩

লেখক বলেছেন: গানটা শুনে আমার ই তো মন খারাপ হয়ে গেল ... এমন গানের সাথে এ রকম লেখা কেউ পড়ে নাকি ? :(

এইবার একটা মন ভাল করার গান দাও ... নাইলে কিন্তু ...... হুমমমম ...

২. ১৪ ই মে, ২০০৯ ভোর ৫:১৮
আবদুর রাজ্জাক শিপন বলেছেন:
সহজ ভাষার আছরেও কখনো সখনো এভাবে আমাদের বোধগুলো নাড়া খেয়ে যাক ।
আমাদের চোখগুলো খুলে যাক, সত্যের মতো ।

শুভ কামনা । অর্হনিশি ।
১৪ ই মে, ২০০৯ দুপুর ১:৩৮

লেখক বলেছেন: এটি আমাদের চারপাশে ঘটে যাওয়া নিত্যনৈমিত্তিক ঘটনার অংশ বিশেষ যা খুব সহজেই আমাদের নজর এড়িয়ে যায় ... আমাদের সবার চোখ খুলে যাক, এই কামনান্তেই আমার এ ক্ষুদ্র প্রয়াশ ... ভাল থাকুন ... সবসময় ।

১৪ ই মে, ২০০৯ দুপুর ১:৪৩

লেখক বলেছেন: আপনাকে অনেক ধন্যবাদ ....

ভাল থাকুন ... সবসময়

৪. ১৪ ই মে, ২০০৯ ভোর ৫:৪৬
নীল-দর্পণ বলেছেন: ভাল লিখেছেন। তবে মন খারাপ হয়ে গেল:(:(
১৪ ই মে, ২০০৯ দুপুর ১:৪৪

লেখক বলেছেন: এ আমাদের চারপাশে ঘটে যাওয়া ঘটনাসমূহের অংশবিশেষ ... আমাদের সবার চোখ খুলে যাক, আর উনাদের কষ্ট কিছুটা হলেও কমুক ...

ভাল থাকুন ... সবসময় ।

৫. ১৪ ই মে, ২০০৯ ভোর ৬:৫৫
~স্বপ্নজয়~ বলেছেন: প্লাস দেবার পর পোষ্টটি আপত্তিকর বাটন খুঁজে পেলামনা, খুঁজে পেলে মন খারাপ করা লেখা দেয়ার জন্য অভিযোগ জানাতাম X(
১৪ ই মে, ২০০৯ দুপুর ১:৪৫

লেখক বলেছেন: হে হে হে , আরেক্টা চশমা লাগান তাহলে যদি খুজে পান আপত্তিকর বাটন ... :P

ভাল থাকুন ... সবসময় ।

৬. ১৪ ই মে, ২০০৯ সকাল ৭:৫৬
মুক্ত বয়ান বলেছেন: ভাইয়া.. সেরাম লেখা!! সেরাম!! মুড খারাপ করে দেওয়া। :(
++
১৪ ই মে, ২০০৯ দুপুর ১:৪৬

লেখক বলেছেন: মন খারাপ হলেও এটাই যে বাস্তবতা ভাইয়া ...

ভাল থেক ... সবসময় ।

৭. ১৪ ই মে, ২০০৯ সকাল ৮:০৪
শাওন৩৫০৪ বলেছেন: কাহিনী কি, আজকাল মানুষ আরো কুটনৈতিক তৎপরতায় এই একই কান্ড করে যায়....কেমন দু:খ.....

শাহজাহানপুরে থাকার সময় এক দাদু ছিলেন, সবসময় রাস্তায় ঘুরতেন আর ছোটো ছোটো ছেলেমেয়েদের সাথে হ্যান্ডসেক করে চকলেট বিলাতেন.....ভাবতাম পাগল। কিন্তু একদিন তার বাসায় গিয়ে দেখি, নাহ, দিব্যি ভালো সংসারী মানুষ, স্ত্রী ও ভালো মানুষ, হাসিখুশি সব....

পরে জানতে পারি, তাদের ছেলেমেয়েরা কেউ সাথে থাকেনা....
১৪ ই মে, ২০০৯ দুপুর ২:১৫

লেখক বলেছেন: আমি নিজে এমন বেশ কিছু নিঃসঙ্গ পিতামাতার সাথে কথা বলেছি ... তাদের অনেকে এমন ও আছেন যাদেরকে নিজের ছেলে মেয়েরা দেখতে আসে না বছরের পর বছর ... কিছু মানুষ তো এমন ও দেখেছি যাদের মরার খবর শুনে বাচ্চারা এসে কবর দিয়ে আবার যার যার মতো চলে গিয়েছে ... কষ্ট হয় উনাদের জীবন দেখলে ...

অথচ আমাদের একটু সহানুভুতি, একটু সান্নিধ্য উনাদের বিশাল রকম মানসিক শান্তির কারন হয়ে থাকে .....

ভাল থাকুন ... সবসময়

১৪ ই মে, ২০০৯ দুপুর ২:১৬

লেখক বলেছেন: অনেক অনেক ধন্যবাদ আপনাকে ....

ভাল থাকুন .... সবসময় ।

৯. ১৫ ই মে, ২০০৯ রাত ১২:০৭
নাহিন বলেছেন: হঠাৎ আয়নায় চোখ পড়েছিল নাকি?
১৫ ই মে, ২০০৯ দুপুর ২:৪১

লেখক বলেছেন: নাহ ! তোরে দেখেছিলাম .... ;)

১০. ১৬ ই মে, ২০০৯ রাত ১:১৬
এন এইচ আর বলেছেন: নানা ভাইয়ের কথা খুব মনে পড়ছে আপনার লেখাটা পড়ে...............।
১৬ ই মে, ২০০৯ রাত ২:৪০

লেখক বলেছেন: আমিও আমার নানাভাই কে খুব বেশী মিস করি :(

১৮ ই মে, ২০০৯ বিকাল ৩:০২

লেখক বলেছেন: আসলেই তাই ... :(

 

মোট সময় লেগেছে ০.৯৯৭২ সেকেন্ড

 

সামহোয়‍্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব‍্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...
© সামহোয়্যার ইন...নেট লিমিটেড | ব্যবহারের শর্তাবলী | গোপনীয়তার নীতি
কোন এক মৃত্যু পথযাত্রীর আর্তনাদের সাথে ভেসে আসে তীব্র বারুদের গন্ধ....

--------------------------------------

ononto.digonto@ জিমেইল[ডট]কম

-------------------------------------...
আর এস এস ফিড

পোস্ট আর্কাইভ

আমার লিঙ্কস

আমার বিভাগ