ক্লাস ১০ এর শেষ দিন গুলোর একটি ... স্কুল শেষ করে কিছুদিনের মধ্যে কলেজে উঠবো, কানে বাতাস লাগা শুরু হইসে দেইখা একটা পাঙ্খা ভাব এসেছে আশেপাশের সবার মনে ... মনটা খালি উড়ু উড়ু করে, এক জায়গাতে বসতে মন চায় না ... ৮ টা পিরিয়ডের ৪ টা কাটে ক্লাসের বই এর ভিতর গল্পের বই পড়ে আর মন চাইলে বাকি চারটার এক দুইটা ক্লাসে স্যারের লেকচার শুনে আর বাকিটা সময় বাথরুমের নাম করে একতলার কোনায় সব পোলাপাইন মিলে আড্ডা দিয়ে ... স্যার রাও এইগুলো জানতেন দেখে বাথরুমের নাম করে বের হলে নাম লিখে রেখে ৫ মিনিট টাইম দিতেন ... খুব বেশী হলে ১০ মিনিট... এর বেশী দেরী করলে নাম লিখে রাখা স্টুডেন্ডের কানের জুলফি টেনে অথবা দুই আঙ্গুলের মাঝে কলম রেখে "উরি উরি... উফফফ " অথবা " আআআআআ" গান শুনতেন ... তবে আমাদের জন্য আশীর্বাদ সরূপ পিছনের দরজা সবসময় নিজেকে খোলা রেখে ক্লাস ফাকির মহৎ কর্মটি করতে সবসময় আমাদের সহায়তা করে যেত ... এমনভাবেই কাটছিল আমাদের স্কুলের শেষ স্মৃতিময় দিন গুলো ... এ সবের পাশাপাশি প্রতিদিন স্কুল ছুটির পরে অপর সেকশন অথবা অন্য স্কুলের ফ্রেন্ডদের সাথে ফুটবল খেলার জন্য সকাল থেকেই মনটা আঁই টাঁই করতে থাকতো ...
সেই সব দিনে আবার স্কুল ড্রেস পরে ক্লাসে যেতে হতো, না হলে স্যার রা ঢুকতেই দিতেন না প্যান্ট অন্য কালারের হলেও চালানো যেত কিন্তু সাদা সার্ট হওয়া চাই ঈ চাই ... আমাদের ক্লাসটা ছিল চার তলায় আর উপর থেকে নীচে আসার একটিই সিড়ি ছিল ... ছুটির ঘন্টা বাজার পরে ছেলেরা সব একসাথে নামার চেষ্টা করার কারনেই এত্ত ভিড় আর চাপাচাপি শুরু হতো যে কেউ একজন চারতলার সিড়ির সামনে কোন রকমে পৌছুতে পারলে কখন যে সে নীচ তলায় পৌছে যেত নিজেই টের পেত না ... এমনি একদিন অন্যস্কুলের ছেলেদের সাথে চ্যালেন্জ ফুটবল ম্যাচ খেলার কথা, তাই জলদি বের হতে হবে ... ওদিকে সেদিনের শেষ পিরিয়ড আমাদের স্কুলের নামকরা খিচড়ানো মেজাজের বাংলা স্যারের ... তার ক্লাস থেকে পিছনের দরজা দিয়ে বের হতেও ভয় ছিল কারন তিনি জোড়া বেত ছাড়া স্কুলের বাউন্ডারীর ভিতরে কখনো হেটেছেন কিনা জানা নেই, সেই সাথে কখনো সেগুলোর ব্যাবহার শুরু করলে দুটোই না ভাঙ্গা পর্যন্ত থামার কোন রেকর্ড তার ছিল না ... যাই হোক, সেদিন বাংলা ক্লাস শেষ করে বের হতেই দেখলাম সিড়িতে সেই চিরাচরিত হুড়মুড়ানী অবস্হা , ওদিকে ম্যাচ শুরু হবে অন্য স্কুলের মাঠে তাই দেরী করাও যাবে না ... অন্যদিন সাধারণত সবার শেষে নামলেও সেদিন আমরা সবকটাই একসাথে ঐ ভীড়ে নামার জন্য সিড়ির দিকে হাটা ধরলাম সেই সাথে নিজেদের মধ্যে প্ল্যান করছিলাম কে কিভাবে খেলবে ... সিড়ির কাছে যেতেই দেখি প্রচন্ড ভীড়ের মধ্যে সাদা শার্ট পরা এক বাটলা (বাট্টু) দু হাত বাড়িয়ে পিছনের কাউকে সামনে যেতে দিচ্ছেনা আর তার চেহারা না দেখতে পেলেও গাট্টা গোট্টা শরীরের জন্য তার পিছনে দাড়ানো কেউ সামনে যেতে পারছে না সেটা ভাল করেই বুঝতে পারছিলা ... অল্প কিছুক্ষন অপেক্ষা করার পরেও যখন দেখি সে নড়ে না তখন মেজাজ টা গেল বিগড়ায়ে ... দু-তিন জনের পিছন থেকে হাত বাড়িয়ে পোলার কান্ধের উপর শক্ত কইরা থাবড়া মাইরা কইলাম " আব্বেহ সামনে যা না" ...
কঠিন থাবড়া খায়া পোলাডা যেন একটু কাইত হয়ে গেল ... পরক্ষনেই জোড়া বেত উচু করে পিছনের দিকে তাকাতেই বুঝলাম ঘটনা জটিল রকম প্যাচ খেয়ে গেছে , ঘাড়ে থাবড়া খাওয়া বাটলা আর কেউ না, স্বয়ং আমাদের বাংলা স্যার ... রাগে রক্তবর্ন চোখের সাথে কঠিন মুখে তিনি হুংকার দিয়ে উঠে বললেন --পিছন থেকে থাবড়া দিলো কে রে .... তার চেহারা খানা দেইখাই বুঝছিলাম আজকে ধরা খাইলে খবর আছে , তাই সাথে সাথে আমরা কয়েকজন একসাথেই চিল্লায়ে উঠলাম ... ঐঈঈঈ.... স্যারের ঘাড়ে থাবড়া মারসে কে রে ? ...

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


