সারা রাত নির্ঘুম কাটানোর পরে যখন বিশাল অট্টালিকার সামনে দাড়ালাম তখনও একবারের জন্যও মনে হয়নি এর পর কি হবে... ঘাড়ের উপর চেপে থাকা মামদো ভুতের মত বোঝা গুলোর পেটে কোনো ব্যাথা আছে কিনা তা জানার জন্য অন্ধকার ডাক্তার বাড়ী পাঠিয়ে দিয়ে নিজেও হেটে চলি ... "টিঈঈঈট" শব্দে আমাকে দরজা পার করিয়ে বোঝা নামক পুটলিগুলো আমাকে নিতে বলা হলো ... সেগুলো নিয়ে দেখি বিশাল কাঁচের ঘরে রিলিফের লাইনের চেয়ে লম্বা লাইন লেগে গিয়েছে ... বুঝলাম আর সময় বেশী নেই ... প্রিয়জনদের ভেজা চোখের উষ্ম ভালবাসা গায়ে মেখে আমিও একটানা হেটে চলি সেই লাইনের দিকে ... দাড়িয়ে পড়ি সবার পিছে ... আর পিছে ফিরতে পারি না .... ফোনটা বাজতে থাকে ... অনবরত
দ্বিতীয় কাঁচের দরজাটা পার হতেই আবার বেজে ওঠে ফোন ... আমি নাকি কুয়াশায় ঢেকে যাচ্ছি , ধীরে ধীরে অদৃশ্য হয়ে যাচ্ছি ... সুতরাং ফিরে তাকাতেই হয় পিছনের পানে ... ফেলে আসা স্মৃতিকে আরেকটু জাগিয়ে তুলতে ... দেখি অপেক্ষমান কয়েকটি উৎসুক চোখের চাহুনি ... ঘুরে দাড়িয়ে পড়ি ... খুটখাট শব্দে এখানের কাজটাও শেষ হয়ে যায় বেশ দ্রুতই ... এরপর ধীরে ধীরে হারিয়ে যাই ... সবার চোখের আড়ালে
অপেক্ষা জিনিসটা আমার একদম অপছন্দ ... তবুও না চাইলেও করতে হয় ... সুতরাং অপেক্ষায় আছি ... সামনে পিছে অপ্সরীদের কোলাহল ও কেন জানি বিন্দুমাত্র দৃষ্টিকে আকর্ষিত করতে পারে না ... ফোনে কাটিয়ে দেই অপেক্ষার সবটুকু সময় ...
সুড়ঙ্গ পথ ধরে বিশাল সেই ডানা মেলা পাখির ঘাড়ে চেপে বসার কিছুক্ষন পরেই যেন সে জীবন পেল ... ধীরে ধীরে নিজের পূর্ন শক্তি সণ্চয় করে ডানা মেলে দিলো আকাশ পানে ... সেই সাথে ধীরে ধীরে ছোট হয়ে এলো ... ছায়াঘেরা মায়াময় উজ্বল আলোর আমার প্রিয় সেই শহরটি ...
এবং আমি অপেক্ষায় থাকি ... আবার একদিন সব এমন ই হবে ... কিন্তু ঠিক বিপরীত ভাবে ...
(আজ ১০/১০/১০ ... শতবর্ষের আগে এই দিনটি আর আসবে না ... সে চিন্তা থেকেই নিজের মনের কিছু অব্যাক্ত কথামালার সৃষ্টি ... )

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

