খুব শখ করে বাবার হাত ধরে দোকান থেকে পেন্সিল আর সাদা কাগজ কিনে আনা হয়েছিল, ছোট্ট হাতে আঁকিবুকি করার জন্য ঘরে ঢুকার অপেক্ষাও যেন আর সইছিল না , ঘরে ঢুকতেই পাকা মেঝের হুমড়ি খেয়ে বসে পড়ে সেই যে কাটাকুটি আঁকিবুকি শুরু করেছি, কিন্তু এখন পর্যন্ত অপেক্ষায় আছি অন্তত একটি আঁকিবুকি কে স্কেচ এ পরিণত করতে ....
গ্রামের বাড়ীর উঠোনে এক বিশাল জাম গাছ ছিলো, সবাই বলতো ওটা নাকি আমার বয়সী ... ছোট্ট হাতে কন্চির মাথায় আঙ্গটা লাগিয়ে কতই না চেষ্টা করেছি একটা জাম পাড়তে , কিন্তু শত চেষ্টায়ও কটা পাতা ছাড়া আর কিছুতেই কন্চির মাথা ছোঁয়াতে পারিনি কখনো ... কোন এক জৈষ্ঠ মাসে গিয়ে দেখি ক'দিন আগের কালবৈশাখীতে মুখ থুবড়ে পড়েছে সেই প্রিয় জামগাছ টি ... অনেক বছর পরে , নিজের বাড়ীর আঙ্গিনায় জাম গাছের একটি চারা লাগিয়েছি ... দেখি এবার অন্তত একটা জাম পাড়তে পারি কি না ...
খালাতো মামাতো ভাই বোনেরা যখন সারা পুকুরময় দাপিয়ে বেড়াতো আর আমার দিকে তাকিয়ে হাসতো তখন আমি শানের ঘাটে বসে দু পা ডুবিয়ে ভাবতাম, এই গভীর পুকুরটা একদিন আমি একটা ডুব সাতারে পার হয়ে যাবো দেখিয়ে দেব সবকটা কে ... এর পর যুগ পার হয়ে গেছে , আমি সাতার শিখেছি , পুকুরের সংষ্কার করে আরো বড় করা হয়েছে , কিন্তু সময়ের আবর্তে আমরা সবাই ছড়িয়ে গিয়েছি বিশ্বের এখানে সেখানে ... আর বুঝি ওদেরকে ডুব সাতারে ওপার যাওয়া দেখানো গেল না ....
চশমাটা যেন এক অন্যরকম ভাল লাগার জিনিস ছিলো , নিজেকে বড় করে দেখানোর জন্য এর চেয়ে আর সহজ ব্যাবস্হা হতে পারেনা ভেবে সুজোগ পেলেই বড়দের পাওয়ার গ্লাস নিয়ে চোখে লাগিয়ে বেশ একটা পন্ডিত ভাব নিয়ে ঘুরে বেড়াতাম সবার সামনে ... অনেকে হাসতো অনেকে মানা করতো চোখ খারাপ হয়ে যাবে বলে ... কিন্তু আমি কি এসবে দমে যাওয়ার পাত্র ? আমাকে যে বড় হতেই হবে ...
আর আজ এমন কিছু খুঁজি যাতে করে নিজের হারিয়ে যাওয়া শৈশব ফিরে যেতে পারি , কিন্তু ...
সর্বশেষ এডিট : ২৭ শে অক্টোবর, ২০১০ রাত ৮:১৩

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



