বিকেলটা ছাদে ঘুরাঘুরি করে আর অন্য ফ্লাটের বান্ধবীদের সাথে গল্প করে কাটানোটা অনন্যার খুব প্রিয় কয়েকটি কাজের অন্যতম ... যেটা সে কোনো দিন ও সে মিস করতে চায়না ... ঘরের বাইরে না থাকলে করতো ও না , কিন্তু কয়েক দিন ধরে আশে পাশের কয়েকটি ছাদে কিছু ছেলেপেলেদের আনাগোনার কারনে ছাদে ওঠাটা মায়ের কাছে তেমন একটা ভালো লাগে না , অবশ্য এমন হওয়াটা অমূলক নয় ... পাশের ছাদ গুলো থেকে ঐ ছেলে গুলো নিয়মিত টাংকী মারতে থাকে , শত চেষ্টা করেও ওদেরকে ইগনোর করাটা বেশ মুষ্কিল হয়ে পড়েছে ... আর আন্টিদের চোখে ওরাই ভালো আর নিজেদের মেয়েদের দোষ বেশী কথাটা শুনতে শুনতে কান ঝালাপালা হওয়ার দশা হয়েছে ...
অন্যদিনের মত সেদিন ও ছোট বোনটাকে সাথে নিয়ে অনন্যা ছাদে গিয়েই হাল্কা হোচট খায় ... এদ্দিন তো অন্য ছাদের ছেলেপেলেদের যন্ত্রনায় অস্হির ছিলো আজকে নিজেদের ছাদেই এইটা কে ? বেশ পরিপাটি কাপড় পরা চোখে চশমা দেখতেও খারাপ না চেহারায় একটা সরলতা আছে কিন্তু কথা হলো এই লোক আমাদের ছাদে কি করছে ? ... ছোট বোনটা বেশ চালাক, অনন্যার চোখের ইশারা বুঝে নিয়ে ই সে বলে উঠলো -- এটা ইমন ভাইয়া , আমাদের পাশের ফ্ল্যাটে নতুন এসেছে ...
অনন্যা জিজ্ঞেস করে, তুই জানলি ক্যামনে ? ... সাথে সাথে উত্তর -- আমি স্কুল থেকে ফেরার পথে আম্মুর সাথে উনার আজকে কথা হইসে তো ... তখন জানসি ... অনন্যা বিড়বিড়িয়ে বলে উঠলো -- আপদ একটা !
লোকটা যে সত্যই আপদ তা প্রমান হয়ে গেল বেশ জলদি .... কারণ , এর পরের ঘটনা গুলো বেশ নিয়মিতভাবেই ঘটে চললো , নীলা , মিশু, লাবন্য সবার বাসা থেকেই ছাদে ওঠা নিষেধ করে দেয়া হলো ঐ লোকটার জন্য ... অনন্যার বাসা থেকে এখনো বিকেলে ছাদে ওঠা মানা না করলেও গল্পের সাথী না পেলে কি আর বেশীক্ষন থাকা যায় একলা একলা বা ছোট বোনের সাথে ? তার উপরে ঐ লোকটা বিকেলের প্রায় বেশীর ভাগ সময়ে ই ছাদের একটা কোনায় দাড়িয়ে থাকে, বেশ বিরক্তিকর ব্যাপার টা ... উফ ! যন্ত্রনা একটা ...
আজকাল একটা জিনিস বেশ অদ্ভুত লাগছে অনন্যার ... অন্য ছাদের ছেলেগুলোকে আর তেমন দেখতে পাওয়া যায় না , মাঝে মাঝে দেখা গেলেও আগের মত টাংকী মারতে চায় না ... বাড়ীর সামনের চায়ের দোকানের বখাটেগুলো ও কোথায় যেন নাই হয়ে গিয়েছে ... আর অবিশ্বাস্য হলেও সত্যি কেউ ওর বা ওদের বাড়ীর কোনো মেয়ের দিকে এলাকার কোনো ছেলেই আগের মত টিজ করে না, ব্যাপারটা বেশ শান্তিময় হলেও নিজের ছাদে আরাম করে আড্ডানো যায়না দেখে ইমনের জন্য অনন্যার মনে বেশ একটা ক্ষোভ জমে গিয়েছে ... তাইতো একদিন ছাদে যাওয়ার জন্য ওর জানের দোস্ত সোনিয়াকে ডাকতে গেলে যখন জানতে পারলো ছাদে ঐ ছেলে থাকে দেখে আন্টি ওকেও ছাদে যেতে মানা করেছে , তখন আর নিজেকে সংযত না রাখতে পেরে সোজা ছাদে গিয়ে ইমনের দেখা পেতেই , ওর সামনে দাড়িয়ে যা মনে আসল তাই বলে দিয়ে তবে ক্ষান্ত হলো ... আর অবাক হয়ে দেখলো লোকটা কিছুই বললো না ... শুধু একটু হেসে বললো -- ঠিকাছে , আপনাদের এত সমস্যা হচ্ছে তা জানতাম না, আমি দু দিন পরেই চলে যাব। কথাটার মধ্যে কিছু একটা আছে , যা বেশ ভালোভাবেই অনন্যার ভিতরটা কে ভাবনায় ফেলে দিতে চাইছে ... কিন্তু নাহ ! ওসবের দিকে মনোযোগ না দিলেও চলবে ... এই যন্ত্রনাটা বিদায় হলেই শান্তি চলে আসবে ওদের ছাদে ...
কয়েক দিন পরের কথা -- ইমন চলে গিয়েছে বাসা ছেড়ে অন্য কোথাও, তাই সবার বাসা থেকে ছাদে ওঠার নিষেধাজ্ঞা সরিয়ে ফেলা হয়েছে আর ওদের সেই পুরোনো ছাদ নতুন করে আবার বিকেলের আড্ডায় প্রানবন্ত হয়ে উঠলো , কদিনের মধ্যেই অন্য ছাদের টাংকীবাজ ছেলেগুলোকে আগের চেয়ে বেশী উৎসাহের সাথেই টাংকী মারতে দেখা গেল ... গলির ভিতরে অচেনা ছেলেদের আড্ডা বেড়ে গেল সেই সাথে জিহ্বার কুৎসিত ব্যাবহার সমূহ ... মাঝে মাঝে শোনা যায় অনেকের গায়ে পর্যন্ত হাত দিতেও ওরা পিছপা হচ্ছে না ... মা - আন্টিদের মহলে অনন্যাদের দোষের ফুলঝুরি ছড়াতে লাগলো , ওদের উষ্কানীতেই নাকি বখাটেগুলোর আজকের এই অবস্হা ... আর যতই ভাল ভাবে চলার চেষ্টা করুক না কেন, নিয়মিত ভাবেই শুনতে হলো -- শালীনতা, ভদ্রতা , এ্যাডজাস্ট, এমন করবানা আর তুমি একটা মেয়ে সংযুক্ত কথা মালা ...

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



