ঝিরিঝিরি মিষ্টি হাওয়ায় চুল ছেড়ে দিয়ে হেটে যাওয়া রাত্রীর অসম্ভব ভাল লাগে , তাইতো সে সবাইকে লুকিয়ে ভোরের আলো গায়ে মেখে এলোমেলো পাহাড়ী পথ বেয়ে উঠছে তো উঠছেই ... যতই উপরে উঠছে ততই যেন মনটা অন্যরকম ভাল হয়ে যাচ্ছে , পাহাড়ী ফুলে সৌরভে ভেসে যাচ্ছে চারিদিক ... সেই সাথে নাম না জানা কতশত পাখির কলকাকলী ... রাত্রীর আর অপেক্ষা সহ্য হচ্ছে না , পৌছুতে হবে ঐ চুড়ায় , শরীরের সব শক্তি পায়ের মাঝে একত্র করে এক বুক নিঃশ্বাস নিয়ে দৌড় শুরু করতেই হঠাৎ পা ফসকে হাওয়ায় ভাসতে লাগলো ... উপরের সবকিছু যেন হঠাৎ করেই যেন ছোট হয়ে আসতে লাগলো ...সেই সাথে নিঃশ্বাসের জন্য অক্সিজেনের পরিমানও কেমন যেন কমে আসতে লাগলো ... কষ্ট হচ্ছে , খুব কষ্ট হচ্ছে ... ধড়মড়িয়ে ঘুম থেকে উঠতেই অসম্ভব রকম মন খারাপ হয়ে গেল , আজকের দিনে এমন একটা স্বপ্ন না দেখলে কি চলতো না ? ... আর নিজেকে ধরে রাখতে না পেরে কিছুক্ষন বালিশে মুখ লুকিয়ে কেঁদে নিজেকে শান্ত করে নিয়ে ওয়াশরুমে চলে গেল ফ্রেশ হতে ...
এ্যালার্মটা বেজেই চলেছে কিন্তু ওর তো সাজুগুজই শেষ হয়নি , সজীবের জন্মদিনে সে কি সাদামাটা ভাবে ওর সামনে যাবে নাকি ? কখনোই না ... কিন্তু এখন তো হাতে বেশী সময় নাই , কি হবে এখন ? অনেক ভেবে ফোনটা তুলে নিলো ও ... সজীব নিশ্চয়ই এতক্ষনে জায়গামতো পৌছে গেছে , ছেলেটা এমনই পাগল, সময় দিলে ঘন্টা খানিক আগে গিয়ে বসে থাকে , যাতে ওকে অপেক্ষা করতে না হয় , রাত্রীকে অপেক্ষায় উৎকন্ঠিত দেখলে নাকি সজীবের খুব মায়া লাগে, খুব বেশী কষ্ট হয়, তাই সে নিজের সব কাজ ফেলে হলেও আগে আগে গিয়ে নিজেই অপেক্ষা করতে থাকে ... সুতরাং এই মুহুর্তে ওকে কোনো একটা কাজ দিয়ে ব্যাস্ত না রাখলে চলবে না ... অতি পরিচিত নম্বরটি ডায়াল করে এতক্ষনে সাজানো কটা কথা বলেই মিটিমিটি হাসি মুখে ফোনটা রেখে দিলো রাত্রী ... আজ সে ফার্স্ট হবেই হবে ... আজ ও সজীবের জন্য ওর সবচেয়ে প্রিয় নীলকন্ঠী শাড়ী পরে অপেক্ষা করবে ...
সময়মতো সাজুগুজু শেষ করে ড্রাইভারকে নিয়ে বের হতেই সজীবের ফোন --> " অতগুলো গোলাপ পাচ্ছি না তো " ওদেরকে আর কোথায় পাওয়া যায় বলতে পারো ? ...
মুচকী হেসে রাত্রী বললো --> বিজয় সরনীতে পাবে ....
সজীব --> আমি তো বিজয় সরনীর সিগন্যালেই দাড়িয়ে আছি ...
রাত্রী --> ওখানেই থাকো , ওখান থেকে যে ফুল ই পাবে নিয়ে নিও ..
সজীব --> আচ্ছা , ঠিকাছে , তুমি কি এদিক দিয়েই যাবে ? তাহলে আমাকে পিক করে নিও ...
হাসতে হাসতে রাত্রী --> আগে আমার গিফট কেনো এর পরে তোমাকে নিবো এর আগে না ...
সজীব --> আমিও তোমার গিফট না কিনে তোমার সামনে আসবো না
কথা বলতে বলতেই রাত্রী পৌছে যায় বিজয় সরণীতে , দুর থেকে দেখতে পায় সজীবকে, মেরুন রং এর টি শার্ট আর স্কাই কালারের জিন্সে আজকে ওকে খুব সুন্দর দেখাচ্ছে ... ড্রাইভারকে একসাইডে গাড়ী রাখতে বলে দুর থেকেই দেখতে থাকে রাস্তার উপরে অস্হিরভাবে এদিক সেদিক ছুটে চলা সজীবকে ...
রাত্রী --> আমি কিন্তু পৌছে গেছি , নাও যতগুলোই পেয়েছ ওগুলোই দিও ... আর খুজতে হবে না ফুলওয়ালা বাচ্চাদেরকে
সজীব --> আজকে এখান থেকে ফুল না কিনে আমি তোমার সামনেই যাব না , ঐ তো ঐতো একটা বাচ্চাকে দেখা যাচ্ছে ...
রাত্রী --> রাস্তায় অনেক গাড়ী আজকে , থাকনা , আর কিনতে হবে না , তুমি আসবা আমার কাছে নাকি ফোন কেটে দিবো ?
সজীব --> একটু অপেক্ষা করো প্লিজ, আমি এক দৌড়ে গিয়েই ফুলগুলো নিয়ে আসছি ...
পথ চলতি অসংখ্য গাড়ীর মাঝে ছুটে চলা সজীবকে দেখে রাত্রীর মনে অন্য রকম আনন্দের বন্যা বয়ে যায়, ঐ ফুলগুলো আজ তার চাই ঈ চাই ... ওর জন্য আজ সজীব ছুটে চলেছে , শুধু ওর খুশীর জন্য ... আনন্দে আত্মহারা রাত্রী গাড়ীর ভিতরেই বসে যেন অনুভব করে সজীবের হৃদয় স্পন্দন ... চোখের কোন ঘেষে যেন হঠাৎ গড়িয়ে পড়ে দু ফোটা আনন্দের ধারা .... আকাশ ছোঁয়া ভালবাসার আবেশে বিভোর রাত্রী নিজেকে যেন আজ ধরে রাখতে পারছে না , আনন্দের ঝিরিঝিরি হিমেল আবেশে নিজের অজান্তেই চোখ বুজে আসে, খামচে ধরে বুকে টেনে নেয় সজীবের জন্য নিয়ে আসা তার জীবনের সবচেয়ে পছন্দের গিফট ... হঠাৎ যেন খুব কাছে কোথায় শুনতে পায় কিছু কর্কষধ্বনী , আর কাচ ভাঙ্গার শব্দ, সেই সাথে অনেকগুলো মানুষের হট্টোগোল ... আবার যেন নিজেকে সেই সকালের পুরোনো অব্স্হায় দেখতে পায় ... পৌছুতে হবে ঐ চুড়ায় , শরীরের সব শক্তি পায়ের মাঝে একত্র করে এক বুক নিঃশ্বাস নিয়ে দৌড় শুরু করতেই হঠাৎ পা ফসকে হাওয়ায় ভাসতে লাগলো ... উপরের সবকিছু যেন হঠাৎ করেই যেন ছোট হয়ে আসতে লাগলো ...সেই সাথে নিঃশ্বাসের জন্য অক্সিজেনের পরিমানও কেমন যেন কমে আসতে লাগলো ... কষ্ট হচ্ছে , খুব কষ্ট হচ্ছে ...

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


