প্রাকৃতিক গ্যাস আমাদের দেশের অমূল্য সম্পদ। সরকার সামাজিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক কারণ সহ বিভিন্ন কারনে অনেক জেলা শহরে গৃহস্থলী ও শিল্প কারখানায় গ্যাস সংযোগ দিয়েছে। আর সেই সাথে একটি মূল্য নির্ধারণ করেছে। কিন্তু এবার বগুড়ায় এসে একটি নতুন তথ্য পেলাম এবং তার সাপেক্ষে হাতে কলমে প্রমাণও পেলাম।
যারা বাসাবাড়িতে গ্যাস সংযোগ নিয়েছে, তারা এখন নিজেরাই গ্যাস বিক্রি করছে। প্রশ্ন হচ্ছে কিভাবে? একটি পরিবারের জন্যে একচূলা বা দুইচূলার জন্যে আবেদন করে গ্যাস সংযোগ নিতে হয়। কিন্তু এখন ইতোমধ্যে যাদের গ্যাসের সংযোগ আছে তারা সেই সংযোগ সুবিধা ব্যবহার করে চূলা ভাড়া দিচ্ছে। অর্থাৎ যাদের গ্যাস সংযোগ আছে তারা অন্য পরিবারকে চূলা ভাড়া দিচ্ছে টাকার বিনিময়ে।
বগুড়া শহরের মালতিনগর, জ্বলেশ্বরীতলা, বাঁদুড়তলা, কলোনী এলাকায় এ গ্যাস বিক্রি পদ্ধতি বেশি দেখা যাচ্ছে। এসব এলাকায় জনবসতি অনেক ঘন এবং নিচু আয়ের লোকের বসবাস বেশি। কিছু লোকের কাছে কথা বলে জেনেছি, তারা এসুযোগ গ্রহন করেছে কারন এতে গ্যাস চূলা কেনার প্রয়োজন নেই, গ্যাস সংযোগের জন্যে অনেক ফিস জমা দিতে হয়, সেটি লাগেনা; এরপর তারা অর্ধেক দামে রান্না করতে পাচ্ছে।
গড়ে চারটি পরিবারকে গ্যাসমালিক জন প্রতি মাসিক ২০০-২৫০ টাকায় রান্নার সুয়োগ দিচ্ছে। ঝামেলা এড়াতে গ্যাস মালিক সময় ভাগ করে রুটিন করে দিয়েছে। একেক জন নির্দিষ্ট সময়ে এসে পালা করে ৩ বেলা রান্না করে যায়।
এই ব্যাপারটি গরীবের জন্যে অবশ্যই ভাল। কিন্তু এতে করে সরকার বঞ্চিত হচ্ছে বিপুল অংকের টাকা থেকে। দ্রুত ফুরিয়ে যাচ্ছে আমাদের প্রাকৃতিক গ্যাস। বাসা বাড়িতে গ্যাস ব্যবহারের নির্দিষ্ট কোন বিধান নেই বলে সবার অলক্ষ্যে অমূল্য এই সম্পদ চুরি হচ্ছে দেদারচে। টাকার লোভে নৈতিকতা বিসর্জন দিচ্ছে। আর আমরা যারা সৎ পথে আছি, তারা অনাকাঙ্খিত ভাবে দিনের পর দিন বর্ধিত ট্যাক্স দিয়ে যাচ্ছি।
আমার পরামর্শ হচ্ছে, যত শীঘ্র সম্ভব বাসাবাড়ির সংযোগে গ্যাস রিডিং মিটার বসান হোক। নয়ত এক চূলায় ৪ চূলার গ্যাস পুড়বে। যে গ্যাস ২ যুগ চলত, তা ৬ বছরে শেষ হবে।
সর্বশেষ এডিট : ১৬ ই নভেম্বর, ২০১০ সন্ধ্যা ৬:২৯

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



