আমাদের ছবি তোলার কার্যক্রম শুরু হয় সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাইফেলস্ স্কোয়ার এর বিপরিত ক্যাফেটেরিয়া থেকে। সেখানে চলছিল "আমারব্লগ" এর আলোচনা সভা।
ক্ষুধায় সবার পেট চো চো রাত ৯টার মধ্যে। আমাদের আলোচনা সভা শেষে বাকিরা চলে যায় ৮টার মধ্যে। শুধু ছিলাম আমি, ব্লগার বোকাসোকা (সাকি), মিজান (অর্ধতৎসম-আমারব্লগ), চয়ন (মিজানের বন্ধু)।
রাতের বিডিআর সদর দপ্তর:: ছবি> অরণ্য আনাম
ধানমন্ডি ঘুরে ঘুরে ছবি তুলে আবার ফিরে এলাম রাইফেলস স্কোয়ার। কারণ, সাকির ক্যামেরার এক জোড়া ব্যাটারী চার্জে ছিল মিজানের বাসায়। মিজান বাসায় গেল ব্যাটারী আনতে। আমরা এর ফাঁকে কিছু ছবিও তুললাম। মিজান ফিরে আসে ১১টার দিকে। সাথে তার নিজের রান্না করা "ফ্রাইড রাইচ"
মিজানের জন্য অপেক্ষা। চয়নকে ফটোগ্রাফি জ্ঞান দান:: ছবি> সাকি
এরপর আমরা চলে যাই নীলক্ষেত। আমাদের আরো একজন আসবে ১২টায়। নীলক্ষেতে একটি হোটেলে গিয়ে খাওয়া শেষে চা পালা শেষ করলাম। তারপর টিএসসির দিকে যেতে যেতে ছবি তোলা।
টিএসসিতে যাবার পর এলো পরাগ। এর সাথে আমাদের দুটি ক্যামেরার সাথে যুক্ত হলো আরো একটি। তবে, শুধু আমারটাই এসএলআর। বাকি দুইটি কমপ্যাক ডিজিটাল। তবে কাজ ভাল।
রাতের টিএসসি :: ছবি> অরণ্য আনাম
টিএসসির এটিএম বুথ> দায়িত্বশীলতা!!
তবে আমাদের মধ্যে একটা হতাশা কাজ করছিল। কারণ, আমার শুনেছিলাম যে, এবার নাকী কোন ভবনে আলোকসজ্জা কার হয়নি।
দোয়েল চত্বর :: ছবি> পরাগ
দোয়েল চত্বরে গিয়ে মন ভাল হয়ে গেল সবার। কারণ, কার্জনহল আলোকিত
আলোকিত কার্জনহল ::: ছবি> অরণ্য আনাম
পরাগ, মিজান, সাকি ও চয়ন ::: ছবি> অরণ্য আনাম ৯পরাগের ক্যামেরায় তোলা)
এখানে আমরা ছিলাম অনেকক্ষণ। ছবি তোলা হলো অনেক।
কার্জনহল থেকে বের হয়ে আমরা এর সামনের ফুটপাতে রাত কাটানো মানুষের ছবি তুললাম। তবে, আমি ছাড়া।
পথের মানুষ ::: ছবি> সাকি
একটি টহল পুলিশের গাড়ি পেলাম। সার্জেন্টকে জিঙ্গাসা করলাম, কোথায় কোথায় আলোকসজ্জা করা হয়েছে। জানতে পারলাম, সব গুরুত্বপূর্ণ ভবনেই আলোকসজ্জা করা হয়েছে। শুনে আস্বত্ত হলাম। তবে, সবচেয়ে আশ্চর্য হয়েছিলাম, রাতের বেলা ভাষা ইনস্টিটিউট ও কার্জনহলে জাতীয় পতাকা উত্তোলিত অবস্থায় দেখে।
এরপর আমরা গান গেতে গেতে চললাম সুপ্রিম কোর্টের দিকে। ফুটপাত ধরে হাঁটছি। হঠাৎ দেখি এক লোক একা দাঁড়িয়ে আছে। আমাদের দিকে ফিরতেই আমি লক্ষ্য করলাম, লোকটির ছোখ ফোলা! মনে মনে ভাবলাম, "মলম পার্টির কাজ নয় তো!"। লোকটি চোখ খুলতে পারছিল না। লোকটি জিঙ্গাসা করলো, ভাই এটা কোন জায়গা। চয়ন বললো, এটা হাই কোর্ট। আমি জিঙ্গাসা করলাম, আপনার কী হয়েছে। লোকটি যা বললো, তার সারমর্ম হচ্ছে, সে ভৈরব থেকে আসার পথে, সায়দাবাদ-এ একটি বাসে ওঠে মিরপুর-এর বাসে। তার বাসা মিরপুর সাড়ে ১১তে। বাসে থাকা ছিনতাইকারীরা তার মোবাইল, মানিব্যাগ ও কাপরের ব্যাগ নিয়ে গেছে। তার চোখে মলম লাগিয়ে দিয়েছে। তাকে বাস থেকে রাস্তায় ফেলে বাস নিয়ে ছিনতাইকারী পালিয়েছে।
পরাগের কাছে পানি ছিল। লোকটিকে বললাম পানি দিয়ে চোখ ধুতে। তারপর, চয়নকে বললাম,লোকটিকে নিয়ে সামনে আসো। সুপ্রিম কোর্টের গেইটে পুলিশ থাকে। তাই আমরা লোকটিকে পুলিশের কাছে দিয়ে দিলাম। আমরা ছিলাম সেখানে অনেক্ষণ। আমি "প্রেসের" লোক শুনে পুলিশ একটু করিৎকর্মা হলো। আর সাকি নবীন উকিল। সার্জেট যিনি এলেন, তার বয়স খূবই কম। নতুন মনে হয় যোগ দিয়েছেন। তাই তাকে বেশ অশহায় মনে হচ্ছিল। আর সেদিন রাতে দূর-টহল বাহিনী ছিল না। তাই, সার্জেটকে অনুরোধ করলাম, টহল-পুলিশ বা র্যাব এর কো টহল দল দিয়ে যেন লোকটিকে মিরপুর পৌঁছে দেয়া হয়। এপর আমরা ছবি তুলেতে লাগলাম।
সুপ্রিম কোর্ট :: ছবি> পরাগ
প্রতিফলন :: ছবি> অরণ্য আনাম
সুপ্রিম সাইজ ::: ছবি> অরণ্য আনাম
এরপর আমরা গান গেতে চললাম শিল্পকলা দিয়ে পল্টন। এর সাথে "প্রকৃতির ডাকে সারা দেয়া"
প্রকৃতির ডাক :: ছবি> সাকি
পল্টন এ ছবি তোলা হলো একই ভঙ্গিতে।
সচিবালয় :: ছবি> অরণ্য আনাম
সচিবালয় এর পাশের সড়ক দিয়ে যাবার পথে রাস্তায় বসে ছবি তুলেছি এবং বিশ্রাম নিয়েছি। তখন দেখলা রাস্তা দিয়ে যাচ্ছে প্রচুর গরুর পাল। কিন্তু আলো কম থাকায় ছবি তোলা যায়নি।
একটি ছবির তোলার মুহূর্তে ::: ছবি> সাকি
মূল ছবিটি ::: ছবি> অরণ্য আনাম
এরপর আমরা হেঁটে গেলাম নগর ভবনে। যাবার আগে থামলাম "জিরো পয়েন্টে"। সেখানে ঘটলো একটি ঘটনা। মিজান এক রিক্সাওয়ালার রিক্সা নিয়ে চালাতে লাগলো। আর চয়ন এতো জোরে ধাক্কা দিল যে, সে সামলাতে না পেরে পুরো রিক্সা উল্টে গেল। পুরো ঘটনাটা আমি বসে বসে প্রত্যক্ষণ করলাম। কিন্তু ছবি তুললাম না। সাথে সাথে সাকি বললো, "বাঙালি শিক্ষিত হচ্ছে, কিন্তু রিক্সা চালাতে শেখে নাই"
জিরো পয়েন্টের কিছু ছবি**
ছবি> সাকি
ছবি:: পরাগ
ছবি অরণ্য আনাম (পরাগের ক্যামেরায় তোলা)
এরপর আমরা ক্ষুধা নিবারেনের জন্য গেলাম চা খেতে।
চায়ের দোকানদার :: ছবি অরণ্য আনাম (পরাগের ক্যামেরায় তোলা)
খাওয়া শেষে আমরা যাত্রা করালাম নগর ভবনের দিকে।
আমরা পথিক ::: ছবি> পরাগ
নগর ভবনের ছবি***
ছবি> পরাগ
ছবি> অরণ্য আনাম
ছবি> সাকি
এরপর আমরা এগিয়ে যাই পুলিশ হেডকোয়ার্টাট পেরিয়ে সামনে।
রিক্সাওয়ালার ঘুমের ধরন :: ছবি> সাকি
এরপর তোলা হলো ভাষ্কর্যের ছবি**
ছবি> অরণ্য আনাম
ছবি> পরাগ
আমরা সেখান থেকে রওনা দিলাম রাজউক ভবনের দিকে।
রাজউক ভবন :: ছবি> সাকি
রাজউক ভবনের সামনে ফুটপাতে অনেক গুলো বাঁশকে বিষয় করে একটি ছবি তুললো পরাগ। মডেল> মিজান
ছবি> পরাগ
সেখান থেকে আমরা যাত্রা করলাম বলাকা ভবনের দিকে। কিন্তু বলাকা ববন আলোকিত ছিল না, তাই ছবি তেমন ভাল আসেনি।
ঘড়িতে তখন ৬টা ছুঁই ছুঁই। এরই মধ্যে নামলো বৃষ্টি। মিরপুর গামী একটি বাস পেয়ে গেলাম। ৫জনই উঠে গেলাম। মিজান আর চয়ন নেমে গেল শাহবাগ। আমি আর সাকি নামলাম মিরপুর ১০। পরাগ চলে গেল মিরপুর ১৩।
সাকি আমার বাসায় চলে এলো। এরপর দুজনে ঘুম দিলাম আরামে।
সর্বশেষ এডিট : ২৯ শে মার্চ, ২০০৯ রাত ১০:৫৪

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


