অনুসন্ধান:
cannot see bangla? সাধারণ প্রশ্ন উত্তর বাংলা লেখা শিখুন আপনার সমস্যা জানান ব্লগ ব্যাবহারের শর্তাবলী transparency report
বলার মত কিছু ........
আর এস এস ফিড

আমার লিঙ্কস

আমার বিভাগ

    কোন বিভাগ নেই

জনপ্রিয় মন্তব্যসমূহ

ইন্দিরা গান্ধীকে আসাফউদদৌলার সেই দুটি প্রশ্ন

০৯ ই জুন, ২০০৯ সকাল ৭:৫১ |

শেয়ারঃ
0 0

চ্যানেল ওয়ানের নির্বাচিত খবরে সাবেক সচিব, বাংলাদেশ টুডের সাবেক সম্পাদক ও গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব আসাফউদদৌলা রাজনিতবিদদের কড়া সমালোচনা করেন। উপস্থাপনায় ছিলেন শামীম আল আমীন। নির্বাচিত খবরের নাম শুনলে কেন জানিনা উপস্থাপক হিসাবে নাজমুল আশরাফের নামটাই বেশী মনে পড়ে। এবারের আলোচনার বিষয়বস্তু ছিল �বাংলাদেশকে অকার্যকর রাষ্ট্র বানাবার ষড়যন্ত্র চলছে� : খালেদা জিয়া।

উপস্থাপক শামীম আল আমীন খালেদা জিয়ার এই বক্তব্যের মূল্যায়ন করতে বললে জনাব আসাফউদদৌলা বলেন, একটি অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক দলের নেত্রী হিসাবে এটা তাঁর ব্যক্তিগত অভিমত। তবে উনি অকার্যকর রাষ্ট্রের কথা ইঙ্গিত করেছেন। এটা একটা খুব বড় ধরনের অভিযোগ। দেখুন একটি রাষ্ট্র অকার্যকর রাষ্ট্রের দিকে এগুচ্ছে কিনা তা জানার কতগুলি উপাদান আছে। তার মধ্যে প্রথম উপাদান হচ্ছে আইনের শাসনের অভাব। আইনের শাসন না থাকার যে সমস্ত ইঙ্গিত আমরা পাচ্ছি তার মধ্যে আছে র�্যাব ও পুলিশের দ্বারা একের পর এক বিচার বহির্ভূত হত্যাকান্ড সংঘটিত হওয়া। বিনা বিচারে এভাবে হত্যার কথা আমাদের rule of law � এর কোথাও লেখা নাই। অকার্যকর রাষ্ট্র করতে চাইলে এটা চালিয়ে যাওয়া উচিত কিন্তু তা না চাইলে অতি সত্ত্বর এইগুলি বন্ধ করা উচিত। স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বললেন, র�্যাব ও পুলিশের নিজস্ব নিরাপত্তার জন্য এর প্রয়োজনীয়তা আছে। একটা elected young ছেলে কিভাবে এ কথা বলে আমি জানিনা। উনার কথা শুনে উনাকে আমার �একজন কৃতি পিতার অকৃতি সন্তান� বলে মনে হলো। জনগণ উনাকে নির্বাচিত করেছে জনগণের নিরাপত্তা ও স্বাধীনতা এবং মানবাধিকার রক্ষা করার জন্য। উনিতো নির্বাচিত হয়েছেন সাধারণ মানুষের ভোটে, র�্যাব পুলিশের ভোটে নয়। র�্যাব পুলিশকে defend করার জন্য উনাকে ঐ জায়গায় রাখা হয় নাই। তাদেরকে prosecute করার জন্য রাখা হয়েছে। এইগুলি বন্ধ করতে হলেতো মাত্র একটি অর্ডার লাগে। এদিকে আমাদের ফরেইন মিনিষ্টার আরেকজন শিক্ষানবীশ বললেন, �এটা একদিনে হয় নাই তাই একদিনে যাবে না�। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রনালয়ে আমিওতো কাজ করেছি। মাত্র ১ লাইনের একটা অর্ডারে এটা বন্ধ করা যায়।

ব্যর্থ রাষ্ট্রের দ্বিতীয় উপাদান হচ্ছে সার্বভৌমত্ব। আমি বুঝিনা সরকারের পক্ষ হয়ে যারা কথা বলেন তাদের কি বিবেক বুদ্ধি বলে কিছুই নেই। বলা হচ্ছে গভীর সমুদ্র ( Deep Seaport) বন্দর নাকি বাংলাদেশের regional facility develop করবে। বাংলাদেশ নিজেকে আগে বাঁচাক। তারপর region কে বাঁচাবার দায়িত্ব নিক। Deep Seaport (গভীর সমুদ্র) যদি আমাদের কোনো কাজে না লাগে তাহলে এই port আমাদের কোনো দরকার নেই। এরপর দর্শকের প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, টিপাইমুখী বাঁধ প্রসঙ্গে আমার simple logic হলো বাংলাদেশে এসে গঙ্গার নাম হয়েছে পদ্মা আর বরাক নদীর নাম হয়েছে সুরমা ও কুশিয়ারা। আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী অনুমতি ছাড়া এখানে কেউ কোনো বাঁধ দিতে পারে না। অথচ সেখানে এই বাঁধ দেওয়ার পরিকল্পনা করেছে ইন্ডিয়া এবং এক বছর আগে এই বাঁধ নির্মাণের কাজ শুরু হয়ে গেছে। আমাদের বাণিজ্যমন্ত্রী যিনি বাণিজ্য ছাড়া আর সব বিষয়েই কথা বলেন তিনি এবং পররাষ্টমন্ত্রী � এরা দুজনে মিলে বলছেন আমাদের দলতো যাবে সেখানে। দল যাবে মানে কি? এটা কি পিকনিকে যাচ্ছেন তারা। আসামে কি কোনো পিকনিক হবে? প্রবাহমান বিশাল একটা নদীর উৎস মুখে আপনারা একটি বাঁধ বা ড্যাম নির্মাণ করছেন। আমার এই প্রাপ্য পানিটা আপনি ধরে রাখছেন। টিপাইমুখী বাঁধ থেকে বাংলাদেশের বর্ডারের মধ্যে আপনি আবার দুইটি ব্যারেজ নির্মাণ করেছেন যাতে সামান্য যা পানি ছাড়বেন তা যেন অন্য শাখা দিয়ে চলে যায়। একটা Dam� ও পানি প্রবাহকে বন্ধ করে দিতে পারে। আর যত বেশী মেগাওয়াট উৎপন্ন করবেন ততবেশী wall-টা high করতে হবে। আর এই যে আমাদের ইন্ডিয়ান হাইকমিশনার তাকে একদিন আমার অফিসে দাওয়াত দিয়ে ও Dam ও Barrage � এর তফাৎটা একটু শিখিয়ে দিতে হবে।
আসাফউদদৌলা আরও বলেন, আপনাদের এই জাতীয় ছলাকলা ফারাক্কা থেকে তিস্তা থেকে দেখতে দেখতে আমরা ক্লান্ত হয়ে গেছি। এটা কি কোনো বন্ধুরাষ্ট্রের কাজ হলো? ফারাক্কা বাঁধ দিয়ে তিন কোটি মানুষের জীবন বিপন্ন করা হয়েছে আর এখন সিলেটের বরাক নদীর টিপাইমুখী বাঁধ দিয়ে আরো তিন কোটি মানুষকে বিপন্ন করা হবে। যাদেরকে বিপন্ন করা হচ্ছে তারাতো এই দেশেরই লোক। এদের ভালমন্দ নিয়ে কেন সরকার কোনো চিন্তা করবে না। এটা নিয়ে কেন অন্যেরা কথা বলবেন অথচ সরকার কোনো কথা বলবেন না। এই পর্যায়ে জনৈক দর্শক ফোনে প্রশ্ন করেন, সরকারের এখন কি করা উচিত? তিনি উত্তরে বলেন, দেখুন এশিয়ান হাইওয়ে, টিপাইমুখী বাঁধ, গভীর সমুদ্রবন্দর এইগুলি হচ্ছে আমাদের সার্বজনীন সমস্যা। এইগুলি সম্বন্ধে কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণের ম্যান্ডেট জনগণ এই সরকারকে দেয় নাই। আপনি কি নির্বাচনী ইশতিহারে এইগুলির কথা লিখেছিলেন। কাজেই এইসব ব্যাপারে হয় referendum� এ যেতে হবে নতুবা জাতীয় সংসদে উন্মুক্ত আলোচনা করতে হবে। আমাদের সমস্যা হলো আমরা গণতন্ত্রের নামে elect করি একজন রাজা বা রাণী। তিনি মনে করেন তিনিই সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী, পার্লামেন্টে নয়।

এরপর আরেকজন দর্শকের প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, দেখুন ১৯৭৪ সালের ২৬ শে মে নিউ দিল্লিতে রাষ্ট্রপতি ভবনে ভি,ভি, গিরির দেওয়া এক পার্টিতে বঙ্গবন্ধুর সাথে আমিও গিয়েছিলাম। সেখানে আমি মিসেস ইন্দিরা গান্ধীকে দুটো প্রশ্ন করেছিলাম। আমি বলেছিলাম, �আপনি ফারাক্কা ব্যারেজ যেভাবে চালাচ্ছেন সেভাবে কি চালাতে পারতেন যদি বাংলাদেশ এখন পূর্ব পাকিস্তানে থাকতো? উনি আমাকে ইংরেজীতে উত্তর দেন, move on to the next question. অত্যন্ত intelligent উত্তর। আমার দ্বিতীয় প্রশ্ন ছিলো �যদি বাংলাদেশ ভারতের অংশ হতো তাহলে কি এভাবে পানি বন্ধ করতে পারতেন? উনি হেঁটে চলে গেলেন। উনার এই উত্তর না দেওয়ার মধ্যেই কিন্তু এক ধরনের উত্তর লুকিয়েছিল। মুক্তিযুদ্ধে আমার সবচেয়ে বড় বন্ধু কি এই কাজ করতে পারে? কাজেই এখন আর নীরব থাকার সময় নয়। একটি সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসাবে অনুরোধ করার মনোবৃত্তি বা প্রতিবাদ করার সাহস বাংলাদেশের থাকতে হবে। কারণ আমি তো ভারতের বিরুদ্ধে মিলিটারী action নিতে পারি না। এই পদক্ষেপ গুলি যদি ব্যর্থ হয় তখন বিশ্বদরবারে যেতে হবে। ম্যাক্সিকো, ক্যানাডা অনেকেই গেছে সেখানে। কিন্তু কথা হলো আমাদের তো অনুরোধ করার মত মনোবৃত্তি বা প্রতিবাদ করার মত সাহস নেই। কাজেই এ ক্ষেত্রে আমরা নিজেদেরকে স্বাধীন বলতে পারি কিন্তু সার্বভৌম বলতে পারিনা। অকার্যকর রাষ্ট্রের তৃতীয় উপাদান হচ্ছে অর্থনীতি। 2.5 GDP হচ্ছে tremendously high figure তার উপর এডিপির মাত্র 50% বাস্তবায়ন, গার্মেন্টস সেক্টরে অশান্তি, বিশ্বমন্দা সবকিছু মিলিয়ে আমাদের অর্থনীতি খুব একটা prosperous না।

সরকারের চারমাসের ভালমন্দ কাজকে আপনি কিভাবে মূল্যায়ন করবেন? উত্তরে আসাফউদদৌলা বলেন, দেখুন রাষ্ট্র সুন্দরভাবে ও সঠিকভাবে পরিচালিত না করার কতগুলি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হচ্ছে � জুট ধ্বংস হয়ে যাওয়া, গার্মেন্টস সেক্টরে অশান্তি বৃদ্ধি, এডিপির 50% বাস্তবায়ন, প্রশাসনিক অস্থিরতা, জনমনে বিদ্যুৎ গ্যাস পানি এবং ট্রাফিক জ্যাম নিয়ে অশান্তি, আইনের শাসনের অভাব ইত্যাদি। এসব সমস্যা সমাধানের কোন ইঙ্গিত আমরা এখনও পর্যন্ত এই চার মাসে পাই নাই। একটি ভাল সরকারের sign হচ্ছে সুসমন্বয়। এই মন্ত্রীসভার নতুন ও অনভিজ্ঞ সদস্যদের মধ্যে সমন্বয়হীনতার অভাব রয়েছে। এই সরকার ক্ষমতায় এসেছে কাজেই দেখেন এখন তাদের দলের কেইসগুলি সব solve হয়ে যাচ্ছে আর বিরোধী দলের কেইসগুলি আরো জোরদার হচ্ছে। BDR- এর দুটো রিপোর্ট নিয়ে মানুষ সন্তুষ্ট নয় কিন্তু সরকার সন্তুষ্ট। এতোদিন পার করার পর এই ধরনের রিপোর্ট কোনো রিপোর্টই নয়। BDR - এর মহাপরিচালক চাকরী বজায় রাখতে আর সরকারকে খুশী রাখতে কি বোঝান তা আমি জানি না তবে আমরা এখন worried অরক্ষিত সীমানা নিয়ে।

দীর্ঘদিনের এই সমস্যা থেকে আমরা কিভাবে উত্তরণ করবো � উপস্থাপকের এই প্রশ্নের উত্তরে আসাফউদদৌলা বলেন, আমাদের ৯ মাসের স্বাধীনতা যুদ্ধ না হয়ে ৯ বছরের স্বাধীনতা যুদ্ধ হলে বোধ হয় আমরা দারুণ দেশপ্রেমিক হতাম। কবিতা লিখে আর গান গেয়ে আমরা যে দেশপ্রেম দেখাচ্ছি সরকার পরিচালনার ক্ষেত্রে আমরা সেই দেশপ্রেম দেখাতে পারছি না। শুধু গান গেয়ে আর কবিতা লিখে একটা দেশের স্বাধীনতাকে ধরে রাখা যায় না। একে ধরে রাখতে হলে যারা রাজনীতিতে আছেন তাদের মধ্যে অকাট্য দেশপ্রেম ,অটুট ন্যয়নিষ্ঠতা, এই দেশের স্বাধীনতায় যে রক্ত ঝরেছে তার প্রতি দায়বদ্ধতা, এই দেশের মানুষের চোখের পানির প্রতি দায়বদ্ধতা, এই দেশের প্রতি দায়বদ্ধতা থাকতে হবে। কিন্তু আমি এখনও পূর্ণাঙ্গ দেশপ্রেমে আপ্লুত সেরকম সরকার দেখি নাই যেই সরকার সমস্ত মানুষের ঐক্যকে সংগঠিত করে তাদেরকে বুকে টেনে ধরবে। ইনি আসেন তো প্রতিহিংসায় উনার পিছনে লাগেন। আবার উনি আসেনতো ইনার পিছনে লাগেন। এইভাবে প্রতিহিংসার আগুনে দেশকে বিভক্ত করলে লাভবান হবে আপনার শত্রু, বন্ধু নয়। এতো কথা বলার পর সেই শত্রুটি কে আশা করি তা আমাকে নতুন করে বলে বোঝাতে হবে না। আমরা ৭১ সালে এক অত্যাচার থেকে মুক্ত হয়েছি অন্য কারো অত্যাচারের অধীনে যাবার জন্য নয়।
ধন্যবাদ আসাফউদদৌলা সাহেবকে। আপনার মত সাহস করে এবং স্পষ্ট করে সত্যি কথা বলার মত মানুষ এ দেশে যদি আরো থাকতো তাহলে হয়তো এ দেশের মানুষের ভাগ্য বদলে যতো।

টিপাইমুখী বাঁধের পক্ষে সাফাই গাওয়া

আরটিভির রোড টু ডেমোক্রেসিতে এবার অতিথি হয়ে এসেছিলেন আমাদের সময়ের কলামিষ্ট, রাজনৈতিক বিশ্লেষক মোজাম্মেল বাবু ও আমাদের সময়� এর সম্পাদক নাইমুল ইসলাম খান। উপস্থাপক ছিলেন ডা. আবদুন নূর তুষার এবং প্রশ্নকর্তা হিসেবে ছিলেন যুগান্তরের সাংবাদিক আশরাফ আলী ও ইনডিপেন্ডেন্ট ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের শিক্ষক এম এ আরাফাত।

বিএনপির সংসদ অধিবেশনে যোগ না দেওয়া প্রসঙ্গে আবদুন নূর তুষার প্রথমে নাইমূল ইসলামকে প্রশ্ন করেন, এই সংস্কৃতি কি আমাদের কোনদিনও বদলাবে না? উত্তরে অধুনালুপ্ত আজকের সাবেক সম্পাদক ও বর্তমানে আমাদের সময়ের সম্পাদক নাইমূল ইসলাম খান বলেন, আমি কিন্তু এতে ব্যক্তিগতভাবে এতো হতাশ নই কারণ সংসদের মূল কার্যক্রমগুলি কিন্তু পরিচালিত হয় সংসদীয় কমিটিগুলিতে এবং সেখানে কিন্তু তারা অংশগ্রহণ করেছে। কিন্তু আমরা চাই যারা নির্বাচিত হয়েছেন তারা সংসদে গিয়ে তাদের ভূমিকাটা পালন করুক। আমি যদি আওয়ামীলীগে থাকতাম তাহলে সামান্য আসনের এই বিরোধীদলকে সামনের সারিতে নিয়ে আসতাম, যাতে তারা হৈ চৈ করলে একটু চোখে পড়ে। তাহলে পার্লামেন্টকে একটু প্রাণবন্ত মনে হতো। বিএনপি যখন পার্লামেন্টে যায় তখন কিন্তু মহাজোটের সবাই তা enjoy করে। এ প্রসঙ্গে মোজাম্মেল বাবু বলেন, বিএনপির আসন সংখ্যা এতো কম যে তা দিয়ে তারা সংসদে যাওয়া না যাওয়ার উপরে কোনো চাপ প্রয়োগ করতে পারবেনা। সংসদে না গিয়ে রিজাইন দিয়ে মধ্যবর্তী নির্বাচনের জন্য চাপ প্রয়োগ করা এই ৩০/৩৫ টা সিট দিয়ে বিএনপির পক্ষে সম্ভব না।

এরই মধ্যে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব আবদুল্লাহ আল নোমান টেলফোনে অংশগ্রহণ করলে বুয়েট জাসদ ছাত্র লীগের (বাকশালপন্থি) আশির দশকের ছাত্রনেতা মোজাম্মেল বাবু তাকে খোঁচা মেরে প্রশ্ন করেন, নোমান ভাই বিএনপিকে সামনের ৩০/৩৫ টা আসনের পুরোটাই দিয়ে দিলে কেমন হয়? ভোলার চরফ্যাশনে অবস্থিত আবদুল্লাহ আল নোমানের ফোনটি কারিগরি ক্রটির কারণে বারবার ডিসকানেক্ট হয়ে যাওয়াতে মোজাম্মেল বাবু টিপ্পনি কেটে বলেন, নোমান ভাই হয়তো এইসব শুনতে চাচ্ছে না। তিনি আরো বলেন, বিএনপি যে দুটি ইস্যু নিয়ে গোয়েবলসীওয় কায়দায় মাঠ গরম করতে চাচ্ছে। বিডিআর ও টিপাইমুখী বাঁধ� এই দুইটি ইস্যু নিয়ে সংসদে কথা বলার মত যথেষ্ট তথ্য উপাত্ত তাদের নেই বলেই তারা সংসদে এসে এইগুলি নিয়ে কথা বলতে চায় না। বিএনপির যে সব নেতারা টিপাইমুখী বাঁধ নিয়ে কথা বলছেন তারা জানেন না যে টিপাইমুখী একটি বাঁধ নয় কিম্বা টিপাইমুখী একটি Water diversion barrage ও নয়। Tepaimukhi is a hydroelectric project.

এর মধ্যে টেলিফোনে আবদুল্লাহ আল নোমানের সঙ্গে পুনরায় সংযোগ সংযোগ স্থাপন করা গেলে তার উপস্থাপক তার কাছে তিনটি প্রশ্নের উত্তর জানতে চান, (১) মধ্যবর্তী নির্বাচনের সম্ভাবনা কতটুকু (২) সংসদে সবগুলি আসন সামনে দিয়ে দিলে বিএনপি সংসদ বর্জন বন্ধ করবে কিনা (৩) টিপাইমুখী বাঁধ নিয়ে আপনাদের যথেষ্ট তথ্যপ্রমাণ নেই বলেই আপনারা সংসদে যাচ্ছেন না কিনা? প্রথম প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, সরকারের কার্যক্রমে জনগণ আশাহত হয়ে পড়েছে। জনগণের একমাত্র অস্ত্র হচ্ছে ভোট। কাজেই এই সরকারের সার্বিক ব্যর্থতার জন্য জনগণ মধ্যবর্তী নির্বাচন চাইতে পারে। দ্বিতীয় প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন দলমত নির্বিশেষে সবাই এমন কি বৃহত্তর সিলেটের আওয়ামীলীগের এমপি বদরুদ্দিন কামরানও টিপাইমুখী বাঁধ ও ব্যারেজের পরিকল্পনা সমর্থন করে না। তারা এর বিরুদ্ধে আন্দোলন করতে চায়। এই বাঁধ নিয়ে জাতির স্পষ্ট বক্তব্য হলো এটা একটি মরণফাঁদ। ফারাক্কা যেভাবে আমাদেরকে মরুকরণের দিকে নিয়ে গেছে ঠিক একইভাবে টিপাইমুখী বাঁধ ও পাওয়ার প্লান্টও এই দেশকে মরুকরণের দিকে নিয়ে যাবে। এরপর মোজাম্মেল বাবু ফোনে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিবকে বলেন, নোমান ভাই আপনি কেমন আছেন? I am a water resource Engineer. ২০০৩ সালে আপনাদের আসলে টিপাইমুখী বাঁধ অনুমোদন পায়। তখন আপনারা কিছু বলেন নাই কেনো? এই প্রকল্পতো কোনো Water diversion barrage নয় যে পানি divert করে অন্য কোথাও নিয়ে যাবেন। এটা একটি hydraulic power plant. উত্তরে জনাব নোমান বলেন ২০০৩ ও ২০০৫ সালে ভারতের মিস্টার মুন্সি আমাদেরকে বলেছিলেন, �আপনাদের সাথে আলোচনা না করে কিম্বা আপনাদের দেশকে ক্ষতিগ্রস্থ করে আমরা এখানে কোনো electric power plant নির্মাণ করবো না�। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে হয়তো এই বাঁধ নির্মাণ কাজ শুরু হয়েছে। আর এখন বর্তমান সরকারের নমনীয়তার কারণে এটার অগ্রগতি বেড়ে গেছে। ভারতের কাছে আমাদের লিখিত আপত্তি ছিল এই যে আমাদের অনুমতি ছাড়া তারা কিছু করবেনা। তাই পরবর্তী পর্যায়ে এটা নিয়ে তারা আর অগ্রসর হয় নাই। অথচ এখন তারা বেশ জোরেসোড়ে এর কার্যক্রম শুরু করেছে। এই কথার পর সাংবাদিক আশরাফ আলী বিএনপির প্রাক্তন এই মন্ত্রীর কাছে জানতে চান যে, ভারতীয় হাইকমিশনার পিনাক রঞ্জন চক্রবর্তী যে বললেন টিপাইমুখী বাঁধ নিয়ে রাজনীতি চলছে- এই ব্যাপারে আপনার মন্তব্য কি? জবাবে তিনি বলেন, এটা অনাকাঙ্খিত, অনভিপ্রেত এবং জাতীয় আত্মসম্মান বিরোধী। কোনো রাষ্টদূত এরকম কথা বলার সাহস পাচ্ছে কোত্থেকে তার উৎস আমাদেরকে খুজেঁ বের করতে হবে।

এ প্রসঙ্গে ইনডিপেন্ডেন্ট ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের শিক্ষক এম. এ. আরাফাত মোজাম্মেল বাবুর সঙ্গে সুর মিলিয়ে এরপর বলেন, ২০০৩ সালে এটা approve করা হয়। নোমান সাহেব যে বললেন ২০০৫ সালের পর এটার কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায় thats not true. ২০০৬ সালের জুলাই মাসে বিএনপি যখন ক্ষমতায় তখন এটাকে যাচাই বাছাই করে ফাইনাল করা হয়। অথচ বিএনপি গভর্নমেন্ট যখন ক্ষমতায় ছিলো তখন আমরা এর নামই শুনি নাই। কাজেই আজকে যদি এই বাঁধ বা ড্যাম নির্মিত হয় এবং এর জন্য দেশের ক্ষতির সম্মুখীন হয় তাহলে এর জন্য আগের সরকারকেই দায়ী করতে হবে। তখন সঠিক পদক্ষেপ নিলে আজকে এই ব্যাপারটা এতোদ্দর এগুতো না। এটাকে ব্যবহার করে Anti Indian Sentiment কে stabilize করে রাজনীতি করার পক্ষে আমি নই। এ প্রসঙ্গে এরপর মোজাম্মেল বাবু বলেন, নোমান সাহেবরা গোয়েবলসীওয় কায়দায় ভূল তথ্য দিয়ে যাচ্ছেন। ভারতের সাথে বিএনপি কেন পেরে ওঠে না বা তারা কেন এটা নিয়ে রাজনীতি করে তার কারণ আপনি ভারতের বিরুদ্ধে ১০ ট্রাক অস্ত্র supply দিবেন তাহলে তো আর ভারতের সাথে আলোচনায় আপনাদের মুখ থাকে না। Now Bangladesh as country এইসব বাজে কাজ থেকে বিরত থাকার জন্য দুষ্টলোকদের ধরার চেষ্টা করছে and now we can talk to india. দেখেন This is an Engineering problem, not political problem. So we have to solve it as an Engineering matter. এটা একটি multi purpose flood control and hydraulic power plant. পানিটা ধরে রাখার ফলে আমরা নিয়মিত পানি পাবো এবং কখনোই প্লাবনের সম্ভাবনা থাকবেনা। এই বাঁধ আমাদের বন্যা নিয়ন্ত্রণের ব্যাপারে ব্যাপক ভূমিকা রাখবে। বর্ষা মৌসুমে যে সিলেট প্লাবিত হয়ে যায় এই বাঁধ নির্মিত হলে আমরা সেই প্লাবন থেকে রেহাই পাবো এবং ক্ষরা মৌসুমেও আমরা অবশ্যই পানি পাবো। আর ভুমিকম্পের ব্যাপারে যে কথা বলা হচ্ছে তা হলো সেই দেশের পরিবেশ বিজ্ঞানীদেরই দাবী আছে যে ৯ রিক্টার স্কেল পর্যন্ত ভূমিকম্প withstand করতে না পারলে সেই Dam তারা নির্মাণ করতে পারবেনা। সেইজন্য তারা measure নিচ্ছে। কাজেই ভূমিকম্পের আশংকা থাকলেতো তারাও এটা নির্মাণ করবেনা।

এই পর্যায়ে উপস্থাপক বলেন, আমাদের পণ্য ভারতে ছাড়তে দেওয়া হয় না, আমাদের বই ভারতে পাওয়া যায় না, আমাদের চ্যানেলগুলি ভারতে দেখা যায় না। এ থেকে কি আমাদের মনে আশংকা জন্মায় না? মোজাম্মেল বাবু তখন উত্তেজিত হয়ে বলেন, এসব নিয়ে তো আমাদের বসতে হবে। না বসে আমি যদি আপনাকে মারার জন্য অস্ত্র সাপ্লাই দেই তাহলে আপনার কাছ থেকে negotiation আশা করবো কিভাবে? এই পর্যায়ে দুইজন দর্শক টেলিফোনে প্রশ্ন করেন। প্রথমজন বলেন, আমরাতো ইন্ডিয়ার সাথে ফারাক্কা নিয়ে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছি। টিপাইমুখী বাঁধ নিয়ে এখন আরেকটি সমস্যা দেখা দিয়েছে। বাংলাদেশ diplomatically very weak. কাজেই আপনারা কি মনে করেন না যে, We should stand very strongly and make this issue International to serve our purpose. দ্বিতীয় দর্শক প্রশ্ন করেন ভারতের মত শক্তিশালী দেশের সাথে বৈরীতা করে আন্তর্জাতিক আদালতে গিয়ে আমরা কুলিয়ে উঠতে পারবো? এই প্রশ্নগুলির উত্তর দিতে গিয়ে জনাব আরাফাত বলেন আমরা united হতে পারছিনা বলেই জাতিগতভাবে এতো দুর্বল। একটা গোষ্ঠি কিন্তু এই সমস্যাগুলিকে জিইয়ে রেখে রাজনীতি করছে। সত্যিকার অর্থে তারা এর সমাধান চায় না। আজকে তারা political স্টান্টবাজির জন্য এই ইস্যুকে International forum� এ নিয়ে যেতে চায়। সত্যিকার অর্থে যদি আমরা এই সমস্যার সমাধান করতে চাই তাহলে diplomatically দ্বিপাক্ষিক বন্ধুত্বের সম্পর্কের মাধ্যমে এটা করতে হবে। এই ব্যাপারটাকে আমি ইন্টারন্যাশনাল ফোরামে এই কারণে নিতে চাইনা যে this is not going to give us any solution. অনুষ্ঠান শেষ করার আগে আবদুন নূর তুষার বলেন, আজকের এই আলোচনা থেকে আমরা বুঝতে পেরেছি যে সকল পক্ষকে একত্রিত করে একটি আলোচনার মাধ্যমে এই সমস্যার সমাধান করা সম্ভব।



নাজনীন ইলিয়াস এর লেখা থেকে

 

বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...

 


মন্তব্য দেখা না গেলে - CTRL+F5 বাট্ন চাপুন। অথবা ক্যাশ পরিষ্কার করুন। ক্যাশ পরিষ্কার করার জন্য এই লিঙ্ক গুলো দেখুন ফায়ারফক্স, ক্রোম, অপেরা, ইন্টারনেট এক্সপ্লোরার

১৩টি মন্তব্য

 

সকল পোস্ট     উপরে যান

সামহোয়‍্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল‍্যাটফমর্। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব‍্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...

 

© সামহোয়্যার ইন...নেট লিমিটেড | ব্যবহারের শর্তাবলী | গোপনীয়তার নীতি | বিজ্ঞাপন