জাতিসংঘের ৬৫তম সাধারণ অধিবেশেনে যোগ দিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিউইয়র্কে যান প্রায় ১০০ জনেরও বেশি সফর সঙ্গী নিয়ে। তার এ সফরকে কেন্দ্র করে তেঁতে ওঠে সেখানের অতিরাজনীতিক বাংলাদেশিরা। জন এফ কেনেডি এয়ারপোর্টে আওয়ামীলীগ নিউইয়র্ক শাখার নেতা কর্মীরা যায় প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানাতে। তারা হাতে হাতে নিয়ে যায় ফুল ও ফেসটুন। তাদের ফেসটুনে লিখা ছিলো প্রধানমন্ত্রীর আগমন শুভেচ্ছা স্বাগতম। একই ভাবে নিউইয়র্ক বিএনপি শাখার নেতা কর্মীরা জড়ো হয়েছিলো সেখানে। তাদের হাতে ছিলো কালো পতাকা এবং ফেসটুন। তাদের ফেসটুনে লিখা ছিলো, শেখ হাসিনা যেখানে প্রতিরোধ সেখানে।
ঢাকার প্রায় সবগুলো মিডিয়া আগেই আভাস দিয়েছিলো প্রাধানমন্ত্রীর আগমনকে কেন্দ্র করে নিউইয়র্কে প্রবাসী আওয়ামীলীগ এবং বিএনপি সমর্থকরা মুখোমুখি হতে পারে। সেখানে ঘটতে পারে অপ্রিতিকর ঘটনা। এ খবর পত্রিকার পাতায় সবাই পড়েছে। আওয়ামীলীগ ও বিএনপির নেতা-নীতিনির্ধারক, প্রাশাসন, নির্বাচন কমিশনসহ সবাই। কিন্তু কেউ কোন কথা বলেনি। বরং নিরব সমর্থন যুগিয়েছে। অবশেষে যা হবার তাই হলো। জন এফ কেনেডি এয়ারপোর্টে আওয়ামীলীগ ও বিএনপির প্রবাসী সমর্থকরা তুমুল লড়াই করলো। ১০ জন প্রবাসী আহত হলো। গোটা বিশ্ব তাকিয়ে তাকিয়ে দেখলো আমাদের রাজনৈতিক সংস্কৃতি। আমাদের জঙ্গি আচরণ। এখন প্রশ্ন হলো এ লড়াইয়ে জিতলো কারা, আর হারলো কারা? আওয়ামীলীগ বলেছে, তারা জিতেছে। তাদের প্রতিরোধে বিএনপি জামায়াতের সমর্থকরা পালিয়েছে। একই ভাবে বিএনপি বলছে, তারাও জিতেছে। তাদের প্রতিরোধে আওয়ামীরা পালিয়েছে। তাহলে প্রকৃত অর্থে জিতলো কারা? আমি মনে করি আওয়ামীলীগ এবং বিএনপির দাবী ঠিক। এখানে তারাই জিতেছে। আর হেরেছে বাংলাদেশ । বাংলাদেশের এই হারের জন্য দায়ী কারা? কারা গ্রহণ করবে এর দায়ভার?
পত্রিকায় যখন এবিষয়ে সতর্ক করে খবর ছাপা হয়েছে তখন হাসিনা-খালেদারা সতর্ক হলেন না কেন? কেন তারা তাদের প্রবাসী সমর্থকদের সতর্ক করলেন না? কেন প্রধানমন্ত্রী তার সমর্থকদের এয়ারপোর্টে আসতে নিষেধ করলেন না? কি এমন ক্ষতি হতো ‘শুভেচ্ছা স্বাগতম’ শ্লোগান না শুনলে? তিনি তো প্রধানমন্ত্রী, আমরা তো বেশি দায়িত্বশীলতা তার কাছেই আশা করি। তিনি কেন আমাদের হতাস করলেন?
যারা জেএফকে’তে দাঙ্গা করলো, সেই সব প্রবাসীরা কিসের জোরে দেশের বাইরে রাজনীতি করে? তাদের দল কি প্রবাসে রাজনৈতিক শাখা করার অনুমোতি বা বৈধতা দিয়েছে? দেয়নি। ঢাকার নির্বাচন কমিশনে দলের নিবন্ধন করতে নীতিমালায় উল্লেখ করতে হয়েছে প্রবাসে তাদের কোন শাখা নেই। তাহলে এইসব নিউইয়র্ক শাখা, লন্ডন শাখা বা রোম শাখার মতো শাখা গুলোর ভিত্তি কি? এরা কি শাখার পরিবর্তে সখা হয়ে কাজ করছে?
প্রায়ই ঢাকার নেতারা বিদেশে এসে নিজ নিজ দলের ব্যানারে মিটিং করেন। সংবর্ধনা নেন। প্রধানমন্ত্রী, বিরোধীদলীয় নেত্রীসহ বাঘা বাঘা প্রায় সব নেতারাই আছেন এই কাফেলায়। সম্প্রতি ইতালি সফর করেছেন সংসদের ডেপুটি স্পিকার শওকত আলী এমপি ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডাঃ দিপু মনিসহ বেশ ক’জন সরকার দলীয় নেতা। তারা সবাই নিজ দলের ব্যানারে মিটিং করেছেন। সংবর্ধনা নিয়েছেন। সে খবর মিডিয়ায় প্রচারও হয়েছে। এসব নেতারা কি নির্বাচন কমিশনের আইন ভঙ্গ করেননি? নির্বাচন কমিশনের কমিশনাররা কি পত্রিকায় এসব খবর পড়েন না? নাকি জেগে জেগে ঘুমিয়ে আছেন তারাও!

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


