যে দেশে প্রবেশে ভিসা লাগে না
রোমের তাইবার নদীর তিরে অবস্থিত ভেটিকানের আয়তন আট বর্গ একর। অর্থাৎ ৪৪ হেক্টর। জনসংখ্যা ৭৫০ জন। যাদের মধ্যে ৪৫০ জন ভেটিকানের নাগরিক। অন্যরা বিভিন্ন প্রয়োজনে অস্থায়ী ভাবে বসবাসের অনুমোতি পেয়েছে। ভেটিকানের প্রবেশ দ্বার ৫টি। সবগুলো দ্বার ভেটিকান রক্ষী দ্বারা সুরক্ষিত। তবে ধর্মপিতা পোপের ব্যক্তিগত রক্ষিরা সুইস নাগরিক। তারা ট্রেডিশনাল পোষাক (মাইকেল এনজেলের ডিজাইনে তৈরী) শরীরের চাপিয়ে পোপের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে আসছে বহু আগে থেকে।
ক্যাথলিকদের তীর্থ কেন্দ্র ভেটিকান ৪র্থ শতাব্দী থেকে উনবিংশ শতাব্দী পর্যন্ত পোপীয় রাষ্ট্র হিসাবে পরিচালিত হতো। এটি সম্পূর্ণ স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসাবে প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯২৯ সালে ল্যাতেরান চুক্তির মাধ্যমে। এর পতাকা সোজা সুজি ভাবে দুই অংশে বিভক্ত। পতাকা দন্ডের পাশে হলুদ এবং অন্যাংশে সাদার মাঝে চাবি ও পোপের মুকুট অঙ্কিত। এখানে বসবাস, নাগরিকত্ব অর্জন বা হারান সমস্ত কিছুই পরিচালিত হয় ল্যাতেরান চুক্তির নিয়ম অনুযায়ী। তবে রাষ্ট্রপিতা হিসাবে পোপের হাতে সর্বময় ক্ষমতা তুলে দেয়া হয়েছে। তিনি এর সকল প্রকার আইন প্রনয়ন, কার্যকর এবং বিচার বিভাগীয় ক্ষমতা ভোগ করে থাকেন। পোপের পদ শূন্য হলে পরবর্তি পোপ নির্বাচন না হওয়া পর্যন্ত কার্ডিনাল পরিষদ সকল দ্বায়িত্ব পালন করে। ভেটিকানের গোটা এলাকা ১৯৫৪ সালের ১৪মে হাগ্ চুক্তির অধীনে সংরক্ষন করা হয়েছে। যেন যুদ্ধ হলেও এর ঐতিয্য ও সংস্কৃতি অক্ষুন্ন থাকে। ভেটিকানকে ১৯৭২ সালের ১৬ নভেম্বরে বিশ্ব সংস্কৃতি এবং ঐতিয্যের অন্তর্ভুক্ত করা হয় ইউনেস্ক চুক্তির মাধ্যমে।
ভেটিকান রাষ্ট্রের রয়েছে নিজস্ব টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থা, ডাক যোগাযোগ মাধ্যম, ব্যাংকিং পদ্ধতি, জ্যোতির্বিদ্যা বিষয়ক পর্যবেক্ষক দল, চিকিৎসা ব্যবস্থা, বেতার কেন্দ্র ও পোপের নিরাপত্তার জন্য সুইস নিরাপত্তা দল। এবং রাষ্ট্র হিসাবে ভেটিকান সব সময়েই আন্তর্জাতিক আইনের স্বীকৃতি পেয়ে আসছে। রাষ্ট্র হিসাবে বিশ্ব সংস্থাসমূহের সদস্য ভেটিকান। তারা আন্তর্জাতি চুক্তি ও সম্মেলনে যোগ দিয়ে থাকে। বর্তমানে বাংলাদেশসহ বিশ্বের ১৭১টিরও বেশী দেশের সাথে ভেটিকান কূটনৈতিক সম্পর্ক বজায়ে রেখেছে।
১৯৭২ সালের সেপ্টেম্বর মাসে বাংলাদেশ ও ভেটিকানের মধ্যে কূটনৈতিক চুক্তি সম্পাদিত হয়। এবং পরের বছরের ফেব্রুয়ারিতে ঢাকায় ভেটিকানের দূতাবাস স্থাপন করা হয়। সে সময়ের পোপ পৌল ষষ্ঠের প্রতিনিধি হয়ে প্রথম ঢাকায় আসেন আর্চবিশপ এডুয়ার্ড ইদ্রিস। তিনি ১৯৭৩ সাল থেকে ১৯৭৯ সাল পর্যন্ত ঢাকায় পোপীয় প্রতিনিধির দায়িত্ব পালন করেন। এর আগে সদ্যোজাত বাংলাদেশের প্রতি সমর্থন ও সহমর্মিতা দেখাতে ঢাকায় আসেন আর্চবিশপ উইলিয়াম ও হেনরি দা রিয়েদমার্টিন। বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের সময় থেকে এপর্যন্ত সব সময়ই ভেটিকান বাংলাদেশের প্রতি বন্ধুত্বপূর্ন মনোভাব দেখিয়ে এসেছে। বাংলাদেশও তার যোগ্য মর্যাদা দিতে কখনো কার্পন্য করেনি।
সর্বোচ্চ নিরাপত্তা মূলক সিকিউরিটি দরজা পেরিয়ে পা রাখলাম ভেটিকানের অন্দরে। মনে হলো গোটা ভবনটাই দেয়াল চিত্র আর মূর্তি দিয়ে মোড়া। এমনকি ছাদেও আর্টিষ্টদের অজস্র আঁকিবাকিঁ। সিস্টিন চ্যাপেল- মাইকেল আন্জেলোর চিত্র কর্ম দিয়ে টয়টুম্বর। এখানেই রয়েছে শিল্পীর বিখ্যাত সৃষ্টি “লাষ্ট জাজমেন্ট”। রাফায়েল কক্ষ, বর্জিয়া এপার্টমেন্ট যেদিকে চোখ যায় শুধু চিত্রকর্ম আর চিত্রকর্ম। সাথে মূর্তি। যেসব শিল্পীদের চেনাগেল তারা প্রায় সবাই রেঁনাসাসের যুগের বিখ্যাত। এরা হলেন, লিওনার্দো দা ভিন্সি, পেরুজিনো, লুকা, রোসেলি, বোতেচেলি, গারলেদিও ইত্যাদী।
সিস্টিন চ্যাপেলের ছাদ দেখতে গেলে ঘাড় ব্যাথা হয়ে যায়। এর উচ্চতা প্রায় ৫০ ফুট। এখানে ছবি তোলা এবং কথা বলা নিষেধ। মজার বেপার হচ্ছে সে সময় এতো ভারী এবং দীর্ঘ স্তম্ভের উপর কিভাবে স্থাপন করা হলো এই বিশাল কারুকাজ খচিত ছাদ সে প্রশ্ন মাথায় কিছুটা জট ধরাতে পারে! চ্যাপেলের পাশেই পোপের বাড়ী। সেখানে দেখা যাবে ক্লাউনের মতো পোষক পরে হাতে বর্ষা নিয়ে ঠায় দাড়িয়ে আছে প্রহরী। এরাই পোপের সুইস প্রহরী। এবং এই পোষাকই মাইকেল এনজেলের ডিজাইনে তৈরী। ভেটিকান যাদুঘরে রয়েছে ১ লাখ ৫০ হাজার অমূল্য পান্ডুলিপি। সাথে আরো ১০ লাখ ৬ হাজার বই।
একদম নিচে রয়েছে মৃত পোপদের কবর। সেখানে পাপা জোভান্নী পাওলো সেকন্দোসহ সাবেক সব পোপ এবং গুরুত্বপূর্ণ ধর্মনেতাদের কবর দেয়া হয়েছে। প্রত্যেক কবরের গায়ে মৃতব্যক্তির নামসহ তার সংক্ষিপ্ত জীবন লিখা আছে। এবং প্রত্যেক কবরের ওপর পাথর দিয়ে মৃতব্যক্তির অবয়ব তৈরী করা হয়েছে।
২৮৪টি পিলারের মাঝে পিয়াচ্ছা সান পিয়েত্র বা সেন্ট পিটার্স স্কয়ার অনেকটা ইলিপটিক্যাল আকৃতির। সবার জানা থাকা দরকার ভেটিকানে প্রবেশের জন্য কোন ভিসা দরকার হয়না। যেহেতু ইতালি হয়ে প্রবেশ করতে হয় সেহেতু ইতালির ভিসা থাকলেই চলে। এছাড়া ভেটিকানের অন্দরে প্রবেশের জন্যও কোন টিকেট প্রয়োজন হয় না।
ভেটিকান পেছনে ফেলে আসতে আসতে মাসুদ খান বললেন পৃথিবীর সেরা ৭ আশ্চর্যের অন্যতম আশ্চর্য স্থাপনা কোলসিয়াম আমাদের ফেরার পথেই পড়বে, দেখে গেলে কেমন হয়? বললাম, মন্দ না।
কোলসিয়ামে পৌছতে পৌছতে ঘড়ির কাঁটা বিকাল ৫টা ছাড়িয়ে গেল। ততক্ষনে ভেতরে ঢোকার ফটক বন্ধ হয়ে গেছে। অগত্যা কি আর করা? হাজার হাজার পর্যটকের ভিড় কেটে কেটে আমিও উপভোগ করলাম এর বাইরের সৌন্দর্য।
পলাশ রহমান
আসলে কেউ ফেরে না।
মৃতরা ফিরে আসে না।
ফিরে আসে তাদের ফেলে যাওয়া শূন্যতা,
চায়ের কাপের ধোঁয়া,
অধেক বলা কোনো কথা
অথবা হঠাৎ থেমে যাওয়া কোন সুর
যে প্রেম চলে গিয়েছিল,
সে আর কোনোদিন দরজায় কড়া নাড়ে না।
শুধু একদিন আয়নায়... ...বাকিটুকু পড়ুন
দ্য ড্রাগ কিং

সতর্কবার্তা: এটি একটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক ক্রাইম ফিকশন। বাস্তব একটি অপরাধের কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে পাঠকদের জন্য এর চরিত্র, নাম এবং স্থান পরিবর্তন করে গল্পটি সাজানো হয়েছে।
খুলনা... ...বাকিটুকু পড়ুন
সামুতে আবারও লিলিপুটিয়ানদের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে
আমার গত পোস্টে আলামিন১০৪ নামের এক ব্লগার মন্তব্য করেছেন যে - "এ আই দিয়ে হুমায়ূন আহমেদের মতো লেখা যায়।"
তিনি এ আই-কে প্রম্পট দিয়েছিলেন ' হুমায়ুন আহমেদের মতো গল্প লিখে... ...বাকিটুকু পড়ুন
ইজিবাইক চলাচলের প্রকৃত কর্তৃপক্ষ কে?

দেশের বিভিন্ন শহর ও গ্রামে ইজিবাইক নামে একটি যানবাহন চলাচল করে। কিন্তু এর পরিচালনা, লাইসেন্সিং এবং চলাচলের ক্ষেত্র সম্পর্কে সুস্পষ্ট ও সর্বজনবিদিত কোনো নীতিমালা সাধারণ মানুষের কাছে দৃশ্যমান নয়।
শহরের ভেতরে,... ...বাকিটুকু পড়ুন
মন কথনিকা-৪৮৭৩-৭৪
মন কথনিকা-৪৮৭৩
তোমার আমার মতামতে আকাশ পাতাল সীমা
আমার বুলি বরফ জলের তোমার যেন বোমা,
তুমি বলো রোদের তেজে আমি বর্ষার মতন
বুকের ভিতর বন্ধু বুঝি পাথর পুষো যতন।
মন কথনিকা-৪৮৭৪
পিঠে ব্যথা ভাল্লাগে না, মন... ...বাকিটুকু পড়ুন

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।