'সত্য মাত্রই সুন্দর' কথাটি কাজী নজরুলের। কাজী কবির কাছে আর্ট মানেই ছিলো সত্যের প্রকাশ। কবির শিল্প ছিলো সুন্দরের প্রহরী, সত্যের সেবক।
যেখানেই সত্য আক্রান্ত হয়েছে, অবমানিত হয়েছে, সমাজে হোক, রাষ্ট্রে হোক, জগতপরিমন্ডলে হোক, কাজী নজরুল ইসলাম এর বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছেন। কবিতার কাছে তার প্রথম ও শেষ অঙ্গিকার ছিলো সত্যের জন্যে লড়াই।
তার সত্যের শর্ত তৈরি হয়েছিলো মানবিকতায়। মনুষ্যত্ব, সাম্য, স্বাধীনতা ছিলো সেই সত্যের প্রাণ। সত্যের স্বার্থে তার দৃষ্টি উদ্ধত হয়, উলঙ্গ হয়, বাণী ক্ষুরধার হয় এবং বীণা তরবার হয় বলে এর বিপরীতে বস্তুগত ঐশ্বর্য পরিত্যাজ্য হয়েছিলো কবির কাছে।
অসঙ্কোচ প্রকাশের দূরন্ত সাহস যখন পাওয়া গেছে, তখন দরিদ্র তার দৃষ্টিতে কোনো সমস্যাই ছিলো না। বরং সত্যের শক্তিতে তিনি একে দেখেছিলেন কণ্টক মুকুট শোভা হিসেবে। খ্রীষ্টের সম্মান হিসেবে।
প্রয়োগবাদী বাস্তবতা আকর্ষিত করেছিলো তার সৃষ্টিকে আর দৃষ্টিকে রহস্যভেদী করেছিলো আত্মদর্শনের স্বচ্ছতা; এর সাথে যুক্ত ছিলো চরিত্রের অনমনীয় দৃঢ়তা ও আদর্শের প্রশ্নে শিলাসম প্রত্যয়।
অন্তরে তুমি আছো চিরদিন
ওগো অন্তর্যামী
বাইরে বৃথাই যত খুঁজি তাই
পাই না তোমারে আমি।
-----------------------
গাহি সাম্যের গান
মানুষের চেয়ে কিছু নাই, নহে কিছু মহীয়ান
মসজিদের পাশে এখানে চিরনিদ্রায় শায়িত কবি।
------------------------------

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



