"এই , তোমরা ডাক্তার রা যে দুই কলম উপদেশ খস খস করে লিখে দিয়ে রোগীর কাছ থেকে এতগুলো টাকা ভিজিট নিয়ে নাও , এটা কি উচিত ?"
হঠাত এই প্রশ্নে আমি একটু থমকালাম । এটা হচ্ছে পরিষ্কার তর্ক যুদ্ধের আহ্বান । কি করব কোমর বেঁধে নেমে পড়ব নাকি ডাঃ দের ভিজিট নেয়ার যৌক্তিকতা প্রতিষ্ঠায় । কিন্তু দুই ধরনের ব্যক্তির সাথে আমি তর্ক করিনা । ১নং গ্রুপ হল , যাকে অসম্ভব লাইক করি । আর দুই নম্বর হল যারে বেসম্ভব দেক্তারিনা ।
"না উচিত না , দুই কলম উপদেশ লিখে দিয়ে এত ভিজিট নেয়া একেবারেই উচিত না ।"
বলে বক্র হাসি হাসলাম । আমার এই মেনে নেওয়া টা কেমন জানি হয়ে গেল । প্রশ্নকারীরও লম্বা চওড়া বিতর্ক করার ইচ্ছা মাঠে মারা গেল ।উনি অপ্রস্তুত ভংগীতে হাসতে লাগলেন । আমার হাসিও প্রসারিত হল ।
আমি আপনাকে অনেক পছন্দ করি । তর্কে আমি জয়ী হলে , আর আপনি হেরে গেলে আমার একদম ভাল লাগবেনা । আমার এই হারমানাতেই আনন্দ ।
তাই আমি বলতে পারলাম না ,"এটুকু উপদেশ দেয়ার যোগ্যতা অর্জন করার জন্য কত সাধনা আর কত কষ্ট যে করা লাগে আল্লাহ ই ভাল জানে ।"
অবশ্য উপদেশ দেওয়া জগতের সবচেয়ে সহজ কাজ । সব্বাই উপদেশ দেয় আর দিতেই থাকে ।
আবার অনেক সময় যখন খুব উপদেশের দরকার , তখন উপদেশ না দিয়ে চুপ করে থাকলে বন্ধুত্ব নিয়ে প্রশ্ন তোলা যায় ।
একদিন এক ডাক্তার এলাকার চাচা মিয়াকে উপদেশ দিলেন , 'ধুম পান করবেন না ।
ফুসফুসের ক্যান্সার হবে ।"
ওদিকে ডাক্তার সাহেব নিজেই ধুমপান করেন । আর ও কিছুর অভ্যাস আছে কিনা কে জানে ।
এই চাচামিয়ার আবার মুখে লাগাম নাই । উনি বলে বসলেন , "বাবা আন্নেরে হে দিন দেখলাম রিকশায় বিড়ির ধুমা ঊড়াইতে উড়াইতে যাইতাছিলেন । বিড়ি খা্না এত খারাপ হইলে আন্নে বাদ দিতে হারেন না ক্যান ?'
" ধূর মিয়া আমার খাওয়া আমি খাই , আপ্নে খাইয়েন না ।"
কিন্তু এই কথা বললে হবে ? উপদেশ দেয়ার মধ্যেও সততা থাকা চাই । একটা জানা ঘটনা রিক্যাপ করি । হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) এর কাছে এক বাবা তার ছেলে কে নিয়ে এলেন ।
"হুজুর , আমার ছেলেটাকে একটু কম মিষ্ট খাওয়ার ঊপদেশ দিয়ে দেন । আপনি বললে শুনবে । সারাদিন শুধু মিষ্টি খেতে চায় ।"
হুজুর (সাঃ) উপদেশ টুকু দেয়ার জন্য ৩ দিন সময় চেয়ে নিলেন ।
তিন দিন পরে আবার বাবা তার ছেলে নিয়ে এল । মহানবী (সাঃ) বলে দিলেন , "সোনা মনি , আজ থেকে এত মিষ্টি খেওনা ।"
এই সাধারণ উপদেশ দেয়ার জন্য ৩ দিন সময় নেয়ার কারণ কি ? আপনি তখনি এটা বলে দিতে পারতেন ।
বাবা মনের মধ্যে এই প্রশ্ন চেপে না রাখতে পেরে করেই ফেললেন ।হুজুর প্রশ্ন শুনে হাসলেন । তার পর যে উত্তর দিলেন তার মর্মাথ হল আমি নিজেই মিষ্টি অনেক পছন্দ করি । একটু বেশী মিষ্টি খাই । তাই যে কাজ নিজে করি তা কিভাবে অন্যকে করতে মানা করি । তিন দিন সময়ে আমি মিষ্টি খাওয়া কমিয়ে দিলাম । এখন উপদেশটি দেয়া গেল।
তাই নিজে বিড়ি খেয়ে অন্যকে ধুমপান থেকে বিরত থাকার উপদেশ কি দেয়া যায় ?
নিজে মিথ্যা কথা বলে অন্যকে সত্যবাদী হওয়ার উপদেশ ?
তাহলে কুরআন খোলা যাক ; সুরা ছোয়াফ ,২ও ৩ নং আয়াতে আছে ," হে মুমিনগন ! তোমরা এমন সব কথা কেন বল যা তোমরা (নিজেরা) কর না ।
আল্লাহর কাছে এটা অত্যন্ত ঘৃণিত ব্যাপার যে তোমাদের এমন কথা বলা যা তোমরা নিজেরা কর না ।।"
তাই আল্লাহর কাছে প্রার্থনা , আল্লাহ যেন আমাদের ক্ষমা করেন আমদের সবগুলো ভুল । আমরা যেন এই ধরনের ভুলে যেন না পড়ি । উপদেশ দেয়ার আগে যেন , নিজেকে শুধরে নিতে পারি ।
" হে আমাদের রব ! হিদায়েত দানের পর আমদের অন্তরকে বাঁকা করবেন না ; আপনার পক্ষ থেকে আমাদের প্রতি রহমত বর্ষণ করুণ ; আপনি ই তো দাতা । "( ৮/ সুরা ইমরান) আমিন ।
কৃতজ্ঞতা স্বীকার :
ডাঃ যাবের এলাহী
ব্লগার নীল দর্পন
ব্লগার ভারসাম্য
ব্লগার ইমন যুবায়ের (প্রয়াত)
সর্বশেষ এডিট : ২৮ শে মে, ২০১৩ সন্ধ্যা ৬:২২

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



