বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুলের একটি গান আছে, 'আমি যার নুপুরের ছন্দ বেনুকার সুর কে সেই সুন্দর কে?....' এখানে সুন্দর শব্দটিতে একটু গোলমাল আছে। নুপুর পড়ে মেয়েরা। তাই সহজে বোঝা যায় গান িট গাওয়া হয়েছে কোন মেয়ের উদ্দেশ্যে। তাই যদি হয় তবে শব্দটি হবে 'সুন্দরী', 'সুন্দর' না। িকভাবে 'সুন্দরী' 'সুন্দর' হল তার শানে নুযুল-
কবি কাজী নজরূল ইসলাম তখন তরুণ।
উড়ু উড়ু মন তার,
ছুটে রূপ যার
আছে তার
দিকে।
এরকমই রোমান্টিক জীবনের উন্মেষ পর্বে তিনি অল্প কিছুদিন কলকাতার একটি ফ্ল্যাটে ছিলেন। সেই ফ্ল্যাটে ছিল একটা ব্যালকনি। সেই ব্যালকনিটা ছিল কবির বিশেষ প্রিয়। তার বিশেষ কারনও ছিল। পাশের ফ্ল্যাটের ব্যালকনিতে মাঝেমধ্যে এক রূপসী কিশোরীকে দেখা যেত। তাকে নিয়মিত দেখা যেত খুব সকালে হাত পা সাধতে আই মিন নাচতে। ওটাই ছিল তার প্রধান আকর্ষণ। প্রতিদিন ভোরে কিশোরী যখন নাচত তিনি ব্যালকনিতে গিয়ে তাকিয়ে দেখতেন। কিশোরীও তার দেখা উপভোগ করত। এভাবে চোখা চোখির মাধ্যমে কোন কথা ছাড়াই তাদের প্রেমের অনেক পাতা পড়া হয়ে গেল। আর তার হাত দিয়ে বেরুতে লাগল মধুবর্ষী রোমান্টিক কবিতা আর গান। একদিন রাতে সিনেমা দেখার কারনে ভোরে উঠতে পারেন নি। ওদিকে কিশোরী কবিকে না দেখে অল্প স্বল্প নেচে ভেতরে চলে গেল । করির হাতে ঘড়ি না থাকায় বোঝতে পারেন নি কিশোরীর নাচের সময় পেরিয়ে গেছে। কয়েকদিন আগে ঘড়িটা খুইয়ে এসেছেন এক রেস্তোরায়। অন্য এক কিশোরীকে নিয়ে গিয়েছিলেন, বিল দেয়ার সময় দেখেন পকেটে টাকা নেই। তাই ঘড়ি দিয়ে ইজ্জত রক্ষা।
তিনি ব্যালকনিতে গিয়ে কিশোরীকে দেখতে পেলেন না। কিছুক্ষণ তার জন্য অপেক্ষা করে গান ধরলেন। আমি যার নুপুরের ছন্দ, বেনুকার সুর কে সেই সুন্দরী কে? কে সেই সুন্দরী কে? গাইতে গাইতে তন্ময় হয়ে চোখ বন্ধ করলেন। চোখ বন্ধ করেই গাইতে লাগলেন। গান শেষে চোখ খুললেন, তরুনী এসেছে কিনা। চোখ খুলেই তিনি স্তব্ধ, চোখ না খুললেই ভাল ছিল। তিনি সাথে সাথে চোখ বন্ধ করে ফেললেন। কিশোরীর ভীম দর্শণ পিতা সেখানে দাড়িয়ে। িপতা কবিকে জিজ্ঞেস করলেন কবিতাটিকি তার কন্যাকে উদ্দেশ্য করে গাওয়া হয়েছে? কবি অস্বীকার করলেও তিনি বিশ্বাস করলেন না। কবি ব্যাক্ষা করলেন যে গানটি একজন পুরুষ নৃত্যশিল্পির উদ্দেশ্যে কোন মেয়ের অবস্থান থেকে গাওয়া হচ্ছে। এখানে বলা হচ্ছে কে সেই পুরুষ, কে সেই সুন্দর, আমি যার নুপুরের ছন্দ। কিশোরীর পিতা বললেন, 'তুমি তো সুন্দর বল নি। বলেছ সুন্দরী।'
"না আংকল, আপনি ভুল শুনেছেন। আমি সুন্দর বলেছি।" কবি জবাব দিয়ে নিজেকে উদ্ধার করার চেষ্টা করলেন।
"ঠিক আছে, আর কখনো ব্যালকনিতে গান গাইবে না।"
"জি, আচ্ছা"
পরবর্তীতে কবি আর গানটি শুদ্ধ করেন নি। এভাবেই রয়ে গেল, ' আমি যার নুপুরের ছন্দ বেনুকার সুর কে সেই সুন্দর, কে?....' পাছে আবার ওই লোকে যদি ধরেন।
সর্বশেষ এডিট : ১৭ ই নভেম্বর, ২০০৮ সন্ধ্যা ৭:১৮

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


