আমার প্রিয় পোস্ট

গণতন্ত্র হল এমন এক অস্তিত্বহীন মদ, যাতে সবাই মাতাল, কিন্তু কেউ কখনো পান করে নি।

সেই দক্ষিণ আফ্রিকা এই দক্ষিণ আফ্রিকা: দুর্বল ব্যবস্থাপনা আর বর্ণবাদের সাদা-কালো ছায়ায় ক্রিকেট

৩০ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৯ রাত ১২:৫৬

শেয়ারঃ
0 0 0

নব্বইর দশকের দ্বিতিয়ার্ধ, দক্ষিণ আফৃকার খেলা দেখাটাই ছিল এক রোমান্ঞ। কার্স্টেন, ক্রনিয়ে, ক্যালিস, রোডস, ক্লুজনারদের বিধ্বংসী ব্যাটিং, ডোনাল্ড পোলকদের প্রতিপক্ষের ব্যাটসম্যানদের ছিড়ে-কুড়ে খাওয়া, আর ভুবনভুলানো ফিল্ডিং। বিশাল ফারাক সেই ক্রনিয়ের দক্ষিণ আফৃকা আর এই স্মিথের দক্ষিণ আফৃকার। শুধু ফিল্ডিংটাই আছে আর সবকিছুতে ছায়া। চলতি আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে স্বাগতিক দাক্ষিণ আফৃকা ২০০৩এর বিশ্বকাপের মত প্রথম রাউন্ডেই বাদ পড়ে গেল। পরাজিত হল ইংল্যান্ডের কাছ, যার বিরুদ্ধে গত এগার বছরে কোন টুর্নামেন্টে পরাজয় নেই, হারল শ্রীলংকার কাছে, যা চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির ইতিহাসে প্রথম। গত আট বছরে দক্ষিন আফৃকার নেই কোন টুর্নামেন্ট শিরোপা, সর্বশেষ শন পোলকের নের্তৃত্বে সিংগাপুরে ত্রিদেশীয় টুর্নামেন্ট জিতেছিল। আর স্মিথের যুগ পুরোটাই খরা। কেন এমন হচ্ছে?
এমন একটা সময় ছিল যখন দলে বোলার থাকত একজন (ডোনাল্ড) আর অল-রাউন্ডার থাকত অন্তত পাঁচজন (ক্যালিস, ক্রনিয়ে, ক্লুজনার, পোলক, সিমকক্স/বোয়ে)। অর্থাৎ দশজন ব্যাটসম্যান, কখনো একজন স্পিনারও থাকত না, তবু দক্ষিণ আফৃকার ছিল বিশ্ব সেরা বোলিং শক্তি। ক্যালিস আর এ্যালবির অবসরের পর আর সেখানে হয়তো বিশ্বমানের কোন অলরাউন্ডার থাকবে না, তাদের বোলারদের এখন প্রায়ই খাবি খেতে দেখা যায়। স্মিথ, গিবস, ক্যালিস আর ডি ভিলিয়ার্স এই চারজন আউট হলেই বলে দেয়া যায় অলআউট। কেন এমন হচ্ছে?
কারনটি খুব কঠিন নয়, আর এ নিয়ে কথাও কম হয় নি। এক সময় ওমর হেনরীদের যে দলে যায়গা পেতে সংগ্রাম করতে হতো, সেই দলে যায়গা না পেয়ে কেভিন পিটারসেন আর জ্যাক রুডলফদের দেশ ছাড়তে হয়, আর জাস্টিন ওনটংয়ের মত মানহীন ক্রিকেটার সেই জাতীয় দলে খেলে। বর্ণবাদের কারনে দক্ষিণ আফৃকা দীর্ঘদিন আন্তর্জাতিক কৃকেটের বাইরে ছিল। নিষেধাজ্ঞার যুগ পেরিয়ে তারা ফিরে আসে আফৃকান সিংহের মত। কিন্তু বর্ণবাদ চলে যায় নি তখনো, অস্বেতাঙ্গ ক্রিকেটারদের দলে যায়গা পাওয়া খুব কঠিন ছিল। দক্ষিণ আফৃকার প্রথম অস্বেতাঙ্গ ক্রিকেটার ওমর হেনরীকে অপমানিত হতে হয়েছিল বারবার। আর এখন দলে বেশ ক’জন অস্বেতাঙ্গ কৃকেটার খেলছেন, এদের দু-একজনের যোগ্যতা নিয়ে কোন প্রশ্ন নেই। দলে স্বেতাঙ্গ, অস্বেতাঙ্গ ক্রিকেটাররা একসাথে খেলছেন। বর্ণ এখনো বাদ হয়ে যায় নি, শুধু বর্ণ পাল্টেছে। বিগ ফাইভের দেশ দক্ষিণ আফৃকার টেনিস খেলোয়াড়রা বিশ্ব পর্যায়ে খেলে থাকেন, ফুটবল, হকি, রাগবি ও কৃকেটে তারা খেলেছে বিশ্বকাপ। সেখানে রাগবী খেলে থাকে স্বেতাঙ্গরা, তাই জাতীয় দলের সব খেলোয়ার স্বেতাঙ্গ, হকিতেও তাই, কৃষ্ঞাঙ্গদের মধ্যে ফুটবলে জনপ্রিয়তা বেশি, ফুটবল দলের এগার জনের নয় জনই কৃষ্ঞাঙ্গ। কৃকেট ছাড়া বাকি খেলাগুলোতে নেই কোন কোটা, নেই বর্ণবাদ, সেগুলোতে যোগ্যতার ভিত্তিতে খেলোয়াড়রা সুযোগ পায়। অদ্ভুত কারনে কৃষ্ঞাঙ্গদের একরকম জোড় করে কৃকেটার বানিয়ে দেয়া হচ্ছে। একসময় কৃকেটে কৃষ্ঞাঙ্গদের জন্য কোন কোটা ছিল না। প্রথমে কৃষ্ঞাঙ্গদের জন্য তিনটি পরে বাড়িয়ে পাঁচটি করা হয়। এর ফলে অপেক্ষাকৃত যোগ্য খেলোয়াড় বাদ পড়ে যাচ্ছে, কম যোগ্য খেলোয়াড় দলে ঢুকে যাচ্ছে। এবং দলটি দুর্বল হয়ে যাচ্ছে। এমন কোটা পদ্ধতি কৃষ্ঞাঙ্গদের জন্যে উপকারী হচ্ছে তা নয়। যথেষ্ট যোগ্যতা অর্জনের আগেই তারা দলে ঢুকে যাচ্ছে, এটা দীর্ঘমেয়াদে ভাল ফল দেবে না। আর কোন জাতীয় দলে এমন কোটা থাকাটাইতো অদ্ভুত।
দক্ষিণ আফৃকার বর্তমান ক্রিকেট ব্যবস্থাপনার কাজকারবারও অদ্ভুত। এরা কৃকেটারদের নিয়ে অনেক অপ্রয়োজনীয়রকম পরীক্ষা নীরিক্ষ আর বিলাসিতা করে। এর চরম শিকার ল্যান্স ক্লুজনার। ক্লুজনার হচ্ছেন এমন এক ব্যাটসম্যান যিনি এক হতে এগার নাম্বার পর্যন্ত যে কোন পজিশনে খেলতে সক্ষম। তাই বলে সবসময় সাত নাম্বারে, যার ওপেনিঙে সেন্ঞুরী আছে। এবং ফর্মে থাকা অবস্থায় অসময়ে তাকে চুড়ান্তু ভাবে বাদ দেয়া হল। শেন ওয়ার্ন তার আত্মজীবনীতে ক্লুজনারকে সাত নাম্বারে খেলানোর ব্যাপারে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন। গিবসকে বার বার দল থেকে বাদ দেয়া, ওপেনিং থেকে ওয়ান ডাউনে নামিয়ে দেয়া। হাশিম আমলা যিনি টেস্টে ওয়ান ডাউনে খেলেন তাকে ওয়ানডেতে ওপেনিং করানো, ক্যালিসকে ফর্মে থাকা অবস্থায় অযৌক্তিক ভাবে বাদ দেয়া, মাঝে একবার বাউচারকে বাদ দেয়ার ষড়যন্ত্র হয়েছিল, তার বদলে আনা হয়েছিল নরবড়ে কীপার শোলেকিলে কে, এমন অসংখ্য উদাহরন আছে।

এবার দেখা যাক ১৯৯৯ সালের বিশ্বকাপ দলের সাথে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির দলের তুলনামূলক বিশ্লেষণ:
১৯৯৯ সালের দল: ১. গ্যারী কার্স্টেন, ২. হার্সেল গিবস, ৩. ড্যারিল কালিনান, ৪. হ্যান্সি ক্রনিয়ে, ৫. জ্যাক ক্যালিস ৬. জন্টি রোডস, ৭. ল্যান্স ক্লুজনার, ৮. শন পোলক, ৯. মার্ক বাউচার, ১০. স্টিভ এলওয়ার্দি/ নিকি বোয়ে, ১১. এলান ডোনাল্ড। দলে উইকেট কীপার সহ পাচঁজন ব্যাটসম্যান (১, ২, ৩, ৬, ৯), চারজনজন অলরাউন্ডার (৪, ৫, ৭, ৮, বোয়ে খেললে পাঁচজন), একজন বা দুইজন বোলার (১০, ১১)। একমাত্র স্পিনার বোয়ে সব ম্যাচে খেলতেন না। বোয়ের আগে স্পিনার প্যাট সিমকক্স ছিলেন নিয়মিত সদস্য।
বর্তমান দল: ১. গ্রায়েম স্মিথ ২. হার্সেল গিবস, ৩. জ্যাক ক্যালিস ৪. ডুমিনি, ৫. আব্রাহাম ডি ভিলিয়ার্স, ৬. বাউচার, ৭. এ্যালবি মর্কেল, ৮. জোহান বোথা, ৯. মারউই, ১০. পার্নেল, ১১. ডেল স্টেইন।
পজিশন ১. গ্যারী কার্স্টেন নিষেধাজ্ঞাপরবর্তীকালের সেরা ব্যাটসম্যান। বর্তমান দলের বামহাতী ওপেনার স্মিথ বামহাতী কার্স্টেনের যোগ্য রিপ্লেসমেন্ট।
২. ওপেনিঙে আদি অক্ষত গিবস এখনো, শুধু পয়েন্টে জন্টির অভাব বোঝতে দিচ্ছেন না।
৩.ওয়ান ডাউনে ড্যারিল কালিনানের যায়গায় এখন ক্যালিস। ডি ভিলিয়ার্স কে যোগ্য রিপ্লেসমেন্ট বলা যায়। সেই ক্যালিস আর এই ক্যালিসের মধ্যে কিছুটা পার্থক্য আছে, সে ছিল নিখাদ অলরাউন্ডার, আর এই ক্যালিস অনেক ভাল ব্যাটসম্যান কিন্তু বোলিঙের মান আগের চেয়ে অনেক নিচে। একসময় তিনি বোলার র্যা ঙ্কেও টপ টেনে থাকতেন।
৪. ক্রনিয়ে: রিপ্লেসমেন্ট নাই। তার বিদায়ের পর দলে আর মান সম্মত পাচঁজন অলরাউন্ডার দেখা যায় নি। ঘুষ খাওয়ার পরও ক্রনিয়ে ক্রনিয়েই, অধিনায়কত্ব কাকে বলে দেখিয়ে গেছেন। এই পজিশনে ডুমিনি মোটেও রিপ্লেসমেন্ট নন, কোটা পূরণের খেলোয়াড়, ৫০ ম্যাচে যার ১৪ উইকেট তাকে অলরাউন্ডার বলা যায়!?
৫. ক্যালিস চলে গেছেন তিন নাম্বারে, তার যায়গায় ডি ভিলিয়ার্স, মাঝে মাঝে পজিশন বিনিময় হয়।
৬. আগে এই পাজিশনে খেলতেন রোডস, নিচে থেকে উঠে এসেছেন উইকেট কীপার বাউচার।
৭. ক্লুজনারের রিপ্লেসমেন্ট খুজে লাভ নেই, অবশ্য এই পজিশনে এ্যালবি মর্কেলের মধ্যে ল্যান্স ক্লুজনারকে মাঝে মাঝে খুজে পাওয়া যায়, ওয়ানডেতে স্ট্রাইকরেট ১০১। তবে ক্লুজনারের মত অলরাউন্ডার সারা বিশ্বেই বিরল।
৮. শন পোলকের যায়গায় জোহান বোথা, কামানের যায়গায় গদা বন্দুক। ডুমিনি আর বোথা, দুজনেই স্পিনার, আর দুজনেই নাকি অলরাউন্ডার, পরিসংখ্যান বলে ভিন্ন কথা। এদের কেউই স্পেশালিস্ট স্পিনার নন, সম্ভবনাময় স্পিনার পল হ্যারিসকে ওয়ানডেতে নেয়া হচ্ছে না।
৯. উপরের দিকে অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যান কমে যাওয়াতে মার্ক বাউচারের ব্যাটিং পজিশন ধীরে ধীরে উপরে উঠে গেছে, যদিও তার নাইট ওয়াচম্যান হিসেবে ওয়ানডাউনে ব্যাটিঙের অভিজ্ঞতা আছে। এই যায়গাতে খেলছেন রোয়েলফ মারউই, তার পরিসংখ্যান দেখে বোঝার উপায় নেই দলে তার দ্বায়িত্বটা কি! প্রথম শ্রেনীর ম্যাচ খেলেছেন মাত্র ১৪টি, তারপরই জাতীয় দলে।
১০. ৯৯’র বিশ্বকাপে এই পজিশনে খেলতেন স্টিভ এলওয়ার্দি। দলের দ্বিতীয় পেজ বোলার। বিশ্বকাপে সফল তবে বেশিদিন জাতীয় দলে খেলেন নি। কোন কোন ম্যাচে তাকে বসিয়ে নিকি বোয়েকে নেয়া হতো। তখন ব্যাটসম্যানের সংখ্যা গিয়ে দাড়াতো দশে। নিকি বোয়ে দক্ষিণ এশীয় মানের স্পিনার নন ঠিকই তবে দ. আফৃকার জন্য চলনসই ছিলেন। এখন এইখানে খেলছেন পেজ বোলার পার্নেল, সম্ভবনাময় উঠতি খেলোয়াড়। এই পজিশনের জন্য দলের বাইরে বসে লড়াই করছেন, এন্টিনি, ল্যাঙ্গভেল্ট, মর্ন মর্কেল। এই তিনজনের কারো যোগ্যতা নিয়েই প্রশ্ন নেই, এন্টিনি দলকে দীর্ঘদিন সেবা দিয়েছেন।
১১. ডেল স্টেইন এলান ডোনাল্ডের যোগ্য রিপ্লেসেমেন্ট তবে ডোনাল্ডের পর্যায়ে যেতে অনেক পথ।
দক্ষিণ আফ্রিকার দল বাছাইয়ে পরিকল্পনাহীনতা স্পস্ট, এ নিয়ে ব্যবস্থাপনার সাথে একাধিকবার অধিনায়ক স্মিথের দ্বন্দ দেখা গেছে। আর অস্ট্রেলিয়ানরা প্রায়ই এ নিয়ে বিস্ময় প্রকাশ করে থাকে। প্রশ্ন আসতে পারে দ. আফৃকা এরপরও ওয়ানডে র্যা ঙ্কিয়ে শীর্ষে ছিল, খুব সম্প্রতি শীর্ষ অবস্থান হারিয়েছে। এর কারন দুই দেশীয় সিরিজগুলোতে ভাল করে। কিন্তু প্রতিযোগীতামূলক টুর্নামেন্টগুলোতে দক্ষিণ আফৃকার পার্ফমেন্স খারাপ। সবশেষে শুধু বলতে পারি তাদের আগের খেলা খুব মিস করি। আর একজনকে স্মরণ না করলেই নয় তিনি টোটাল কৃকেটের জনক বব উলমার, শক্তিশালী দ. আফৃকা দল তারই সৃষ্টি।

 

লেখাটির বিষয়বস্তু(ট্যাগ/কি-ওয়ার্ড): ক্রিকেটদক্ষিণ আফৃকাখেলাক্রিকেটদক্ষিণ আফ্রিকাখেলা ;
সর্বশেষ এডিট : ৩০ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৯ বিকাল ৩:০৫ | বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...

 

১. ৩০ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৯ রাত ১:১৮
অজানা এক পথিক বলেছেন: আসলেই আগের টিমটা আসাধারণ ছিল। ৯৯ এর বিশ্বকাপ এর সেমিফাইনাল হারার পর খুবই কষ্ট পেয়েছিলাম। ডোনাল্ড, ক্রনিয়ে, ক্লুজনার, রোডস, কার্স্টেন এদের খেলা অন্যরকম ছিল।
৩০ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৯ রাত ২:০৩

লেখক বলেছেন: ফুললি ব্যালান্সড দল। পরীক্ষা-নিরীক্ষ, কোটা পদ্ধতি দলটাকে ছ্যাড়া ব্যাড়া করে দিয়েছে। তাদের খেলা দেখাটা ছিল স্কুল পালিয়ে সিনেমা দেখার মত। অন্যরকম ছিল সত্যি অনরকম, একশতআশি রানে অল আউট হয়ে প্রতিপক্ষকে ১১০ রানে আটকে দিত। শেষ বল পর্যন্ত আশা ছাড়ত না।

২. ৩০ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৯ রাত ১:২১
অ্যামাটার বলেছেন: আপনি দেখি দক্ষিন আফ্রিকা দল নিয়ে মোটামুটি একটা গবেষণা পত্র দাঁড় করিয়ে ফেলেছেন!
আসলেও, এটা কাকতালীয় কি-না জানিনা, দলটা সবসময়ই ট্রাজেডি'র শিকার। এবার অবশ্য পেরে ওঠেনি। অথচ হ্যান্সি ক্রনিয়ে'র সময় প্রায় অজেয়-অপ্রতিরোধ্য একটা দল ছিল।
সবচেয়ে খারাপ লাগে জিম্বাবুয়ের অবস্থা দেখে। খালি চোখে রাজনীতি হলেও পরোক্ষ ভাবে বর্ণবাদ কিভাবে একটা উদীয়মান ক্রিকেট শক্তিকে ধ্বংস করে দিল।
এ'দিক থেকে অবশ্য বাংলাদেশের ক্রিকেট ভাগ্যবানঃ)
৩০ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৯ সকাল ৯:৫১

লেখক বলেছেন: তাদের ভাগ্যটা আসলেই এক ধাধা ফুটবলের নেদারল্যানেডর মত, ৯১'র সেমিফাইনাল দেখি নি তবে পড়েছি। নেদারল্যান্ড টোটাল ফুটবল আর দ. আফৃকা টোটাল ক্রিকেটের জনক।

হ্যা, জিম্বাবুয়ের তুলনায় আমরা অনেক সৌভাগ্যবান। তবে আমাদের দলের নির্বচকদের কাজে মাঝে মাঝে লাল পানির প্রভাব দেখা যায়।

৩০ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৯ সকাল ১০:০৮

লেখক বলেছেন: ওয়ানডেতে: ৩০৩ ম্যাচ, ২০৫ ইনিংস, ৩৫১৯ রান, ২৬.৪৫ গড়, ১ শতক, ১৪ অর্ধ শতক, ৬ হতে ৮ নং পজিশনে ব্যাট করা খেলোয়াড়ের জন্য যথেষ্ট ভাল।
৩৯৩ উইকেট, ইকনমি রেট ৩.৬৭ (ওয়ানডেতে!!), ৫বার ৫ উইকেট।

৪. ৩০ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৯ রাত ১:৫১
ডিজিটাল কলম বলেছেন: একসময়(১৯৯৬-২০০৩) রাত জেগে ৩০০+৩০০ বল দেখতাম।এখন মাঝে মাঝে খোজ খবর নেই কে কি করলো।তবে এর মাঝেও বাংলাদেশ আর দক্ষিন আফ্রিকার খেলার খবর নিয়মিত রাখি।

দক্ষিন আফ্রিকার আগের খেলা মিস করি। ১৯৯৬ এ ওদের খেলা দেখেইতো ক্রিকেটটা বুঝতে শিখেছিলাম।তখন থেকেই ডাই হার্ট ফ্যান।

*পোষ্টে +++++
৩০ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৯ সকাল ১০:০০

লেখক বলেছেন: আমিও বছরখানেক যাবত নিয়মিত খেলা দেখতে পারি নি, আগে যেমন দেখতাম প্রথম বল থেকে শেষ বল। দীঘদিন পর চ্যম্পিয়ন্স ট্রফিতে দ. আফ্রিকার খেলা দেখে চরম হতাশা হতে যা উপলব্ধি করলাম তা এই পোস্ট। চ্যম্পিয়ন্স ট্রফির মাদার টুর্নামেন্টের কথা মনে আছে, যেটি ঢাকায় হয়েছিল, নাম ছিল মিনি বিশ্বকাপ? ওটা কিন্তু পুরো শক্তির দ. আফৃকা ছিল না, তারপরও চ্যম্পিয়ন।

৫. ৩০ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৯ রাত ২:০১
শিবলী বলেছেন: Ami South Africa er fan. khub kosto lage :(

apnar post ta valo hoise, jodi SA eirokm khelto :(
৩০ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৯ সকাল ১০:৩২

লেখক বলেছেন: আপনাকে ধন্যবাদ। কিন্তু এমন খেলতে যেসব খেলোয়াড় লাগে তা পাবে কই?

৬. ৩০ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৯ রাত ২:৩৮
মোসতফা মনির সৌরভ বলেছেন: সেই ৯২ এর বিশ্বকাপ থেকে দক্ষিণ আফ্রিকা'র চরম ভক্ত। এখনও যেমন মনে করি - হ্যানসি ক্রনিয়ে'র মত অধিনায়ক আর নেই। গ্যারি কারস্টেন আর হার্শেল গিবস এর মত ব্যাটসম্যান প্রতি দশকে জন্মায় না।

৯৯ এর বিশ্বকাপ, আহ!এত কিছু মনে হচ্ছে। সম্ভবত টানা ৪/৫ ম্যাচ লান্স ক্লুজনার অপরাজিত ছিল। লান্স ক্লুজনার - নিরানব্বই প্রাণের জুলু যোদ্ধা - আমার দেখা সেরা পারফেক্ট অলরাউন্ডার। কি বোলিং, কি ব্যাটিং, কি ফিল্ডিং... ভয় ডর কিছু নাই। বলটা যেন বানানোই হয়েছে মারার জন্য।

তবে নিয়তির কি পরিহাস, এই পারফেক্ট খেলোয়াড়টাই একটা রান নিতে পারল না!!!!!! অবশ্য ঐ বিশ্বকাপের আমার কাছে চ্যাম্পিয়ন - দক্ষিণ আফ্রিকা ই ।

জন্টি রোডস- হাজার খুঁজলেও আর একটা পাবেন না। ফিল্ডিং ও যে একটা শিল্প বোঝা যেত জন্টিকে দেখে।

ঐ দলটার একটা জিনিস দুর্দান্ত লাগত - তা হল ৯/১০ পর্যন্ত অলরাউন্ডার।

আপনার বিশ্লেষণটা ভাল লাগল, আর পুরানো স্মৃতি মনে করানোর জন্য প্রিয় পোস্ট।

৩০ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৯ সকাল ১১:০২

লেখক বলেছেন: আপনার বিশ্লেষণটাও ভাল লাগল, ধন্যবাদ। ল্যান্স ক্লুজনার একটানা ৪০০ শতাধিক রান পর্যন্ত অপরাজিত ছিলেন, ভেঙেছিলেরন মিয়াদাদের রেকর্ড। ১৭১ ম্যাচ, ১৩৭ ইনিঙসে ৩৫৭৬ রান, ৪১.১০ গড়, ১৯২ উইকেট, ছয়বার পাচ উইকেট, সেরা ৬/৪৯। সেই বিশ্বকাপে তার গড় ছিল দুই শতাধিক।
শেষ বল না দেখে হার মানা দলটির সেই মানসিকতা এখন আর নেই। এটা ছিল ক্রনিয়ের অবদান, তিনি নিজে যাই খেলতেন অন্যের কাছ থেকে খেলা বের করে আনতে পারতেন। আর একজনের কথা না বললেই নয় তিনি কোচ বব উলমার।

৭. ৩০ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৯ রাত ২:৪৮
ঈশান৭২৮৫ বলেছেন: এটা সাউথ আফ্রিকার দূর্ভাগ্য যে ১৯৯৯ এর বিশ্বকাপ তারা পায়নি। ক্লুসনারের সেই বিশ্বকাপের পারফরম্যান্স ক্রিকেটপ্রেমীরা ভুলতে পারবে না। তবে জন্টি রোডসের বিকল্প সারা বিশ্বেই খুজে পাওয়া সম্ভব না। এই রকম দারুন ফিল্ডার আর একজনও নেই ছিলও না।
৩০ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৯ দুপুর ২:৫৭

লেখক বলেছেন: ১৯৯১, ১৯৯৯ আর ২০০৩ এই তিনটি বিশ্বকাপেই দুর্ভাগ্য তাদের বন্ঞিত করেছে। ৯১তে দুই ওভার বাকি লাগবে ২১ রান, নামল বৃষ্টি, বৃষ্টি থামার পর বলা হল ১ বল আছে। কি অদ্ভুত নিয়ম। নিরানব্বইতে না হেরেই বিদায়। ২০০৩ তিনেও তাই, টাই করে না হেরেও বিদায়, পোলক হিসাবে ভুল করেছিলেন।

জন্টির পূর্বে কারো ধারণা ছিলনা যে ফিল্ডিং দিয়েও ম্যাচ জেতা যায়। তখন শুধু ব্যাটিং আর বোলিংকে গুরুত্ব দেয়া হত। ২২০ ইনিংসে তার ১০৫টা ক্যাচ।

৮. ৩০ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৯ দুপুর ১২:০৩
অজানা এক পথিক বলেছেন: ৯৯ এর বিশ্বকাপ সেমিফাইনালে আম্পায়ারদের ৩ টা ভুল সিদ্ধ্বান্ত ছিল হারা মূল কারণ। ৯২ এর বিশ্বকাপ দেখিনি তখন বুঝতাম না। তবে যখন থেকে খেলা বুঝতে শিখেছি তখন থেক দুটা টিমের খেলা অসাধারণ লাগত একটা ক্রনিয়ের দক্ষিণ আফ্রিকা আর রানাতুনগার শ্রীলঙ্কা। দুটা টিমের কোনটাই আর আগের মত নেই। এখনও বাংলাদেশ এর পর দক্ষিণ আফ্রিকাই ফেভারিট
৩০ শে নভেম্বর, ২০০৯ রাত ৮:৫৯

লেখক বলেছেন: যাক দক্ষিন আফৃকার কিছু সমর্থক পেলাম, আমাদের দেশে দক্ষিণ আফৃকার সমর্থক কম তাই ভাল লাগল। আমি বাংলাদেশের পর দক্ষিন আফৃকাকে সমর্থন করি।

৯. ২২ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১০ রাত ৯:২৪
রাজীব বলেছেন: ৯৯ এর বিশ্বকাপ, আহ!এত কিছু মনে হচ্ছে। সম্ভবত টানা ৪/৫ ম্যাচ লান্স ক্লুজনার অপরাজিত ছিল। লান্স ক্লুজনার - নিরানব্বই প্রাণের জুলু যোদ্ধা - আমার দেখা সেরা পারফেক্ট অলরাউন্ডার।


যতক্ষন সে ক্রিজে থাকত জয়ের আশা থাকত।
২২ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১০ রাত ১০:০৫

লেখক বলেছেন: শেষ পর্যন্ত তাকে দল থেকে বাদ দেয়া হয়েছে অন্যায় ভাবে। অসময়ে তাকে বাদ দিয়ে দ. আফৃকা অনেক কিছু হারিয়েছে। তখন তিনি টানা অপরাজিত থেকে চারশতাধিক রান করে রেকর্ড করেছিলেন।

১০. ০৩ রা মে, ২০১০ রাত ১১:৪০
আলো বলেছেন: লম্বা ঝাকরা চুলের ব্রায়ান মেকমিলান, এন্ড্রু হাডসন ও কম ছিলেন? পল এডামস এর বোলিং দেখাও ছিল এক বিনোদন।পরশু ম্যচ দেখে খারাপ লাগল। কি ক্লেইনভেল্ড না কে... নামিয়ে দিয়েছে।আরে বাবা পারনেল কই? আপনার একটি কথা খুবিই ভাল লাগল, আসলেই কতবার স্কুল পালিয়েছি দক্ষিন আফ্রকার খেলা দেখার জন্য! হয়ত ম্যচ ছিল আরব আমিরাতের সাথে। কিন্তু তাতে কি? ৯৯ বিশ্বকাপের সেমির রাতে আঝরে কান্না করছিলাম আর ওদিকে আব্বু বকছিল... আরে ব্যটা খেলার জন্য কাঁদে এমন পাগল ত দেখি নাই!

এস. এস. সি পরীক্ষা, পরদিন ম্যথ। খেলা চলছে পাকিস্তান, দ: আফ্রিকা। আব্বু খেলা দেখছি দেখে গরু বলে বকা দিল। রাতে বাসার বাইরে বসে আছি রেগে। আব্বু বল্ল এটা কেরে? আমি উত্তর দিলাম, 'গরু'। আব্বু হেসে বল্ল এখানে কি?
--'ঘাস খাই X( '

ভাল হউক মন্দ হউক, এখনো মিস করিনা। হয়ত খেলা দেখা হয়নি, পরে ক্রিক ইনফো থেকে বল বাই বল কমেন্ট্রি ঠিকিই পরি।
০৬ ই মে, ২০১০ বিকাল ৪:১২

লেখক বলেছেন: ব্রায়ান ম্যাকমিলান, এন্ড্রু হাডসন, ডি ভিলিয়ার্স আর একটু আগের খেলোয়াড়। তাদের খেলা আমিও সরাসরি দেখি নি। তবে তাদের পার্ফমেন্স সমন্ধের যা পড়েছি আর শুনেছি তারাও স্মরণযোগ্য। বর্ণবাদ যুগের পর প্রত্যাবর্তনের পরেই যে দলটি ছিল সেটিও কম ভয়ংকর নয়। মোট কথা কেপলার ওয়েলস থেকে হান্সি ক্রনিয়ে এটাই স্বর্নযুগ। আর একটা স্বর্নযুগ গেছে নিষিদ্ধ হবার ঠিক আগের। তবে তাদের খেলা বিশ্ব বেশিদিন দেখার সুযোগ পায় নি।

 

মোট সময় লেগেছে ০.৯৫০৬ সেকেন্ড

 

সামহোয়‍্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব‍্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...
© সামহোয়্যার ইন...নেট লিমিটেড | ব্যবহারের শর্তাবলী | গোপনীয়তার নীতি
আয়নার মতো মানুষ

আপনি একজন নিরাপদ ব্লগার

: কন কি! আমার চারদিকে কত বিপদ!
আর এস এস ফিড

পোস্ট আর্কাইভ

আমার লিঙ্কস

আমার বিভাগ