শেখ মুজিবুর রহমানের প্রহসনমূলক বিচার করার উদ্দেশ্যে হানাদাররা গঠন করেছিল বিশেষ সামরিক ট্রাইব্যুনাল। সামরিক ট্রাইব্যুনাল বিচারের কাজ শেষ করেছে এবং শিগগিরই তাদের রিপোর্ট পেশ করবে বলে জানা যায় এ সময়।
প্রাদেশিক বাণিজ্য ও শিল্প এবং আইন ও পার্লামেন্টারী বিষয়ক মন্ত্রী আখতার উদ্দিন, রিলিফ ও পুনর্বাসনমন্ত্রী অধ্যাপক শামসুল হক ও স্বাস্থ্যমন্ত্রী ওবায়দুল্লা মজুমদার এ সময় আলাদা আলাদাভাবে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দায়িত্ব পালনের ও দেশের বিভিন্ন স্থানে মন্ত্রীদের সফরের কথা ঘোষণা করেন।
লালবাগে কথিত ইসলামী ছাত্র সমাজ এবং চকবাজারে অপর এক সভায় এদিন মৌলিক গণতন্ত্র ও স্থানীয় স্বায়ত্তশাসিত সংস্থা বিভাগের মন্ত্রী মাওলানা ইসহাক আহবান জানান সবাইকে সক্রিয়ভাবে দেশের শত্রুদের মোকাবেলা করার।
মিয়া মমতাজ দৌলতানা এদিন এক তারবার্তায় মন্ত্রী নিযুক্ত হওয়াতে অভিনন্দন জানান আবুল কাসেমকে। আজকের ‘দৈনিক পাকিস্তান’ থেকে জানা যায়, ৬ সেপ্টেম্বর সামরিক কর্তৃপক্ষ জামালপুরের দালাল, আলবাদর ও রাজাকারদের তৎপরতায় খুশি হয়ে বিশেষ অবদান রাখার জন্যে তাদের পুরস্কৃত করেছে। মহকুমা হাকিম এ.এম. আব্দুল মান্নান ভূঁইয়ার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় পুরস্কার বিতরণ করেন ব্রিগেডিয়ার আসাদুল্লা। পুরস্কারপ্রাপ্তরা হচ্ছে ধর্মব্যবসায়ী জামাতের এম.এ. ইউসুফ আলী, অধ্যাপক আবদুস সাত্তার, ডা. সাজেদুল হক, আলবাদর আশরাফ হোসাইন, আব্দুল্লাহ আল আহসানসহ আরও ১০ জন রাজাকার। এ সভায় অধ্যাপক আবদুল গণি, আশরাফ হোসাইন প্রমুখ আলবাদর ভূয়সী প্রশংসা করে সেনাবাহিনীর তৎপরতার।
সৈয়দ আজিজুল হকের বাসায় এদিন পিডিপি’র বিশিষ্ট নেতাদের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে উপনির্বাচন পিছিয়ে দেয়ার ব্যাপারে নূরুল আমিনের দেয়া বিবৃতিকে অনুমোদন করা হয়। একই দাবি জানান কাইয়ুম মুসলিম লীগের সাধারন সম্পাদক খান এ.সবুর।
মন্ত্রী মনোনীত হওয়ার ব্যাপারে অসন্তোষ প্রকাশ করে এ সময়ে প্রেসিডেন্টের কাছে তারবার্তা পাঠায় কাউন্সিল মুসলিম লীগ। যদিও দল থেকে দু’জন স্থান পেয়েছিলো মন্ত্রিসভায়, তথাপি দলের কার্যনির্বাহী কমিটির বৈঠকে বলা হয়, মন্ত্রিসভায় যোগদানকারীরা দলের সঙ্গে আলোচনা না করেই যোগ দিয়েছে। এ প্রসঙ্গে দলের নেতা ও শান্তিকমিটির আহবায়ক খাজা খয়েরউদ্দীনের মুক্তিযুদ্ধবিরোধী তৎপরতার বর্ণনা দিয়ে বলা হয়, তিনি শান্তিকমিটি গঠনে উদ্যোগী ভূমিকা রেখে দেশে অনেকটা স্বাভাবিক অবস্থা ফিরিয়ে এনেছেন। এদিন দৈনিক পাকিস্তান-এ প্রকাশিত খবর থেকে জানা যায়, পাবনা জেলা মুসলিম লীগের সভাপতি ও সাবেক পার্লামেন্টারী সেক্রেটারী ক্যাপ্টেন এম. এ. এইচ. জায়েদরী নেতৃত্বে পাবনা শহরে বিরাট মুক্তিযুদ্ধ বিরোধী মিছিল হয়েছে।
স্থানীয় দালালদের কাছ থেকে খবর পেয়ে এদিন লাকসাম থানার নারায়ণপুরে মুক্তিযোদ্ধাদের উপর আক্রমণ চালিয়ে ৫ জন মুক্তিযোদ্ধাকে নিহত করে রাজাকাররা। শান্তিকমিটির সদস্যরা এদিন বিশ্বনাথ থানার সিঙ্গেরকাঁচ গ্রামের দু’জন মুক্তিযোদ্ধা আলমাস আলী ও সানওয়ার আলীকে তুলে দেয় হানাদারদের হাতে। কুষ্টিয়ার মেহেরপুর এলাকার সোনাপুর গ্রামে হানাদাররা হামলা চালালে শহীদ হন ১২ জন মুক্তিযোদ্ধা। একই সঙ্গে প্রচুর অস্ত্রশস্ত্র আটক করে হানাদাররা।
হানাদাররা তাদের অপপ্রচারে উল্লেখ করে, একমাত্র পশ্চিম বঙ্গের উদ্বাস্তু শিবিরেই মৃত্যু হয়েছে দেড় লাখ শিশুর।
তথ্যসূত্র: দৈনিক পাকিস্তান, আজাদ ২০, ২১, ২২ সেপ্টেম্বর, ১৯৭১ ঈসায়ী।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



