পান হইতে চুন খসিলেই বর্তমান কথিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার কথিত যৌথবাহিনী দ্বারা তাহার টুটি চাপিয়া ধরিতেছে। অর্থাৎ তাহারা আমাদেরকে ইহাই বুঝাইতে চাহিতেছে- তাহারা খুব ন্যায়পরায়ণ সরকাররূপে আবির্ভূত হইয়াছে। এমনকি ইদানিং তাহাদের ঔদ্ধত্য এমন পর্যায়েই পৌঁছিয়াছে যে, মুসলমানের ঈমানী অধিকার ‘ছবির মত হারাম কাজ’ না করিতে চাহিলে তাহাকে প্রাণদ-েরও হুমকি দিতেছে।
না হয় মানিয়াই লইলাম যে, সরকার সর্ব-কর্মসাধন-পটিয়সী। তাহারা শুল্ক ফাঁকি, কর ফাঁকি, চাঁদাবাজ, জরুরী আইন ভঙ্গ করিবার দায়ে গ্রেফতার ও বিচার করিতে এমনকি কোন মুসলমান সুন্নতের অনুসরণ ও হারাম হইতে বাঁচিতে চাহিলে দ-বিধির হুমকি দিতে পারে, কিন্তু খুনের দায়ে কথিত নির্বাচনে নিষিদ্ধ কিংবা তাহাকে বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করাইতে পারে না। ইহা কেমন কথা!
সরকার হয়ত সাফাই গাহিবে যে, সুষ্ঠু নির্বাচনের নিমিত্তে ‘সুস্থ পরিবেশ’ সৃষ্টিকল্পেই তাহা করা হইয়াছে। তাহা হইলে বিনা পয়সায় পরামর্শ খয়রাত করিতে চাহি যে, আপনাদের সেই কথিত ‘সুষ্ঠু’ নির্বাচনের জন্যই ঐসব রাজাকার আল বাদরের শেকড়- বীজ সমস্ত কিছু আগুনে ফেলিয়া ছাই করিতে হইবে।
রাজাকার, আল বাদর বাঙালী- ইতিহাসের কলঙ্ক। তাহারা পলাশীর ‘মীর জাফর’-এর উত্তরসুরী, তাহারা মুনাফিক উবাই বিন সুলুলের ক্বায়িম-মক্বাম- চরম বিশ্বাসঘাতক, বেঈমান, মুনাফিক, তাহা আজ কাহারও অজ্ঞাত নহে। ইহাও অজ্ঞাত নহে যে, সেই দালাল মুনাফিকের দলই একত্রিত হইয়া বর্তমানে ধর্মের লেবাস আঁটিয়া অহরহ হারাম কাজের প্রচলন করিতেছে। সেই দলের নাম ‘জামাত’।
জামাতকে কথিত রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতা গত ৩০ বৎসর যাবত দেওয়া হইয়াছে। গত ৩০ বৎসরের মতই তাহারা অদ্যাবধি পৃষ্ঠপোষকতা পাইতেছে। তাহার একটি প্রমাণ নিজামী-মুজাহিদের বিরুদ্ধে এখনও দুর্নীতির কোন অভিযোগ না তোলা বা তাহাদের দেশদ্রোহীমূলক বক্তব্যে প্রতিক্রিয়া না জানানো।
সর্বোপরি বাঙালীর মাথায় আকাশ ভাঙিয়া পড়িল তখন, যখন প্রধান উপদেষ্টা যুদ্ধাপরাধ ও যুদ্ধাপরাধীদের কথা স্বীকার করিয়াও বিচার করা সম্ভব নহে বলিয়া সাফ জানাইয়া দিলেন এবং উপদেষ্টা মইনুল সুকৌশলে বলিলেন, সরকার অনেক দায়িত্ব হাতে লইয়াছে আর বাড়তি দায়িত্ব লইবে না। ইদানিংকালে মইনুল দু’কুলেই শক্ত বাঁধ বাঁধিয়াছে- একদিকে ব্যক্তিগতভাবে কেহ রাষ্ট্রদ্রোহী মামলা করিতে পারিবে না। অপরদিকে সরকারিভাবেও এত কিছু করার সময় নাই বলিয়া মইনুল বেশ চাতুর্যের আশ্রয় লইয়াছে।
এতসব কিসের আলামত! ইহারা কাহার ‘তত্ত্বাবধায়কের ভূমিকায় অবতীর্ণ হইয়াছে? রাজাকারের বিচারের প্রশ্নে তাহাদের কেন এত অনীহা! তাহারা কি ভয় পাইতেছে- পাছে থলের বিড়াল বাহির হইয়া পড়ে!
‘তোমাদের অতীতের ইতিহাস হইতে শিক্ষা লওয়া উচিত। তোমাদের চাইতে লক্ষ কোটি গুণ বেশি ক্ষমতার অধিকারী হইয়াও শুধুমাত্র ঔদ্ধত্যের কারণেই পরিণতিতে ধুলায় লুটাইতে হইয়াছে। নমরূদ, শাদ্দাদ, ফিরাআউন তাহারই নজির। শুধু তাহাই নহে তোমার পূর্ববর্তী ক্ষমতাশালীদের বর্তমান অবস্থার প্রতি দৃকপাত করিলেও তো কিছুটা শিক্ষা হওয়া উচিত।’
যামানার মুজাদ্দিদ, যামানার লক্ষ্যস্থল ছহিবে নিয়ামত ঢাকা রাজারবাগ দরবার শরীফের মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা মুদ্দা জিল্লুহুল আলী তো বরাবরই আহবান করিতেছেন ফিরিয়া আসিবার তওবা করিবার। কারণ মহান আল্লাহ পাক ও তাঁর হাবীব নূরে মুজাস্্সাম হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ঔদ্ধত্য ও সীমালঙ্ঘনকারীকে পছন্দ করেন না।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



